দলে দলে মরছে তবু ছিনিয়ে খায়নি। কেন জানেন বাবু? এক জন নয়, দশজন, শয়ে শয়ে, হাজারে হাজারে, লাখে লাখে বরবাদ হয়ে গেছে। ভিক্ষের জন্য হাত বাড়িয়েছে, ফেন চেয়ে কাতরেছে, কিন্তু ছিনিয়ে নেবার জন্য, কেড়ে নেবার জন্য হাত বাড়ায়নি। অথচ হাত বাড়ালেই পায়। দোকানে থরে থরে সাজানো রয়েছে খাবার, সামনে রাস্তায় ধন্না দিয়েছে ফেলে-দেওয়া ঠোঙার রসটুকু,… Continue reading ছিনিয়ে খায়নি কেন – মানিক বন্দোপাধ্যায়
Category: শিল্প-ও-সাহিত্য
টেকো বললে আর রাগি না-ঋভু চট্টোপাধ্যায়
‘টেকো, এই টেকো..’ আর এই কথাগুলো শুনলে রাগ হয় না। আর কেনই বা রাগবো, সত্যিই তো আমার মাথায় এখন সর্ব সাকুল্যে সাতাশটি চুল।সবগুলোই পিছনের কার্নিশে ঝুলে কোন রকমে বেঁচে থাকবার চেষ্টা করছে। কতদিন বেঁচে থাকতে পারবে এই ব্যাপারে আমার নিজেরই বিস্তর সন্দেহ আছে। কলেজ পাশ করে একবার পাড়ার সেলুনের কাকু চুল কাটার সময় আমার মুখের দিকে তাকিয়ে অম্লান বদনে বলে উঠেছিলেন, ‘খুব বেশি দিন তোমার এই চুল কাটতে হবে না, যা অবস্থা এরা বছর দুই বেঁচে থাকলে হয়।’ চুলের ভেতর একটা চিনচিনে ব্যথা অনুভব করেছিলাম। বাড়ি ফিরে দাদু,… Continue reading টেকো বললে আর রাগি না-ঋভু চট্টোপাধ্যায়
নারিকেল-মামা – হুমায়ূন আহমেদ
তার আসল নাম আমার মনে নেই। আমরা ডাকতাম ‘নারকেল-মামা। কারণ নারকেল গাছে উঠে নারকেল পেড়ে আনার ব্যাপারে তাঁর অসাধারণ দক্ষতা ছিল। পায়ে দড়ি-টরি কিছু বাঁধতে হত না। নিমিষের মধ্যে তিনি উঠে যেতেন। নারকেল ছিঁড়তেন শুধু হাতে। তাঁর গাছে ওঠা, গাছ থেকে নামা, পুরো ব্যাপারটা ছিল দেখার মত। তাঁর নৈপুণ্য যে কোন পর্যায়ের তা দেখাবার জন্যেই… Continue reading নারিকেল-মামা – হুমায়ূন আহমেদ
অতিথি – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
কাঁঠালিয়ার জমিদার মতিলালবাবু নৌকা করিয়া সপরিবারে স্বদেশে যাইতেছিলেন। পথের মধ্যে মধ্যাহ্নে নদীতীরের এক গঞ্জের নিকট নৌকা বাঁধিয়া পাকের আয়োজন করিতেছেন এমন সময় এক ব্রাহ্মণবালক আসিয়া জিজ্ঞাসা করিল, “বাবু, তোমরা যাচ্ছ কোথায়।” প্রশ্নকর্তার বয়স পনেরো-ষোলোর অধিক হইবে না। মতিবাবু উত্তর করিলেন, “কাঁঠালে।” ব্রাহ্মণবালক কহিল, “আমাকে পথের মধ্যে নন্দীগাঁয়ে নাবিয়ে দিতে পার ?” বাবু সম্মতি প্রকাশ করিয়া… Continue reading অতিথি – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
চাল-ঋভু চট্টোপাধ্যায়
বুধিরে, জামাকাপড় গুলান তুল মা, আকাশ পানে দ্যাখ, এক্কেবারে কালো। তুকে সেই থেকে বুলেই যেছি, শুন মা, একটবার শুন। শেষের কয়েকটি কথা শেষ হওয়ার পরে কিছু সময়ের জন্যে আবার সব চুপচাপ। তারপরেই জায়গাটা কাঁপিয়ে একটা গলা চিল্লিয়ে উঠল,‘বুধি!কথা গুলান কানে ঢুকছি নাই নাকিরে?’ সঙ্গে সঙ্গে বাতাসে হাঁপানোর শব্দ মিশিয়ে ছুটে এসে গলা বের করল,‘কি মা?’… Continue reading চাল-ঋভু চট্টোপাধ্যায়
বছর-পঞ্চাশ পূর্বের একটা দিনের কাহিনী – শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ঠ্যাঙাড়ের কথা শুনেছে অনেকে এবং আমাদের মতো যারা বুড়ো তারা দেখেচেও অনেকে। পঞ্চাশ-ষাট বছর আগেও পশ্চিম বাঙলায়, অর্থাৎ হুগলী বর্ধমান প্রভৃতি জেলায় এদের উপদ্রব ছিল খুব বেশী। তারও আগে, অর্থাৎ ঠাকুরমাদের যুগে, শুনেছি, লোক-চলাচলের প্রায় কোন পথই সন্ধ্যার পরে পথিকের পক্ষে নিরাপদ ছিল না। এই দুর্বৃত্তরা ছিল যেমন লোভী তেমনি নির্দয়। দল বেঁধে পথের ধারে… Continue reading বছর-পঞ্চাশ পূর্বের একটা দিনের কাহিনী – শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
পথিক ও বটবৃক্ষ- এম এম হোসেন
কোন এক প্রখর রোদেলা দ্বিপ্রহরে এক মহামূল্যবান বটবৃক্ষের সাথে পরিচয় হয়েছিল পথিকের। বন থেকে দূরে এক ছোট্ট কুটিরে বাস করতো পথিক। সে ছিলো খুব গরীব। দিন আনে দিন খায় এমন। একদিন বাড়িতে খাবার কিছু ছিলো না বলে তার স্ত্রী ঝগড়া করে তাকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিলো। তাই সে মনের দুঃখে বনে গেল। অনেকদূর হাঁটতে হাঁটতে… Continue reading পথিক ও বটবৃক্ষ- এম এম হোসেন
নাকের বদলে নরুন পাইলাম– জসীম উদ্দীন
এক শেয়াল পেটের জ্বালায় অস্থির। বেগুন ক্ষেতে ঢুকিয়া বেগুন খাইতে লাগিল। খাইতে খাইতে হঠাৎ একটি বেগুন কাঁটা শেয়ালের নাকে বিধিয়া গেল । শেয়াল এধারে নাক ঘুরায় ওধারে নাক ঘুরায়,বেগুন কাটা খোলে না। জিভ্ দিয়া নাকের আগা চাটিতে গেল, কিন্তু জিভ্ নাক পর্যন্ত যায়, না। সামনের দু’পা দিয়া নাকের কাঁটা খুলিতে গেল। কিন্তু বেগুন কাঁটা এত… Continue reading নাকের বদলে নরুন পাইলাম– জসীম উদ্দীন
কোন্ দেশে বোকা নেই-জসীম উদ্দীন
কোন্ দেশে বোকা নেই চাষীর একটি মাত্র মেয়ে। বড়ই আদরের। মেয়েটি একদিন বসিয়া বসিয়া ভাবিতেছে ,তার জন্য বিবাহ হইল | তারপর একটু সুন্দর ফুটফুটে ছেলে হইল । হঠাৎ জ্বর হইয়া ছেলেটি মারা গেল ৷ যেই এই কথা ভাবা অমনি মেয়েটি আছাড়ি পাছাড়ি করিয়া কাদিতে লাগিল, “ওরে আমার সোনারে! -ওরে আমার মানিকরে। তুই আমাকে ছাড়িয়া… Continue reading কোন্ দেশে বোকা নেই-জসীম উদ্দীন
রহিমুদ্দির ভাইয়ের বেটা – জসীম উদ্দীন
চাচা আর ভাস্তে সন্ধ্যা বেলায় আলাপ সংলাপ করিতেছে- ভাস্তে: চাচা,আজ বাজারে গিয়াছিলাম৷ চাচা: যাবি না! তবে কি বাড়ি বসিয়া থাকবি নাকি ভাস্তে: একটা কুমড়া লইয়া গিয়াছিলাম৷ চাচা: নিবি না? খালি হাতে যাইবি নাকি? ভাস্তে: একটা লোক আসিয়া কুমড়াটার দাম জিজ্ঞাসা করিল৷ চাচা: দাম জিজ্ঞাসা করিবে না তো কুমড়াটা মাগনা লইবে নাকি? ভাস্তে: আমি আট আনা… Continue reading রহিমুদ্দির ভাইয়ের বেটা – জসীম উদ্দীন