বুধিরে, জামাকাপড় গুলান তুল মা, আকাশ পানে দ্যাখ, এক্কেবারে কালো। তুকে সেই থেকে বুলেই যেছি, শুন মা, একটবার শুন। শেষের কয়েকটি কথা শেষ হওয়ার পরে কিছু সময়ের জন্যে আবার সব চুপচাপ। তারপরেই জায়গাটা কাঁপিয়ে একটা গলা চিল্লিয়ে উঠল,‘বুধি!কথা গুলান কানে ঢুকছি নাই নাকিরে?’ সঙ্গে সঙ্গে বাতাসে হাঁপানোর শব্দ মিশিয়ে ছুটে এসে গলা বের করল,‘কি মা?’… Continue reading চাল-ঋভু চট্টোপাধ্যায়
Category: শিল্প-ও-সাহিত্য
বছর-পঞ্চাশ পূর্বের একটা দিনের কাহিনী – শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ঠ্যাঙাড়ের কথা শুনেছে অনেকে এবং আমাদের মতো যারা বুড়ো তারা দেখেচেও অনেকে। পঞ্চাশ-ষাট বছর আগেও পশ্চিম বাঙলায়, অর্থাৎ হুগলী বর্ধমান প্রভৃতি জেলায় এদের উপদ্রব ছিল খুব বেশী। তারও আগে, অর্থাৎ ঠাকুরমাদের যুগে, শুনেছি, লোক-চলাচলের প্রায় কোন পথই সন্ধ্যার পরে পথিকের পক্ষে নিরাপদ ছিল না। এই দুর্বৃত্তরা ছিল যেমন লোভী তেমনি নির্দয়। দল বেঁধে পথের ধারে… Continue reading বছর-পঞ্চাশ পূর্বের একটা দিনের কাহিনী – শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
পথিক ও বটবৃক্ষ- এম এম হোসেন
কোন এক প্রখর রোদেলা দ্বিপ্রহরে এক মহামূল্যবান বটবৃক্ষের সাথে পরিচয় হয়েছিল পথিকের। বন থেকে দূরে এক ছোট্ট কুটিরে বাস করতো পথিক। সে ছিলো খুব গরীব। দিন আনে দিন খায় এমন। একদিন বাড়িতে খাবার কিছু ছিলো না বলে তার স্ত্রী ঝগড়া করে তাকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিলো। তাই সে মনের দুঃখে বনে গেল। অনেকদূর হাঁটতে হাঁটতে… Continue reading পথিক ও বটবৃক্ষ- এম এম হোসেন
নাকের বদলে নরুন পাইলাম– জসীম উদ্দীন
এক শেয়াল পেটের জ্বালায় অস্থির। বেগুন ক্ষেতে ঢুকিয়া বেগুন খাইতে লাগিল। খাইতে খাইতে হঠাৎ একটি বেগুন কাঁটা শেয়ালের নাকে বিধিয়া গেল । শেয়াল এধারে নাক ঘুরায় ওধারে নাক ঘুরায়,বেগুন কাটা খোলে না। জিভ্ দিয়া নাকের আগা চাটিতে গেল, কিন্তু জিভ্ নাক পর্যন্ত যায়, না। সামনের দু’পা দিয়া নাকের কাঁটা খুলিতে গেল। কিন্তু বেগুন কাঁটা এত… Continue reading নাকের বদলে নরুন পাইলাম– জসীম উদ্দীন
কোন্ দেশে বোকা নেই-জসীম উদ্দীন
কোন্ দেশে বোকা নেই চাষীর একটি মাত্র মেয়ে। বড়ই আদরের। মেয়েটি একদিন বসিয়া বসিয়া ভাবিতেছে ,তার জন্য বিবাহ হইল | তারপর একটু সুন্দর ফুটফুটে ছেলে হইল । হঠাৎ জ্বর হইয়া ছেলেটি মারা গেল ৷ যেই এই কথা ভাবা অমনি মেয়েটি আছাড়ি পাছাড়ি করিয়া কাদিতে লাগিল, “ওরে আমার সোনারে! -ওরে আমার মানিকরে। তুই আমাকে ছাড়িয়া… Continue reading কোন্ দেশে বোকা নেই-জসীম উদ্দীন
রহিমুদ্দির ভাইয়ের বেটা – জসীম উদ্দীন
চাচা আর ভাস্তে সন্ধ্যা বেলায় আলাপ সংলাপ করিতেছে- ভাস্তে: চাচা,আজ বাজারে গিয়াছিলাম৷ চাচা: যাবি না! তবে কি বাড়ি বসিয়া থাকবি নাকি ভাস্তে: একটা কুমড়া লইয়া গিয়াছিলাম৷ চাচা: নিবি না? খালি হাতে যাইবি নাকি? ভাস্তে: একটা লোক আসিয়া কুমড়াটার দাম জিজ্ঞাসা করিল৷ চাচা: দাম জিজ্ঞাসা করিবে না তো কুমড়াটা মাগনা লইবে নাকি? ভাস্তে: আমি আট আনা… Continue reading রহিমুদ্দির ভাইয়ের বেটা – জসীম উদ্দীন
শেয়ালের পাঠশালা-পল্লী কবি জসীম উদ্দীন
শেয়াল কিছুদিন হইতে কিছুই খাইবার পায় না। বর্ষাকালে সমস্ত দেশ পানিতে ভরা। গেরস্ত বাড়ি হইতে হীস-মুরগী ধরিয়া আনিয়া যে মাঠে লুকাইবে, সেই মাঠ এখন পানিতে ডুবুডুবু। না খাইয়া, না খাইয়া শেয়ালের পেট পিঠের সঙ্গে মিশিয়া গিয়াছে। কোথায় খাইবার পাওয়া যায় ? কুমীরের বাচ্চাগুলি নদী দিয়া সাতার কাটিয়া বেড়ায় । তাদের ধরিতে পারিলে বেশ মজা করিয়া… Continue reading শেয়ালের পাঠশালা-পল্লী কবি জসীম উদ্দীন
লাইব্রেরি – সুকুমার রায়
“বড়মামা, একটা গল্প বলো না।” “গল্প? এক ছিল গ, এক ছিল ল আর এক ছিল প—” “না— ও গল্পটা না। ওটা বিচ্ছিরি গল্প— একটা বাঘের গল্প বল।” “আচ্ছা । যেখানে মস্ত নদী থাকে আর তার ধারে প্রকাণ্ড জঙ্গল থাকে— সেইখানে একটা মস্ত বাঘ ছিল আর ছিল একটা শেয়াল।” “না, শেয়াল তো বলতে বলিনি— বাঘের গল্প।”… Continue reading লাইব্রেরি – সুকুমার রায়
রঙের রাস্তা -ঋভু চট্টোপাধ্যায়
গোলমালটা শুনেই পুটে বাইরে বেরিয়ে এসেই দেখে, দরজার কাছে বিল্টু বোস, সঙ্গে আরো কয়েকজন। বিল্টু বোস মন দিয়ে কাউকে কিছু একটা বোঝাচ্ছে, তবে আঙুলটা পুটেদের বাড়ির দিকে। পুটের কিছু সময় চুপ করে দাঁড়িয়ে এর ওর মুখের দিকে তাকিয়ে নেয়। বিল্টুর পাশে কোমরে হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা অনাথদা, পুটেকে কিছুসময় দেখে বেশ জোর গলাতেই বলে,‘তুর পশ্চিমদিকের… Continue reading রঙের রাস্তা -ঋভু চট্টোপাধ্যায়
আধকপালে – তারাপদ রায়
সকলেই কেমন ভাল ভাল গল্প লেখে। প্রেমের, ভালবাসার, বিরহ-বিচ্ছেদের গল্প। জীবনের জয় পরাজয়, বাঁচার লড়াইয়ের গল্প। কত আর্থসামাজিক প্রশ্ন। বর্তমানের সমস্যাবলি সেই সব গল্পের মধ্যে ফুটে ওঠে। সুখ-দুঃখের নিটোল গল্প সেসব। তার মধ্যে পাত্র-পাত্রী, চরিত্রাবলি রয়েছে, কথোপকথন অর্থাৎ চোখা চোখা লাগসই সব ডায়ালগ আছে। সব চেয়ে বড় কথা সেখানে কাহিনি আছে। সেই কাহিনির গতি আছে।… Continue reading আধকপালে – তারাপদ রায়