ফিরে এসেছে আজ সেই মোহর্রম – সেই নিখিল-মুসলিমের ক্রন্দন-উৎসবের দিন। কিন্তু সত্য করে আজ কে কেঁদেছে বলতে পার হে মুসলিম? আজ তোমার চোখে অশ্রু নাই। আজ ক্রন্দন-স্মৃতি তোমার উৎসবে পরিণত! তোমার অশ্রু আজ ভণ্ডামি, ক্রন্দন আজ কৃত্রিম কর্কশ চিৎকার। চুপ রও কাপুরুষ। ‘হায় হাসান, হায় হোসেন!’ বলে মিথ্যা বীভৎস চিৎকার করে আর মা ফাতেমার পুত্র-শোকাতুর… Continue reading রুদ্রমঙ্গল- মোহর্রম-কাজী নজরুল ইসলাম
Category: শিল্প-ও-সাহিত্য
রুদ্র-মঙ্গল-কাজী নজরুল ইসলাম
নিশীথ রাত্রি। সম্মুখে গভীর তিমির। পথ নাই। আলো নাই। প্রলয়-সাইক্লোনের আর্তনাদ মরণ-বিভীষিকার রক্ত-সুর বাজাচ্ছে। তারই মাঝে মাকে আমার উলঙ্গ করে টেনে নিয়ে চলেছে আর চাবকাচ্ছে যে, সে দানবও নয়, দেবতাও নয়, রক্ত-মাংসের মানুষ। ধীরে ধীরে পিছনে চলেছে তেত্রিশ কোটি আঁধারের যাত্রী। তারা যতবার আলো জ্বালাতে চায়, ততবারই নিভে নিভে যায়। তাদের আর্তকণ্ঠে অসহায়ের ক্রন্দন, ‘বোধন… Continue reading রুদ্র-মঙ্গল-কাজী নজরুল ইসলাম
রুদ্রমঙ্গল- হিন্দু-মুসলমান-কাজী নজরুল ইসলাম
একদিন গুরুদেব রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে আলোচনা হচ্ছিল আমার, হিন্দু-মুসলমান সমস্যা নিয়ে। গুরুদেব বললেন : দ্যাখো, যে ন্যাজ বাইরের, তাকে কাটা যায়, কিন্তু ভিতরের ন্যাজকে কাটবে কে? হিন্দু-মুসলমানের কথা মনে উঠলে আমার বারেবারে গুরুদেবের ওই কথাটাই মনে হয়। সঙ্গে সঙ্গে এ প্রশ্নও উদয় হয় মনে, যে এ-ন্যাজ গজালো কী করে? এর আদি উদ্ভব কোথায়? ওই সঙ্গে এটাও… Continue reading রুদ্রমঙ্গল- হিন্দু-মুসলমান-কাজী নজরুল ইসলাম
স্বামী-স্ত্রী – মানিক বন্দোপাধ্যায়
রাত দশটায় মেনকা ঘরে এল। এ বাড়িতে সকাল সকাল খাওয়াদাওয়ার হাঙ্গামা চুকে যায়। ছোট ঘর, চওড়ার চেয়ে লম্বায় দুহাতের বেশি হবে না। মেনকার বিয়েতে মেনকার স্বামী গোপালকে দেওয়া খাটখানাই ঘরের অর্ধেক জুড়ে আছে। খাটের সঙ্গে কোণাচেভাবে পাশ কাটানোর কৌশলে পাতা আছে গোপালের ক্যাম্পচেয়ার, চারদিকেই চেয়ারটির পাশ কাটিয়ে চলাফেরা সম্ভব। সামনে ছোট একটি টুলে পা উঠিয়ে… Continue reading স্বামী-স্ত্রী – মানিক বন্দোপাধ্যায়
ডিম-তারাপদ রায়
সাতদিন বা তিনদিনের নোটিশে, সম্পাদক মশায় যাই বলুন, জোরাজুরি করে যে হাসির রচনা হয় না, এই গল্পই তার প্রমাণ। এই ডিম নামক গল্পটিকে কোনও সম্ভ্রান্ত পাঠক যদি আর্যভাষায় অশ্বডিম্ব বলে অভিহিত করেন তাহলেও বোধহয় আপত্তির কিছু থাকতে পারে না। সে যা হোক, এই খারাপ গল্পের সূত্রে আর একটা বিপদের কথা জানিয়ে রাখি। তরল রচনায় কথিকার… Continue reading ডিম-তারাপদ রায়
তরমুজের বীজ-তারাপদ রায়
আজ কয়েকদিন হল খুব গরম পড়েছে। সেই সঙ্গে মশার উৎপাতও খুব বেড়েছে। সারারাত মশারির মধ্যে গুমোটে হাঁসফাস করেছি। ভাল করে ঘুম হয়নি, ঘুম হওয়ার কথাও নয়। ভোর হতে-না-হতে বারান্দায় এসে একটা বেতের মোড়া নিয়ে বসেছি। ভোরবেলার ঠান্ডা হাওয়া দিচ্ছে। বেশ আরাম লাগছে। একা একা চুপচাপ বসে থাকতে বেশ ভাল লাগছিল। গরমের দিনে সকালের দিকে এই… Continue reading তরমুজের বীজ-তারাপদ রায়
ডবল পটললাল- তারাপদ রায়
০১. হট্টমন্দির পরিণাম, পরিণতি এসব মোটেই ভাল শব্দ নয়। বিশেষ করে পটললাল বিষয়ে কোনও রচনার নাম একটু হালকা রকম হওয়াই নিয়ম। পটললালকে আপনারা অনেকেই অল্পবিস্তর চেনেন। লাল গানে নীল সুর হাসিহাসি গন্ধ, পটললালের গল্প হবে ফুরফুরে মেজাজের, অবশেষে তার কিনা এই পরিণতি। . অনেক দিন আগে একটা বিলিতি সিনেমা হয়েছিল, দেয়ার ইজ নো বিজিনেস লাইক… Continue reading ডবল পটললাল- তারাপদ রায়
ভীষ্মের দীর্ঘশ্বাস-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
তৃষ্ণার্ত রাজা এসে থামলেন এক স্বচ্ছ সরোবরের সামনে। নিজের সৈন্যবাহিনী থেকে তিনি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। কী যেন মোহ ভর করেছিল তাঁর ওপর, তিনি মানুষের কথা ভুলে গিয়ে অরণ্যের শোভায় মুগ্ধ হয়ে ক্রমশ একাকী চলে এসেছেন গভীর থেকে গহনে। রাজা ঘোড়া থেকে নেমে সেই জলাশয়ের ধারে বসে আঁজলা ভরে পান করতে যাবেন, এমনসময় কয়েকটি নারীকণ্ঠ এক… Continue reading ভীষ্মের দীর্ঘশ্বাস-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
ভালোবাসার দিনগুলি-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
২৪ মার্চ, ১৯৮৫ আজ রাঙাদাদু এসেছিলেন। ইস, মানুষটা কী বুড়োই হয়েই গেছেন। হঠাৎ একেবারে ফোকলা, ওপরের পাটিতে মাত্র দুটো দাঁত। আগেও মাথার চুল ধপধপে সাদা ছিল, কিন্তু এক মাথা সাদা চুল, এখন আর চুল নেই-ই বলতে গেলে! চার-পাঁচ বছর আগেও রাঙাদাদুকে কী ভালোই বাসতুম। উনি এ-বাড়িতে এলেই সবসময় আমি বসে থাকতুম ওঁর পাশ ঘেঁষে। সবাই… Continue reading ভালোবাসার দিনগুলি-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
ব্যাঙ-তারাপদ রায়
কার্তিকের বৃষ্টি প্রত্যেকদিন যেরকম হয়, আজও তাই হল। ভোরবেলা, খুব ভোরবেলা সাড়ে চারটে-পাঁচটা নাগাদ ঘুম ভেঙে গেল রমেশবাবুর। অথচ এরকম কথা ছিল না। গতকালই চাকরি থেকে রিটায়ার করেছেন রমেশবাবু, রমেশচন্দ্র রায়। পাকা তেত্রিশ বছর আটমাস এগারো দিন বন্যপ্রাণী ও পশুপালন অধিকারে এক নাগাড়ে চাকরি করেছেন তিনি। এর মধ্যে প্রথম কয়েকবছর নিম্নবর্গীয় এবং উচ্চবর্গীয় কেরানির পদে,… Continue reading ব্যাঙ-তারাপদ রায়