রুমালী – হুমায়ূন আহমেদ

০১. বকু তুই রোদে দাঁড়িয়ে আছিস কেন বকু তুই রোদে দাঁড়িয়ে আছিস কেন? আমি পাশ ফিরে মাকে দেখলাম। মা কোন ফাঁকে আমার পেছনে এসে দাঁড়িয়েছেন। তিনি বিড়ালের চেয়েও নিঃশব্দে হাঁটতে পারেন। আশে পাশে কেউ নেই, আমি হয়ত নিজের মনে গল্পের বই পড়ছি। এক সময় হঠাৎ দেখব মায়ের মাথাটা আমার ঘাড়ের পাশে। তিনি আমাকে চমকে দিয়ে… Continue reading রুমালী – হুমায়ূন আহমেদ

শেষ-বিকেলের প্যাসেঞ্জার – বুদ্ধদেব গুহ

চৌপান প্যাসেঞ্জারের গতি কমে এল। জানলা দিয়ে মুখ বাড়িয়ে দেখলাম দূরে ছবির মতো একটা স্টেশন দেখা যাচ্ছে। এইখানেই তাহলে থাক তুমি, এইখানেই এই জঙ্গল-পাহাড়-ঘেরা অখ্যাত জায়গায় তুমি নিজেকে নির্বাসিত করেছো, হারিয়ে গেছ ইচ্ছা করে। একটু আগেই কী একটা স্টেশন পেরিয়ে এলাম, (এই স্টেশনের উল্লেখ ছিল তোমার চিঠিতে) মনে পড়ল। আসলে কাল রাত থেকে আমার কিছুই… Continue reading শেষ-বিকেলের প্যাসেঞ্জার – বুদ্ধদেব গুহ

দারুচিনি দ্বীপ – হুমায়ূন আহমেদ

০১. আমার চশমা কোথায় মা, আমার চশমা? আমার চশমা কোথায় মা? শুভ্ৰ হাহাকার করে উঠল। শুভ্রর মা, গাঢ় মমতা নিয়ে ছেলের দিকে তাকালেন। কি অদ্ভুত ভঙ্গিতেই না শুভ্ৰ হাঁটছে। দুই হাত বাড়িয়ে অন্ধের মতো হেলতে দুলতে এগুচ্ছে। তার সামনে চেয়ার। এক্ষুণি চেয়ারের সঙ্গে ধাক্কা খাবে। মা, আমার চশমা কোথায়? বলতে বলতে সে সত্যিই চেয়ারের ধাক্কা… Continue reading দারুচিনি দ্বীপ – হুমায়ূন আহমেদ

অপ্রেম পত্র – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

পার্টি জমে উঠেছে দুপুরবেলাতেই। ছোট অ্যাপার্টমেন্টে প্রায় বারো চোদ্দোজন মানুষ, রান্নাঘরের ভার নিয়েছে পুরুষরাই। বিদেশে এসে সব পুরুষই বেশ রান্না শিখে যায়। মন্টু দারুণ বিরিয়ানি রান্না করে। বন্ধুবান্ধবদের মধ্যে যে-কোনও বাড়িতে খাওয়া দাওয়ার ব্যাপার হলেই মন্টুর ডাক পড়ে। এমনই রান্নার নেশা মন্টুর যে সে সময় সে তার স্ত্রী নীলাকে রান্নাঘরে ঢুকতেই দেয় না। আজিজ, নিপুরা… Continue reading অপ্রেম পত্র – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

মেঘ বলেছে যাব যাব – হুমায়ূন আহমেদ

০১. মেঘ বলেছে যাব যাব একদল হাঁসের সঙ্গে সে হাঁটছে। তার মানেটা কী? সে হাঁসদের সঙ্গে হাঁটবে কেন? সে তো হাঁস না। সে মানুষ। তার নাম হাসানুর রহমান। বয়স আটাশ। মোটামুটি সুদৰ্শন। লাল রঙের শার্ট পরলে তাকে খুব মানায়। সে কেন হাঁসদের সঙ্গে ঘুরছে? হাঁসের দল জলা জায়গায় নেমে পড়ল। সেও তাদের সঙ্গে নামল। হাঁসিরা… Continue reading মেঘ বলেছে যাব যাব – হুমায়ূন আহমেদ

নিশীথিনী (মিসির আলি) – হুমায়ূন আহমেদ

মিসির আলির ধারণা মিসির আলির ধারণা ছিল, তিনি সহজে বিরক্ত হন না। এই ধারণাটা আজ ভেঙে যেতে শুরু করেছে। ঠিক এই মুহূর্তে তিনি অসম্ভব বিরক্ত। যে-রিকশায় তিনি উঠেছেন, তার সীটটা ঢালু। বসে থাকা কষ্ট্রের ব্যাপার। তার চেয়েও বড় কথা, দু মিনিট পরপর রিকশার চেইন পড়ে যাচ্ছে। এখন বাজছে দশটা তেইশ। সাড়ে দশটায় থার্ড ইয়ার অনার্সের… Continue reading নিশীথিনী (মিসির আলি) – হুমায়ূন আহমেদ

দুই বাড়ি – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

১. রামতারণ চৌধুরী রামতারণ চৌধুরী সকালে উঠিয়া বড় ছেলে নিধুকে বলিলেন—নিধে, একবার হরি বাগদীর কাছে গিয়ে তাগাদা করে দ্যাখ দিকি৷ আজ কিছু না আনলে একেবারেই গোলমাল৷ নিধুর বয়েস পঁচিশ, এবার সে মোক্তারী পরীক্ষা দিয়া আসিয়াছে, সম্ভবত পাশও করিবে৷ বেশ লম্বা দোহারা গড়ন, রঙ খুব ফরসা না হইলেও তাহাকে এ পর্যন্ত কেউ কালো বলে নাই৷ নিধু… Continue reading দুই বাড়ি – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

জনৈক আব্দুল মজিদ – হুমায়ূন আহমেদ

আমার তিন মেয়েরই তাদের লেখক বাবার লেখা সম্পর্কে উচ্চ ধারণা ছিল। এদের একজন শীলা আহমেদ) ক্লাস ফাইভ সিক্সে পড়ার সময় বলতো- “সব লেখকদের লেখা স্কুলে পাঠ্য হয় বাবারটা কেন যে হয় না।” ‘জনৈক আব্দুল মজিদ’ লেখাটি ইন্টারমিডিয়েট বাংলা সিলেকশনে পাঠ্য হয়েছে। আমার তিন মেয়ের কাউকেই এই লেখা পড়তে হয় নি, কারণ তারা পড়াশোনা শেষ করে… Continue reading জনৈক আব্দুল মজিদ – হুমায়ূন আহমেদ

কল্যাণীয়াসু – হুমায়ূন আহমেদ

ট্রেটয়াকভ আর্ট গ্যালারিতে ছবি দেখতে গিয়েছিলাম। পুরনাে দিনের মহান সব শিল্পীদের আঁকা ছবি। দেখতে-দেখতে এগুচ্ছি। হঠাৎ থমকে দাঁড়াতে হল। সঙ্গের রাশিয়ান গাইড বলল, কী হয়েছে? আমি হাত উঁচিয়ে একটি পেইনটিং দেখালাম। প্রিন্সেস তারাকনােভার পেইনটিং। অপূর্ব ছবি! জরী, ছবিটি দেখে তােমার কথা মনে পড়ল। গাইড বলল, সেন্ট পিটার্সবার্গ জেলে প্রিন্সেসের শেষ দিনগুলি কেটেছে। ঐ দেখ সেল-এর… Continue reading কল্যাণীয়াসু – হুমায়ূন আহমেদ

অচিনপুর – হুমায়ূন আহমেদ

মরবার পর কী হয় মরবার পর কী হয়? আট-ন বছর বয়সে এর উত্তর জানবার ইচ্ছে হল। কোনো গূঢ় তত্ত্ব নিয়ে চিন্তার বয়স সেটি ছিল না, কিন্তু সত্যি সত্যি সেই সময়ে আমি মৃত্যু রহস্য নিয়ে ভাবিত হয়ে পড়েছিলাম। সন্ধ্যাবেলা নবুমামাকে নিয়ে গা ধুতে গিয়েছি পুকুরে। চারদিক ঝাপসা করে অন্ধকার নামছে। এমন সময় হঠাৎ করেই আমার জানিবার… Continue reading অচিনপুর – হুমায়ূন আহমেদ