একটি মেয়ের আখ্যান রজত বন্দ্যোপাধ্যায় ০২/০৫/২০২৪ প্রথম অঙ্ক বহু বছরের পুরনো এক শীতের সকালে অরুণ একেবারে হতবম্ভ হয়ে গেছিল জীবনে প্রথমবার একজন মানুষের শবদেহ দেখে। দেহটি ছিল তার বাবার। সেদিন থেকে ঠিক ন’দিন পরে ক্লাস সেভেনের ফাইনাল পরীক্ষা। সমীরের সঙ্গে প্রতিবার ফার্স্ট হওয়ার দড়ি টানাটানিটা সেবার অরুণের আর করা হয়ে ওঠেনি। পরীক্ষাটাই… Continue reading একটি মেয়ের আখ্যান -রজত বন্দ্যোপাধ্যায়
Category: শিল্প-ও-সাহিত্য
জননী – হাসান আজিজুল হক
কয়েক বছর আগে আমাদের ফ্ল্যাটবাড়িতে মেয়েটি কাজ খুঁজতে আসে, তার রূপ দেখে আমি স্তম্ভিত হয়ে যাই। চৌদ্দ পনেরো বছর বয়স হবে তার, গায়ের রং ধপধপে ফর্সা, টানা টানা টলটলে বিশাল দুটি চোখ, ঈষৎ লম্বাটে মুখে টিকলো ছোটো নাক, তাতে সাদা পাথর বসানো এতটুকু একটা নাকফুল। আমার স্ত্রী তাকে জিগগেস করলে, নাম কি তোর? আয়েশা। কাজ… Continue reading জননী – হাসান আজিজুল হক
নিয়তি – হুমায়ূন আহমেদ
আমরা থাকি এক মহারাজার বসতবাড়িতে, যে-বাড়ির মালিক অল্প কিছুদিন আগেই দেশ ছেড়ে ইন্ডিয়াতে চলে গেছেন। বাড়ি চলে এসেছে পাকিস্তান সরকারের হাতে। মহারাজার বিশাল এবং প্রাচীন বাড়ির একতলায় আমাদের থাকার ব্যবস্থা। দুতলাটা তালাবদ্ধ। শুধু দুতলা নয়, কয়েকটা ঘর ছাড়া বাকি সবটা তালাবদ্ধ কারণ মহারাজা জিনিসপত্র কিছুই নিয়ে যাননি। ঐসব ঘরে তাঁর জিনিসপত্র রাখা। ঐ মহারাজার নাম… Continue reading নিয়তি – হুমায়ূন আহমেদ
খান ব্রাদার্স অ্যান্ড কোম্পানি – হুমায়ূন আহমেদ
খান ব্রাদার্স অ্যান্ড কোম্পানির মালিক খান সাহেব আমাকে ডেকে পাঠিয়েছেন। তাকে যথেষ্ট বিরক্ত মনে হলো। তিনি নন্দিত নরকে উপন্যাসের প্রুফ আমার দিকে এগিয়ে দিয়ে বললেন, বই ছোট হয়েছে। বড় করতে হবে। আমি বললাম, আমার গল্পটাই তো এতটুকু। খান সাহেব বললেন, উপন্যাস ফর্মা হিসেবে লিখতে হয়। ফর্মা বুঝেন তো? ষোল পৃষ্ঠায় এক ফর্মা। আপনি একটা উপন্যাস… Continue reading খান ব্রাদার্স অ্যান্ড কোম্পানি – হুমায়ূন আহমেদ
হোটেল আহমেদিয়া – হুমায়ূন আহমেদ
আমি একবার একটা ভাতের হোটেল দিয়েছিলাম। নিজের নামের সঙ্গে মিলিয়ে হোটেলের নাম–আহমেদিয়া হোটেল। আসুন, আপনাদের সেই হোটেলের গল্প বলি। ১৯৭১ সনের কথা। মুক্তিযুদ্ধের শেষ পর্যায়। রোজার মাস। থাকি মহসিন হলে ৫৬৪ নম্বর রুমে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলি তখন ছাত্রদের জন্যে নিরাপদ বলে ভাবা হত। কারণ যারা এই সময়ে হলে থাকবে তারা অবশ্যই পাকিস্তান অনুরাগী। হলে থেকে… Continue reading হোটেল আহমেদিয়া – হুমায়ূন আহমেদ
মাছ – হুমায়ূন আহমেদ
পৃথিবীর সবচে’ ছোট সাইজের মাছের নাম জানেন? মলা মাছ? মলা মাছ তো অনেক বড় মাছ। পৃথিবীর সবচে ছোট সাইজের মাছ এক ইঞ্চির তিন ভাগের এক ভাগ। বলেন কি? মিসির আলি চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে বললেন, এই মাছের নাম Paedocypris fish. বিজ্ঞানীরা এই মাছের সন্ধান পান সুমাত্রার জঙ্গলের জলাভূমিতে। মাছটা কাচের মতো স্বচ্ছ। আমি বললাম,… Continue reading মাছ – হুমায়ূন আহমেদ
ওমেগা পয়েন্ট – হুমায়ূন আহমেদ
০১. ইয়াসিন সাহেব বারান্দায় অজু করতে এসে দেখেন ইয়াসিন সাহেব বারান্দায় অজু করতে এসে দেখেন শশা-মাচার নিচে লাল শাড়ি পরা বউ মত কে যেন ঘুরঘুর করছে। শশা-মাচা তো বেড়ানোর জায়গা না। কে ওখানে? শশা তুলছে নাকি? তাই তো, শশাই তো তুলছে। কোঁচড়ভর্তি শশা। সূর্য ডোবার পর ফলবতী গাছের ফল ছেঁড়া যায় না—এই সত্যটা কি লাল… Continue reading ওমেগা পয়েন্ট – হুমায়ূন আহমেদ
সূক্ষ্ম হিসাব-সুকুমার রায়
একজন লোককে তাহার বয়স জিজ্ঞাসা করা হইয়াছিল। সে তৎক্ষণাৎ কাগজ পেন্সিল লইয়া হিসাব করিয়া বলিল, “আঠার বৎসর তিন মাস ষোল দিন চার ঘণ্টা—কত মিনিট ঠিক বলতে পারলাম না।” যিনি প্রশ্ন করিয়াছিলেন তিনি ত উত্তর শুনিয়া চটিয়াই লাল। বাস্তবিক, আমাদের সকল কাজের যদি এরকম চুলচেরা সূক্ষ্ম হিসাব রাখিতে হয়, তবে হিসাবের খবর লইতেই সমস্ত জীবনটা কাটিয়া… Continue reading সূক্ষ্ম হিসাব-সুকুমার রায়
মনে মনে খেলা-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
সিনেমা হলের মধ্যে অন্ধকারেই পেছন দিক থেকে ছেলেটিকে একটু চেনা চেনা মনে। হয়েছিল। আলো জ্বলতে ভালো করে দেখা গেল। হ্যাঁ, ধূর্জটিই। সেই আগের মতনই রোগা আর লম্বা মাথাভরতি ঘন এলোমেলো চুল, কাঁধে একটা ঝোলানো ব্যাগ। চেহারায় এমন কিছু বৈশিষ্ট্য নেই, শুধু লম্বা বলেই ভিড়ের মধ্যেও অনেক দূর থেকে চোখে পড়ে। দীপংকর সুপ্রিয়াকে বলল, ওই দেখো,… Continue reading মনে মনে খেলা-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
বাল্য-স্মৃতি – শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
পুরাতন কথার আলোচনা-শীর্ষক একটি প্রবন্ধ প্রকাশিত হইয়াছে। ইহাতে আমার সম্বন্ধে কিছু কিছু আলোচনা আছে, কিন্তু আছে বলিয়াই যে সে আলোচনায় আমিও যোগ দিই এ আমার স্বভাব নয়। তাহার প্রধান কারণ, আমি অত্যন্ত অলস লোক—সহজে লেখালিখির মধ্যে ঘেঁষি না; দ্বিতীয় কারণ, আমার বিগত জীবনের ইতিবৃত্ত সম্বন্ধে আমি অত্যন্ত উদাসীন। জানি, এ লইয়া বহুবিধ জল্পনা-কল্পনা ও নানাবিধ… Continue reading বাল্য-স্মৃতি – শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়