সূক্ষ্ম হিসাব-সুকুমার রায়

একজন লোককে তাহার বয়স জিজ্ঞাসা করা হইয়াছিল। সে তৎক্ষণাৎ কাগজ পেন্সিল লইয়া হিসাব করিয়া বলিল, “আঠার বৎসর তিন মাস ষোল দিন চার ঘণ্টা—কত মিনিট ঠিক বলতে পারলাম না।” যিনি প্রশ্ন করিয়াছিলেন তিনি ত উত্তর শুনিয়া চটিয়াই লাল। বাস্তবিক, আমাদের সকল কাজের যদি এরকম চুলচেরা সূক্ষ্ম হিসাব রাখিতে হয়, তবে হিসাবের খবর লইতেই সমস্ত জীবনটা কাটিয়া… Continue reading সূক্ষ্ম হিসাব-সুকুমার রায়

মনে মনে খেলা-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

সিনেমা হলের মধ্যে অন্ধকারেই পেছন দিক থেকে ছেলেটিকে একটু চেনা চেনা মনে। হয়েছিল। আলো জ্বলতে ভালো করে দেখা গেল। হ্যাঁ, ধূর্জটিই। সেই আগের মতনই রোগা আর লম্বা মাথাভরতি ঘন এলোমেলো চুল, কাঁধে একটা ঝোলানো ব্যাগ। চেহারায় এমন কিছু বৈশিষ্ট্য নেই, শুধু লম্বা বলেই ভিড়ের মধ্যেও অনেক দূর থেকে চোখে পড়ে। দীপংকর সুপ্রিয়াকে বলল, ওই দেখো,… Continue reading মনে মনে খেলা-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

বাল্য-স্মৃতি – শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

পুরাতন কথার আলোচনা-শীর্ষক একটি প্রবন্ধ প্রকাশিত হইয়াছে। ইহাতে আমার সম্বন্ধে কিছু কিছু আলোচনা আছে, কিন্তু আছে বলিয়াই যে সে আলোচনায় আমিও যোগ দিই এ আমার স্বভাব নয়। তাহার প্রধান কারণ, আমি অত্যন্ত অলস লোক—সহজে লেখালিখির মধ্যে ঘেঁষি না; দ্বিতীয় কারণ, আমার বিগত জীবনের ইতিবৃত্ত সম্বন্ধে আমি অত্যন্ত উদাসীন। জানি, এ লইয়া বহুবিধ জল্পনা-কল্পনা ও নানাবিধ… Continue reading বাল্য-স্মৃতি – শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

চাঁদের পাহাড়-বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

শঙ্কর একেবারে অজ পাড়াগাঁয়ের ছেলে। এইবার সে সবে এফ.এ. পাশ দিয়ে গ্রামে বসেছে। কাজের মধ্যে সকালে বন্ধুবান্ধবদের বাড়িতে গিয়ে আড্ডা দেওয়া, দুপুরে আহারান্তে লম্বা ঘুম, বিকেলে পালঘাটের বাঁওড়ে মাছ ধরতে যাওয়া। সারা বৈশাখ এইভাবে কাটবার পরে একদিন তার মা ডেকে বললেন— শোন একটা কথা বলি শঙ্কর। তোর বাবার শরীর ভালো নয়। এ অবস্থায় আর তোর… Continue reading চাঁদের পাহাড়-বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

ছেলেবেলা-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

১ আমি জন্ম নিয়েছিলুম সেকেলে কলকাতায়। শহরে শ্যাকরাগাড়ি ছুটছে তখন ছড়্‌ছড়্‌ করে ধুলো উড়িয়ে, দড়ির চাবুক পড়ছে হাড়-বের করা ঘোড়ার পিঠে। না ছিল ট্রাম, না ছিল বাস, না ছিল মোটরগাড়ি। তখন কাজের এত বেশি হাঁসফাঁসানি ছিল না, রয়ে বসে দিন চলত। বাবুরা আপিসে যেতেন কষে তামাক টেনে নিয়ে পান চিবতে চিবতে, কেউ বা পালকি চ’ড়ে… Continue reading ছেলেবেলা-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

উন্মাদ-কথা – হুমায়ূন আহমেদ

সন্তানদের নাম সাধারণত বাবা-মা কিংবা অন্য গুরুজনরা রাখেন। আমার সর্বকনিষ্ঠ ভাই আহসান হাবীবের নাম আমার রাখা। বাবা তার কনিষ্ঠ পুত্রের জন্যে নাম খুঁজছিলেন। আমার এক বন্ধুর নাম আহসান হাবীব। দুর্দান্ত ভালো ছেলে (এখন আমেরিকার এক বিশ্ববিদ্যালয়ে ইকনমিক্সের অধ্যাপক এবং বিশিষ্ট তবলাবাদক। বাঙালিদের গানের অনুষ্ঠান তার তবলা বাদন না হলে জমে না।) আমি বাবাকে বললাম, আহসান… Continue reading উন্মাদ-কথা – হুমায়ূন আহমেদ

ইংরেজিতে লেখা একটি চিঠি – হুমায়ূন আহমেদ

ইংরেজিতে লেখা একটি চিঠি পেয়েছি। হাতের লেখা যেমন চমৎকার, ইংরেজিও খুব সুন্দর। চিঠির শেষে নাম নেই, শুরুতেই তার জন্যে পত্র লেখিকা ক্ষমা চেয়ে নিয়েছেন। নিজের পরিচয় প্রসঙ্গে বলেছেন–আমি মোটামুটি সম্মানজনক একটি চাকরি করছি। আমার বয়স ৪০। আমার আদি নিবাস বিহার প্রদেশে। মোহাজের হয়ে বাবা-মা-ভাইবোন সহ ১৯৫০ সনে তদানীন্তন পাকিস্তানের সৈয়দপুরে চলে আসি।   একটি দীর্ঘ… Continue reading ইংরেজিতে লেখা একটি চিঠি – হুমায়ূন আহমেদ

আশৈশব দুর্বলতা – হুমায়ূন আহমেদ

ঘড়ি নামক বস্তুটির প্রতি আমার আশৈশব দুর্বলতা। কেউ আবার মনে করে বসবেন না আমি হাই থটের কিছু বলার চেষ্টা করছি–ঘড়ি বহতা সময়ের প্রতীক, মহাকালের প্রহরী ইত্যাদি ইত্যাদি। মোটেই সে রকম কিছু নয়। আমার দুর্বলতার কারণ ঘড়ি সুন্দর একটা জিনিস। সেকেণ্ডের কাঁটা ক্রমাগত ঘুরছে। তাকিয়ে থাকলে মনে হয় বস্তুটির প্রাণ আছে। কানের কাছে ধরলে হৃদপিণ্ডের শব্দের… Continue reading আশৈশব দুর্বলতা – হুমায়ূন আহমেদ

ঝোঁকের মাথায় – হুমায়ূন আহমেদ

এই জীবনে বেশির ভাগ কাজই আমি করেছি ঝোঁকের মাথায়। হঠাৎ একটা ইচ্ছে হল, কোনদিকে না তাকিয়ে ইচ্ছাটাকে সম্মান দিলাম। পরে যা হবার হবে। দুএকটা উদাহরণ দেই–আমাদের সময় সায়েন্সের ছেলেদের ইউনিভার্সিটিতে এসে ইংরেজী বা ইকনমিক্স পড়া ছিল ফ্যাশন। আমিও ফ্যাশনমত ইকনমিক্সে ভর্তি হয়ে গেলাম। এক বন্ধু পড়বে কেমিস্ট্রি। তাকে নিয়ে কেমিস্ট্রি ডিপার্টমেন্টে এসেছি। বারান্দায় দাঁড়িয়ে আছি।… Continue reading ঝোঁকের মাথায় – হুমায়ূন আহমেদ

ডবল পশুপতি – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

পশুপতিবাবু নিতান্তই ভালমানুষ। তবে দোষের মধ্যে তার মনটা বড় ভুলো। তিনি সর্বদা এতই আনমনা যে, আচমকা যদি কেউ তাঁকে তাঁর নামটা জিজ্ঞেস করে, তা হলেও তিনি চট করে সেটা মনে করতে পারবেন না। একটু ভেবে বলতে হয়। পশুপতিবাবুদের অবস্থা একসময়ে বেশ ভালই ছিল। তার ঠাকুর্দা পুরোনো জিনিস কেনাবেচার কারবার করে খুব পয়সা করেছিলেন। বিশাল দো-মহলা… Continue reading ডবল পশুপতি – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়