সাগর কেন লোনা ?-উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী

এক যে ছিল রাজা, তার নাম ফ্রদি। তার ছিল একটা যাঁতা, তাকে বলত গ্রত্তি। সে যাঁতা যেমন তেমন যাঁতা ছিল না, তাকে ঘুরিয়ে যে জিনিস ইচ্ছা, তাই তার ভিতর বার করা যেত। কিন্তু ঘোরাবে কে? সে যাঁতা ছিল পাহাড়ের মত বড়। রাজার চাকরেরা সেটা নাড়তেই পারল না। রাজার দেশে যত জোয়ান ছিল, সকলে হার মেনে… Continue reading সাগর কেন লোনা ?-উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী

জিয়োনো মাছ-সমরেশ মজুমদার

চা চুরির জন্য চাকরিটা চলে গেল বংশীর। অথচ ব্যাপারটা এমন কিছু গুরুতর নয়, সবাই চুরি করে, কেউ সাধু নয়। মেয়েগুলোর সুবিধে একটু বেশি, আংরার তলায় পুঁটলি বেঁধে বেশ নিয়ে যায়, চৌকিদার শালা তখন চোখ বুজে থাকে। পোয়াতি মেয়েদের তো পোয়াবারো, তলপেটের সঙ্গে সাইজ মিলিয়ে ওপপেটে চা বেঁধে নেয়। বিরাট গুদামে পাহাড় করা চায়ের পাতা, কাঠি… Continue reading জিয়োনো মাছ-সমরেশ মজুমদার

শেষ অশ্বারোহী-তারাপদ রায়

জুলাই মাস নাগাদ একটা বর্ষা ভাল করে পেরোবার আগেই যখন পর পর তেরোটা ওয়াইপার চুরি গেল, সনাতন সরকার স্থির করে ফেললেন, আর গাড়ি নয় এবং সত্যি সত্যিই সাত দিনের মধ্যে জলের দামে গাড়িটা বেচে দিলেন। গাড়িটা বেচে তার বিপদ কিন্তু আরও বাড়ল। থাকেন হাতিবাগানের কাছে। অপিসের সময় সেখান থেকে ট্রামে-বাসে ওঠা যায় না, মিনিবাস কিংবা… Continue reading শেষ অশ্বারোহী-তারাপদ রায়

পিতা-পুত্র উপাখ্যান-সমরেশ মজুমদার

ডুডুয়ার সতীশ রায় মুখের ওপর বলে দিলেন, ‘দূর মশাই, খাঁটি সোনার গয়না হয় না, তার সঙ্গে ভেজাল মেশাতে হয়। তবেই সেটার চেহারা খোলে। তেমনি মেয়েমানুষের স্বভাবে যদি একটু নষ্টামির ঝোঁক না থাকে তাহলে তাকে আলুনি ছাড়া আর কিছুই ভাবতে পারব না। কি বল হে?’ কথা হচ্ছিল সতীশ রায়ের বাগানের বেঞ্চিতে বসে। পাশে বয়ে যাচ্ছে ডুডুয়া… Continue reading পিতা-পুত্র উপাখ্যান-সমরেশ মজুমদার

পারুল প্রসঙ্গ-বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)

“ও কি তোমাদের মত উপায় ক’রে খাবে নাকি?” “উপায় ক’রে না খাক–তা ব’লে মাছ দুধ চুরি ক’রে খাওয়াটা–” “আমার ভাগের মাছ দুধ আমি ওকে খাওয়াব!” “সে তো খাওয়াচ্ছই–তাছাড়াও যে চুরি করে। এরকম রোজ রোজ–” “বাড়িয়ে বলা কেমন তোমার স্বভাব। রোজ রোজ খায়?” “যাই হোক–আমি বেড়ালকে মাছ দুধ গেলাতে পারব না। পয়সা আমার এত সস্তা নয়।”… Continue reading পারুল প্রসঙ্গ-বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)

বাড়তি মাশুল-বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)

একেই বলে বিড়ম্বনা। আমি একজন ডেলি প্যাসেঞ্জার। সেদিন সমস্ত দিন আপিসে কলম পিষে উর্ধ্বশ্বাসে হাওড়ায় এসে লোকাল ট্রেণের একখানি থার্ড ক্লাসে বসে হাঁপাচ্ছি–এমন সময় দেখি সামনের প্লাটফর্ম থেকে বোম্বে মেল ছাড়ছে আর তারই একটি কামরায় এমন একখানি মুখ আমার চোখে পড়ে গেল যাতে আমার সমস্ত বুক আশা আনন্দে দুলে উঠল। বহুদিন আগে এমার এক ছেলে… Continue reading বাড়তি মাশুল-বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)

জঠর-সমরেশ মজুমদার

কুঁচকে যাওয়া পাটসিলকের ঝোলা পাঞ্জাবি খাটো ধুতি আর প্রায় সাদা হয়ে আসা মোজাহীন জুতো পরা লোকটা নগদ টাকাগুলো ট্যাঁকে খুঁজল। ওর সামনে দাঁড়িয়েছিল বুড়ো সাবির মিঞা। সাবিরের পেছনে সদ্য কেনা ছাগল আর মুরগির পালগুলো সমানে চেঁচিয়ে যাচ্ছে। সকাল থেকেই মওকা পেলে মাল কিনছে সাবির। মেলা এখন জমজমাট। তিনমাস অন্তর এই ভবানীর থানের মাঠে জন্তু-জানোয়ারের কেনাবেচার… Continue reading জঠর-সমরেশ মজুমদার

চলন্তিকা-তারাপদ রায়

অকৃতজ্ঞ এবং কৃতঘ্ন শব্দ দুটির অর্থ একই কিনা, সে বিষয়ে শোভনলালবাবুর মনে একটু সন্দেহ আছে। কিন্তু সন্দেহ নিরসনের কোনও উপায় এই মুহূর্তে তাঁর হাতে নেই। বাংলা অভিধানটা গত সপ্তাহেই নির্মলা দেবী নিয়ে গেছেন, বলেছিলেন পরের দিন সকাল হতে-না-হতে ফেরত দিয়ে যাবেন, দেননি। কেউ কথা রাখেনি। নির্মলা দেবীও কথা রাখেননি। এই সপ্তাহের মধ্যে একদিন বাজারে, দুদিন… Continue reading চলন্তিকা-তারাপদ রায়

সেই আমি, সেই আমি-শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

They All Must Fall In The Round I Call . ভি, তোমার স্বামীর জন্য লজ্জার কিছু নেই। ও ওর যথাসাধ্য লড়েছে। লক্ষ্মী বোন ভি, কেঁদো, আমি ওকে তেমন জোরে মারিনি। আমি তো জানতুম ওর সুন্দরী স্ত্রী আছে, যে ওকে। ভালোবাসে, আর আছে দুটি কিশোর–কিশোরী ছেলেমেয়ে, যারা ওকে পুজো করে। স্বামীকে লড়াই করতে দেখছে স্ত্রী, বাপকে… Continue reading সেই আমি, সেই আমি-শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

অজান্তে-বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)

সেদিন আপিসে মাইনে পেয়েছি। বাড়ী ফেরবার পথে ভাবলাম ‘ওর’ জন্যে একটা ‘বডিস্‌’ কিনে নিয়ে যাই। বেচারী অনেক দিন থেকেই বলছে। এ-দোকান সে-দোকান খুঁ’জে জামা কিনতে প্রায় সন্ধ্যা হয়ে গেল। জামাটি কিনে বেরিয়েছি–বৃষ্টিও আরম্ভ হল। কি করি–দাঁড়াতে হল। বৃষ্টিটা একটু ধরতে–জামাটি বগলে ক’রে–ছাতাটি মাথায় দিয়ে যাচ্ছি। বড় রাস্তাটুকু বেশ এলাম–তার পরই গলি, তা-ও অন্ধকার। গলিতে ঢুকে… Continue reading অজান্তে-বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)