জনতোষণ-সমরেশ মজুমদার

আমাদের পাড়ার শিবু ঘোষ এখন ফিল্ম লাইনে ভালো টাকা করেছে। প্রথমে ট্রাম বাস তারপর ট্যাক্সি শেষে পুরোনো মডেলের অ্যাম্বাসাডার চাপতে শুরু করেছিল। এখন একটা মারুতি ডিল্যাক্সে ওকে দেখি। এসব বদল হলেও শিবুর কথাবার্তা চালচলন বড় একটা পালটায়নি। ওর বাবার একটা কারখানা ছিল ভালো জায়গায়। কিন্তু শ্রমিক বিক্ষোভ বেড়ে যাওয়ায় সেটি বন্ধ করে দিয়েছিলেন ভদ্রলোক। অনেক… Continue reading জনতোষণ-সমরেশ মজুমদার

মূল কাহিনি-তারাপদ রায়

আপাতত যথেষ্ট হয়েছে। পাঠক-পাঠিকাদের ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র এক গল্পের সুযোগে নিষিদ্ধ বিষয়ে এর চেয়ে বেশি জ্ঞানদান করা যুক্তিসঙ্গত নয়। এবার আমরা মূল গল্পে প্রবেশ করি। প্রথমেই ভ্রম সংশোধন। বাংলা মদের দোকানের নাম যে থাকে না তা নয়। বাংলা মদের নামহীন দোকান সব, যেগুলোকে তার গ্রাহক-অনুগ্রাহকেরা ভালবেসে ঠেক বলে থাকে, কখনও কখনও গ্রাহকদের দ্বারস্থ গৌরবার্থে নামান্বিত হয়। যেমন… Continue reading মূল কাহিনি-তারাপদ রায়

জীবনে যেমনটি হয়-সমরেশ মজুমদার

চিত্তপ্রিয় চ্যাটার্জি অবসর নিয়েছেন বছর ছয়েক হল কিন্তু এখনও তাঁর শরীর-স্বাস্থ্য মজবুতই আছে। ভদ্রলোকের স্ত্রী গত হয়েছেন তিন বছর আগে। যাওয়ার আগে প্রায় তিন বছর ধরে শয্যাশায়ী ছিলেন। তাঁর চিকিৎসার কোনও ত্রুটি করেননি চিত্তপ্রিয়। কিন্তু তিন বছর ধরে একজন মৃতপ্রায় মানুষের সঙ্গে ক্রমাগত বাস করলে শোকের ধার কমে যায় বলেই স্ত্রী গত হওয়ার পর তিনি… Continue reading জীবনে যেমনটি হয়-সমরেশ মজুমদার

শূকরছানা -সমরেশ মজুমদার

কুকুরগুলোর খাওয়া দেখছিল ছেলেটা। তিনটে জিভ একসঙ্গে পড়ছে থালাতে, সপসপ শব্দ হচ্ছে। যে যত তাড়াতাড়ি জিভ নাড়তে পারবে তার পেটে তত বেশি খাওয়ার যাবে। ছেলেটা জুলজুল করে দেখল, কি দ্রুত খাবারগুলো শেষ হয়ে গেল। খাবার বলতে মোটা চালের ভাত পেঁকির শাকের চচ্চড়ি। কুকুর তিনটে একদম নেড়ি, তবে তিনটেই মদ্দা। মাদি কুকুর রাখতে চায় না লোকটা।… Continue reading শূকরছানা -সমরেশ মজুমদার

সম্পূর্ণতা-শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

ঠিক পুরুষের মতো গলায় একজন বয়স্কা নার্স চেঁচিয়ে ডাকছিল। –অমিতাভ গাঙ্গুলি কে? অমিতাভ গাঙ্গুলি? বাবার মুখ নোয়ানো। হাতের ওপর থুতনি রেখে বোধহয় চোখ বুজে আছে। ডান গালে স্টিকিং প্লাস্টারে সাঁটা তুলোর ঢিবি। ডাক শুনে মুখ তুলে শমীকের দিকে তাকাল। শমীক উঠে দু-পা এগিয়ে থতমত গলায় বলে–এই যে এখানে। নার্স হাতের কাগজটার দিকে চোখ রেখেই বলে–ক্যানসার।… Continue reading সম্পূর্ণতা-শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

বর্ণপরিচয়-সমরেশ মজুমদার

তারাপদ বিশ্বাস, হৃদয়পুরের তারাপদ বিশ্বাসের মাথায় ব্যাপারটা কিছুতেই ঢোকে না যে, এইসব মিছিল-টিছিল করে কার কী লাভ! সেরেফ চেল্লানি, রাস্তা জুড়ে শাহেনশা ঠাটে পা ফেলা, ট্রাম বাস জ্যাম করে একটা মাতব্বরি দেখানো, তারাপদ বিশ্বাস মনে-মনে এই কথাই বলে। বেশ কিছুকাল থেকেই ওর একটা ধারণা ছিল, যতসব মায়ে-তাড়ানো বাপে-খেদানো ছেলেদের নিয়ে কিছু উঠতি নেতা-গোছের লোক শ্যালদা… Continue reading বর্ণপরিচয়-সমরেশ মজুমদার

দুলতে-দুলতে যাওয়া-সমরেশ মজুমদার

বাড়িটা খুঁজে বের করতে বেশ সন্ধে হয়ে গেল। অনেকদিন পরে কলকাতায় আসা–রাস্তাগুলো কেমন গুলিয়ে যায়। তা ছাড়া বিজনবাবুর বাড়িতে আমি কোনওদিন আসিনি–আসার কোনও কথাও নয়। বছর তিনেক আগে একবার নৈনিতালে বেড়াতে গিয়েছিলাম। হোটেলের ডাবল সিটের শরিক হয়েছিলেন বিজনবাবু। আমি থাকি চণ্ডীগড়ে, কলকাতার লোক পেয়ে বেশ জমে। গিয়েছিলাম। দেখা গেল আমাদের বয়স এক, দুজনেরই একটিমাত্র সন্তান।… Continue reading দুলতে-দুলতে যাওয়া-সমরেশ মজুমদার

আকাশের আড়ালে আকাশ-সমরেশ মজুমদার

মাঠঘাট পেরিয়ে ছুটতে-ছুটতে ট্রেনটা বিকেল শেষ করে দিল। জানালায় বসে রোদ মরে যেতে দেখেছিল সে, ছায়া গাঢ় হতে-হতে ঘোলা পৃথিবী। ছুটন্ত ট্রেন থেকে অনীক সূর্য-হারানো পৃথিবীর শরীর চুঁইয়ে বেরনো অন্ধকারকে অনুভব করতে পারল এক সময়। পর-পর এইসব পরিবর্তন দেখতে-দেখতে অদ্ভুত বিষণ্ণ আরামে আক্রান্ত হয়ে গেল সে। অনীক জানালায় মাথা রেখে চাঁদ উঠতে দেখল। আর তখনই… Continue reading আকাশের আড়ালে আকাশ-সমরেশ মজুমদার

বৌ-রজত বন্দ্যোপাধ্যায়

০৫/০৩/২০২২ আজকের কাহিনীর পটভূমিকা ঊনিশ শতকের পাঁচের দশকের কোন একটা বছর। কালের হিসেবে বোঝাই যায় যে সেটা ছিল এমন একটা সময় যে সময়টার কোনকিছুই আমাদের এখনকার সময়ের সঙ্গে মেলে না। যেমন সে যুগে গেরস্ত বাড়ির রান্নাঘরে হেঁসেল থাকত, কিচেন স্ল্যাব নয়; ডাক্তারের সঙ্গে কম্পাউণ্ডার থাকত, রিসেপসনিষ্ট নয়; ভূগোলের দিদিমনির জিওগ্রাফির ম‍্যাম্ হতে তখনও বহু দেরি;… Continue reading বৌ-রজত বন্দ্যোপাধ্যায়

ফাঁসি-মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়

সন্দেহ নাই যে, ব্যাপারটা বড় শোচনীয়। কে কল্পনা করিতে পারিত, বত্রিশ বৎসর বয়স পর্যন্ত স্বাভাবিক শান্ত জীবন যাপন করিবার পর গণপতি শেষপর্যন্ত এমন একটা ভয়ানক ব্যাপারে জড়াইয়া পড়িবে। শিক্ষিত সদ্বংশের ছেলে, কথায় ব্যবহারে ভদ্র ও নিরীহ, জীবনে ধরিতে গেলে, এক রকম সব দিক দিয়াই সুখী, সে কিনা একটা লজ্জাকর হত্যাকাণ্ডের আসামি হিসাবে ধরা পড়িল! লোকে… Continue reading ফাঁসি-মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়