কয়েকদিন যেতে-না-যেতেই হাঁপিয়ে উঠলেন রজতাভ। কাঁহাতক চব্বিশ ঘণ্টা বাড়িতে বসে থাকা যায়! সেই ভোর পাঁচটায় ঘুম ভাঙার পর নিজে চা তৈরি করেন। কলকাতায় থাকলে শিখাকে ডেকে চায়ের কাপ ওর মাথার পাশে রাখতেন। শিখা উঠে পড়ত। এখানে শিখার ঘুম ভাঙে ঠিক সাতটায়। উঠেই ছেলের জন্যে ব্রেকফাস্ট তৈরি করতে ছোটে। রঙ্গন অফিসে বের হয় ঠিক আটটায়। দু-মাস… Continue reading দায়মুক্ত -সমরেশ মজুমদার
Category: শিল্প-ও-সাহিত্য
বদরক্ত-সমরেশ মজুমদার
দিনরাত ঝুপঝুপ বৃষ্টি তবু মানুষের আসা বন্ধ হচ্ছে না। সাক্ষাৎ পাওয়ার একটা নির্দিষ্ট সময় আছে, ভক্তরা সেকথা জানেন, তবু অসময়েও আসা চাই। দোতলার বারান্দা থেকে ওদের আসতে দেখেছিলেন রমলা। নিচের বারান্দা ভরতি হয়ে গিয়েছে, সামনের মাঠের ত্রিপলের তলায় এতক্ষণে নিশ্চয়ই জায়গা নেই। এত মানুষ আসছে শুধু মাকে একবার চোখে দেখবে বলে। ভারতবর্ষের যেখানেই মা যান… Continue reading বদরক্ত-সমরেশ মজুমদার
উনুনের গল্প-সমরেশ মজুমদার
ভাতারখাকি বলে বদনামের গল্প যার গায়ে তার কাছে অনেকেই ভনভনিয়ে আসবে এ আর নতুন কথা কি! তবে কিনা একটু আড়াল আবডাল, ধরি মাছ না ছুঁই পানির চোখধারা না থাকলে গাঁয়ে বাস করা যায় না। রাত-বেরাতে কিছু ঘটলে ছেলেপুলের বাপ-মা সংসারী মানুষেরা জিভ নাড়তে পারে না, আবার দিনদুপুরে দেখা পেলেই বুকে বেড়াল আঁচড়ায়। দৃষ্টান্ত তো ভুরিভুরি।… Continue reading উনুনের গল্প-সমরেশ মজুমদার
ট্রেন কাহিনি-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
পশ্চিমবাংলায় প্রতি মাসে গড়ে অন্তত পাঁচটি ট্রেন ডাকাতি হয়। ব্যাঙ্ক ডাকাতি হয় দুটি। ভারতের অন্যান্য রাজ্যের তুলনায় পশ্চিমবাংলা অনেক এগিয়ে আছে। আমাদের এইসব ডাকাতদের নিয়ে আমরা রীতিমতন গর্ব করতে পারি। তারা কাজে ফাঁকি দেয় না, কোনওরকম ভুল চুক করে না, সেই জন্য ধরা পড়ার কোনও প্রশ্নই নেই। দু-একটি ব্যাঙ্ক ডাকাত দৈবাৎ ধরা পড়লেও ট্রেন ডাকাতরা… Continue reading ট্রেন কাহিনি-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
অভিদার কথা-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
আমি জানি, আমার চরিত্রে একটা বৈপরীত্য আছে। ডুয়াল পার্সোনালিটি। তবে ডক্টর জেকিল অ্যান্ড মিস্টার হাইডের মতন অতটা নয়। তবে কোনও খুনটুন করিনি। আমি ভালো লোক, আবার এই আমিই ঝোঁকের মাথায় এমন এক-একটা কাণ্ড করে ফেলি, যাতে আমার নিজেরই চরম ক্ষতি হবে, শেষ মুহূর্তে সেটা আমি বুঝি তবু জেদের বশে থামি না। কেন যে এরকম করি,… Continue reading অভিদার কথা-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
সুনেত্রার কথা-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
পিন্টু আর আমি যমজ ভাইবোন। আমার জন্মের ঠিক সাত মিনিট পরে পিন্টু হয়েছিল, সেই হিসেবে আমি পিন্টুর বড়, কিন্তু ও কখনও আমাকে দিদি বলে না। যমজ হলেও কিন্তু আমরা একরকম দেখতে নই। বাবার বন্ধু রতনকাকার দুই ছেলে যমজ, ওরা কিন্তু হুবহু একরকম, কে যে অজয় আর কে যে সুজয় তা আমরা বুঝতে পারি না। আমাদের… Continue reading সুনেত্রার কথা-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
দশ বছর আগে পরে-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
প্রথমে মনে হয়েছিল পুরো ব্যাপারটাই হাস্যকর। একটা লঘু ভুল। কিংবা কারও রসিকতা। সকাল নটা। প্রতিদিন এই সময় ইন্দ্রনাথ বসু তানপুরা নিয়ে রেওয়াজ করেন ঘণ্টা দু-এক। তিনি রাতচরা পাখির মতন ঘুমোতে যান তৃতীয় প্রহরে, তাই ভোরবেলা ওঠা হয় না। ভোরবেলা গলা সাধার পক্ষে প্রশস্ত, এটাই প্রথাসিদ্ধ। এই সময় ইন্দ্রনাথ কোনও বহিরাগতের সঙ্গে দেখা করেন না। তাঁর… Continue reading দশ বছর আগে পরে-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
দেওয়ালের সেই ছবি-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
বাবা অফিস যাওয়ার জন্য তৈরি হন ঠিক সাড়ে ন’টায়। একদিনও তার দেরি করার উপায় নেই। কারণ বাবা দেরি করলেই টুবলুরও দেরি হয়ে যাবে। অফিস যাওয়ার পথে বাবা টুলুকে ইস্কুলে নামিয়ে দিয়ে যান। এমনিতে বাবার খুব ভুলোমন। প্রায়ই বেরুবার সময় কিছু না কিছু নিতে ভুল করেন। নিচে নেমে গিয়ে মনে পড়ে অফিসের দেরাজের চাবি নেননি, কিংবা… Continue reading দেওয়ালের সেই ছবি-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
বৃষ্টিরাতের আপদ বিপদ-সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
আমাদের গোরাচাঁদ রোডে একপশলা বৃষ্টিতেই হাঁটু জল জমে। এদিনে বিকেল মাচারটে থেকে রাত আটটা অব্দি একটানা বৃষ্টি। খবরের কাগজের আপিসে চাকরি করি। রাত নটায় ডিউটি শেষ। বেরিয়ে দেখি, বৃষ্টি বন্ধ। কাতারে কাতারে লোক বাস-ট্রামের অপেক্ষায় এসপ্লানেড জুড়ে ছুটোছুটি করে বেড়াচ্ছে। ভাগ্য ভালো। একটা বাসে গোত্তা মেরে ঢুকে গেলুম। আধঘন্টা পরে যখন গোরাচাঁদ রোডে বাস থামল,… Continue reading বৃষ্টিরাতের আপদ বিপদ-সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
মহামহিম-তারাপদ রায়
জয়দেব পাল এবং মহিমাময় রায়চৌধুরীর কথা বার বার লেখার কোনও মানে হয় না। তা ছাড়া এদের এখন বয়েস হয়েছে, দুজনেই বেশ কিছুদিন হল পঞ্চাশ পার হয়েছে। বিভিন্ন ধরনের কীর্তিকলাপ করার ক্ষমতা এদের এখন খুবই কমে গেছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও এরা এখানে মাঝে মধ্যে এমন কিছু অঘটন ঘটিয়ে বসেন যার তুলনা শুধু খোজা নাসিরুদ্দিনের গল্পে অথবা… Continue reading মহামহিম-তারাপদ রায়