পনেরো দিন বাড়িটা মিস্ত্রিদের হাতে ছেড়ে দিয়ে গেস্টহাউসে থাকতে হয়েছিল কমলেন্দুকে, সস্ত্রীক। স্ত্রী-র ইচ্ছা ছিল তার বোনের বাড়িতে গিয়ে থাকার। অনেক জায়গা, ওরাও চেয়েছিল কিন্তু কমলেন্দু রাজি হননি। স্ত্রী-র বাপের বাড়ি বলে নয়, আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে গিয়ে থাকাটা তাঁর পছন্দ নয়। পনেরোদিন পরে একতলা বাড়িটার সবকটা ঘরের চেহারা পালটে নতুন করে মিস্ত্রিরা যখন বিদায় হল তখন… Continue reading সাংসারিক-সমরেশ মজুমদার
Category: শিল্প-ও-সাহিত্য
কণ্টকাকীর্ণ-তারাপদ রায়
যথা সময়েই পৌঁছানো গেল। আমার বন্ধু সমীরের কাকার শ্রাদ্ধবাসর। আশা করেছিলাম বন্ধুবান্ধব অন্যান্য অনেকেই হয়তো আসবেন। কিন্তু গিয়ে দেখলাম আমি একা, আর সবই সমীরদের আত্মীয়স্বজন এবং পারিবারিক বন্ধুবান্ধব। একা একাই চুপচাপ বসেছিলাম, এমন সময় সমীর এসে আমার পাশে বসল। বাইরের ঘরের পাশে একটা প্যাসেজের মধ্যে বসে আছি। একে একে অতিথি-অভ্যাগত সব প্রবেশ করছেন। সমীর পরিচয়… Continue reading কণ্টকাকীর্ণ-তারাপদ রায়
আঁচড়-সমরেশ মজুমদার
এখন দিনদুপুরেই বাড়িটাকে ভূতুড়ে বলে মনে হয়। এই বাড়ির শেষ অধিবাসী হরশংকর রায় দুপুরবেলায় চিঠি পড়ছিলেন। বর্ধমানের জীবনবাবু লিখেছেন, আপনার মেয়েকে আমাদের ভালো লেগেছিল। পছন্দ করেছিলাম। কিন্তু সে যদি বিবাহ করবে না বলে স্থির করেই থাকে তাকে ডেকে নিয়ে গিয়ে এমন অপমান নাই বা করতেন! চিঠিটা পড়ে পাংশু চোখে ভেতরের দিকে তাকালেন হরশংকর। বিশাল লম্বা… Continue reading আঁচড়-সমরেশ মজুমদার
ফুঃ-তারাপদ রায়
ফুঃ’। ঘরের মধ্যে সোফায় বসে একবার ফুঃ করেছিলেন অমরজিৎ। তারপর চুপচাপ গম্ভীর মুখে রাস্তায় বেরিয়ে এসে সাদা মারুতি গাড়িটার পেছনের সিটে বসে আবার আরেকবার ফুঃ করলেন। অমরজিৎ চক্রবর্তী। পাশাপাশি শুকনো মুখে হেঁটে আসছিলেন মিলনবাবু, মিলনলাল সেনগুপ্ত। তাঁর দালালগিরির সুদীর্ঘ জীবনে তিনি আর কখনও এতটা অসফল, এতটা হতাশ হননি। ব্যাপারটা কী যে হল, পরপর পাঁচবার ফুঃ,… Continue reading ফুঃ-তারাপদ রায়
তিন সঙ্গী-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
বনমালা লঞ্চ থেকে নামল পনেরো-ষোলোজন যাত্রী। প্রত্যেকেই বিরক্ত। এতক্ষণ সবাই চুপ করে ছিল, এখন সবাই বিড়বিড় করতে-করতে নামছে জেটিতে। কেউ কারুর বিরুদ্ধে নালিশ করছে না, যেন নিজেকেই শোনাচ্ছে নিজের অসুবিধের কথা। রাত প্রায় সাড়ে এগারোটা। পৌনে সাতটায় এখানে পৌঁছবার কথা। মাঝখানে চরে আটকে রইল বনবালা! একসময় তো মনে হয়েছিল, রাতটাই কাটাতে হবে মাঝ নদীতে। সারেং… Continue reading তিন সঙ্গী-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
ফ্রাংকেনস্টাইন – হুমায়ূন আহমেদ
আমি কি করে এক দানব তৈরি করলাম সেই গল্প আপনাদের বলি। অয়োময়ের পর দু’বছর কেটে গেছে। হাতে কিছু সময় আছে। ভাবলাম সময়টা কাজে লাগানো যাক। টিভির বরকতউল্লাহ সাহেব অনেক দিন থেকেই তাঁকে একটা নাটক দেবার কথা বলছেন। ভাবলাম ছয় সাত এপিসোডের একটা সিরিজ নাটক তাকে দিয়ে আবার শুরু করা যাক। এক সকালবেলা তার সঙ্গে চা… Continue reading ফ্রাংকেনস্টাইন – হুমায়ূন আহমেদ
নষ্টনীড়-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
প্রথম পরিচ্ছেদ ভূপতির কাজ করিবার কোনো দরকার ছিল না। তাঁহার টাকা যথেষ্ট ছিল, এবং দেশটাও গরম। কিন্তু গ্রহবশত তিনি কাজের লোক হইয়া জন্মগ্রহণ করিয়াছিলেন। এইজন্য তাঁহাকে একটা ইংরেজি খবরের কাগজ বাহির করিতে হইল। ইহার পরে সময়ের দীর্ঘতার জন্য তাঁহাকে আর বিলাপ করিতে হয় নাই। ছেলেবেলা হইতে তাঁর ইংরেজি লিখিবার এবং বক্তৃতা দিবার শখ ছিল। কোনোপ্রকার… Continue reading নষ্টনীড়-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
বেঁচে আছি-তারাপদ রায়
আজ কিছুদিন হল যাকে বলে শরীরটা ঠিক ভাল যাচ্ছে না। ঠিক কী অসুবিধে কিংবা কী কতটা খারাপ ইঞ্জিনের কোন অংশটা গড়বড় করছে বুঝিয়ে বলতে পারব না। কিন্তু এই সেদিন পর্যন্তও রাস্তা দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে পথের পাশের তেলেভাজা বিপণির তপ্ত মধুর গন্ধে মন কীরকম উদাসীন হয়ে উঠত। এই তো গত বছর সাড়ে বারো ইঞ্চি (একত্রিশ সেন্টিমিটার)… Continue reading বেঁচে আছি-তারাপদ রায়
মণি ডাক্তার – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
আষাঢ় মাসের প্রথমে জ্যৈষ্ঠের গরমটা কাটিয়া গিয়াছে তাই রক্ষা, যে কষ্ট পাইয়াছিলাম গতমাসে! এই বাগানঘেরা হাটতলায় কি একটু বাতাস আছে? কিছু করিতে পারিলাম না এখানেও। আছি তো আজ দেড় বছর। শুধু এখানে কেন, বয়স তো প্রায় বত্রিশ-তেত্রিশ ছাড়াইতে চলিয়াছে, এখনও পর্যন্ত কী করিলাম জীবনে? কত জায়গায় ঘুরিলাম, কোথাও না-হইল পসার, না-জমিল প্র্যাকটিস। বাগআঁচড়া, কলারোয়া, শিমুলতলী,… Continue reading মণি ডাক্তার – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
সূর্যকান্তর প্রশ্ন-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
নার্সিংহোমের খাটে শুয়ে সূর্যকান্ত কী ভাবছেন এখন? সাদা ধপধপে চাদরের ওপর সূর্যকান্তর লম্বা শরীরটা যেন পুরো খাট জুড়ে আছে। চোখ বোজা। একটা হাত বুকের ওপর রাখা। একটু দূরে জানলার কাছে বসে আছে একজন নার্স। ইঞ্জেকশন দিয়ে ঘুম পাড়িয়ে রাখা হয়েছিল সূর্যকান্তকে, কিছুক্ষণ আগে তিনি খানিকটা ছটফট করছেন। এখন তিনি ঘুমিয়ে না জেগে তা ঠিক বোঝা… Continue reading সূর্যকান্তর প্রশ্ন-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়