ও মিছরি, তোর নামে একটা উকিলের চিঠি এসেছে দেখগে যা। এই বলে মিছরির দাদা ঋতীশ টিয়ার ঝাঁক তাড়াতে খেতের মধ্যে নেমে গেল। গোসাবা থেকে দুই নৌকো বোঝাই লোক এসেছে অসময়ে। লাট এলাকার ভিতর বাগে কোনও বিষয়কর্মে যাবে সব। এই অবেলায় তাদের জন্য খিচুড়ি চাপাতে বড় কাঠের উনুনটা ধরাতে বসেছিল মিছরি। কেঁপে উঠল। তার ভরন্ত যৌবন… Continue reading উকিলের চিঠি-শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
Category: শিল্প-ও-সাহিত্য
পাত্রী-শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
কে ও? শিবাই নাকি রে? যে আজ্ঞে। শিবাই-ই বটি। তা পাত্রী পছন্দ হল? না জামাইদা, এটাও লাগসই নয়। দাঁত উঁচু। দাঁত উঁচু? তা কত উঁচু? মুখ বন্ধ হয় না? তা হয়। আজকাল তো শুনি উঁচু দাঁতের বেশ কদর হয়েছে নাকি? ফিলম আর সিরিয়ালে নাকি উঁচু দাঁতের বেশ কদর। আপনি তো ওসব দেখেন টেখেন না, তবে… Continue reading পাত্রী-শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
ভাল খবর, খারাপ খবর -তারাপদ রায়
কাছাকাছি চেনা-পরিচিত লোকজন একেবারেই কেউ নেই, তা নয়। কিন্তু তেমন ঘনিষ্ঠ বন্ধুবান্ধব, এদিকে কেউ নেই। যাদের সঙ্গে বসে গল্পগুজব, পরনিন্দা, পরচর্চা করতে পারি, হো হো করে হাসতে পারি–সাদা কথায় প্রাণ খুলে আড্ডা দিতে পারি আমার সেরকম আপনজনেরা এই প্রান্তে কেউ নেই। বেশি বয়েসে পুরনো এলাকা ছেড়ে চলে এসেছি, এরকম যে হবে সেটা জানতাম। কিন্তু কেমন… Continue reading ভাল খবর, খারাপ খবর -তারাপদ রায়
রণজয় আর অলৌকিক শিশুরা-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
রণজয়ের জীবনে কোনও দিনের বেলা নেই। শুধু রাত্তির। কেননা, সারাদিন তাকে একটা অন্ধকার ঘরে লুকিয়ে থাকতে হয়। কোনও মানুষের সঙ্গে দেখা হয় না। দিনের বেলা তার ওই ঘর থেকে বেরুবার উপায় নেই। বেরুবে কী করে? তাকে দেখলেই যে সবাই ভয় পায়। সেই যে একবার অন্য গ্রহের প্রাণীরা তাকে ছুঁয়ে দিয়ে গিয়েছিল, তারপর থেকে সে ক্রমাগত… Continue reading রণজয় আর অলৌকিক শিশুরা-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
নিরুদ্দেশ-প্রাপ্তি-হারানো-সমরেশ মজুমদার
চারদিন অতিক্রান্ত হওয়ার পর সেন বাড়ির আবহাওয়ায় টান লাগল। মাধুরী নীচু গলায় শাশুড়িকে জানাল, মা, বাবাকে ওঁর খবর নিতে বলবেন? কেন, কদিন হল? ফুল তুলতে-তুলতে শোভনা প্রশ্ন করলেন। চারদিন। সেকি! ও তো দু-দিনেই ফিরে আসে। তোমাকে কিছু বলে যায়নি? নীরবে মাথা নাড়ল মাধুরী। শোভনা আড়চোখে পুত্রবধূর দিকে তাকালেন। অনেক খুঁজে খতিয়ে এই মেয়েকে এনেছিলেন তিনি… Continue reading নিরুদ্দেশ-প্রাপ্তি-হারানো-সমরেশ মজুমদার
নিষ্ফলা-বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
—আ মর! এগিয়ে আসছে দেখো না। দূর হ, দূর হ। ওমা আমি কোথায় যাব? এ যে ঘরে আসতে চায়। ছিঃ ছিঃ! ধম্ম-কম্ম সব গেল। বলি ও ভালোমানুষের মেয়ে, এমনি করে কী লোককে পাগল করতে হয়? বেলা বেশি নয়, আটটা হইবে প্রায়। বৈশাখ মাস—বেশ রৌদ্র উঠিয়াছে। পাশের বাড়ির গৃহিণী আহ্নিক করিতে বসিয়াছেন তাঁহার পূজার ঘরে। পূজার… Continue reading নিষ্ফলা-বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
শিহরণ-সমরেশ মজুমদার
শক্তিব্রতবাবু মুখ তুলে কৃষ্ণচূড়া গাছ দেখলেন। এই ভয়ংকর গরমেও গাছটা ফুলে ফুলে ছেয়ে গেছে। চোখ জুড়িয়ে যায়। তাঁর শ্বাস পড়ল। উদাস গলায় বললেন, আজকাল আর যুবতী বিধবা বড় একটা দেখা যায় না! সুধাকরবাবু অবাক হয়ে মুখ ফেরালেন, হঠাৎ এই ভাবনা? কৃষ্ণচূড়া দেখে মনে এল। শক্তিরতবাবু উত্তর দিলেন। বিমলেন্দু একটু গম্ভীর প্রকৃতির মানুষ। ওপাশ থেকে একটি… Continue reading শিহরণ-সমরেশ মজুমদার
শিশিরের জল-সমরেশ মজুমদার
দমদম এয়ারপোর্ট থেকে বেরোবার আগে তার পাসপোর্ট দেখে বাঙালি ইমিগ্রেশন অফিসার হেসে বললেন, ‘আপনি অষ্ট্রেলিয়ান?’ ‘হ্যাঁ। পাসপোর্টই বলছে আমি অষ্ট্রেলিয়ার নাগরিক।’ ‘বহু দিন পরে এলেন! ভাল থাকুন।’ পাসপোর্টে স্ট্যাম্প মেরে ভদ্রলোক সেটা ফেরত দিলেন। কাস্টমসেও কোনও অসুবিধে হল না। স্যুটকেস নিয়ে প্রি-পেড ট্যাক্সির টিকিট কেটে সে যখন বাইরে এল, তখন রাতের অন্ধকার গাঢ় হয়েছে। ড্রাইভার… Continue reading শিশিরের জল-সমরেশ মজুমদার
পথ-নির্দেশ-শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
এক মাঝারি গৃহস্থ-ঘরে বাড়ির কর্তা যখন যক্ষ্মারোগে মারা যান, তখন তিনি পরিবারটিকেও আধমরা করিয়া যান। সুলোচনার স্বামী পতিতপাবন ঠিক তাহাই করিয়া গেলেন। বর্ষাধিককাল রোগে ভুগিয়া একদিন বর্ষার দুর্দিনে গভীর রাত্রে তিনি দেহত্যাগ করিলেন। সুলোচনা কাল স্বামীর শেষ প্রায়শ্চিত্ত করাইয়া দিয়া পার্শ্বে আসিয়া বসিয়াছিলেন, আর উঠেন নাই। স্বামী নিঃশব্দে প্রাণত্যাগ করিলেন, সুলোচনা তেমনি নিঃশব্দে বসিয়া রহিলেন,… Continue reading পথ-নির্দেশ-শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
দর্পচূর্ণ-শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
এক সন্ধ্যার পর ইন্দুমতী বিশেষ একটু সাজসজ্জা করিয়া তাহার স্বামীর ঘরে প্রবেশ করিয়া কহিল, কি হচ্ছে? নরেন্দ্র একখানি বাঙ্গালা মাসিকপত্র পড়িতেছিল; মুখ তুলিয়া নিঃশব্দে ক্ষণকাল স্ত্রীর মুখের পানে চাহিয়া থাকিয়া সেখানি হাতে তুলিয়া দিল। ইন্দু খোলা পাতাটার উপর চোখ বুলাইয়া লইয়া, জোড়া ভ্রু ঈষৎ কুঞ্চিত করিয়া বিস্ময় প্রকাশ করিল—ইস, এ যে কবিতা দেখচি! তা বেশ—বসে… Continue reading দর্পচূর্ণ-শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়