ভাগলপুরের পাঞ্জাবি-তারাপদ রায়

রেলগাড়ির কামরার জানলা দিয়ে অনেক দামদর করে স্টেশনের প্ল্যাটফর্মের হকারের কাছ থেকে একটা চাদর কিনেছিলাম। মধ্য রাত, বোধহয় ভাগলপুর স্টেশন ছিল সেটা, বেশ কয়েক বছর আগেকার কথা। ফিকে হলুদ রঙের। বেশ শক্ত বুনোট, লম্বায় চওড়ায় বেশ প্রমাণ সাইজের চাদর সেটা। বেশ একটা মুগা মুগা ভাব আছে, লোকাল জিনিস, দামও তেমন বেশি ছিল না। অল্প শীতে… Continue reading ভাগলপুরের পাঞ্জাবি-তারাপদ রায়

নামঞ্জুর গল্প-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

আমাদের আসর জমেছিল পোলিটিক্যাল লঙ্কাকাণ্ডের পালায়। হাল আমলের উত্তরকাণ্ডে আমরা সম্পূর্ণ ছুটি পাই নি বটে, কিন্তু গলা ভেঙেছে; তা ছাড়া সেই অগ্নিদাহের খেলা বন্ধ। বঙ্গভঙ্গের রঙ্গভূমিতে বিদ্রোহীর অভিনয় শুরু হল। সবাই জানেন, এই নাট্যের পঞ্চম অঙ্কের দৃশ্য আলিপুর পেরিয়ে পৌঁছল আণ্ডামানের সমুদ্রকূলে। পারানির পাথেয় আমার যথেষ্ট ছিল, তবু গ্রহের গুণে এপারের হাজতেই আমার ভোগসমাপ্তি। সহযোগীদের… Continue reading নামঞ্জুর গল্প-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

ঘাটের কথা-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

পাষাণে ঘটনা যদি অঙ্কিত হইত তবে কতদিনকার কত কথা সোপানে সোপানে পাঠ করিতে পারিতে। পুরাতন কথা যদি শুনিতে চাও তবে আমার এই ধাপে বইস ; মনোযোগ দিয়া জলকল্লোলে কান পাতিয়া থাকো, বহুদিনকার কত বিস্মৃত কথা শুনিতে পাইবে। আমার আর-এক দিনের কথা মনে পড়িতেছে। সেও ঠিক এইরূপ দিন। আশ্বিন মাস পড়িতে আর দুই-চারি দিন বাকি আছে।… Continue reading ঘাটের কথা-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

হিপিরা এসেছিল-সমরেশ মজুমদার

কাল রাতের বুলেটিনে বি বি সি বলেছিল আজ আকাশ মেঘলা থাকবে। চাই কি, কয়েক পশলা বৃষ্টিও নামবে। অথচ সামার এসে গেছে ক্যালেন্ডারে। বছরের এই কটা মাস একটু হালকা হয়ে রোদ পোয়ানো, লিজা ঠিক থাকলে গাড়ি নিয়ে ব্ল্যাকপুলে চলে যাওয়ার মজা পাওয়া ববের অনেকদিনের অভ্যেস। কনকনে বাতাসটা নেই, টিপটিপ বৃষ্টি বন্ধ, বরফ পড়ছে না, তার বদলে… Continue reading হিপিরা এসেছিল-সমরেশ মজুমদার

মানুষের মেটে-সমরেশ মজুমদার

এতকাল বাবুর যত রোগ ছিল মনে, এবার শরীরেও। রাত তিনটে পর্যন্ত মাল খেলে সারাটা সকাল পেট চেপে পড়ে থাকে বাবু। তখন ওই বিশাল শরীর থেকে কুঁই-কুঁই শব্দ বের হয়। ঘনঘন ওষুধ ঢালে মুখের গর্তে। ইদানীং এই অবস্থা চলে দু-তিনদিন ধরে। হরিমাধব ডাক্তার এসে গম্ভীর মুখে বলে, এবার ওসব ছাড়ুন। লিভারের আর দোষ কি! পচে গেল… Continue reading মানুষের মেটে-সমরেশ মজুমদার

একটি গ্রাম্য পটচিত্র-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

একদিন সকাল দশটা-এগারোটায় দিলারাবিবিকে তালাক দিয়ে বসল ইরফান আলি। তিন-চারজন সাক্ষীর সামনে। হ্যাঁ, রাগের মাথায় কাজটা করে ফেলেছে বটে, কিন্তু তুমি হাসতে-হাসতে বললে না চোখ পাকিয়ে চিৎকার করে বললে, শরিয়ত তো তা দেখতে যাবে না। ধর্মের বিধান মানতেই হবে। হয়েছে কী, দু-দিন আগেই বাড়ির পুকুরধারের বেলগাছ থেকে পাঁচটা পাকা বেল পাড়া হয়েছে। অত বেল কে… Continue reading একটি গ্রাম্য পটচিত্র-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

উকিলের চিঠি-শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

ও মিছরি, তোর নামে একটা উকিলের চিঠি এসেছে দেখগে যা। এই বলে মিছরির দাদা ঋতীশ টিয়ার ঝাঁক তাড়াতে খেতের মধ্যে নেমে গেল। গোসাবা থেকে দুই নৌকো বোঝাই লোক এসেছে অসময়ে। লাট এলাকার ভিতর বাগে কোনও বিষয়কর্মে যাবে সব। এই অবেলায় তাদের জন্য খিচুড়ি চাপাতে বড় কাঠের উনুনটা ধরাতে বসেছিল মিছরি। কেঁপে উঠল। তার ভরন্ত যৌবন… Continue reading উকিলের চিঠি-শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

পাত্রী-শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

কে ও? শিবাই নাকি রে? যে আজ্ঞে। শিবাই-ই বটি। তা পাত্রী পছন্দ হল? না জামাইদা, এটাও লাগসই নয়। দাঁত উঁচু। দাঁত উঁচু? তা কত উঁচু? মুখ বন্ধ হয় না? তা হয়। আজকাল তো শুনি উঁচু দাঁতের বেশ কদর হয়েছে নাকি? ফিলম আর সিরিয়ালে নাকি উঁচু দাঁতের বেশ কদর। আপনি তো ওসব দেখেন টেখেন না, তবে… Continue reading পাত্রী-শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

ভাল খবর, খারাপ খবর -তারাপদ রায়

কাছাকাছি চেনা-পরিচিত লোকজন একেবারেই কেউ নেই, তা নয়। কিন্তু তেমন ঘনিষ্ঠ বন্ধুবান্ধব, এদিকে কেউ নেই। যাদের সঙ্গে বসে গল্পগুজব, পরনিন্দা, পরচর্চা করতে পারি, হো হো করে হাসতে পারি–সাদা কথায় প্রাণ খুলে আড্ডা দিতে পারি আমার সেরকম আপনজনেরা এই প্রান্তে কেউ নেই। বেশি বয়েসে পুরনো এলাকা ছেড়ে চলে এসেছি, এরকম যে হবে সেটা জানতাম। কিন্তু কেমন… Continue reading ভাল খবর, খারাপ খবর -তারাপদ রায়

রণজয় আর অলৌকিক শিশুরা-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

রণজয়ের জীবনে কোনও দিনের বেলা নেই। শুধু রাত্তির। কেননা, সারাদিন তাকে একটা অন্ধকার ঘরে লুকিয়ে থাকতে হয়। কোনও মানুষের সঙ্গে দেখা হয় না। দিনের বেলা তার ওই ঘর থেকে বেরুবার উপায় নেই। বেরুবে কী করে? তাকে দেখলেই যে সবাই ভয় পায়। সেই যে একবার অন্য গ্রহের প্রাণীরা তাকে ছুঁয়ে দিয়ে গিয়েছিল, তারপর থেকে সে ক্রমাগত… Continue reading রণজয় আর অলৌকিক শিশুরা-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়