আষাঢ়ের এক রাতে – হালিমা খাতুন

একবার দাদার সঙ্গে মাছ ধরতে গিয়ে আবু বিশাল একটা বোয়াল মাছ ধরেছিল। খালি আষাঢ় মাস। ঝরঝর বৃষ্টি পড়ছিল থেকে থেকে। আর বিদ্যুতের ঝলক আকাশের ওপরে সােনার দাগ কেটে পালিয়ে যাচ্ছিল মাঝে মাঝে। যাবায় সময় মেঘের আড়াল থেকে তবলার শব্দ শুনিয়ে দিচ্ছিল। আবুর যে বয়স তাতে তার বর্ষার রাতে মনোবিলে মাছ ধরতে যাবার কথা নয়। কারণ… Continue reading আষাঢ়ের এক রাতে – হালিমা খাতুন

একসূত্রে – শওকত ওসমান

বিকেল থেকে আকাশে মেঘ জমেছিল।এ জনপদের সবাই বেলাবেলি মাঠ থেকে ফিরে এসেছে। গরু ছাগল গোয়ালে বাঁধা। মাঝে মাঝে দমকা বাতাস বইছে। যে-কোনো মুহূর্তে ঝড় শুরু হতে পারে।বহু লোকই জমায়েত হয়েছে খাঁ-বাড়ির বিরাট দহজিলে। অবসর কাটানোর এমন সুযোগ রোজ রোজ পাওয়া যায় না। তাই কেউ তামাক খাচ্ছিল, কেউ গল্পগুজবে রত। কয়েকজন শণ দিয়ে দড়ি তৈরি করছিল।… Continue reading একসূত্রে – শওকত ওসমান

মহাপতঙ্গ – আবু ইসহাক

ছোট এক শহরের ছোট এক বাড়ি। সেই বাড়ির উত্তর দিকের দেওয়ালের ফোকরে থাকত একজোড়া চড়ুই পাখি। একদিন কুড়িয়ে খেতে মাঠে গিয়েছিল ওরা, হঠাৎ কেমন অত শব্দ শুনে ওরা সচকিত হয়ে ওঠে। মাথা তুলে একে অন্যের দিকে তাকায়।দূর থেকে বোঁ-বোঁ শব্দ ভেসে আসছে। চড়ুই দুটো ভয় পায়। ফুড়ুৎ করে ওরা গাছের ডালে গিয়ে বসে। শব্দ ক্রমেই… Continue reading মহাপতঙ্গ – আবু ইসহাক

কাবুলিওয়ালা – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

আমার পাঁচ বছর বয়সের ছোটো মেয়ে মিনি এক দণ্ড কথা না কহিয়া থাকিতে পারে না। পৃথিবীতে জন্মগ্রহণ করিয়া ভাষা শিক্ষা করিতে সে কেবল একটি বৎসর কাল ব্যয় করিয়াছিল, তাহার পর হইতে যতক্ষণ সে জাগিয়া থাকে এক মুহূর্ত মৌর্নভাবে নষ্ট করে না। তাহার মা অনেক সময় ধমক দিয়া তাহার মুখ বন্ধ করিয়া দেয়, কিন্তু আমি তাহা… Continue reading কাবুলিওয়ালা – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

বিলাসী – শেষ -পর্ব – শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

চলিলাম বলিতেছি, কেননা আমিও বরাবর সঙ্গে ছিলাম, কিন্তু কোথায় আমার মধ্যে একটুখানি দুর্বলতা ছিল, আমি তাহার গায়ে হাত দিতে পারি নাই। বরঞ্চ কেমন যেন কান্না পাইতে লাগিল। সে যে অত্যন্ত অন্যায় করিয়াছে এবং তাহাকে গ্রামের বাহির করাই উচিত বটে, কিন্তু এটাই যে আমরা ভাল কাজ করিতেছি, সেও কিছুতে মনে করিলাম না। কিন্তু আমার কথা যাক।আপনারা… Continue reading বিলাসী – শেষ -পর্ব – শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

বিলাসী – শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

পাকা দুই ক্রোশ পথ হাঁটিয়া স্কুলে বিদ্যা অর্জন করিতে যাই। আমি একা নই—দশ-বারোজন। যাহাদেরই বাটী পল্লীগ্রামে, তাহাদেরই ছেলেদের শতকরা আশি জনকে এমনি করিয়া বিদ্যালাভ করিতে হয়। ইহাতে লাভের অঙ্কে শেষ পর্যন্ত একেবারে শূন্য না পড়িলেও, যাহা পড়ে, তাহার হিসাব করিবার পক্ষে এই কয়টা কথা চিন্তা করিয়া দেখিলেই যথেষ্ট হইবে যে, যে ছেলেদের সকাল আটটার মধ্যে… Continue reading বিলাসী – শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

মহেশ – শেষ -পর্ব – শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

গফুর হাত বাড়াইয়া গ্রহণ করিয়া তেমনি নিঃশব্দে বসিয়া রহিল। যে দুইজন লোক সঙ্গে আসিয়াছিল তাহারা গরুর দড়ি খুলিবার উদ্যোগ করিতেই কিন্তু সে অকস্মাৎ সোজা উঠিয়া দাঁড়াইয়া উদ্ধতকণ্ঠে বলিয়া উঠিল, দড়িতে হাত দিয়ো না বলচি – খবরদার বলচি, ভাল হবে না। তাহারা চমকিয়া গেল। বুড়া আশ্চর্য্য হইয়া কহিল, কেন? গফুর তেমনি রাফিয়া জবাব দিল, কেন আবার… Continue reading মহেশ – শেষ -পর্ব – শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

মহেশ – শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

গ্রামের নাম কাশীপুর। গ্রাম ছোট, জমিদার আরও ছোট, তবু দাপটে তাঁর প্রজারা টুঁ শব্দটি করিতে পারে না – এমনই প্রতাপ। ছোট ছেলের জন্মতিথি পূজা। পূজা সারিয়া তর্করত্ন দ্বিপ্রহর বেলায় বাটি ফিরিতেছিলেন। বৈশাখ শেষ হইয়া আসে, কিন্তু মেঘের ছায়াটুকু কোথাও নাই, অনাবৃষ্টির আকাশ হইতে যেন আগুন ঝরিয়া পড়িতেছে। সম্মুখের দিগন্তজোড়া মাঠখানা জ্বলিয়া পুড়িয়া ফুটিফাটা হইয়া আছে,… Continue reading মহেশ – শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

রসগোল্লা – সৈয়দ মুজতবা আলী

আমার এক বন্ধু প্রায়ই ইউরোপ-আমেরিকায় যান। এতই বেশি যাওয়া আসা করেন যে তার সঙ্গে কোথাও দেখা হলে বলবার উপায় নেই, তিনি বিদেশে যাচ্ছেন না ফিরে আসছেন।…..ঝান্ডুদা ব্যবসায়ী লোক। তিনি নেমেছেন ইতালির ভেনিস বন্দরে জাহাজ থেকে। চুঙ্গিঘরের যাবতীয় প্রশ্নের সদুত্তর দিয়ে শেষটায় লিখেছেন, এক টিন ভ্যাকুয়াম প্যান্ড মিষ্টান্ন। মূল্য দশ টাকা। ঝান্ডুদার বাক্স-পেঁটরায় এত সব জাত-বেজাত… Continue reading রসগোল্লা – সৈয়দ মুজতবা আলী

লালসালু – সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ

শ্রাবণের শেষাশেষি একদিন। হাওয়া-শূন্য শুদ্ধতায় বিস্তৃত ধানখেত নিথর। কোথাও একটু কম্পন নেই। আকাশে মেঘ নেই।এমন দিনে লোকেরা ধানখেতে নৌকা নিয়ে বেরোয়। ডিঙিতে দুজন করে, সঙ্গে কোচ-জুতি। ধানখেতে নিঃশব্দতা, কোথাও একটা কাক আর্তনাদ করে উঠলে মনে হয় আকাশটা বুঝি চটের মতো চিরে গেল। অতি সন্তর্পণে ধানের ফাকে ফাকে তারা নৌকা চালায়। ঢেউ হয় না, শব্দ হয়… Continue reading লালসালু – সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ