নাসিরুদ্দিন হোজ্জার গল্প

লবণ দিয়ে খাই হোজ্জা আর তার এক বন্ধু একবার এক হোটেলে ঢুকল কিছু খাওয়ার জন্য। খাওয়া শেষে হিসাব করে দেখল যে, দুই গ্লাস দুধ খাওয়ার মতো টাকা ওদের হাতে নেই। তাই দুজনের জন্য এক গ্লাস দুধ চাইল। দুধ আসার পর হোজ্জার বন্ধুটি বলল, ‘ভাই, তুমি আগে অর্ধেকটা খেয়ে ফেল।হোজ্জা জানতে চাইল, ‘কেন?’ বন্ধুটি বলল, ‘আমি… Continue reading নাসিরুদ্দিন হোজ্জার গল্প

আয়না – জসীম উদ্দীন

এক চাষী খেতে ধান কাটিতে কাটিতে একখানা আয়না কুড়াইয়া পাইল। তখন এদেশে আয়নার চলন হয় নাই। কাহারও বাড়িতে একখানা আয়না কেহ দেখে নাই। এক কাবুলিওলার ঝুলি হইতে কি করিয়া আয়নাখানা মাঠের মাঝে পড়িয়া গিয়াছিল। আয়নাখানা পাইয়া চাষী হাতে লইল। হঠাৎ তাহার উপরে নজর দিতেই দেখে, আয়নার ভিতর মানুষ! আহা-হা, এ যে তাহার বাপজানের চেহারা! বহুদিন… Continue reading আয়না – জসীম উদ্দীন

জলপরী ও কাঠুরের গল্প – ঈশপ

কোনো এক বনে এক কাঠুরিয়া রোজ কাঠ কাটতে যেত। ভারি গরিব সে। দৈনিক কাঠ বিক্রি করে যা রোজগার করত তাই দিয়ে কোনোরকমে খেয়ে-পরে দিন চলত। একদিন এক নদীর ধারে সে গেল কাঠ কাটতে। সেখানে গিয়ে একটা গাছে যেই কুড়াল দিয়ে ঘা মেরেছে, অমনি তার হাত ফসকে কুড়ালটা গভীর পানির মধ্যে পড়ে গেল। খরস্রোতা নদী। তা… Continue reading জলপরী ও কাঠুরের গল্প – ঈশপ

রামকানাইয়ের নির্বুদ্ধিতা – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

রামকানাইয়ের নির্বুদ্ধিতা যাহারা বলে, গুরুচরণের মৃত্যুকালে তাঁহার দ্বিতীয় পক্ষের সংসারটি অন্তঃপুরে বসিয়া তাস খেলিতেছিলেন, তাহারা বিশ্বনিন্দুক, তাহারা তিলকে তাল করিয়া তোলে। আসলে গৃহিণী তখন এক পায়ের উপর বসিয়া দ্বিতীয় পায়ের হাঁটু চিবুক পর্যন্ত উত্থিত করিয়া কাঁচা তেঁতুল, কাঁচা লঙ্কা এবং চিংড়িমাছের ঝাল-চচ্চড়ি দিয়া অত্যন্ত মনোযোগের সহিত পান্তাভাত খাইতেছিলেন। বাহির হইতে যখন ডাক পড়িল তখন স্তূপাকৃতি… Continue reading রামকানাইয়ের নির্বুদ্ধিতা – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

বলাই – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

মানুষের জীবনটা পৃথিবীর নানা জীবের ইতিহাসের নানা পরিচ্ছেদের উপসংহারে, এমন একটা কথা আছে। লোকালয়ে মানুষের মধ্যে আমরা নানা জীবজন্তুর প্রচ্ছন্ন পরিচয় পেয়ে থাকি, সে কথা জানা। বস্তুত আমরা মানুষ বলি সেই পদার্থকে যেটা আমাদের ভিতরকার সব জীবজন্তুকে মিলিয়ে এক ক’রে নিয়েছে— আমাদের বাঘ-গোরুকে এক খোঁয়াড়ে দিয়েছে পুরে অহি-নকুলকে এক খাঁচায় ধ’রে রেখেছে। যেমন রাগিনী বলি… Continue reading বলাই – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

চরু – হাসান আজিজুল হক

বনের একধারে আপনমনে ঘাস খাচ্ছিল চরু। চরু এক হরিণছানার নাম। বিকট একটা শব্দে চমকে উঠে সে মুখ তুলে দেখল বনের একটু উঁচুতে ঝোপের পাশ দিয়ে ধোঁয়া বেরিয়ে আসছে। আশেপাশে মা নেই। মা তো তার পাশেই ছিল। চরু মায়ের এক ছেলে, বয়স দুই মাসও হয়নি। সকালে মায়ের সঙ্গে বের হলেই মা তাকে বকে। কেন সে ঐরকম… Continue reading চরু – হাসান আজিজুল হক

এক বছরের রাজা – সুকুমার রায়

এক ছিলেন সওদাগর- তাঁর একটি সামান্য ক্রীতদাস তার একমাত্র ছেলেকে জল থেকে বাঁচায়। সওদাগর খুশি হয়ে তাকে মুক্তি তো দিলেনই, তা ছাড়া জাহাজ বােঝাই করে নানা রকম বাণিজ্যের জিনিস তাকে বকশিশ দিয়ে বললেন, “সমুদ্র পার হয়ে বিদেশে যাও- এই সব জিনিস বেচে যা টাকা পাবে, সবই তোমার।” মনিবের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে সে জাহাজে চড়ে… Continue reading এক বছরের রাজা – সুকুমার রায়

পদ্মা নদীর মাঝি- শেষ পর্ব – মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়

পদ্মা নদীর মাঝি- শেষ পর্ব বিকালে পদ্মার ঘাটে নৌকার তদবির করিতে গিয়া কুবেরের আরও মন-কেমন করিতে থাকে। কাব্যের মসৃণ মার্জিত মন-কেমন করা নয়, তার ভীরু প্রকৃতির সঙ্গে যতখানি খাপ খায় ততখানি দুরন্ত মানসিক অস্থিরতা। পেট ভরিয়া খাইতে পাইয়া শরীরটা কুবেরের ভালো হইয়াছে—খাদ্য যতটুকু শক্তি দিত আগে ব্যয় করিতে হইত তার দশগুণ, এখন সেটা শুধু বন্ধ… Continue reading পদ্মা নদীর মাঝি- শেষ পর্ব – মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়

পদ্মা নদীর মাঝি -পর্ব -১৩- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়

পদ্মা নদীর মাঝি -পর্ব -১৩ ছইযের ভিতরটা হোসেন মিয়া দখল করিয়াছে, নৌকার উন্মুক্ত অংশে হোগলার ঢাকনি চাপাইয়া মাঝিরা শয়ন কবে। শুইয়া শুইয়া কুবের অনেক আবোল-তাবোল চিন্তা করিল। একবার ভাবিল, এবার গায়ে ফিরিয়া হোসেন মিয়ার নৌকায় আর সে কাজ করিবে না। জেলে যাওয়ার চেযে না খাইয়া মরাও ভালো। কিন্তু না খাইয়া মরার সঙ্গে কুবেরের পরিচয় আছে।… Continue reading পদ্মা নদীর মাঝি -পর্ব -১৩- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়

পদ্মা নদীর মাঝি পর্ব : ১২ মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়

পদ্মা নদীর মাঝি পর্ব : ১২ গোপিকে নিয়া ইতিমধ্যে অনেক কাণ্ড হইয়া গিয়াছে। কুবের যেদিন চলিয়া গেল সেইদিনই গোপির পা ভয়ানক ফুলিয়া ওঠে। বাড়িতে পুরুষ কেহ নাই, কী করিবে ভাবিয়া না পাইয়া মালা কাঁদিয়া অস্থির হইছিল। তারপর রাসু আসিয়া সব ব্যবস্থা করিয়াছে। কত যে করিয়াছে রাসু গোপির জন্য, শত মুখেও মালা তাহা বলিয়া শেষ করিতে… Continue reading পদ্মা নদীর মাঝি পর্ব : ১২ মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়