ইস্টিশন পর্ব-০৬ হুমায়ূন আহমেদ

আমি কুসুম আপুর কপালে হাত রাখলাম। জ্বর কমে নি, বরং অনেক বেড়েছে। শরীর দিয়ে ভাপ বেরুচ্ছে। অথচ কুসুম আপু কত স্বাভাবিক ভাবেই না কথা বলছে। আমার ধারণা ইচ্ছে করলে এই জ্বর নিয়েও কুসুম আপু জাপানি ইঞ্জিনিয়ার সাহেবের সঙ্গে সারারাত গল্প করতে পারবে। হাসাহাসি করতে পারবে। কুসুম আপুর জ্বর, তিনি বিছানায় শুয়ে আছেন আসতে পারবেন না… Continue reading ইস্টিশন পর্ব-০৬ হুমায়ূন আহমেদ

ইস্টিশন পর্ব-০৫ হুমায়ূন আহমেদ

জাপানি ইঞ্জিনিয়ার ভাত খেতে খেতেই ফণা নামিয়ে ফণাবিহীন সাধারণ সাপ হয়ে গেলেন, তার চেহারার মধ্যে গদগদ ভাব চলে এল। মুখের চামড়া হঠাৎ তেলতেলে হয়ে গেল। তিনি হড়বড় করে কুসুম আপুর সঙ্গে অনর্গল কথা বলতে লাগলেন। একটা কথার সঙ্গে অন্য একটা কথার কোনো মিল নেই। তিনি কী বলছেন নিজেও বোধ হয় জানেন না। কুসুম তুমি কি… Continue reading ইস্টিশন পর্ব-০৫ হুমায়ূন আহমেদ

ইস্টিশন পর্ব-০৪ হুমায়ূন আহমেদ

আমি কুসুম আপুর চোখের দিকে তাকিয়ে না বলতে যাব তার আগেই রহিমা ফুপুর কাশির শব্দ শোনা গেল। এই কাশির অর্থ তিনি জেগে আছেন। মেয়ে কোথায় যাচ্ছে কী করছে খেয়াল রাখছেন। কেশে কেশে তিনি মেয়েকে অনুসরণ করেন।কুসুম আপু দরজার দিকে তাকিয়ে গম্ভীর গলায় বলল, কাশছ কেন মা? ফুপু ক্ষীণ গলায় বললেন, কাশ হয়েছে। কুসুম আপু বলল,… Continue reading ইস্টিশন পর্ব-০৪ হুমায়ূন আহমেদ

ইস্টিশন পর্ব-০৩ হুমায়ূন আহমেদ

অনেক লাফ ঝাঁপ দিলেও সন্ধ্যার আগে আগে রহমান চাচা গামবুট পরে রেলের লণ্ঠন নিয়ে রওনা হলেন। গামবুট জোড়া বাবার। গত বর্ষায় কিনেছিলেন। বাবার ধারণা কেনার পরপরই এক সাইজ ছোট হয়ে গেছে। পরার পর আঙুল বেঁকে থাকে। গামবুট জোড়া তিনি রহমান চাচাকে দিয়ে দিয়েছেন। রহমান চাচার পায়ের পাতা বাবার পায়ের পাতার চেয়েও লম্বা। গামবুট পরার পর… Continue reading ইস্টিশন পর্ব-০৩ হুমায়ূন আহমেদ

ইস্টিশন পর্ব-০২ হুমায়ূন আহমেদ

তিনি পকেট থেকে একটা এক টাকার নোট বের করে বললেন, যা বাদাম কিনে খা। আর শোন বাড়িতে গিয়ে বাবা মা সবাইকে কদমবুসি করে দোয়া নিবি। মুরুব্বিদের দোয়া হল লাইফ জ্যাকেটের মতো। লাইফ জ্যাকেট ছাড়া সমুদ্র পার হওয়া যায় না। দুনিয়াটা হল সমুদ্র। আমি তোর অংক খাতা দেখে খুবই খুশি হয়েছি। আজকে আছরের নামাজের সময় তোর… Continue reading ইস্টিশন পর্ব-০২ হুমায়ূন আহমেদ

ইস্টিশন পর্ব-০১ হুমায়ূন আহমেদ

ভূমিকা জোছনার ফুল নামে একটা টিভি নাটক বানাব, তার জন্যে সেট ফেলেছি গাজীপুরে। জঙ্গলের ভেতর রেল স্টেশনের সেট। চমৎকার সেট তৈরী হল। মেকি রেল লাইন, রেল লাইনে শোলার পাথর। হার্ডবোর্ডের মালগাড়ীর ওয়াগান। এক জোছনা রাতে আমি সেট দেখতে গেলাম জঙ্গলের ভেতর। কি সুন্দর নির্জন রেল স্টেশন! মোটেও মেকি মনে হচ্ছে না। আমি রেল লাইন ধরে… Continue reading ইস্টিশন পর্ব-০১ হুমায়ূন আহমেদ

ছেলেটা শেষ – পর্ব হুমায়ূন আহমেদ

তোর ফলস বাবা তোকে নিয়ে যে সব কাণ্ডকারখানা শুরু করেছে, সেটা তো আর সহ্য করা যায় না। ওর নামে শিশু নির্যাতন আইনে মামলা ঠুকে দিয়েছি। মজা টের পাবে। মজা কত প্রকার ও কী কী এক ধাক্কায় বুঝে ফেলবে।ও আচ্ছা।ও আচ্ছা ও আচ্ছা করিস না। মন দিয়ে শোন কী বলছি। তোর স্কুল ছুটি হবে কয়টায়? তিনটায়।তিনটার… Continue reading ছেলেটা শেষ – পর্ব হুমায়ূন আহমেদ

ছেলেটা পর্ব-০৭ হুমায়ূন আহমেদ

বাবার কোনো জিনিস দেখে কেউ যদি বলতো–সুন্দর! বাবা তাকে সঙ্গে সঙ্গে সেই জিনিস উপহার হিসেবে দিয়ে দিতেন। ইদরিস চাচা আমাকে বলেছেন।খোকা শোনো, তুমি খুবই ভালো ছেলে, তোমাকে আমার পছন্দ হয়েছে। তোমার খেলনা আমি নেব না। আমার যখন খেলনাটা দেখতে ইচ্ছা করবে, তখন এসে দেখে যাব। এখন আমার প্রশ্নের জবাব দাও।প্রশ্নের জবাব দিতে আমার ভালো লাগে… Continue reading ছেলেটা পর্ব-০৭ হুমায়ূন আহমেদ

ছেলেটা পর্ব-০৬ হুমায়ূন আহমেদ

আমার সঙ্গে আর কথা বলবে না। প্লিজ।লুতপাইন ফিসফিস করে বলল, বড় হয়ে আমি কী করব জানো? বড় হয়ে আমি তোমাকে বিয়ে করব।রনি একদৃষ্টিতে বোর্ডের দিকে তাকিয়ে আছে। এমন ভাব করছে যে সে লুতপাইনের কোনো কথাই শুনতে পাচ্ছে না।লুতপাইন বলল, আমি বাবাকে বলেছি যে বড় হয়ে তোমাকে বিয়ে করব। বাবা বলেছেন, Ok. রনি কঠিন গলায় বলল,… Continue reading ছেলেটা পর্ব-০৬ হুমায়ূন আহমেদ

ছেলেটা পর্ব-০৫ হুমায়ূন আহমেদ

রাত দশটা। রনির রাতের খাবার খাওয়া হয়ে গেছে। এখন তাকে দুধ খেতে হবে। দুধ খাবার পর দাঁত মেজে ঘুমুতে যেতে হবে। রনি নিশ্চিত দাঁত মাজার সময় তার বমি হয়ে যাবে, তার পরেও সে দুধের জন্য অপেক্ষা করছে। দুধ নিয়ে আসবেন ইদরিস চাচা। তার হাতে গ্লাস দিয়ে রাজ্যের গল্প শুরু করবেন। বেশিরভাগই ভূতের গল্প। একবার তিনি… Continue reading ছেলেটা পর্ব-০৫ হুমায়ূন আহমেদ