নুহাশ পল্লী ছাড়া আর কোথাও যেতে আমার ভালো লাগে না। নতুন দেশ দেখা, নতুন জনপদ দেখা আমাকে আকর্ষণ করে না। নিজের দেশই দেখা হয় নি, অন্য দেশ কী দেখব?…..মাঝে মাঝে অ্যান্টার্কটিকায় যেতে ইচ্ছা করে। জনমানবশূন্য ধুধু বরফের দেশ দেখতে ইচ্ছা করে। বরফের ঘর ইগলুতে একটা রাত কাটানো। রাতের আকাশে মরুপ্রভার খেলা দেখা। সমস্যা হচ্ছে অ্যান্টার্কটিকায়… Continue reading একটি ভ্রমণ কাহিনী – হুমায়ূন আহমেদ
দৃষ্টিদান – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
শুনিয়াছি, আজকাল অনেক বাঙালির মেয়েকে নিজের চেষ্টায় স্বামী সংগ্রহ করিতে হয়। আমিও তাই করিয়াছি, কিন্তু দেবতার সহায়তায়। আমি ছেলেবেলা হইতে অনেক ব্রত এবং অনেক শিবপূজা করিয়াছিলাম। আমার আটবৎসর বয়স উত্তীর্ণ না হইতেই বিবাহ হইয়া গিয়াছিল। কিন্তু পূর্বজন্মের পাপবশত আমি আমার এমন স্বামী পাইয়াও সম্পূর্ণ পাইলাম না। মা ত্রিনয়নী আমার দুইচক্ষু লইলেন। জীবনের শেষমুহূর্ত পর্যন্ত স্বামীকে… Continue reading দৃষ্টিদান – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
নিজাম সাহেবের ভূত – হুমায়ূন আহমেদ
পলিথিনের ব্যাগে পাঁচটা শিং মাছ নিয়ে নিজাম সাহেব বাড়ি ফিরছেন। মাছগুলি যেন মরে না যায় সে জন্যে বুদ্ধি করে ব্যাগে খানিকটা পানি নিয়েছিলেন। এখন মনে হচ্ছে ব্যাগে পানি নেয়াটা চূড়ান্ত বোকামি হয়েছে। পানি টুইয়ে চুইয়ে পড়ছে। তার প্যান্ট ইতিমধ্যেই মাখামাখি হয়ে গেছে। নিজাম সাহেব লন করেছেন, তার ৪১ বছরের জীবনে তিনি বুদ্ধি করে যে কটা… Continue reading নিজাম সাহেবের ভূত – হুমায়ূন আহমেদ
সাজঘর (পর্ব-১৫): হুমায়ূন আহমেদ
সবচে কঠিন বক্তব্যের নাটকেও আছে রিলিফের ব্যবস্থা। কুইনাইন সরাসরি গেলান যায় না। মিষ্টি চিনির প্রলেপ দিয়ে দিতে হয়। দুপুর দেড়টার দিকে আসিফ উপস্থিত হল তার বড় দুলাভাইয়ের অফিসে। নিকট আত্মীয়দের মধ্যে অল্প যে ক’জনের সঙ্গে তার যােগাযােগ আছে ফরহাদ সাহেব হচ্ছেন তাঁদের এক জন। এক সময় সরকারী চাকুরে ছিলেন। রােডস এন্ড হাইওয়েজের ইঞ্জিনিয়ার। চাকরি ছেড়ে… Continue reading সাজঘর (পর্ব-১৫): হুমায়ূন আহমেদ
সাজঘর (পর্ব-১৪): হুমায়ূন আহমেদ
হাঞ্চ ব্যাক অব মীরপুর পিঠ সােজা করে মতিঝিলের ট্রাভেল এজেন্সি সুরমা ট্রাভেলস–এ ঢুকলেন। তাঁর সঙ্গে আসিফ। বিশাল অফিস। দু’জন স্টেনো বা রিসিপশনিস্ট ধরনের মেয়ে বসা। এক জনের দিকে তাকান যায় না। মৈনাক পর্বত। তবে অন্যজন রূপবতী। মৈনাক পর্বত মধুর গলায় বলল, “আপনাদের জন্যে কী করতে পারি?” বজলু সাহেব বললেন, ‘কেরামত আছে? ‘জি আছেন। এখন একটু… Continue reading সাজঘর (পর্ব-১৪): হুমায়ূন আহমেদ
সাজঘর (পর্ব-১৩): হুমায়ূন আহমেদ
লীনা বলল, ‘আপনি ঠিকই বুঝেছেন। ‘কর্তাকে ছাড়া যেতে মন চাচ্ছে না? লীনা চুপ করে রইল। জামান সাহেব বললেন, ‘লীনা তােমাকে আমি খােলাখুলি কিছু কথা বলি। কিছু কিছু কথা সরাসরি হওয়াই ভালাে। দেখ লীনা, তােমাদের আর্থিক অবস্থার কথা আমি ভালােভাবেই জানি। সেটা জেনে তােমার কর্তার জন্যে একটা টিকিট আমার কেনা উচিত। কিনতেও আমার কোনাে অসুবিধা নেই।… Continue reading সাজঘর (পর্ব-১৩): হুমায়ূন আহমেদ
সাজঘর (পর্ব-১২): হুমায়ূন আহমেদ
আজ শুক্রবার। ডাঃ জামান শুক্রবারে রুগী দেখেন না, তবু দু’তিন জন রুগী বাইরের বারান্দায় বসে আছে। ডাক্তার সাহেবের সঙ্গে দেখা না করে তারা কিছুতেই যাবে না। লীনাকে বাড়িতে ঢুকতে দেখে তাকেই ধরল, আপা ডাক্তার সাহেবকে একটু বলে দেন। খুব বিপদে পড়েছি। লীনা মার শােবার ঘরে ঢুকতেই একসঙ্গে সবাই হৈ–চৈ করে উঠল। লীনার বড় বােন দীনা… Continue reading সাজঘর (পর্ব-১২): হুমায়ূন আহমেদ
সাজঘর (পর্ব-১১): হুমায়ূন আহমেদ
রিহার্সেলে রােজ বালিকা বধূর মতাে সেজে আসবে। এতে সাহায্য হয়। ঘরােয়া ধরনের শাড়ি পরবে, চুলগুলাে খােলা রাখবে। একটু পান খেয়ে ঠোঁট লাল করে ফেলবে। কাঁচের চুড়ি আছে তােমার? হাতে বেশ কিছু কাঁচের চুড়ি পরে নিও। কথা বলার সময় হাত নাড়বে; চুড়ির ঝনঝন শব্দ হবে—এতে খুব সাহায্য হবে।‘ ‘জ্বি আচ্ছা। এখন যাও নাটকটা একটু পড়। ছােট্ট দৃশ্য।… Continue reading সাজঘর (পর্ব-১১): হুমায়ূন আহমেদ
সাজঘর (পর্ব-১০): হুমায়ূন আহমেদ
দুটোর মধ্যে একটা। হিট করল। কারাের হাসি আর থামতেই চাচ্ছে না। এই দলটিকে দেখলে কে বলবে এদের জীবনে কোনাে দুঃখ–কষ্ট আছে? এদের দেখে মনে হচ্ছে গভীর আনন্দে এদের হৃদয় পরিপূর্ণ। রিহার্সেলের ঘরে এরা যখন ঢােকে জীবনের সমস্ত হতাশা ও বঞ্চনা পেছনে ফেলে ঢােকে। নাটক তাদের দ্বিতীয় জীবন। এই জীবনটাকেই তারা আঁকড়ে ধরে। দ্বিতীয় জীবনই এক… Continue reading সাজঘর (পর্ব-১০): হুমায়ূন আহমেদ
সাজঘর (পর্ব-৯): হুমায়ূন আহমেদ
দুপুরে দরজা জানালা বন্ধ করে খানিকক্ষণ ঘুমুল। ঘুম ভাঙার পর মনে হল আসিফ থাকলে বেশ হত। দুজন মিলে বিকেলে কোথাও বেড়াতে যাওয়া যেত। মিরপুর বােটানিক্যাল গার্ডেন কিংবা বলধা গার্ডেন। আসিফকে আজকাল কাছেই পাওয়া যায় না। বেচারা চাকরির জন্যে ব্যস্ত হয়ে সারাদিন ঘােরে। কোথায় কোথায় ঘােরে, কার কাছে যায় কে জানে। আজ অবশ্যি আসিফ চাকরির সন্ধানে… Continue reading সাজঘর (পর্ব-৯): হুমায়ূন আহমেদ