নক্ষত্রের রাত-হুমায়ূন আহমেদ-(পর্ব-১২)

প্রফেসর ওয়ারডিংটনের বাড়ি বিশাল।……ছবিতে দেখা বাড়ির মতই কাঠের তৈরী, রেবেকা মুগ্ধ হয়ে গেল। ওয়ারডিংটন খুব উৎসাহের সঙ্গে রেবেকাকে সমস্ত বাড়ি দেখাতে লাগলেন–..বুঝলে রেবেকা, আমি এবং আমার স্ত্রী–এই দুজনে মিলেই এই বাড়ি তৈরি করতে শুরু করি। সামারে লেকের পাশে তাঁবু খাটিয়ে দুজন থাকতাম, সারা দিন কাজ করতাম। সম্বলের মধ্যে ছিল একটা ইলেকট্রিক করাত আর আমার ল্যাণ্ড… Continue reading নক্ষত্রের রাত-হুমায়ূন আহমেদ-(পর্ব-১২)

নক্ষত্রের রাত-হুমায়ূন আহমেদ-পর্ব-১১

সে আশা করেছিল, টেলিগ্রাম আসবে। বড় ভাই টেলিগ্রামটিতে ড্রাফট এখনো না পাওয়ার ব্যাপারটি জানাবেন। টেলিগ্রামের ভাষা হবে–নো ড্রফট। সিরিয়াস প্রবলেম। এই জাতীয় টেলিগ্রাম তিনি আগেও করেছেন। তাঁর বড় মেয়ের এ্যাপেণ্ডিসাইটিস অপারেশন হল। তিনি টেলিগ্ৰাম পাঠালেন–রুমা অপারেশন। সিরিয়াস প্রবলেম। সেও মানি। অপারেশনটি হাসপাতালে বিনা পয়সায় করা যেত। কিন্তু তিনি মেয়েকে ক্লিনিকে নিয়ে গিয়েছিলেন। ভালোই করেছেন। ক্লিনিকগুলিতে… Continue reading নক্ষত্রের রাত-হুমায়ূন আহমেদ-পর্ব-১১

নক্ষত্রের রাত-হুমায়ূন আহমেদ-পর্ব-১০

রেবেকার অভ্যেস হচ্ছে প্রতিদিন কম করে হলেও চার-পাঁচ বার মেইল-বক্স পরীক্ষা করা। ক্লাসের ফাঁকে ফাঁকে যখনই সময় পায় তখনই একতলায় চলে যায়। চৌষট্টি লেখা ছোট্ট খোপটি খোলে। এই সময় তার বুক কাঁপতে থাকে। প্রথম দিকে সারাক্ষণই মেইল-বক্স ফাঁকা থাকত। তার মনে একটা সন্দেহ থাকত, হয়তো ভুলে তার চিঠি অন্য কারো খোপ চলে গেছে। সেই সন্দেহটা… Continue reading নক্ষত্রের রাত-হুমায়ূন আহমেদ-পর্ব-১০

নক্ষত্রের রাত-হুমায়ূন আহমেদ-পর্ব-৯

দেশ থেকে আসা কোনো চিঠিই পাশা দু বার পড়ে না।……….দু বার পড়ার মতো কিছু কোনো চিঠিতে থাকে না। পত্রলেখকের নাম পড়ে বলে দেওয়া যায়, কী লেখা আছে চিঠিতে।….দেশের অবস্থা ভালো না।……..দেশে আসবার কথা চিন্তা করা মহা বোকামি।….এখান থেকে কাউকে গ্রীন কার্ড দেওয়া যায় কিনা দেখ। কিছু ডলার পাঠান কি সম্ভব হবে? অত্যন্ত অসুবিধায় আছি।…..এই কথাগুলিই… Continue reading নক্ষত্রের রাত-হুমায়ূন আহমেদ-পর্ব-৯

নক্ষত্রের রাত-হুমায়ূন আহমেদ-পর্ব-৮

প্রফেসর ওয়ারাডিংটন বললেন, রেবেকা, লাঞ্চ-ব্রেকের সময় তুমি কি আমার ঘরে এক বার আসবে?………ওয়ারডিংটনের মুখে মিটিমিটি হাসি। যেন রহস্যময় কোন ব্যাপার আছে তাঁর ঘরে।……এক জন অপেক্ষা করবে তোমার জন্যে। কে?…….তা বলব না। সে তোমার জন্যে একটা সারপ্রাইজ হিসাবেই থাক। আগেভাগে কিছু বলতে চাই না।…লাঞ্চ-ব্রেক পর্যন্ত আবোলতাবোল অনেক কিছু ভাবল রেবেকা। এমনকি এক বার কল্পনা করল, নাসিম… Continue reading নক্ষত্রের রাত-হুমায়ূন আহমেদ-পর্ব-৮

নক্ষত্রের রাত-হুমায়ূন আহমেদ-পর্ব-৭

রেবেকা কাঁপা গলায় বলল, আমি ভেবেছিলাম বাসায় কেউ নেই। যা ভয় পেয়েছিলাম! একা-একা কীভাবে ফিরব, তাই ভাবছিলাম।…….মাৰ্থা নামিয়ে গেছে। ওকে ঠিকানা বলতেই সে চিনল। মাৰ্থা আমার রুমমেট। বাইরেই দাঁড়িয়ে থাকব নাকি? ভেতরে আসতে বলুন। ভেতরে এস রেবেকা।…….রেবেকা হাসিমুখে ভেতরে ঢুকল। ওভারকোটের পকেট থেকে হাত বের করল। হাত নীল হয়ে আছে। কোনো গ্লাভস নেই হাতে।…..আপনি এত… Continue reading নক্ষত্রের রাত-হুমায়ূন আহমেদ-পর্ব-৭

দুঃখীরাম – উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী

দুঃখীরাম খুব গরীব ঘরের ছেলে ছিল। সকলে তাহাকে দুঃখীরাম বলিয়া ডাকিত, কিন্তু তাহার এর চাইতে ঢের ভাল একটা নাম ছিল-সেটা আমি ভুলিয়া গিয়াছি।………..দুঃখীরামের যখন দুই বৎসর বয়স, তখন তাহার মা-বাপ মরিয়া গেল। পৃথিবীতে তাহার আপনার বলিতে আর কেহই ছিল না, খালি ছিল মামা কেষ্ট। দু বছরের ছেলে দুঃখীরাম মামার খবর কিছুই জানিত না, তাহার মামাও… Continue reading দুঃখীরাম – উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী

নক্ষত্রের রাত-হুমায়ূন আহমেদ-পর্ব-৬

ফার্গো ফোরামে এক জন আবহাওয়াবিজ্ঞানীর ভবিষ্যৎবাণী ছাপা হয়েছে। তিনি হিসেবটিসেব করে বের করেছেন, আরেকটি বরফ-যুগ আসছে। এই বরফযুগের স্থায়িত্ব হবে তিন শ বছর। সমস্ত পৃথিবী বরফে ঢেকে যাবে। সবচেয়ে উষ্ণতম স্থানের তাপমাত্রা হবে শূন্যের ত্রিশ ডিগ্রী নিচে। খবর ছাপা হয়েছে বক্স করে। বিজ্ঞানীর ছবি আছে। হাসি-হাসি মুখের ছবি। বরফ-যুগ আগমনের সংবাদে তাকে মোটেই বিচলিত মনে… Continue reading নক্ষত্রের রাত-হুমায়ূন আহমেদ-পর্ব-৬

নক্ষত্রের রাত-হুমায়ূন আহমেদ-পর্ব-৫

সোমবার ভোর নটায় ডক্টর ওয়ারডিংটন, ফুড টেকনলজির শর্ট কোর্স উদ্বোধন করলেন। সব মিলিয়ে পঁয়ত্রিশ জন ছাত্র। অর্ধেকের বেশি হচ্ছে বিদেশী। মেয়েদের সংখ্যা সাত। তাদের মধ্যে তিন জন বিদেশী। রেবেকা, শ্রীলঙ্কার আরিয়ে রত্ন এবং রেড চায়নার মি ইন। মি ইন খুব সিরিয়াস। ড. ওয়ারডিংটনের উদ্বোধনী বক্তৃতাও সে নোট করতে লাগল। ড. ওয়ারডিংটন প্রথমে কী-একটা রসিকতা করলেন।… Continue reading নক্ষত্রের রাত-হুমায়ূন আহমেদ-পর্ব-৫

নক্ষত্রের রাত-হুমায়ূন আহমেদ-পর্ব-৪

চোখ মেলে রেবেকা বুঝতেই পারল না সে কোথায়। তার চারদিকে অপরিচিত গন্ধ। অপরিচিত অদ্ভুত শব্দ। সে কি তার নানার বাড়িতে? যে-কোন অচেনা জায়গায় ঘুম ভাঙলেই প্রথম যে-জিনিসটি তার মনে আসে, সেটা হচ্ছে–এটা কি নানার বাড়ি? ব্রহ্মপুত্রের উড়ে-আসা হওয়ায়-ভর্তি একটি প্রাচীন কোঠায় তার ঘুম ভাঙলঃ বিছানার চাদরটি কপূরের গন্ধমাখা, পায়ের কাছে বিশাল কোলবালিশ। রেলিং দেওয়া ঘন… Continue reading নক্ষত্রের রাত-হুমায়ূন আহমেদ-পর্ব-৪