বোবা কাহিনী – জসীম উদ্দীন ২৬-৩০. এক কোচ বেথুন ২৬. ভরদুপুরে কোন্ জঙ্গল হইতে এক কোচ বেথুন, সজারুর কাঁটা আর লাল মাকাল ফল কুড়াইয়া আনিয়া বড় বলে, “মা! আমার জানি কেমুন করতাছে।” মেয়ের গায়ে কপালে হাত বুলাইয়া দিতে দিতে মা বলে, “ক্যারে নক্কী! কি ঐছে?” বডু কয়, “মা! আমার যিনি বমি বমি করতাছে।” মা বলে,… Continue reading বোবা কাহিনী – জসীম উদ্দীন – এক কোচ বেথুন
বোবা কাহিনী – জসীম উদ্দীন – পাঠশালার কথা
বোবা কাহিনী – জসীম উদ্দীন ২১-২৫. পাঠশালার কথা ২১. সকালে উঠিয়া আজাহের ছেলেকে বলিল, “আইজ তুই দূরি কুনহানে যাবিন্যা। তোরে নিয়া আমি পাঠশালায় দিব। লেখাপড়া করতি অবি তোর, আমি ঘুইর্যা আসি, তারপর নিয়া যাব তোরে।” কিন্তু পাঠশালার কথা শুনিয়া ভয়ে বছিরের সমস্ত গা শিহরিয়া উঠিল। সে শুনিয়াছে। পাঠশালায় গুরু মশায় ছাত্রদিগকে মারে। কত রকমের শাস্তি… Continue reading বোবা কাহিনী – জসীম উদ্দীন – পাঠশালার কথা
বোবা কাহিনী – জসীম উদ্দীন – আজাহেরের ছেলে বছির
বোবা কাহিনী – জসীম উদ্দীন ১৬-২০. আজাহেরের ছেলে বছির ১৬. রাত্র শেষ না হইতে আজাহেরের ছেলে বছির জাগিয়া উঠিল। চারিদিকের বনে কত রকমের পাখিই না ডাকিতেছে। মাঝে মাঝে কাঠ-ঠোকরা শব্দ করিতেছে। দল বাধিয়া শিয়ালেরা মাঝে মাঝে চীৎকার করিয়া উঠিতেছে। আর বনের ভিতর হইতে শো শো শব্দ আসিতেছে। এক রহস্য মিশ্রিত অজানা ভয়ে তাহার সমস্ত শরীর… Continue reading বোবা কাহিনী – জসীম উদ্দীন – আজাহেরের ছেলে বছির
বোবা কাহিনী – জসীম উদ্দীন -খাকি রঙের জামা
বোবা কাহিনী – জসীম উদ্দীন ১১-১৫. খাকি রঙের জামা ১১. কোথা হইতে খাকি রঙের জামা পরিয়া কোমরে চাপরাশ আঁটিয়া একটি লোক আসিয়া গ্রামে প্রবেশ করিল। গ্রামের কুকুরগুলি তাহাকে ঘিরিয়া ঘেউ ঘেউ করিতে লাগিল। কৌতূহলী গ্রামের ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা হল্লা করিয়া কলরব করিয়া তাহার সঙ্গে সঙ্গে চলিল। সেই লোকটিকে দেখিয়া গ্রামের সাবধানী লোকেরা ফিস ফিস করিয়া… Continue reading বোবা কাহিনী – জসীম উদ্দীন -খাকি রঙের জামা
বোবা কাহিনী – জসীম উদ্দীন – সা-জী মশায়
বোবা কাহিনী – জসীম উদ্দীন ০৬-১০. সা-জী মশায় ০৬. “বলি, সা-জী মশায়! বাড়ি আছেন নাকি?” “এই দুপুর বেলা কে এল? আজাহের নাকি?” “স্যালাম কর্তা স্যালাম।” “স্যালাম, স্যালাম;–তা কি মনে করে আজাহের?” “এই আইলাম কর্তা, আপনার টাহা কয়ডা দিবার জন্যি।” “বটে! এরই মধ্যে টাহা জোগাড় করে ফেললি! তুই ত কম পাত্র নস রে!” “হে কর্তা! আজই… Continue reading বোবা কাহিনী – জসীম উদ্দীন – সা-জী মশায়
বোবা কাহিনী – জসীম উদ্দীন – আজাহেরের কাহিনী
বোবা কাহিনী – জসীম উদ্দীন ০১-০৫. আজাহেরের কাহিনী বোবাকাহিনী – উপন্যাস – জসীম উদদীন উৎসর্গ ফরিদপুর রাজেন্দ্র কলেজের ইংরেজী সাহিত্যের প্রধান পরিচালক অধ্যাপক নূরউদ্দীন আহম্মদের পবিত্র স্মৃতির উদ্দেশে। আমার আদরের ছোট ভাই নূরু! গত ১লা জুলাই তোমাকে কবরের ঘরে শোয়াইয়া আসিলাম। তুমি দেশের জনগণকে ভালবাসিতে। অধ্যাপক হইয়াও তুমি নিজ হাতে কৃষিকাজ করিয়া দেশের মজলুম জনগণের… Continue reading বোবা কাহিনী – জসীম উদ্দীন – আজাহেরের কাহিনী
বৃষ্টিভেজা কর্ণফুলী- (মনিকা শকুন্তলা)
বৃষ্টিভেজা কর্ণফুলী (মনিকা শকুন্তলা) বৃষ্টি মাতাল হাওয়া আর নীরবে বয়ে চলা কর্ণফুলী এই আবেগ মিশ্রিত ভালোবাসায় ভিজেছিলাম সেদিন আমি বিকেলের শীতল জলে পরশ করা হাওয়া আমাদের ছুঁয়ে যাচ্ছিল বারবার ইচ্ছে জাগছিল সাম্পানে চড়ে কর্ণফুলী পাড়ি দেই অবগাহন করি বৃষ্টির নোনাজলে,মিশে যাই নদীর কলকলে নিকষকালো গভীর মেঘগুলো ক্রমশ বৃষ্টির ফোঁটায় পরিণত হলো অঝোরেই ঝরে পরলো,মাঠ ঘাট… Continue reading বৃষ্টিভেজা কর্ণফুলী- (মনিকা শকুন্তলা)
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ- চাঁদের অমাবস্যা – ১১
চাঁদের অমাবস্যা – সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ চাঁদের অমাবস্যা – ১১ এগার কাদের তার জন্য অপেক্ষা করেছিল। যুবক শিক্ষক ঘরে প্রবেশ করলে সে এক পলকের জন্যে তার দিকে চোখ তুলে তাকায়, কিন্তু কিছু বলে না। জানালাটি বন্ধ বলে ঘরে আবছা অন্ধকার। সে-জন্যে তার চেহারা ভালো করে দেখা না গেলেও যুবক শিক্ষক তাতে কেমন স্তব্ধতা অনুভব করে। একটু ইতস্তত করে… Continue reading সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ- চাঁদের অমাবস্যা – ১১
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ -চাঁদের অমাবস্যা – ৬
চাঁদের অমাবস্যা – সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ চাঁদের অমাবস্যা – ৬ ছয় প্রধান শিক্ষকের কামরার পাশে শিক্ষকদের বিশ্রামঘর। অসমতল মেঝের মধ্যখানে একটি সাধারণ কাঠের টেবিল। তার চারপাশে বিভিন্ন ধরনের কয়েকটা কুর্সি। তবে একটি কুর্সির ওপর সর্বদা সকলের নজর। বুনটের ফাঁকে-ফাঁকে সংখ্যাতীত পুষ্টাঙ্গ ছারপোকা, তবু সেটি বেতের তৈরি বলে আরামদায়ক। পিঠটা একটু হেলানো, দু-পাশে হাতলও আছে। আরামের বিনিময়ে রক্ত দিতে কেউ… Continue reading সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ -চাঁদের অমাবস্যা – ৬
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ- চাঁদের অমাবস্যা – ১
চাঁদের অমাবস্যা – সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ চাঁদের অমাবস্যা – ১ এক শীতের উজ্জ্বল জ্যোৎস্নারাত, তখনো কুয়াশা নাবে নাই। বাঁশঝাড়ে তাই অন্ধকারটা তেমন জমজমাট নয়। সেখানে আলো-অন্ধকারের মধ্যে যুবক শিক্ষক একটি যুবতী নারীর অর্ধ-উলঙ্গ মৃতদেহ দেখতে পায়। অবশ্য কথাটা বুঝতে তার একটু দেরি লেগেছে, কারণ তা ঝট্ করে বোঝা সহজ নয়। পায়ের ওপর এক ঝলক চাঁদের আলো। শুয়েও শুয়ে… Continue reading সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ- চাঁদের অমাবস্যা – ১