সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজের ভৌতিক গল্পসমগ্র খণ্ড-২৮

সেই সব ভূত আর জঙ্গলের কন্ধকাটার ঝগড়ার কথা শুনেছিলাম। বলেছিলেন,—মােনা-ওঝাকে ডাকতে হবে। মােনা ছাড়া এর বিহিত হবে না।  মােনা-ওঝা পরদিন এসেছিল। ঠাকুমার মুখে সব শুনে সে বলল, বড় সমিস্যে দিদিঠাকরুন। ওদের ঝগড়াঝাটির কথা আমার অজানা নয়। অনেক চেষ্টা করেও মিটমাট করাতে পারিনি। আসলে শাঁকচুন্নিটা আলাে ছাড়া এক পা হাঁটতে পারে না। মেয়েটা রাতকানা। ওদিকে কন্ধকাটার চোখে… Continue reading সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজের ভৌতিক গল্পসমগ্র খণ্ড-২৮

সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজের ভৌতিক গল্পসমগ্র খণ্ড-২৭

মাতব্বররাও বলে উঠলেন, হ্যা। প্রমাণ চাই। সাক্ষী চাই, সিঙ্গিমশাই, কই আপনার সাক্ষীদের ডাকুন।  সাক্ষী পাওয়া গেল না। আমাদের গাঁয়ের লােকেরা বলল,ভূতগুলাে বাড়াবাড়ি করলে বরং মােনা-ওঝাই এসে বুঝিয়ে–সুঝিয়ে তাদের তাড়িয়ে দেয়। কাজেই মােনা তাদের আস্কারা দেয় বলা চলে না। তা ছাড়া আজ অব্দি মােনা-ওঝা কারুর পেছনে ভূতকে লেলিয়ে দিয়েছে বলেও জানা নেই।    ‘পঞ্চগেরামি’ বিচারসভায় মােনা-ওঝা… Continue reading সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজের ভৌতিক গল্পসমগ্র খণ্ড-২৭

সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজের ভৌতিক গল্পসমগ্র খণ্ড-২৬

জ্বালাতন! বলে ঠাকুমা উঠে গিয়ে ওদিকের জানালাটা বন্ধ করে দিতেন। তারপর বলতেন,এর একটা বিহিত করা দরকার। কালই মােনা-ওঝাকে ডেকে পাঠাতে হবে। | মােনা ছিল ভূতের ওঝা। ভূতগুলাের সঙ্গে নাকি বেজায় ভাব। তারা তাকে খুব সমীহ করে। একবার হল কী, সিঙ্গিমশাই রাত নটার বাসে শহর থেকে ফিরছেন। হাতে ছিল একভড় রসমালাই। ঠাকরুনতলার বটগাছের কাছে যেই এসেছেন,… Continue reading সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজের ভৌতিক গল্পসমগ্র খণ্ড-২৬

সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজের ভৌতিক গল্পসমগ্র খণ্ড-২৫

তর্কাতর্কি বেধে গেল। অন্যেরা চুপ! চুপ! বলে থামানাের চেষ্টা করলেন। কিন্তু সিঙ্গিমশাইকে থামানাে শক্ত। শেষপর্যন্ত ফকিরবাবাকে ষষ্ঠীতলায় ফিরতে দেখে তর্কাতর্কি থেমে গেল। ফকিরবাবার কঁাধের তাপ্লিমারা রংবেরঙের ঝুলিটি এখন প্রায় পুঁটুলি হয়ে উঠেছে। সামনে এসে তিনি বললেন,-চললাম এবার পদ্মাপারে। ফিরে এসে আবার ফলার খাব।   মুখে ঝলমলে হাসি। প্রকাণ্ড পুঁটুলি হয়ে ওঠা ঝুলিটি খুব নড়ছিল। মিছিল… Continue reading সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজের ভৌতিক গল্পসমগ্র খণ্ড-২৫

সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজের ভৌতিক গল্পসমগ্র খণ্ড-২৪

পােকামাকড়ের ডাক বেড়ে গেল এতক্ষণে। জোনাকি জ্বলতে দেখছিলাম এখানে ওখানে। কেতাে ফিসফিস করে বলল,-“টু, বেচুদা এখনও ফিরতে না কেন রে?  সেই সময় ষষ্ঠীতলার গাছের ওপর টোটোর চেঁচানি শােনা গেল। অ্যাই! কী হচ্ছে?..হি হি হি হি…আরে, মরে যাব!..হি হি হি..ওরে বাবা। হি হি হি হি…   তারপর ধপাস শব্দ। চেঁচিয়ে উঠলাম,—টোটো। টোটো।  -হি হি হি হি..মরে যাব!… Continue reading সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজের ভৌতিক গল্পসমগ্র খণ্ড-২৪

সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজের ভৌতিক গল্পসমগ্র খণ্ড-২৩

কিন্তু টোটো যতই গোয়ার হােক, ওর ওপর ভরসা রাখা কঠিন। খুব দৌড়বাজ যে! বেগতিক দেখলেই উধাও হয়ে যায়।  আর কেবাের স্বভাব হল ভয় পেলেই আমাকে জাপটে ধরা। ভাবনায় পড়ে গেলাম।  আমাদের গাঁয়ে অনেকরকম ভূত আছে জানতাম। কিন্তু কখনও তাদের সামনাসামনি দেখতে পাইনি। একজনের নাম ছিল কাঁদুনে। সে নাকি খালের ধারে কেঁদে-কেঁদে বেড়ায়। একজনের নাম ‘হাসুনে’।… Continue reading সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজের ভৌতিক গল্পসমগ্র খণ্ড-২৩

সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজের ভৌতিক গল্পসমগ্র খণ্ড-২২

যশমশাই জলে ঝাপ দিতে যাচ্ছিলেন। তাকে দুহাতে চেপে ধরে বললুম, বরং মােনাওঝাকে ডাকুন যশমশাই!  উনি এবার চেঁচিয়ে উঠলেন,—মােনাওঝা কোথায় আছিস রে? ওরে মােনা, শিগগির আয় রে।  পেছনে কালাচঁাদের ডাক শােনা গেল। যশমশাই। কী হয়েছে?   —আমার সর্বনাশ করেছে গােরাচঁাদ ব্যাটাছেলে! দেখে যা কালাচঁাদ!  কালাচাদ ঘাটে এল। তার সঙ্গে একজন জটাজুটধারী লােক। তার হাতে ত্রিশূল। কপাল… Continue reading সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজের ভৌতিক গল্পসমগ্র খণ্ড-২২

সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজের ভৌতিক গল্পসমগ্র খণ্ড-২১

আজ্ঞে হ্যা। কথায় বলে, স্বভাব যায় না মলে! বলে কালাচাদ আমার দিকে ঘুরল। বাবুমশাই! আপনি বাথরুমে গিয়ে হাতমুখ ধােন। ওই দেখুন বাথরুম। আমি আপনার জন্য চায়ের ব্যবস্থা করি।   সে রাতে আর কোনও গণ্ডগােল ঘটেনি। তবে শুয়ে পড়ার পর পুকুরের জলে কিছুক্ষণ অন্তর বারদুয়েক ঝপাং করে কার ঝাপিয়ে পড়ার শব্দ শুনেছি। কেউ তালগাছের ডগা থেকে… Continue reading সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজের ভৌতিক গল্পসমগ্র খণ্ড-২১

সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজের ভৌতিক গল্পসমগ্র খণ্ড-২০

রসিকতা করে বললুম,-পাতব শেয়াল ধরার ফঁাদ। কঁদবে শেয়াল হুক্কাহুয়া। যশমশাই ধরবে ধুয়া, ক্যা হুয়া ক্যা হুয়া ?  গােরাচঁাদ থমকে দাঁড়িয়ে তেমনই চকচকে দাঁতে হাসল। ওরে বাবা। আপনি যে যশমশাইয়ের কত্তবাবা দেখছি! বাঃ। আমি এবার যশমশাইকে ছড়াটা শুনিয়ে ছাড়ব। এখনও, উনি বাড়ি পৌঁছুতে পারেননি।   বলে সে সুর ধরে আওড়াল : নামটি আমার গােরাচঁাদ পাতব শেয়াল… Continue reading সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজের ভৌতিক গল্পসমগ্র খণ্ড-২০

সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজের ভৌতিক গল্পসমগ্র খণ্ড-১৯

আমার নাম তারাচরণ যশ। আপনার বন্ধু সানু আমার পদ্য শুনে বলেছিল, যদি কখনও পত্রিকা করি, আপনার পদ্য সবার আগে ছাপৰ যশকাকা!   দেড় কিলােমিটার পথ হাঁটতে কথা বলাই ক্লান্তি থেকে বাঁচবার একমাত্র উপায়। তাই বললুম,—আমিও তাহলে আপনাকে যশকাকা বলব!  —বলুন! ইচ্ছে যখন হয়েছে, তখন বলুন। -আচ্ছা যশকাকা, সানুদের বাড়িতে কী গণ্ডগােলের কথা বলছিলেন? —এখন এই… Continue reading সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজের ভৌতিক গল্পসমগ্র খণ্ড-১৯