ছবি – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

পলাশের ঘরে দুটো বড় জানলা, পুবের জানলা দিয়ে দেখা যায় উঁচু রেললাইন, মাথার ওপর ইলেকট্রিকের তার, সন্ধেবেলায় প্ল্যাটফর্মে নিয়নের আলো জ্বললে স্টেশনের পাশের নোংরা পুকুরটায় অদ্ভুত সুন্দর ছায়াছবি দেখা যায়। জাতীয় সড়ক রেললাইন ভেদ করে চলে গেছে, সেই সুন্দর রাস্তার দুপাশে ইটের খাঁচায় যত্নে লালিত হয়েছে গাছের চারা। একদিন জাতীয় সড়ক আরও সুন্দর হবে। এখনও… Continue reading ছবি – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

অপদার্থ – সত্যজিৎ রায়

অপদার্থ কথাটা অনেক লোক সম্বন্ধে অনেক সময়ই ব্যবহার করা হয়ে থাকে। যেমন আমাদের চাকর নবকেষ্ট। নব, তুই একটা অপদার্থ–এই কথাটা ছেলেবেলায় মার মুখে অনেকবার শুনেছি। নব কিন্তু কাজ ভালই করত; দোষের মধ্যে সে ছিল বেজায় ঘুমকাতুরে। দিনের বেলা প্রায়ই একটু টেনে ঘুম। দেওয়ার ফলে বিকেলে চায়ের জলটা চড়াতে চারটের জায়গায় হয়ে যেত সাড়ে চারটে। কাজেই… Continue reading অপদার্থ – সত্যজিৎ রায়

ভোজনালয় – তারাপদ রায়

প্রথমেই অনেকদিন আগেকার একটা রদ্দি গল্প বলে নিচ্ছি। ঘটনাটা প্রায় পঁচিশ-তিরিশ বছর আগেকার, কিন্তু এখনও ভুলিনি, বোধহয় কখনওই ভুলব না।………ক্ষুধার্ত অবস্থায় শেয়ালদার কাছে একটা মাঝারি রেস্তোরাঁয় ঢুকে একটা মাংসের কাটলেটের অর্ডার দিয়েছিলাম। কিন্তু বেয়ারা কাটলেটটি পরিবেশন করবার পর খাওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে দেখি সেটা ভয়ংকর শক্ত। ছুরি-কাঁটা দিয়ে নানাভাবে নানা কায়দায় বিপুল প্রয়াস চালানোর পর… Continue reading ভোজনালয় – তারাপদ রায়

জ্বিন এবং পক্ষীকথা – হুমায়ূন আহমেদ

নুহাশপল্লীর মাঠে বসে আছি। সময় সকাল দশটা। আমার সঙ্গে আছেন সিলেটের হ্যারল্ড রশীদ। তিনি একজন সংগীত পরিচালক, চিত্রকর এবং শখের জ্যোতির্বিদ। তিনি আমাকে বৃহস্পতির চাঁদ এবং শনিগ্রহের বলয় দেখাতে এসেছেন। নিজের টেলিস্কোপ নিয়ে এসেছেন। রাতে টেলিস্কোপ সেট হবে। আমরা রাতের জন্যে অপেক্ষা করছি। অপেক্ষার জায়গাটা সুন্দর। বেদী দেওয়া জাপানি বটগাছের নিচে বসেছি। আমাদের ঘিরে আছে… Continue reading জ্বিন এবং পক্ষীকথা – হুমায়ূন আহমেদ

বাঘ-বর – উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী

এক গরীব ব্রাহ্মণ ছিলেন। তাঁর ঘরে ব্রাহ্মণী ছিলেন, আর ছোট্র একটি মেয়ে ছিল, কিন্তু তাদের খেতে দেবার জন্যে কিছু ছিল না। ব্রাহ্মণ অনেক কষ্টে ভিক্ষে করে যা আনতেন, এক বেলায় ভালো করে না খেতেই তা ফুরিয়ে যেত। সকল দিন আবার তাও মিলত না! একদিন তাঁদের ছোট্র মেয়েটি পাশের বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিল। গিয়ে দেখল, সে বাড়িতে… Continue reading বাঘ-বর – উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী

পদ্মাসন – তারাপদ রায়

সকালবেলা বাজার করতে দেরি হয়ে গিয়েছিল, তাড়াতাড়ি দাড়ি কামিয়ে অফিস যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হচ্ছিলাম। এমন সময় জরুরি খবর এল আমার এক মামাশ্বশুর সকালবেলা পদ্মাসন করতে গিয়ে আটকিয়ে গিয়েছেন। ভদ্রলোক কাছেই থাকেন, সুতরাং এই বিপদে সর্বপ্রথমে আমাকেই খবর দিয়েছেন। বিপদটা সত্যি যে কী, তা আমি প্রথমে বুঝে উঠতে পারিনি। যদি পদ্মাসন করতে না পারেন, আটকিয়ে যান,… Continue reading পদ্মাসন – তারাপদ রায়

বাঘের বাচ্চা – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

পুণা গ্রাম হইতে প্রায় সাত-আট ক্রোশ দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে উপত্যকা হইতে বহু ঊর্ধ্বে গিরিসংকটের ভিতর দিয়া দুইজন সওয়ার নিম্নাভিমুখে অবতরণ করিতেছিল। চারিদিকেই উচ্চনীচ ছোটবড় পাহাড়ের শ্রেণী—যেন কতকগুলা অতিকায় কুম্ভীর পরস্পর ঘেঁষাঘেঁষি হইয়া তাল পাকাইয়া এই হেমন্ত অপরাহ্ণের সোনালী রৌদ্রে শুইয়া আছে। তাহারি মধ্যে পিপীলিকার মতো দুইটি প্রাণী সূর্যের দিকে পশ্চাৎ করিয়া ক্রমশ দীঘায়মান ছায়া সম্মুখে ফেলিয়া… Continue reading বাঘের বাচ্চা – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

টানা পোড়েন-ঋভু চট্টোপাধ্যায়

স্কুল থেকে বেরিয়ে আসতেই বাকি সবাই ঘিরে ধরে জিজ্ঞেস করে, ‘হেড মিস রাজি হলেন?’….ঝিনুকের বাবা সবার মুখের দিকে তাকিয়ে একটা লম্বা শ্বাস ফেলে উত্তর দিলেন, ‘না। উনি কিছুতেই রাজি হলেন না।পুরো ফিজটাই লাগবে।’ –আপনি কোর্টের অর্ডারের কথা কিছু বললেন না।………..–আরে আমি তো সবই বললাম।সেদিন থেকে বলেই যাচ্ছি।উনি কোন কথা শুনতেই চাইছেন না।…একজন অবিভাবকের কথার উত্তরে ঝিনুকের… Continue reading টানা পোড়েন-ঋভু চট্টোপাধ্যায়

ব্রেজিলের কালো বাঘ– সত্যজিৎ রায়

মেজাজটা বনেদি, প্রত্যাশা অসীম, অভিজাত বংশের রক্ত বইছে ধমনীতে, অথচ পকেটে পয়সা নেই, রোজগারের কোনও রাস্তা নেই–একজন যুবকের পক্ষে এর চেয়ে দুর্ভাগ্য আর কী হতে পারে? আমার বাবা ছিলেন সহজ, সরল মানুষ। তাঁর দাদা, অকৃতদার লর্ড সাদারটন, বিশাল সম্পত্তির মালিক। এই দাদার বদান্যতার উপর বাবার এমনই আস্থা ছিল যে তাঁর একমাত্র সন্তান হয়ে আমার যে… Continue reading ব্রেজিলের কালো বাঘ– সত্যজিৎ রায়

চোখ – হুমায়ূন আহমেদ

ভোর ছটায় কেউ কলিং বেল টিপতে থাকলে মেজাজ বিগড়ে যাবার কথা। মিসির আলির মেজাজ তেমন বিগড়াল না। সকাল দশটা পর্যন্ত কেন জানি তাঁর মেজাজ বেশ ভালো থাকে। দশটা থেকে খারাপ হতে থাকে, চূড়ান্ত রকমের খারাপ হয় দুটার দিকে। তারপর আবার ভালো হতে থাকে। সন্ধ্যার দিকে অসম্ভব ভালো থাকে, তারপর আবার খারাপ হতে শুরু করে। ব্যাপারটা… Continue reading চোখ – হুমায়ূন আহমেদ