নানার বাড়ি দাদার বাড়ি – হুমায়ূন আহমেদ

একদিন স্কুল থেকে বাসায় ফিরে দেখি–মাকে আজ অন্যরকম লাগছে। তার চেহারায় খুকি-খুকি ভাব চলে এসেছে। কথা বলছেন অনেকটা সুরেলা গলায়। ব্যাপারটা কী?…অসাধারণ ব্যাপার একটা ঘটেছে—আমরা নানার বাড়ি এবং দাদার বাড়ি বেড়াতে যাচ্ছি। আমার শৈশবের সবচে আনন্দময় সময় হচ্ছে এই দুজায়গায় বেড়াতে যাওয়া। প্রতি দুবছর পরপর একবার তা ঘটত। আমার মনে হত, এত আনন্দ এত উত্তেজনা… Continue reading নানার বাড়ি দাদার বাড়ি – হুমায়ূন আহমেদ

গল্পের গোরু – তারাপদ রায়

একবার এক নদীতে আগুন লেগেছিল। খুব আগুন। আগুন লেগে নদী দাউ দাউ করে জ্বলে উঠেছিল। নদীর তীরে ছিল অনেক বড় বড় গাছ। আগুনের তীব্র আঁচ সইতে না পেরে অবশেষে সেই নদীর মাছগুলো প্রাণ বাঁচাতে গাছে উঠে পড়ে।…………..গুলিখোরদের আড্ডায় সেদিন সন্ধ্যায়ও জোর গল্প-গুজব চলছিল। বলা বাহুল্য, গল্পের চেয়ে গুজবই বেশি। সেখানেই এক নম্বর গুলিখোর এই গল্পটা… Continue reading গল্পের গোরু – তারাপদ রায়

একজন অদ্ভুত বাবা – হুমায়ূন আহমেদ

আমার ছোট ভাই মুহম্মদ জাফর ইকবাল তার লেখা প্রথম গ্রন্থ কপোট্রনিক সুখ দুঃখের উৎসর্গপত্রে লিখেছে ও।………পৃথিবীর সবচে ভালমানুষটিকে বেছে নিতে বললে আমি আমার বাবাকে বেছে নেব। বইয়ের উৎসর্গপত্রে লেখকরা সবসময় আবেগের বাড়াবাড়ি করেন। আমার ভাইয়ের এই উৎসর্গপত্র আবেগপ্রসূত ধরে নিতে খানিকটা অসুবিধা আছে। সে যদি লিখত পৃথিবীর সবচে ভালো মানুষ আমার বাবা এবং মা তা… Continue reading একজন অদ্ভুত বাবা – হুমায়ূন আহমেদ

মুক্তি – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

ওর ভালো নাম বোধ হয় ছিল নিস্তারিণী। ওর যৌবন বয়সে গ্রামের মধ্যে অমন সুন্দরী বউ ব্রাহ্মণপাড়ার মধ্যেও ছিল না। ওরা জাতে যুগী, হরিনাথ ছিল স্বামীর নাম। ভদ্রলোকের পাড়ায় ডাকনাম ছিল ‘হরে যুগী’। নিস্তারিণীর স্বামী হরি যুগীর গ্রামের উত্তর মাঠে কলাবাগান ছিল বড়ো। কাঁচকলা ও পাকাকলা হাটে বিক্রি করে কিছু জমিয়ে নিয়ে ছোটো একটা মনিহারি জিনিসের… Continue reading মুক্তি – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

মানপত্র – সত্যজিৎ রায়

শতদল সংস্থার সেক্রেটারি প্রণবেশ দত্ত বিস্ফোরক সংবাদটি ঘোষণা করবার পর উপস্থিত সদস্যদের মুখ দিয়ে প্রায় এক মিনিট কোনও কথা বেরোল না। ক্লাবঘরে জরুরি মিটিং বসেছে নববর্ষের পাঁচদিন আগে। মিটিং-এর উদ্দেশ্য প্রণবেশ জানায়নি কাউকে, কেবল বলেছে আজ সকলের আসা চাই-ই, কারণ সংকটময় মুহূর্ত সমুপস্থিত। প্রথম মুখ খুলল জয়ন্ত সরকার। আর ইউ অ্যাবসোলিউটলি শিওর? জয়ন্ত লাগসই ইংরিজির… Continue reading মানপত্র – সত্যজিৎ রায়

পাখি – হুমায়ূন আহমেদ

উইন্টার কোয়াটার শুরু হয়েছে। শীত এখনো তেমন পড়েনি। ওয়েদার ফোরকাস্ট হচ্ছে দু’একদিনের মধ্যে প্রথম তুষারপাত হবে। এ বছর অন্য সব বছরের চেয়ে প্রচণ্ড শীত পড়বে, এরকম কথাবার্তাও শোনা যাচ্ছে। প্রাচীন মানুষেরা আকাশের রঙ দেখে শীতের খবর বলতে পারতেন। স্যাটেলাইটের যুগেও তাদের কথা কেমন করে জানি মিলে যায়। ভোরবেলা ক্লাসে রওনা হয়েছি। ঘর থেকে বের হয়ে… Continue reading পাখি – হুমায়ূন আহমেদ

বানরের কাণ্ডজ্ঞান – তারাপদ রায়

এক সার্কাসের দলে একটা বানরের বাচ্চা চমৎকার সব খেলা দেখাচ্ছিল, এই একটা বিরাট কুকুরের পিঠে চড়ে মুখে লাগাম টেনে কুকুরটাকে ঘোড়ার মতো চালাচ্ছে, আবার আগুনের ওপর দিয়ে লাফিয়ে ট্রাপিজের লোহার রিংয়ের মধ্য দিয়ে গলে বেরিয়ে যাচ্ছে। দর্শকেরা মন্ত্রমুগ্ধের মতো বানর বালকের ক্রীড়াকৌশল দেখছিল। এমন সময় কোথা থেকে একটা বেরসিক গোদা বানর অতর্কিতে সার্কাসের তাঁবুর মধ্যে… Continue reading বানরের কাণ্ডজ্ঞান – তারাপদ রায়

আচার্য কৃপালিনী কলোনি – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

আমার স্ত্রী আমাকে কেবলই খোঁচাইতেছিলেন।…………….পূর্ববঙ্গে বাড়ি। এই সময় জমি না-কিনিলে পশ্চিমবঙ্গে ইহার পরে আর জমি পাওয়া যাইবে কি? কলিকাতায় জমি ও বাড়ি করিবার পয়সা আমাদের হাতে নাই, কিন্তু পনেরোই আগস্টের পরে কলিকাতার কাছেই বা কোথায় জমি মিলিবে? যা করিবার এইবেলা করিতে হয়। সুতরাং চারিদিকে জমি দেখিয়া বেড়াই। দমদম, ইছাপুর, কাশীপুর, খড়দহ, ঢাকুরিয়া ইত্যাদি স্থানে। রোজ… Continue reading আচার্য কৃপালিনী কলোনি – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

আমার মা – হুমায়ূন আহমেদ

আমার মা ছিলেন তাঁর পরিবারের প্রথম সন্তান। শ্যামলা ধরনের একহারা গড়নের মেয়ে। অতি আদরের মেয়ে। কেমন করে জানি সবার ধারণা হল, এই মেয়ে তেমন বুদ্ধিমতী হয়নি। তাকে বুদ্ধিমতী বানানোর জন্যে ছোট বয়সেই পাঠিয়ে দেওয়া হল বারহাট্টায়। বারহাট্টায় আমার মার মামার বাড়ি। মার নানিজান অসম্ভব বুদ্ধিমতী। তিনি যদি ট্রেনিং দিয়ে এই মেয়েকে কিছুটা মানুষ করতে পারেন।… Continue reading আমার মা – হুমায়ূন আহমেদ

নীলগঞ্জের ফালমন সাহেব – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

সাহেবের নাম এন. এ. ফারমুর। নীলগঞ্জের নীল কুঠিয়াল সাহেবদের বর্তমান বংশধর। আমি বাল্যকাল হইতেই সাহেবকে চিনি। যখন স্কুলে পড়ি, সাহেবদের কুঠিতে একবার বেড়াইতে যাই। ফারমুর সাহেবকে এদেশের লোক ফালমন সাহেব বলিয়া ডাকে। আমার বাল্যকালে ফালমন সাহেবের বয়স ছিল কত? পঞ্চাশ হইবে মনে হয়। সাহেবদের কুঠিতে যাইয়া দেখিতাম সাহেব দুধ দোয়াইতেছেন। অনেকগুলি বড়ো বড়ো গাই ছিল… Continue reading নীলগঞ্জের ফালমন সাহেব – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়