ঘটি-বাঙাল – তারাপদ রায়

অর্ধশতাব্দী আগে ধানসিঁড়ি নদীর তীরের আশ্চর্যতম বাঙাল কবি লিখেছিলেন, ‘আবার তাহারে কেন ডেকে আনো?’ সে প্রশ্নের ছিল রোমান্টিক অনুপ্রাস। অন্য অনুষঙ্গে, ভিন্ন প্রসঙ্গের সে এক বেদনার গাথা।….ঘটি-বাঙালের প্রসঙ্গও, দেশ ভাগের চার দশক পরে এখন প্রায় ওই ‘আবার তাহারে কেন ডেকে আনো’র পর্যায়ে চলে গেছে। আজ আর কে খেয়াল রাখে, কে ঘটি, কে বাঙাল। আগে তো… Continue reading ঘটি-বাঙাল – তারাপদ রায়

নিষিদ্ধ গাছ – হুমায়ূন আহমেদ

ধ্রুব এষের সঙ্গে আমার সখ্য দীর্ঘদিনের। তার চুল-দাড়ি, হাঁটার ভঙ্গি, পোশাক এবং জীবনচর্যা সবই আলাভোলা। তার সম্পর্কে প্রচলিত গল্প হচ্ছে, নিজের বিছানা কারও সঙ্গে শেয়ার করা সম্ভব না বলে সে চিরকুমার থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। আত্মীয় বন্ধুদের চাপে শেষটায় শর্তসাপেক্ষে বিয়েতে রাজি হয়। শর্ত হচ্ছে, তার স্ত্রী সারা দিন তার সঙ্গে থাকতে পারবে, কিন্তু সূর্য ডোবার… Continue reading নিষিদ্ধ গাছ – হুমায়ূন আহমেদ

যদু হাজরা ও শিখিধ্বজ – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

আপনারা একালে যদু হাজরার নাম বোধ হয় অনেকেই শোনেননি।….আমাদের বাল্যকালে কিন্তু যদু হাজরাকে কে-না জানত? চব্বিশ পরগনা থেকে মুর্শিদাবাদ এবং ওদিকে বর্ধমান থেকে খুলনার মধ্যে যেখানেই বাজারে বা গঞ্জে বড়ো বারোয়ারির আসরে যাত্রা হত সে-সব স্থানে দশ-বারো ক্রোশ পর্যন্ত যদু হাজরার নাম লোকের মুখে মুখে বেড়াত। কাঠের পুতুল চোখ মেলে চাইত—যদু হাজরার নাম শুনলে। আপনারা… Continue reading যদু হাজরা ও শিখিধ্বজ – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

কানু কহে রাই – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

ছোটনাগপুরের একটি বড় শহর হইতে যে পাকা রাস্তাটি ষাট মাইল দূরের অন্য একটি বড় শহরে গিয়াছে সেই রাস্তা দিয়া একটি মোটর গাড়ি চলিয়াছে। শীতান্তের অপরাহ্ন, বেলা আন্দাজ তিনটা। রাস্তার দুপাশে অসমতল জঙ্গল, কোথাও ঘন কোথাও বিরল, দূরে দূরে পাহাড়ের ন্যুজপৃষ্ঠ দেখা যায়। দৃশ্যটি নয়নাভিরাম, বাতাসের আতপ্ত শুষ্কতা স্পৃহনীয়। মোটর মন্দগতিতে চলিয়াছে, ত্বরা নাই। স্টীয়ারিঙের উপর… Continue reading কানু কহে রাই – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

বিরজা হোম ও তার বাধা – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

ভৈরব চক্রবর্তীর মুখে এই গল্পটি শোনা। অনেকদিন আগেকার কথা। বোয়ালে-কদরপুর (খুলনা) হাই স্কুলে আমি তখন শিক্ষক। নতুন, কলেজ থেকে বার হয়ে সেখানে গিয়েছি।..ভৈরব চক্রবর্তী ওই গ্রামের একজন নিষ্ঠাবান সেকেলে ব্রাহ্মণ পণ্ডিত। সকলেই শ্রদ্ধা করত, মানত। এক প্রহর ধরে জপ আহ্নিক করতেন, শূদ্রযাজক ব্রাহ্মণের জল স্পর্শ করতেন না, মাসে একবার বিরজা হোম করতেন, টিকিতে ফুল বাঁধা… Continue reading বিরজা হোম ও তার বাধা – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

হাঁচির গল্প – তারাপদ রায়

রম্যনিবন্ধ রচনার চেয়ে অনেক বেশি কঠিন হল তার নামকরণ। কোনও একটা বিশেষ বিষয় নিয়ে লেখা হলে নামকরণ অবশ্য সঙ্গে সঙ্গে হয়ে যায়। কিন্তু সবসময় বিশেষ ভাল বিষয় থাকে না; যেমন এবার। ফলে নিতান্ত নিরুপায় হয়ে এবারের এই পাঁচমিশেলি নিবন্ধের নাম হল ‘অবশেষে হাঁচির গল্প। তা হোক এই নামটাই বা খারাপ কী?………..রসায়নের ক্লাসে একটা কাচের পাত্রে… Continue reading হাঁচির গল্প – তারাপদ রায়

রাণুর প্রথম ভাগ – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

আমার ভাইঝি রাণুর প্রথমভাগের গণ্ডি পার হওয়া আর হইয়া উঠিল না।..তাহার সহস্রবিধ অন্তরায়ের মধ্যে দুইটি বিশেষ উল্লেখযোগ্য,—এক, তাহার প্রকৃতিগত অকালপক্ক গিন্নীপনা আর অন্যটি, তাহার আকাশচুম্বী উচ্চাকাঙ্ক্ষা। তাহার দৈনিক জীবনপ্রণালী লক্ষ্য করিলে মনে হয়, বিধাতা যদি তাহাকে একেবারে তাহার ঠাকুরমার মত প্রবীণা গৃহিণী এবং কাকার মত এম. এ. বি. এল, করিয়া পাঠাইতেন, তাহা হইলে তাহাকে মানাইতও… Continue reading রাণুর প্রথম ভাগ – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

মটর মাস্টারের কৃতজ্ঞতা – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

মাস তিনেক আগে বদলি হয়ে কলকাতায় এসেছি। ভাল বাসা পাইনি, তাই এখনো ফ্যামিলি আনিনি। কিন্তু মোটর গাড়িটা আনতে হয়েছে। আমার যে ধরনের কাজ তাতে মোটর না হলে চলে না….কলকাতায় এসেই কিন্তু ফ্যাসাদে পড়ে গেছি। অপরাধের মধ্যে একজনের প্রাণরক্ষা করেছিলাম। তার ফল যে এমন বিষময় হয়ে উঠবে তখন কে জানত! বিদ্যাসাগর ছিলেন মহাপুরুষ। লোক, তিনি জানতেন… Continue reading মটর মাস্টারের কৃতজ্ঞতা – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

পরীক্ষা – হুমায়ূন আহমেদ

একটা নির্দিষ্ট বয়সের বাবা-মা’রা মনে করতে শুরু করেন তাদের ছেলেমেয়েরা বোধহয় তাদের আর ভালবাসে না, বোধহয় তারা এখন ব্যস্ত হয়ে পড়েছে নিজেদের সংসার। নিয়ে নিজেদের ছেলেমেয়েদের নিয়ে। তবে এই ব্যাপারে তারা পুরোপুরি নিশ্চিতও হতে পারেন না। এক ধরনের সন্দেহ থাকে–হয়ত এখনো ভালবাসে। হয়ত বাবা মা’র প্রতি ভালবাসা নিঃশেষ হয়নি। এই সংশয়-জড়ানো দোদুল্যমান সময়ে বাবা-মা’রা নানান… Continue reading পরীক্ষা – হুমায়ূন আহমেদ

জমা খরচ – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

কী বুঝছ মুখুজ্জে? চল্লিশ পেরিয়ে জীবনের এক-আধটা হিসেব কষে ফেলা উচিত ছিল তোমার। একদিন ছুটি-টুটি দেখে বরং একটা খাতা নিয়ে বসে যাও। একদিকে লেখো জমা, অন্য ধারে খরচ। ওই যেমন অ্যাকাউন্ট্যান্টরা ডেবিট-ক্রেডিট লেখে আর কি?…জমার ঘরে প্রথমেই লেখো, জন্ম। ওটা প্লাস পয়েন্ট। একটা আর্নিং তো বটেই। কিন্তু আয়ুটাকে জমার ঘরে রেখো না। জন্মের পর থেকে… Continue reading জমা খরচ – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়