জটায়ুর পালক – সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ

সেদিন খুব মন দিয়ে একটা বই পড়ছি, পায়ে কুট করে যেন পিঁপড়ে কামড়াল। পা আলগোছে নাড়া দিয়ে ফের বইয়ের পাতায় ডুবে রইলাম। ভারি জমাটি গোয়েন্দা কাহিনি। গোয়েন্দা অফিসারকে বেঁধে ডাকাতরা বস্তায় ভরছে। এক্ষুনি সমুদ্রে ফেলে দেবে। কী হয় কী হয় অবস্থা। উত্তেজনায় আমার গায়ে কাঁটা দিচ্ছে। মাথার চুল খাড়া হয়ে উঠেছে। ফের কুটুস করে যেন… Continue reading জটায়ুর পালক – সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ

নো ফ্রি লাঞ্চ – হুমায়ূন আহমেদ

‘নো ফ্রি লাঞ্চ’—একটি আমেরিকান বাক্য। এই বাক্যটা বলে তারা এক ধরনের শ্লাঘা অনুভব করে। তারা সবাইকে জানাতে পছন্দ করে যে তারা কাজের বিনিময়ে খাদ্যে বিশ্বাসী। এই ধরনের বাক্য বাংলা ভাষাতেও আছে—’ফেলো কড়ি মাখো তেল’। গায়ে তেল মাখতে হলে কড়ি ফেলতে হবে। আরামের বিনিময়মূল্য লাগবে। যা-ই হোক, ফ্রি লাঞ্চে ফিরে যাই। নো ফ্রি লাঞ্চের দেশে চিকিৎসা… Continue reading নো ফ্রি লাঞ্চ – হুমায়ূন আহমেদ

মোল্লা নাসিরুদ্দিন হোজ্জার মজার গল্প

নাসিরুদ্দিন হোজ্জা তথা মোল্লা নাসিরুদ্দিনের নাম শোনেননি এমন মানুষ বিরল। তাকে কিংবদন্তি বললেও কম বলা হবে। বিশ্বের এমন কোনো প্রান্ত নেই যেখানে নাসিরুদ্দিন হোজ্জার গল্প প্রচলিত নয়। তার জীবন সম্বন্ধে খুব বেশি জানা না গেলেও সাধারণভাবে ধারণা করা হয়, ত্রয়োদশ শতকে বর্তমান তুরস্কের এসকিসেহির প্রদেশের সিভ্রিহিসার নামের শহরে তার জন্ম। অবশ্য কেউ কেউ বলেন, তার… Continue reading মোল্লা নাসিরুদ্দিন হোজ্জার মজার গল্প

হাতে খড়ি – তারাপদ রায়

পুরনো গড়িয়াহাট বাজারের ভিতরে যেখানে আলুর আড়ত ছিল তারই একেবারে পিছনদিকে ছিল শ্যামাদাসীর ঠেক। ঠেক মানে একটা বে-আইনি চুল্লুর দোকান। এ দোকানের কোনও দরজাকপাট ছিল না। সারা দিনরাতই খোলা। সারা দিনরাতই জমজমাট। গড়িয়াহাট মোড়ের এক কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে চারপাশে দিনরাতে যত মাতাল দেখা যেত তার আধাআধি এই ঠেক থেকে বেরুত। গল্পের মধ্যে যাওয়ার আগে শ্যামাদাসী… Continue reading হাতে খড়ি – তারাপদ রায়

ট্যাংকি সাফ – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

ট্যাংকি সাফ করতে ষাট টাকা চেয়েছিল মাগন। চল্লিশ টাকায় রফা হয়েছে।…..তো মাগন, সেপটিক ট্যাংকির লোহার চাক্কি কোদাল মেরে খুলে বুরবকের মতো চেয়ে রইল। আই বাপ! হাউস ফুল! হাউস ফুল না হলে ট্যাংকি সাফ করায় কোন আহাম্মক? কিন্তু মুশকিল হল, মাগনের আজ কোনও পার্টনার নেই। কাল হোলি গেছে, আজ রবিবার, মরদরা আজও সব চলাচল জমি ধরে… Continue reading ট্যাংকি সাফ – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

লুলু – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

লুলুই হচ্ছে সবকিছুর মূলে। লুলু আসলে কে বা তার গুরুত্বই বা কী তা আমার কাছে অস্পষ্ট। তবে যতবারই দেশে কোনও-না-কোনও ঘটনা ঘটে তখনই আমাকে লুলুর কাছে আসতে হয়, তার সাক্ষাৎকার নিতে। এ যাবৎ তার কত যে সাক্ষাৎকার নিয়েছি তার ইয়ত্তা নেই। কিন্তু তবু লুলু আমাকে আদপেই মনে রাখেনি। দেখা হলে সম্পূর্ণ নতুন করে পরিচয় দিতে… Continue reading লুলু – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

কোগ্রামের মধু পন্ডিত – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

বিপদে পড়লে লোকে বলে, ত্রাহি মধুসূদন। তা কোগ্রামের লোকেরাও তাই বলত। কিন্তু তারা কথাটা বলত মধুসূদন পন্ডিতকে। বাস্তবিক মধুসূদন ছিল কোগ্রামের মানুষের কাছে সাক্ষাৎ দেবতা। যেমন বামনাই তেজ, তেমনই সর্ববিদ্যাবিশারদ। চিকিৎসা জানতেন, বিজ্ঞান জানতেন, চাষবাস জানতেন, মারণ-উচাটন জানতেন, তাঁর আমলে গাঁয়ের লোক মরত না। সাঁঝের বেলা একদিন কোষ্ঠকাঠিন্যের রুগি বগলাবাবু মধুসূদনের বাড়িতে পাঁচন আনতে গেছেন।… Continue reading কোগ্রামের মধু পন্ডিত – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

বাড়িওয়ালা – তারাপদ রায়

গল্পটা অনেক দিনের পুরনো। তখনও পেপসি-কোকাকোলার যুগ আসেনি। সেটা ছিল লেমোনেড, সোডা ওয়াটারের যুগ। সেই সময় ঘোরতর বৃষ্টির দিনে ফুটো ছাদ দিয়ে প্রচুর জল পড়ায় বিপন্ন ভাড়াটে বাড়িওয়ালাকে অভিযোগ করেছিলেন, ‘আপনার ছাদ দিয়ে বৃষ্টির জল পড়ছে।’ এই অভিযোগ শুনে বাড়িওয়ালা রেগে গিয়ে দাঁত খিঁচিয়ে বলেছিলেন বৃষ্টি হলে জল পড়বে না তো লেমোনেড পড়বে নাকি? গল্পটা… Continue reading বাড়িওয়ালা – তারাপদ রায়

স্ত্রী রত্ন – তারাপদ রায়

মহাকবি গ্যেটে বলেছিলেন, মানুষ যে স্বর্গলোক থেকে নির্বাসিত হয়েছে সেই নির্বাসনে ক্ষতিপূরণ হল তার সহধর্মিণী। মহাকবি কালিদাস গৃহিণী, সখী ও সচিবের কথা বলেছিলেন, আদর্শ সহধর্মিণী হল একাধারে এই তিনটি। সংস্কৃত শাস্ত্রে ও সাহিত্যে স্ত্রী রত্ন বিষয়ে ভূরিভূরি কথা বলা আছে। সেখানে বলা আছে স্ত্রী রত্ন খারাপ বংশ থেকেও সংগ্রহ করা চলে। এবং এও বলা আছে… Continue reading স্ত্রী রত্ন – তারাপদ রায়