সুখস্বপ্ন-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

আমার বন্ধু অমল দুপুরবেলা হঠাৎ ফোন করে জিগ্যেস করল, তুমি কি আজ বিকেলটা ফ্রি আছ? তাহলে তোমার সঙ্গে কিছুক্ষণ সময় কাটাতে পারি। নইলে তোমার সঙ্গে আর তিন-চার বছর দেখা হবে না। আমি অবাক। পালটা প্রশ্ন করলুম। কেন, আমি কী অপরাধ করেছি, যে জন্য তুমি আমার সঙ্গে আর তিন-চার বছর দেখা করবে না? অমল বলল, আমি… Continue reading সুখস্বপ্ন-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

সুধাময়ের বাবা-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

ধানের বদলে এবার রজনীগন্ধার চাষ দিয়েছে জয়কেষ্ট। নতুন রকমের চাষ, তাই তার শরীরে এসেছে নতুন শক্তির জোয়ার। বুদ্ধিটা দিয়েছিল কাশেম আলি। ফুলের চাষের কথা জয়কেষ্ট সাতজন্মে শোনেনি। ফুল ফোটে বসত বাড়ির ধারে পাশে, চাষের জমিতে ফলে ধান, পাট, গম রবিশস্য! কিন্তু কাশেম আলি বললেন, ফুলেরও ভালো বাজার আছে, দরও বেশ চড়া, ঝপ করে পড়ে যাওয়ার… Continue reading সুধাময়ের বাবা-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

অচিন পাখি -ইদ্রিস আলী মাহবুব

অচিন পাখি ইদ্রিস আলী মাহবুব অচিন পাখি, কোথায় তুমি? আছো কত দূরে। কোথায় থেকে গাইছো গান, তোমার আপন সুরে। অচিন পাখি, কোন বনেতে, আছো তুমি লুকে। তোমার সুরে মুগ্ধ হয়ে, পড়ছি কেন লুটে ? অচিন পাখি, কোন সুরেতে, গাইছো তুমি গান। খুঁজছি আমি,পাইনি যে আর, তোমার সুরের সন্ধান। অচিন পাখি,বলনা আমায়, কোথায় তোমায় পাব। আমি… Continue reading অচিন পাখি -ইদ্রিস আলী মাহবুব

ফুলকুমারী – তারাপদ রায়

বিয়ের পরে শ্বশুরবাড়িতে এসে শ্রীলতার দিন আর কাটতে চায় না। শ্বশুরবাড়ি কথাটা অবশ্য ঠিক হল না, বলা উচিত বরের বাড়ি, কলকাতার শহরতলিতে দুঘরের সরকারি কোয়ার্টার্স শ্ৰীলতার বরের। শ্বশুরবাড়ি কাটোয়ায়, সেখানে শ্বশুর-শাশুড়ি, দেওর ননদ, ঝি-চাকর, আত্মীয়-স্বজন নিয়ে বাড়ি ভর্তি লোক। উকিলের বাড়ি, সারাদিন কাকডাকা ভোর থেকে। প্রায় মাঝরাত পর্যন্ত মক্কেল-মুহুরিতে বাড়ি সরগরম। ছুটির দিনে আত্মীয় কুটুমে… Continue reading ফুলকুমারী – তারাপদ রায়

ফকির -বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

ইচু মণ্ডলের আজ বেজায় সর্দি হয়েছে। ভাদ্রমাসের বর্ষণমুখর শীতল প্রভাত। তালি দেওয়া কাঁথা, ওর বউ, তার নাম নিমি, শেষরাত্রে গায়ে দিয়ে দিয়েছিল। এমন সর্দি হয়েছে যেন মনে হচ্ছে সমস্ত শরীর ভারী। ইচু শুয়েই পা দিয়ে চালের হাঁড়িটা নেড়ে দেখলে, সেটা ওর পায়ের তলার দিকেই থাকে, হাঁড়িটাতে সামান্য কিছু চাল আছে মনে হল তার। ইচু বললে—আজ… Continue reading ফকির -বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

ছেলেমানুষি-মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়

ব্যবধান টেকেনি। হাত দুই চওড়া সরু একটা বন্ধ প্যাসেজ বাড়ির সামনের দিকটা তফাত করে রেখেছে, দু-বাড়ির মুখোমুখি সদর দরজাও এই প্যাসেজটুকুর মধ্যে। পিছনে দু-বাড়ির ছাদ এক, মাঝখানে দেয়াল উঠে ভাগ হয়েছে, মানুষ-সমান উঁচু। টুল বা চেয়ার পেতে দাঁড়ালে বড়দের মাথা দেয়াল ছাড়িয়ে ওঠে। ব্যবধান টেকেনি। কতটুকু আর পার্থক্য জীবন-যাপনের, সুখদুঃখ, হাসি-কান্না, আশা-আনন্দের, ঘৃণা ভালোবাসার। সকালে… Continue reading ছেলেমানুষি-মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়

শিল্পী-মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়

সকালে দাওয়ায় বসে মদন সারা গায়ে শীতের রোদের সেঁক খাচ্ছিল, হঠাৎ তার পায়ে খিঁচ ধরল ভীষণভাবে। একেবারে সাত-সাতটা দিন তাঁত না চালিয়ে হাতে-পায়ে কোমরে পিঠে কেমন আড়ষ্ট মতো বেতো ব্যথা ধরেছিল, তাতে আবার গাঁটে গাঁটে ঝিলিকমারা কামড়ানি। সুতো মেলে না, তাঁত চলে না, বিনা রোগে ব্যারাম ধরার মতো হদ্দ করে ফেলে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা একটানা… Continue reading শিল্পী-মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়

সখী-মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়

সদরের কড়া নড়তে এক মুহূর্ত অপেক্ষা করে বিভা বলে, দ্যাখ তো রিনা কে, কাদের চায়। উপরে নিচে পাঁচ ঘর ভাড়াটে। উপরে তিন, নিচে দুই। বাইরে লোক এলে দরজা খুলে খোঁজ নেবার দায়িত্ব স্বভাবতই নিচের তলার ভাড়াটে তাদের উপর পড়েছে, বিভা এবং কল্যাণীদের। সদর থেকে ভিজে স্যাঁতসেঁতে একরত্তি উঠানটুকু পর্যন্ত সরু প্যাসেজের এপাশের ঘরটা তাদের, ওপাশেরটা… Continue reading সখী-মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়

হিঙের কচুরি-বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

আমাদের বাসা ছিল হরিবাবুর খোলার বাড়ির একটা ঘরে। অনেকগুলো পরিবার একসঙ্গে বাড়িটাতে বাস করত। এক ঘরে একজন চুড়িওয়ালা ও তার স্ত্রী বাস করত। চুড়িওয়ালার নাম ছিল কেশব। আমি তাকে ‘কেশবকাকা’ বলে ডাকতাম। সকালে যখন কলে জল আসত, তখন সবাই মিলে ঘড়া কলসি টিন বালতি নিয়ে গিয়ে হাজির হত কলতলায় এবং ভাড়াটেদের মধ্যে ঝগড়া বকুনি শুরু… Continue reading হিঙের কচুরি-বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

খাতা-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

লিখিতে শিখিয়া অবধি উমা বিষম উপদ্রব আরম্ভ করিয়াছে। বাড়ির প্রত্যেক ঘরের দেয়ালে কয়লা দিয়া বাঁকা লাইন কাটিয়া বড়ো বড়ো কাঁচা অরে কেবলই লিখিতেছে – জল পড়ে, পাতা নড়ে। তাহার বউঠাকুরানীর বালিশের নীচে ‘হরিদাসের গুপ্তকথা’ ছিল, সেটা সন্ধান করিয়া বাহির করিয়া তাহার পাতায় পাতায় পেন্সিল দিয়া লিখিয়াছে – কালো জল, লাল ফুল। বাড়ির সর্বদাব্যবহার্য নূতন পঞ্জিকা… Continue reading খাতা-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর