শিবু -রজত বন্দ‍্যোপাধ‍্যায়   

বছর তিরিশ-বত্রিশ আগেকার এক সন্ধ‍্যেবেলা। ঘড়িতে সাড়েসাতটা কি আটটা হবে অর্থাৎ সন্ধ্যে তখন বেশ গভীর হবার মুখে। তিনতলা বাড়ির ঠিক  উল্টোদিকের শিবমন্দিরে সন্ধ‍্যের আরতি যখন শেষ হব হব করছে, ঠিক সেইসময় দোতলায় ওর দাদার ঘরে রাখা ওর বাবার ব‍্যবহার করা পালঙ্কে শুয়ে শিবু মারা গেল। দুপুর গড়াতেই টানাপোড়ন্ শুরু হয়ে গিয়েছিল; ও কিছুতেই যাবে না… Continue reading শিবু -রজত বন্দ‍্যোপাধ‍্যায়   

বুঝেসুঝে বেঁচে থাকা-সমরেশ মজুমদার

কর্তামশাই জমিটা কিনে দিয়ে বলেছিলেন, ‘হারা, সারাজীবন আমাদের বাড়িতে চাকরি করলি, এবার একটু স্বাধীনভাবে থাক। তোর তিরিশ বছরের যত মাইনের টাকা, তা পোস্ট অফিসের খাতায় আছে। খাতাটা নে। আমি বুড়ো হয়ে গেছি, কবে হুট করে চলে যাব। তুই বুঝেসুঝে বেঁচে থাকিস।’ জমির দলিল, পোস্ট অফিসের পাসবুক তার হাতে তুলে দিয়ে ভালো করে বুঝিয়ে দিয়েছিলেন কর্তামশাই।… Continue reading বুঝেসুঝে বেঁচে থাকা-সমরেশ মজুমদার

অন্তর আত্মা-সমরেশ মজুমদার

বেশ কিছুক্ষণ হল আমার ঘুম ভেঙেছে এবং আমি এই সময়টুকু সমস্ত শরীর গুটিয়ে নিয়ে, অনেকটা তেমাথা বুড়ির মতো, ঘুমের আমেজটাকে জিইয়ে রাখতে চাইছিলাম। আচার খাওয়ার পর জিভটাকে চকচক শব্দে নাড়াচাড়া করতে যেমনটি লাগে। এখন এই কাল মেঝেতে পাতা বিছানায় শুয়ে আমি সারা ঘরে ছড়ানো কাগজ, একটা মাটির ভাঁড়ে উপচেপড়া সিগারেটের টুকরো ও আমার বালিশের পাশে… Continue reading অন্তর আত্মা-সমরেশ মজুমদার

নিশীথ কুসুম-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

বিরাট জুতোর দোকানের কাছে নাকটা ঠেকাল যূথী। বেশ শীত, এই সময় ঠান্ডা কাচ ছুঁতে গা শিরশির করে, একটু আরামও লাগে। পাশ থেকে মনসিজ জিগ্যেস করল, কোন জুতো জোড়া তোমার পছন্দ? আঙুল দেখিয়ে যূথী বলল, ওইটা, ওইটা আর ওইটা। তিন জোড়াই? হ্যাঁ, ওই তিন জোড়াই আমার চাই। প্রত্যেক জুতোর সঙ্গে নাম লেখা লেবেল ঝোলানো। মনসিজ ওই… Continue reading নিশীথ কুসুম-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

সাগর কেন লোনা ?-উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী

এক যে ছিল রাজা, তার নাম ফ্রদি। তার ছিল একটা যাঁতা, তাকে বলত গ্রত্তি। সে যাঁতা যেমন তেমন যাঁতা ছিল না, তাকে ঘুরিয়ে যে জিনিস ইচ্ছা, তাই তার ভিতর বার করা যেত। কিন্তু ঘোরাবে কে? সে যাঁতা ছিল পাহাড়ের মত বড়। রাজার চাকরেরা সেটা নাড়তেই পারল না। রাজার দেশে যত জোয়ান ছিল, সকলে হার মেনে… Continue reading সাগর কেন লোনা ?-উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী

জিয়োনো মাছ-সমরেশ মজুমদার

চা চুরির জন্য চাকরিটা চলে গেল বংশীর। অথচ ব্যাপারটা এমন কিছু গুরুতর নয়, সবাই চুরি করে, কেউ সাধু নয়। মেয়েগুলোর সুবিধে একটু বেশি, আংরার তলায় পুঁটলি বেঁধে বেশ নিয়ে যায়, চৌকিদার শালা তখন চোখ বুজে থাকে। পোয়াতি মেয়েদের তো পোয়াবারো, তলপেটের সঙ্গে সাইজ মিলিয়ে ওপপেটে চা বেঁধে নেয়। বিরাট গুদামে পাহাড় করা চায়ের পাতা, কাঠি… Continue reading জিয়োনো মাছ-সমরেশ মজুমদার

শেষ অশ্বারোহী-তারাপদ রায়

জুলাই মাস নাগাদ একটা বর্ষা ভাল করে পেরোবার আগেই যখন পর পর তেরোটা ওয়াইপার চুরি গেল, সনাতন সরকার স্থির করে ফেললেন, আর গাড়ি নয় এবং সত্যি সত্যিই সাত দিনের মধ্যে জলের দামে গাড়িটা বেচে দিলেন। গাড়িটা বেচে তার বিপদ কিন্তু আরও বাড়ল। থাকেন হাতিবাগানের কাছে। অপিসের সময় সেখান থেকে ট্রামে-বাসে ওঠা যায় না, মিনিবাস কিংবা… Continue reading শেষ অশ্বারোহী-তারাপদ রায়

পিতা-পুত্র উপাখ্যান-সমরেশ মজুমদার

ডুডুয়ার সতীশ রায় মুখের ওপর বলে দিলেন, ‘দূর মশাই, খাঁটি সোনার গয়না হয় না, তার সঙ্গে ভেজাল মেশাতে হয়। তবেই সেটার চেহারা খোলে। তেমনি মেয়েমানুষের স্বভাবে যদি একটু নষ্টামির ঝোঁক না থাকে তাহলে তাকে আলুনি ছাড়া আর কিছুই ভাবতে পারব না। কি বল হে?’ কথা হচ্ছিল সতীশ রায়ের বাগানের বেঞ্চিতে বসে। পাশে বয়ে যাচ্ছে ডুডুয়া… Continue reading পিতা-পুত্র উপাখ্যান-সমরেশ মজুমদার

পারুল প্রসঙ্গ-বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)

“ও কি তোমাদের মত উপায় ক’রে খাবে নাকি?” “উপায় ক’রে না খাক–তা ব’লে মাছ দুধ চুরি ক’রে খাওয়াটা–” “আমার ভাগের মাছ দুধ আমি ওকে খাওয়াব!” “সে তো খাওয়াচ্ছই–তাছাড়াও যে চুরি করে। এরকম রোজ রোজ–” “বাড়িয়ে বলা কেমন তোমার স্বভাব। রোজ রোজ খায়?” “যাই হোক–আমি বেড়ালকে মাছ দুধ গেলাতে পারব না। পয়সা আমার এত সস্তা নয়।”… Continue reading পারুল প্রসঙ্গ-বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)

বাড়তি মাশুল-বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)

একেই বলে বিড়ম্বনা। আমি একজন ডেলি প্যাসেঞ্জার। সেদিন সমস্ত দিন আপিসে কলম পিষে উর্ধ্বশ্বাসে হাওড়ায় এসে লোকাল ট্রেণের একখানি থার্ড ক্লাসে বসে হাঁপাচ্ছি–এমন সময় দেখি সামনের প্লাটফর্ম থেকে বোম্বে মেল ছাড়ছে আর তারই একটি কামরায় এমন একখানি মুখ আমার চোখে পড়ে গেল যাতে আমার সমস্ত বুক আশা আনন্দে দুলে উঠল। বহুদিন আগে এমার এক ছেলে… Continue reading বাড়তি মাশুল-বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)