কালীপ্রসন্ন সিংহ এর জীবনী ও সাহিত্যকর্ম

কালীপ্রসন্ন সিংহ ছিলেন একজন ভারতীয় বাঙালি সাংবাদিক, লেখক, সংগঠক, সমাজকর্মী। তিনি ঊনবিংশ শতকের একজন পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। খুব অল্প বয়সেই বহুগুণে গুণান্বিত তাঁর বুদ্ধিমত্তা ও সাংগঠনিক ক্ষমতার বিকাশ ঘটে। মাত্র উনত্রিশ বছরের জীবনে তিনি সাহিত্য ও সমাজের উন্নয়নের জন্য অসংখ্য কাজ করেছেন। তিনি শিল্প ও সংস্কৃতির, বিশেষত নাট্যসাহিত্যের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন।কালীপ্রসন্ন সিংহ এর জীবনী সমসাময়িকদের মধ্যে তিনি শিল্পসংস্কৃতির একজন মহান পৃষ্ঠপোষক, বিধবাবিবাহের একনিষ্ঠ প্রবক্তা, অনন্যসাধারণ সমাজনীতিবিদ ও দেশপ্রেমিক সাংবাদিক হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

  • বিশিষ্ট এই লেখক জন্মগ্রহণ করেন – ২৩ ফেব্রুয়ারি, ১৮৪০ সালে।
  • তাঁর পৈত্রিক নিবাস – উত্তর কলকাতার জোড়াসাঁকো।
  •  পিতার নাম – নন্দলাল সিংহ।
  • তাঁর পিতামহ জয়কৃষ্ণ সিংহ ছিলেন – হিন্দু কলেজের একজন পরিচালক।
  • তাঁর পিতার মৃত্যুর পর তাঁর অভিভাবক হিসেবে নিযুক্ত হন – বাবু হরচন্দ্র ঘোষ।
  • বাবু হরচন্দ্র ঘোষ ছিলেন – নিম্ন আদালতের বিচারক।
  • অন্যতম এই লেখকের শিক্ষাজীবন – তিনি বর্তমানে প্রেসিডেন্সি কলেজ হিসাবে পরিচিত, তৎকালীন হিন্দু কলেজে ভর্তি হয়েছিলেন। ১৮৫৭ সালে তিনি কলেজ ত্যাগ করেন। তিনি বাড়িতেই তাঁর ইংরেজি, বাংলা ও সংস্কৃত শিক্ষা অব্যাহত রেখেছিলেন।
  • তিনি নিজের ইংরেজির জ্ঞান উন্নত করেছেলেন ইউরোপীয় শিক্ষক – মিস্টার ক্রিকপ্যাট্রিকের তত্ত্বাবধানে।
  • ’বিদ্যোৎসাহিনী সভা’ প্রতিষ্ঠা করেন – কালীপ্রসন্ন সিংহ।
  • তিনি ’বিদ্যোৎসাহিনী সভা’ প্রতিষ্ট করেন – মাত্র তেরো বছর বয়সে।
  • ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর কর্তৃক অনুপ্রাণিত হয়ে বিধবা-পুনর্বিবাহ প্রবর্তনের লক্ষ্যে বেঙ্গল কাউন্সিলে আবেদনপত্র পেশ করার জন্য তিনি স্বাক্ষর সংগ্রহ করেন – তিন হাজারেরও বেশি।
  • তৎকালীন প্রখ্যাত বুদ্ধিজীবী রাজা রাজেন্দ্রলাল মিত্রের সম্পাদনায় তিনি পর্যায়ক্রমে তিনটি সাময়িকী প্রকাশ করেন – বিদ্যোৎসাহিনী পত্রিকা (১৮৫৫), সর্বতত্ত্ব প্রকাশিকা (১৮৫৬), এবং বিবিধার্থ সংগ্রহ।

কালীপ্রসন্ন সিংহ এর জীবনী ও সাহিত্যকর্ম

  • তিনি ‘জাস্টিস অব দি পিস’ পদ লাভ করেন – ১৯৬৩ সালে।
  • তিনি সদ্যস ছিলেন – কলকাতার ‘এশিয়াটিক সোসাইটি’ এবং ‘এগ্রিকালচারাল ও হর্টিকালচারাল সোসাইটির।
  • নাটক, প্রহসন, উপন্যাস, নকশা, প্রবন্ধ ও অনুবাদ মিলে তাঁর গ্রন্থসংখ্যা – ৯টি।
  • ’হুতোম প্যাঁচার নকশা’ গ্রন্থের রচয়িতা – কালীপ্রসন্ন সিংহ।
  • ’হুতোম প্যাঁচার নকশা’ প্রথম প্রকাশিত হয় – ১৮৬২ সালে।
  • এক শতাব্দীর কলকাতার যথেষ্ট অত্যাচার আচরণ ও অবক্ষয়কে ব্যঙ্গের সাহায্যে তুলে এনেছেন – ‘হুতোম প্যাঁচার নকশা’ গ্রন্থে।
  • হুতোম প্যাঁচার নকশার ভাষারীতি কলকাতার পার্শ্বর্তীদের – কথ্যভাষা।
  • অনুসৃত ভাষারীতির নাম – হুতোমী বাংলা।
  • তাঁর শ্রেষ্ঠ মৌলিক রচনা – ’হুতোম প্যাঁচার নকশা’।
  • নীলদর্পণ নাটকের ইংরেজি অনুবাদ প্রকাশ করায় আদালত নির্ধারিত জরিমানার টাকা পরিশোধ করেন – কালীপ্রসন্ন সিংহ।
  • বাংলা সাহিত্যে তাঁর দুই অমর অবদানসমূহের জন্য চিরস্মরনীয় হয়ে আছেন – বৃহত্তম মহাকাব্য মহাভারতের বাংলা অনুবাদ এবং তাঁর বই ’হুতোম প্যাঁচার নক্শা’।
  • তিনি উল্লেখিত বইগুলি লিখেছিলেন – ‘বাবু’ নাটক (১৮৫৪), ‘বিক্রমোর্বশী’ নাটক’ (১৮৫৭), ‘সাবিত্রী-সত্যবান’ নাটক’ (১৮৫৯), ‘মালতী-মাধব’ নাটক (১৮৫৯), হিন্দু পেট্রিয়ট সম্পাদক মৃত হরিশচন্দ্র মুখোপাধ্যায়ের স্মরণার্থ কোনো বিশেষ চিহ্ন স্থাপন জন্য বঙ্গবাসিবর্গের প্রতি নিবেদন(১৮৬১), ‘পুরাণ সংগ্রহ বা মহাভারত’ (মহাভারত অনুবাদ, ১৮৫৮-৬৬), ‘বঙ্গেশ বিজয়’ (১৮৬৮), ‘শ্রীমদ্ভাগবদ্গীতা’ (১৯০২) প্রভৃতি।
  • বিশিষ্ট এই লেখক মৃত্যুবরণ করেন – ২৪শে জুলাই, ১৮৭০ সালে।

 

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *