চিত্রা বলল, কিছু মনে করবেন না। আপনাকে কিন্তু খুশি খুশি লাগছে।
আশহাব বলল, ঠিক ধরেছেন বিচিত্র কারণে আমি ফান পাচ্ছি। কেন পাচ্ছি নিজেও জানি না।
চিত্রা বলল, আমি জানি। আশহাব বিস্মিত হয়ে বলল, আপনি কিভাবে জানবেন?
চিত্রা কঠিন গলায় বলল, আপনার মা আমাকে বৌমা বৌমা ডাকছেন এই বিষয়টাতে আপনি ফান পাচ্ছেন। যে কোনাে মেয়েকে স্ত্রী হিসেবে কল্পনা করতে ছেলেরা ভালােবাসে এবং ফান পায়।
আশহাব বলল, আর মেয়েরা কিসে Fun পায়?
মেয়েরা বিয়ের আগে কোনাে পুরুষকেই স্বামী ভেবে fun পায় না। তার প্রেমিককেও সে বিয়ের আগ মুহূর্ত পর্যন্ত স্বামী ভাবে না। আপনার চেহারা দেখেই বুঝতে পারছি আপনি যুক্তি খোঁজার চেষ্টা করছেন। আপনার সঙ্গে কথা কাটাকাটি খেলার শখ এই মুহূর্তে হচ্ছে না। আপনার কাছে যদি কয়েন থাকে আমাকে একটা কয়েন দিন।
কয়েন দিয়ে কি করবেন? ম্যাজিক দেখব। রশীদ সাহেব ম্যাজিক দেখাবেন।
আশহাব কয়েন বের করতে করতে ক্ষীণ স্বরে বলল, আমার মা আপনাকে ছাড়া ডিনার করবেন না।
চিত্রা বলল, না করলে নাই।
একজন অসুস্থ মানুষ। তার দিকটা দেখবেন না? আমিও অসুস্থ।
রশীদ সাহেব কয়েন হাতে নিতে নিতে বললেন, চিত্রা মন দিয়ে দেখ কি করছি কয়েনটা কোন হাতে?
ডান হাতে। এখন কোন হাতে নিয়েছি? বাম হাতে। | রশীদ সাহেব বাম হাত খুলে দেখালেন যে বাম হাত শূন্য। চিত্রা বলল, কয়েনটা ডান হাতেই আছে। আপনি ভঙ্গি করছেন কয়েনটা বাম হাতে নিয়েছেন আসলে নেন নি।
তােমার ধারণা কয়েনটা ডান হাতে? জি। রশীদ সাহেব ডান হাত খুলে দেখালেন। সেখানে কয়েন নেই। দুই হাতের কোথাও নেই। দু’টা হাতই খালি। চিত্রা বলল, কয়েন গেল কোথায়?
কিছুক্ষণ- হুমায়ূন আহমেদ
রশীদ সাহেব বললেন, আমারােতাে একই প্রশ্ন। কয়েন গেল কোথায়। এ রকম জলজ্যান্ত একটা বস্তুতাে উধাও হয়ে যেতে পারে না তাই না? | চিত্রা হ্যা সূচক মাথা নাড়ল। কয়েন অদৃশ্য করার খেলা সে আগে অনেকবার দেখেছে এ রকম কখনাে দেখে নি।
রশীদ সাহেব বললেন, কয়েন ভ্যানিশের ম্যাজিকটা শেখায় আমার একটা বড় লাভ হয়েছে। পদার্থবিদ বন্ধুদের খেলাটা দেখাতে পারব। তারা সম্পূর্ণ ভিন্ন কারণে মজা পাবে । ভিন্ন কারণটা শুনবে?
শুনব। আগ্রহ নিয়ে শুনবে না-কি শুনতে হয় বলে শুনবে? আগ্রহ নিয়ে শুনব। চাচা আমি নিজেও Physics-এর ছাত্রী। রশীদ সাহেব বললেন, পদার্থবিদরা জগত সম্পর্কে হাইপােথিসিস, জগতের নিয়ম সম্পর্কে হাইপােথিসিস দাঁড়া করান। বিপুল উৎসাহে তারা অগ্রসর হন। ম্যাথমেটিকেল মডেল তৈরি হয়। তখন আমাদেরও ডাক পড়ে। কারণ বেশির ভাগ পদার্থবিদ অংকে দুর্বল। তােমাদের আইনস্টাইনের ক্ষেত্রেও এটা সত্যি। যাই হােক মূল কথায় ফিরে যাই। মনে করাে পদার্থবিদ একটি সূত্র দাঁড় করালেন—
Y = BC + M + N2 Y হল B, C, M এবং N -এর ফাংশান।
সব ঠিক মত চলছে হঠাৎ এক সময় নজরে আসবে M অদৃশ্য। শুরুতে M ছাড়া সূত্র কাজ করছে না, মাঝখানে M থাকলে সূত্র কাজ করছে না।
বুঝতে পারছ কি বলছি? বুঝতে পারছি। রশীদ সাহেব বললেন, তােমার কাছে কি মনে হচ্ছে না God পদার্থবিদদের সামান্য ম্যাজিক দেখালেন? হঠাৎ M অদৃশ্য করে দিলেন?
কিছুক্ষণ- হুমায়ূন আহমেদ
মনে হচ্ছে।
আরেকটা জিনিস কি মনে হচ্ছে-God M-কে অদৃশ্য করে দেন নি লুকিয়ে রেখেছেন। এমন এক সাধারণ জায়গায় লুকিয়েছেন যে আমাদের চোখে পড়ছে না।
চিত্রা বলল, আপনি শিক্ষক হিসেবে নিশ্চয়ই খুব ভাল।। | রশীদ সাহেব বললেন, খুব ভাল না। মােটামুটি ভাল। তুমি কি মাওলানা সাহেবের স্ত্রীর কাত্রানী শুনতে পাচ্ছ ।
পাচ্ছি। খুব খারাপ লাগছে না? লাগছে।
অংক হচ্ছে যুক্তি। আমি অংকের Giant. সেই আমি যদি মাওলানা সাহেবকে যুক্তিতে পরাস্ত করতে না পারি তাহলে শিক্ষক হিসেবে আমি দুর্বল শিক্ষক।
চিত্রা বলল, উনাকে তাে যুক্তি শুনতে হবে। যুক্তি না শুনলে আপনি তাঁকে পরাস্ত করবেন কিভাবে?
রশীদ সাহেব বললেন, ছাত্র আমার কথাই শুনতে চাচ্ছে না এটাও কি শিক্ষক হিসেবে আমার ব্যর্থতা না?
চিত্রা বলল, উনি তাে আপনার ছাত্র না । রশীদ সাহেব বললেন, একজন শিক্ষকের কাছে সবাই ছাত্র।
Read more