রাত দশটা। রনির রাতের খাবার খাওয়া হয়ে গেছে। এখন তাকে দুধ খেতে হবে। দুধ খাবার পর দাঁত মেজে ঘুমুতে যেতে হবে। রনি নিশ্চিত দাঁত মাজার সময় তার বমি হয়ে যাবে, তার পরেও সে দুধের জন্য অপেক্ষা করছে। দুধ নিয়ে আসবেন ইদরিস চাচা। তার হাতে গ্লাস দিয়ে রাজ্যের গল্প শুরু করবেন। বেশিরভাগই ভূতের গল্প। একবার তিনি নাকি কন্ধ কাটা ভূতের সঙ্গে কুস্তি করেছিলেন। ভূতটা শেষ পর্যায়ে তাকে কামড়ে ধরেছিল। সেই কামড়ের দাগ তার ডান পায়ে এখনো আছে।
হঠাৎ রনির মনে হলো, ইদরিস চাচার সঙ্গে একটা মজা করলে কেমন হয়? তার স্কুলব্যাগে পুলিশ ইন্সপেক্টর সাহেবের দাড়িটা আছে। দাড়িটা সে যদি গালে লাগায় তাহলে কেমন হয়? গায়ে থাকবে সাদা চাদর, মুখভর্তি দাড়ি মাথায় একটা ক্যাপ। সে রকিং চেয়ারে বসে দোল খেতে থাকবে। রনির ধারণা, ইদরিস চাচা এই দৃশ্য দেখে ভয়ে বিকট চিৎকার দেবে। হাত থেকে দুধের গ্লাস পড়ে যাবে। রনি আজ রাতের জন্যে বেঁচে যাবে। গ্লাসে করে ভয়ঙ্কর কুৎসিত এই পদার্থ তাকে খেতে হবে না।
দাড়ি লাগিয়ে রকিং চেয়ারে বসতে রনির তেমন সময় লাগল না। তার কাছে মনে হচ্ছে সাজটা ভালোই হয়েছে। মাথায় ক্রিকেটারদের ক্যাপের মতো একটা ক্যাপ পরেছে। কাবার্ড খুলে লাল চাদর বের করে গায়ে জড়িয়েছে। ছোট্ট সমস্যা হয়েছে দাড়ি খুলে যাচ্ছে। রকিং চেয়ারে বেশি দুলুনি দেয়া যাচ্ছে না। রনি ঘরের আলোও কমিয়ে দিয়েছে। এখন শুধু টেবিল-ল্যাম্প জ্বলছে। রনি অপেক্ষা করছে ইদরিস চাচা ঘরে ঢুকে কী করে সেটা দেখার জন্যে। তার নিজের বুক ধুকধুক করছে। খুব মজার কোনো ঘটনা ঘটবে তার জন্যে অপেক্ষা করলে বুক এরকম ধুকধুক করে।
এই তো দরজা খুলছে। ইদরিস চাচার হাত দেখা যাচ্ছে। রনি রকিং চেয়ারে দুলুনি সামান্য বাড়িয়ে দিল। রকিং চেয়ার থেকে ক্যাচক্যাচ শব্দ হচ্ছে। শব্দটাও যথেষ্ট ভৌতিক। রনির নিজেরই সামান্য ভয় ভয় লাগছে।ইদরিস পিরিচে ঢাকা দেয়া দুধের গ্লাস নিয়ে ঘরে ঢুকে থমকে দাঁড়িয়ে গেল। চিৎকার দিল না। দুধের গ্লাসও ফেলে দিল। কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকল। তারপর কিছু না বলে যেভাবে ঘরে ঢুকেছিল ঠিক সেভাবেই ঘর থেকে বের হয়ে গেল। বাইরে থেকে দরজা বন্ধ করল।
ইদরিস চাচা যে থপথপ শব্দ করে চলে যাচ্ছে এটাও রনি শুনল। তার সামান্য মন খারাপ হলো। আশ্চর্য কিছুই ঘটল না? ইদরিস চাচা একবার বলল না–কে? এইটা কে? রনি একটু মন খারাপ করেই তার সাজ বদলাল। বাথরুমে ঢুকে হাত-মুখে পানি দিল। দাঁত মাজল। ইদরিস ঢুকল তার সামান্য পরে। ইদরিসের হাতে দুধের গ্লাস নেই। তার মুখ পাংশু বর্ণ। কথাও কেমন জড়ানো।কেমন আছেন ভাইজান?
ভালো।একটু আগে আপনের ঘরে দুধ নিয়া ঢুকছিলাম।ও। আমি আজ দুধ খাব না।খাইতে না চাইলে খাইয়েন না। আচ্ছা ভাইজান, আমি যখন ঘরে ঢুকলাম, তখন আপনে কই ছিলেন? বাথরুমে ছিলাম, মুখ ধুচ্ছিলাম।ঘরে আর কেউ কি ছিল? না, আর কে থাকবে? তাও তো কথা, আর কে থাকবে? ভাইজান, কেউ ছিল না, ঠিক না? অবশ্যই ঠিক। কেন কী হয়েছে?
কিছু হয় নাই। কিছুই হয় নাই।ইদরিস চাচা, আপনি কি ভূত-টুত দেখেছেন? ইদরিস হড়বড় করে বলল, না, না, ভূত দেখব কী? ভূত কি দুনিয়ায় আছে যে দেখব! তয় জ্বিন আছে। পাক কোরানে জ্বিনের কথা উল্লেখ আছে। আপনি কি জ্বিন দেখছেন? আরে না। জ্বিন দেখব কী জন্যে? কিছুই দেখি নাই। আল্লাহর কসম, বিশ্বাস করেন।এত কসম কাটতে হবে না ইদরিস চাচা, আমি বিশ্বাস করেছি যে আপনি কিছু দেখেন নি।
রনি তার রকিং চেয়ারে বসতে যাচ্ছিল, ইদরিস অতি ব্যস্ত হয়ে বলল, ভাইজান না। এইখানে বইসেন না।রনি বলল, বসব না কেন।চেয়ারে বসার দরকার কী? শুইয়া ঘুম যান। আমি সারা রাইত জাগনা থাকব, আপনে শুইয়া ঘুম যান।রনির খুবই মজা লাগছে। যদিও শুরুতে মনে হয়েছিল ইদরিস চাচা মোটেও ভয় পায় নি, এখন দেখা যাচ্ছে খুবই ভয় পেয়েছে। এদিক ওদিক তাকাচ্ছে। বড় বড় করে নিঃশ্বাস ফেলছে।ভাইজান গো! কী? আপনার পিতাজির কথা কি আপনার মনে আছে?
না।তাঁর চেহারা মনে আছে? না।লাইব্রেরি ঘরে উনার ছবি আছে। সেই ছবি দেখেছেন না? হুঁ।আফনের চেহারার সাথে উনার চেহারার বড়ই মিল।মিল থাকতেও পারে। আমি জানি না।ইদরিস ছোট্ট নিঃশ্বাস ফেলে বলল, উনার গায়ের রঙ ছিল মাশাল্লাহ দুধ সাদা। আপনের গায়ের রঙের মতো রং। মুখ ভর্তি ছিল জঙ্গুইল্যা দাড়ি। মাথাত ক্রিকেট ক্যাপ দিয়া যখন বাইর হইত–মাশাল্লাহ।বাবা মাথায় ক্যাপ পরতেন?
হুঁ। ভাইজান যাই। ভয় খাইলে আমারে ডাক দিয়েন। বাতাসের অগ্রে দুইট্টা আসব।শুধু শুধু ভয় পাব কেন? অবশ্যই অবশ্যই ভয়ের কী, ভয়ের কিছু নাই।ইদরিস ঘর থেকে বের হলো।তাঁর হাঁটাচলাও মনে হয় এলোমেলো হয়ে গেছে, ঘর থেকে বের হবার সময় দরজায় ধাক্কা খেল।
ইদরিস লাইব্রেরি ঘরে দাঁড়িয়ে আছে। একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে রনির বাবার ছবির সামনে। তার হাত-পা সামান্য কাঁপছে। ঘনঘন নিঃশ্বাস পড়ছে। সে একশ ভাগ নিশ্চিত কিছুক্ষণ আগে এই মানুষটাকেই সে রনির ঘরে রকিং চেয়ারে বসে দোল খেতে দেখেছে। এতে কোনো সন্দেহ নাই। সেই দাড়ি, সেই মাথায় হ্যাট। গায়ে চাদর। বোঝাই যাচ্ছে, বাবা ছেলের বিপদ দেখে ছেলের টানে চলে এসেছে।এখন সমস্যা হয়েছে এই ভৌতিক ঘটনা কি ইদরিস কাউকে বলবে, না নিজের ভেতর চেপে রাখবে?
এত বড় ঘটনা পেটের ভেতর চেপে রাখলে সে পেট ফেঁপে মরেই যাবে। কাউকে বলতে গেলেও সমস্যা। কেউ বিশ্বাস করবে না। উল্টা তাকে পাগল ভাববে। কন্ধ কাটা ভূতের সঙ্গে কুস্তির ব্যাপারটাই কেউ বিশ্বাস করে না। এমনকি রনি ভাইজানও না। গল্প শুনে রনি ভাইজান বলেছে–কন্ধ কাটা ভূতের তো মাথাই নেই। যার মাথা নেই সে দাঁত দিয়ে কামড় দেবে কীভাবে? অত্যন্ত খাঁটি কথা, যুক্তির কথা। রনি ভাইজানের এই প্রশ্নের জবাব ইদরিস দিতে পারে নি। বাচ্চা ছেলে কিন্তু বুদ্ধি মাশাল্লাহ মারাত্মক। বাপের মতো বুদ্ধি কিংবা কে জানে বুদ্ধি বাপের চেয়ে
বেশিও হতে পারে।ইদরিস টেনশন কমানোর জন্যে রান্নাঘরে ঢুকে পরপর দুকাপ চা এবং এককাপ কফি খেল। রনির বাবা (বর্তমান বাবা) ঘুমুবার আগে কড়া এককাপ কফি খান। কড়া কফি খেলে সবার ঘুম কাটে উনার নাকি ভালো ঘুম হয়। সেই কফি ইদরিস নিজেই নিয়ে যায়। আজো তাই হলো। ইদরিস কফি হাতে উপস্থিত হলো। মজিদ সাহেব বললেন, খবর সব ভালো?
ইদরিস বলল, জি।
রনি ঘুমিয়ে পড়েছে?
জানি না। বাতি নিভা।
বাতি নেভা থাকলেও খেয়াল রাখবে। এই বয়সের বাচ্চারা মাঝরাতে জেগে উঠে কম্পিউটারে গেমস খেলে।জি আচ্ছা খেয়াল রাখব।ইদরিসের চলে যাবার কথা। সে চলে গেল না। মজিদ সাহেবের সামনে দাঁড়িয়ে হাত কচলাতে লাগল। মজিদ সাহেব বললেন, কিছু বলবে ইদরিস? ইদরিস নিচু গলায় বলল, জি।বলো।ইদরিস মাথা চুলকাতে লাগল। কিছু বলল না। মজিদ সাহেব অসহিষ্ণু গলায় বললেন, চুপ করে আছ কেন? কথা বলো। কিছু কি ঘটেছে?
জি ঘটেছে।
কী ঘটেছে?
বললে আপনে বিশ্বাস যাইবেন না। ভাববেন আমার মাথা খারাপ।আমি কী ভাবব সেটা পরের ব্যাপার। তুমি ঘটনা বলো।ইদরিস পুরো ঘটনা বলল। মজিদ সাহেব ভুরু কুঁচকে ফেললেন। তার মানে তিনি বিশ্বাস করছেন না। ইদরিস বলল, আপনে কোরান মজিদ আনেন, কোরান মজিদ চুঁইয়া বলব আমি যা বলেছি সবই সত্য।তুমি দেখেছ রনির মৃত বাবা রকিং চেয়ারে বসে দোল খাচ্ছে?
জি।তিনিও তোমাকে দেখলেন? জি আমার দিকে তাকায়া হাসছেন। শুধু হেসেছেন? কথা বলেন নি? কথাও বলেছেন। (এখন ইদরিস কিছু মিথ্যা বলা শুরু করেছে। গল্প বলার সময় সামান্য কিছু মিথ্যা বলা যায়। এতে দোষ হয় না।মজিদ সাহেব কঠিন গলায় বললেন, উনি তোমার সঙ্গে কী কথা বলেছেন? উনি বলেছেন, ইদরিস ভালো আছ? তুমি কী বললে?
আমি কিছু বলতে পারি নাই। আমার তখন জবান বন্ধ। (এই কথা সত্যি। ইদরিসের মুখের কথা আসলেই বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। প্রথম মিথ্যার পর সত্যি বলায় দোষ কাটা গেল।মজিদ সাহেব বললেন, তারপর কী হলো? তখন আমার মাথা চক্কর দিয়া উঠল।উনি আর কিছু বললেন না? জি, শেষ একটা কথা বলেছেন। শেষ কথাটা কী? শেষ কথাটা হইল–ইদরিস আমার ছেলের দিকে লক্ষ রাখবা। তার যেন কিছু না হয়।
কথা এইটুকুই?
জি না, আরো আছে।
পুরো কথা শেষ কর।
উনার শেষ কথা ছিল, আমার ছেলের যদি কিছু হয়, তোমাদের খবর আছে। আমি শাস্তি দিব।মজিদ সাহেব বললেন, তোমাদের মধ্যে যখন এত আলাপ-আলোচনা হচ্ছিল, তখন রনি কোথায় ছিল? হাত মুখ ধুইতে ছিল।তুমি কি এই ঘটনা নিয়ে রনির সঙ্গে আলাপ করেছ? জি না।
যাক এই একটা কাজ ভালো করেছ। খবরদার! এই ঘটনা নিয়ে কারো সঙ্গেই কথা বলবে না।জি আচ্ছা।তোমার যা হয়েছে তার নাম মাথা গরম। এর বেশি কিছু না। বুঝেছ? জি বুঝেছি।এই বিষয় নিয়ে তুমি কারো সঙ্গেই কোনো কথা বলবে না। বাঙালির স্বভাব হলো, একজন ভুত দেখলে বাকিরাও ভূত দেখতে থাকে।ইদরিস বলল, আমার জবান বন্ধ। আমি কারো সঙ্গেই কোনো কথা বলব না।
সবচেয়ে ভালো হয় যদি তুমি কয়েকদিনের ছুটি নিয়ে দেশ থেকে ঘুরে আসো। এতে মাথা ঠাণ্ডা হবে।জি আচ্ছা।এখন সামনে থেকে যাও। যা বলেছি মনে রাখো, কারো সঙ্গে এই আলাপ করবে না।ইদরিস বলল, আমি যদি এই আলাপ করি তাহলে কাঁচা গু খাই।মজিদ সাহেব বললেন, কাঁচা গু পাকা গু কোনোটাই খেতে হবে না। ওই প্রসঙ্গে আলাপ না করলেই হলো।
[সেই রাতেই মজিদ আলাপটা করল বাবুর্চির সঙ্গে। তাকে কিরা কসম কাটালো সে যেন কাউকে না বলে। তার পরপরই আলাপ করল বাড়ির দুই ড্রাইভারের সঙ্গে। তাদেরকে আগে কিরা কসম কাটিয়ে নিল। সবার শেষে আলাপ করল বাড়ির দারোয়ানদের সঙ্গে। বাড়ির দুই দারোয়ানই বলল, এখানে যে ভৌতিক কিছু আছে তা তারা
হাঁটাহাঁটির শব্দ পাওয়া যায়। একজন
একবার রাত তিনটার সময় পরিষ্কার দে
দিয়ে এক লোক দাঁড়িয়ে আছে। তার মু
গায়ে টর্চের আলো ফেলতেই লোকটা মিটি]–[এই প্যারাতে একটু মিসিং আছে]
লুতপাইন আজ ক্লাসে এসেছে। চারদিন ক্লাস মিস দিয়ে আজ এসেছে। নিশ্চয় কোনো অসুখ-বিসুখ হয়েছে। তাকে দেখাচ্ছেও ফ্যাকাশে। মাথায় স্কার্ফ বাঁধা। স্কার্ফ বাঁধার জন্যেই হয়তো বেশি রোগা রোগা লাগছে। লুতপাইন বারবার তাকাচ্ছে রনির দিকে কিন্তু রনি এমন ভাব করছে যে সে দেখতে পাচ্ছে না। লুতপাইন যে চারদিন স্কুলে আসে নি তাতেও রনির কিছু আসে যায় নি।
এখন বৈশাখ মাস। অতিরিক্ত গরমে অনেকের অসুখ-বিসুখ হয়। লুতপাইনেরও হয়েছে। তাতে কিছু যায় আসে না।লুতপাইন রনির দিকে ঝুঁকে এসে বলল, এই শোনো, আমার জ্বর আর গলা ব্যথা হয়েছিল।রনি ভাব করল যেন সে শুনতে পায়নি। সে চেয়ার ছেড়ে মিসের কাছে গিয়ে বলল, মিস বাথরুমে যাব।মিস বললেন, যাও।
এই মিস ভালো। রনি যদি অনেক দেরি করে ফিরে, তাহলেও তিনি কিছু বলবেন না। রনির আসলে বাথরুম পায়নি। লুতপাইনের কথা না শোনার জন্যেই সে বের হয়েছে। এই মেয়েটির ওপর আজ তার খুব রাগ লাগছে। মেয়েটির জন্যে সে সরি কার্ড লিখেছিল, মেয়েটি আসে নি বলে কার্ড দিতে পারে নি। কার্ডটা এখনো আছে। কিন্তু রনির আর দিতে ইচ্ছে করছে না। এলিয়েনদের ছবিটাও আছে। ছবিটা অবশ্যি দেয়া যায়।
রনি স্কুল করিডোরে হাঁটছে। তার বেশ মজা লাগছে। সব ছাত্রছাত্রী ক্লাসে বসে আছে। সে শুধু হেঁটে বেড়াচ্ছে। কেউ তাকে দেখতে পাচ্ছে না। মনে হচ্ছে সে একজন অদৃশ্য মানব। মাঝে মাঝে তার অদৃশ্য মানব হতে ইচ্ছা করে। অদৃশ্য মানব হবার কোনো মন্ত্র থাকলে ভালো হতো। এইচ জি ওয়েলস-এর ইনভিসিবল ম্যান বইটা আরেকবার পড়ে দেখতে হবে।
এই ছেলে। এই।রনি থমকে দাঁড়াল। প্রিন্সিপ্যাল ম্যাডামের গলা। রনিদের স্কুলের সব ম্যাডামকেই আপা বলা যায় কিংবা মিস বলা যায়। শুধু প্রিন্সিপ্যালকে ম্যাডাম বলতে হয়। ইনি খুবই রাগী।
নাম কী তোমার?
রনি।
কোন ক্লাস?
ফোর্থ গ্রেড।
কোন গ্রুপ?
বি গ্রুপ।
বারান্দায় হাঁটছ কেন?
বাথরুমে যাচ্ছি ম্যাডাম।
বাথরুমে যাচ্ছ মানে? বাথরুম তো এদিকে না।
সরি, আমি ভুলে গেছি।
বাথরুম কোন দিকে ভুলে গেছ? এর মানে কী?
Is anything wrong with you?
No Madam.
এসো আমার ঘরে এসো।
রনি প্রিন্সিপ্যাল ম্যাডামের সঙ্গে হাঁটতে শুরু করল। তার ভয় লাগা উচিত কিন্তু কেন জানি মোটেই ভয় লাগছে না। বরং মজা লাগছে। মজা লাগার কারণ হচ্ছে, প্রিন্সিপ্যাল ম্যাডাম রনির মিথ্যা কথাটা বিশ্বাস করেছেন। রনি যখন বলেছে, বাথরুম কোথায় আমি ভুলে গেছি, তখন প্রিন্সিপ্যাল ম্যাডাম রাগ করার বদলে অবাক হয়ে তাকিয়েছেন। এই যে এখন ম্যাডাম তার সামনে বসে আছেন, ম্যাডামের চোখে কোনো রাগ নেই। তাঁর চোখ অবাক অবাক।
বাথরুম কোথায় তুমি ভুলে গেছ?জি ম্যাডাম।এখন কি মনে পড়েছে? ইয়েস ম্যাডাম।এরকম ভুল কি তোমার প্রায়ই হয়? জি।কী রকম ভুল হয় বলো তো? ক্লাসের ছেলেমেয়েদের আমি মাঝে মাঝে চিনতে পারি না।বুঝতে পারছি না। উদাহরণ দিয়ে বলো।আমাদের ক্লাসে একটা মেয়ে আছে, তার নাম লুতপা, তাকে আমি মাঝে মাঝে চিনতে পারি না।বলো কী! তুমি এই ব্যাপারটা তোমার বাবা-মাকে বলেছ? না।বলো নি কেন? বাবা-মা তো আমার সঙ্গে থাকে না। কীভাবে বলব? তারা কোথায় থাকেন?
তারা মারা গেছেন।মাই গড! তুমি এসব কী বলছ? তোমার নাম কী? আবার বলো তো।রনি।ও আচ্ছা, তুমি সেই ছেলে। তোমাকে তো চিনি। দুদিন পর পর তোমাকে নিয়েই থানা পুলিশ নানা সমস্যা।সরি ম্যাডাম।তুমি সরি হচ্ছ কেন। সমস্যা তো তুমি কর নি। তুমি কি কিছু খাবে? কোক পেপসি সেভেন আপ? কোক খাব।
আমার ফ্রিজেই কোকের একটা ক্যান থাকার কথা। দাঁড়াও তোমাকে দিচ্ছি। ক্লাসে বসে খেও না। টিফিন পিরিয়ড়ে খাবে।ইয়েস ম্যাডাম।যাও এখন ক্লাসে যাও।রনি ক্লাসে ঢুকল। সে এত দেরি করেছে, তারপরেও মিস কিছুই বললেন না। তার দিকে তাকিয়ে মিষ্টি করে হাসলেন। সে যখন বসতে যাচ্ছে তখন লুতপাইন বলল, এতক্ষণ লাগল কেন?
রনি জবাব দিল না। লুতপাইন অকারণে কথা বলে, তার সব কথার জবাব দেবার কোনো দরকার নেই। বরং ম্যাডাম বোর্ডে কী লিখছেন সেটা দেখা অনেক দরকার।লুতপাইন আবারো কথা বলল, এই তোমার কি শরীর খারাপ? রনি সেই প্রশ্নেরও জবাব না দিয়ে টেবিলে তার খাতা খুলতে গিয়ে দেখে টেবিলের এক কোনায় একটা কার্ড। কার্ড খুলে দেখল সেখানে লেখা
Please forgive me
Lutopa
এটা একটা সরি কার্ড। রনি লুতপাইনকে দেবার জন্যে একটা সরি কার্ড ব্যাগে নিয়ে ঘুরছে আর উল্টা লুতপাইনই একটা সরি কার্ড দিয়েছে। তারটা দেয়া হয়নি। রনি বলল, তুমি সরি কার্ড দিয়েছ কেন? লুতপাইন বলল, আমি যে সবসময় তোমাকে বিরক্ত করি এই জন্যে।রনি বলল, তুমি সবসময় আমাকে বিরক্ত কর কেন?
লুতপাইন খুব সহজ গলায় বলল, Mity be আমি তোমাকে Love করি এইজন্যে।রনির খুবই মেজাজ খারাপ হলো। মেয়েটা কী অসভ্য কথাই না বলছে। মিসের কাছে নালিশ করে দিলে কেমন হয়? রনি ফিসফিস করে বলল, এইসব অসভ্য কথা আমাকে বলবে না। এইসব খুব খারাপ কথা।লুতপাইন বলল, Love করা খারাপ? হ্যাঁ খারাপ, এইসব বড়দের ব্যাপার।আমি যখন বড় হব তখন তোমাকে Love করতে পারব?
Read more
