আমি সাহেব সিগারেট ধরাতে ধরাতে বললেন, ছুটি কাটানাের ব্যাপারে আমরা এনে অত্যন্ত হয়ে উঠিনি। দুটি ব্যাপারটা বাঙালি কালচারে নেই। আমাদের ছুটি মানে যার বাড়িতে গিয়ে কিছুদিন থেকে আসা। তার ফল এই হয়েছে যে সত্যিকার অর্থে দুটি
টানাে বিটা আমরা জানি না। বাইরে বেড়াতে এলে হাজারাে সমস্যায় হাবু-ডুবু খাই। এন রাতে ঘুমায় না। একজনের বিষন্নতা রােগ হয়। দরজা বন্ধ করে শুয়ে থাকে ।
ননী ফল, তুমি কি আমার ওপর রাগ করছ, বাবা।
না,
আ ছি না। তুই যেমন কথার কথা বললি, আমিও কথার কথা বললাম। আর্মিল সাহেব উঠ পড়লেন। নবনী বলল, বাবা, তুমি কি যাবার আগে জানালার টা টেনে দিয়ে যেতে পারবে?
পারব।’
ফি সাহেব জানালার পর্দা টেনে দিলেন। দরজা ভিজিয়ে দিয়ে গেলেন। ঘর অবশ্যি পুরােপুরি অকাৰ হল না। এই ভাল। ঘুমুনাের জন্যে অন্ধকার ভালাে। চুপচাপ অরে জন্য দরকার আধাে আলাে আধাে অন্ধকার।
এর ব্যাপার হয়ে শাহেদের সঙ্গে তার পরিচয়-এরকম আধাে আলো এবং আধাে অরে । তারা তখন থাকতাে শ্যামলী। জামিল সাহেব মন্ত্রী হননি। তবুও বেশ তাৰ মানুষ। বাড়িতে দারােয়ান আছে, মালী আছে, কুকুর আছে। একদিন বর্ষাকালে সালােয় ননী বুয়ে আছে তার মাথা ধরেছে। মিলু বুয়া এসে বলল, একজন লােক আমার সঙ্গে দেখা করতে আসছে।
নকশী বিষিত হয়ে বলল, আমাদের ক্লাসের কোন ছাত্র সি করি নাই।’
তুমি আমায় ডেকেছিলে ছুটির নিমন্ত্রণে-খন্ড-২৫
মিনু , আপনে নিতে গেলে তার –সালে এটা আস।ে নন নিচে নামল। বসার ঘরে ঢুকে এ ফিতা কে , জ বিশাল একটা পোনা। বর । গলে
যে তাল পায়। বিটা দেখে মনে হ য় কি না। তাে সে এত সুখ!বি যে নিয়ে এসে সে যা বলে নবনী বলল, কি ব্যাপার। যুবক বলল, আমার নাম শাহের। বিটা কি আপনার পানে ‘খুব সুন্দর বি। ছবি নিয়ে এসেছেন কেন?
ছবি যদি আপনার পছন্দ হয় আপনি কিনতে পারেন। আমাকে বি লোশ বলতে পারেন।‘
নবনী বিশিত হয়ে কশ, আপনি কি মানুষের বাড়ি বাড়ি ছবি বিক্রি অনেকটা তাই।‘ ‘এই হৰি আপনার আঁশ
আমার এক বন্ধুর আঁকা। আমি ছবি আঁকতে পারি না। জানি, মৰি বুকি।‘
দাম কত?‘ আমার বন্ধু দশ হাজার টাকা চালে।‘ কি সর্বনাশ!’
দশ হাজার টাকা এনে কি সর্বনাশ বলা কি ঠিক হয়ে এই টা তাে আপনার কাছে কিাই না।‘
ননী হেসে ফেলে বলল, আমার বাবার কাছে সব কিছুই না। কিন্তু আমার কাছে অনেক টাকা। এই মুহূর্তে আমার কাছে দুশ টাকা আছে। যাই হােক, আপনি ছবি ঝে যান। আমি বাবাকে জিজ্ঞেস অব।
কবে খোঁজ নিতে আসা ‘কাল আসুন। জি আচ্ছা।‘
শ্রাবণী সব নেই বলেছে, ঐ দ্রলােক তােমার কাছে হবি বিক্রি করতে আসেননি। ছবি বিক্রি করতে এলে বাবার কাছেই আসতেন। তিনি তােমার কাছেই এসেছেন। মিল বুয়াকে বলেছেন—এ বাড়ির বড় মেয়ে নবনীকে ডাক।
তিনি তোমার নাম জেনেই এসেছেন। আমার ধারণা, ভদ্রলােক তােমাকে কোথাও দেখেছেন, দেখার পরই উ মাথা খারাপের মত হয়েছে। সেটাই স্বাভাবিক। তিনি তােমার সঙ্গে পরিচিত হবার মনে সুন্দর একটা অজুহাত বের করেছেন। দশ হাজার টাকা খরচ করে নিয়েই ছবিটা কিনেছেন।
তুমি আমায় ডেকেছিলে ছুটির নিমন্ত্রণে-খন্ড-২৫
লে! রে আষ সত্য।
সও ‘কে দু লাল।‘ এশ বা নিতে গেল। সৰ দিতেই সে দিকে । বল
না।
পর টোল পড়ে। ননী কল, কে
ফি , বড় আ, আয়া আপনেরে ডাকে। ননী এর গুলে বের হয়ে এল।
মহানারা ভেতরের বন্যায় যেতে চেয়ারে বসে আছে। আর , লাল। তার মাথার চুল ভেজা। মাথা দপদপ করছিল। কি কালে ঢেলেছেন। চুল শুকায়নি।
ননী বলল, ডেকেছ মা?
জাহানারা বললেন, তাের কি হয়েছে নবনী বল, কিছু হয়নি তাে।
আমার কাছে লুকাবি না। বল কি হয়েছে।’
নবনী চুপ করে রইল। জাহানারা বলেন, শ্ৰৰণী কেন এমন মেয়ের হাসতে গেল, আর তুই কেন দরজা বন্ধ করে বিছানায় শুয়ে আছিস।
নবনী মার দিকে তাকিয়ে রইল। জাহানারা ক্লান্ত গলায় ডাকলেন, বি নি | মিলু ছুটে এল। জাহানারা বললেন, আমাকে মাথাধর অষুধ এনে দে। এ ধরেছে।
নবনী বলল, মা তুমি শুয়ে থাক। তােমাকে দেখেই মনে হলে–তাের খুব খারাপ। জাহানারা উঠে দাঁড়ালেন। তিনি ঠিকমত পা ফেলতে পারছেন না। বo জাহানারার হাত ধরল । জাহানারা বললেন, তােকে আমি কিছু কথা বলবই আয় সঙ্গে। স্পিড় বােটের মেশিন বিকল হয়েছে।
তুমি আমায় ডেকেছিলে ছুটির নিমন্ত্রণে-খন্ড-২৫
স্টার্ট দিলে ভট ভট শব্দ ঠিকই হয়, প্রপেলার ঘুরে না। সুরুজ মিয়া বললেন, এ যে বড়ই যন্ত্রণা হল! স্পিড বােটের চালক প্রাণপণ চেষ্টা করে যাচ্ছে। তার পা ৰেতে ৰ পড়ছে। কোন কাজ হচ্ছে না। তারা মাঝ নদীতে থেমে আছে। আর বাতাস আজ। নৌকা দুলছে। শ্রাবণী বলল, আমার তাে এই অবস্থাটা ভাল লাগছে। ভট স্টশনে ধরে গিয়েছিল। চেয়ারম্যান চাচা!
‘জি আম্মা।‘
‘আপনি এক কাজ করুন। আমাদের দুজনকে নামিয়ে দিন। আমরা চলে , খাবার–দাবার নিয়ে এখানেই নেমে যাই। আপনারা দেখুন কিছু করতে পারেন নি। করতে না পারলেও ক্ষতি নেই। শাহেদ ভাই, স্পিড বােট চালু না হলে আপনার দেন সমস্যা আছে ‘কোন সমস্যা নেই।
Read More