ফিহা সমীকরণ-হুমায়ূন আহমেদ -(পর্ব-১০)

পুরাে জিনিসটা অংকের একটি মডেলে কি দাঁড় করানো যায়? ধরা যাক মানুষ হচ্ছে ! তিনি মানুষের ছায়া।ফিহা সমীকরণ

অর্থাৎ তিনি মানুষের একটি ফাংশান। তিনি যদি y হন তবে y = f(x) তিনি কাহাকেও জন্ম দেন না। z যদি হয় জন্ম দেয়া সংক্রান্ত সংখ্যা তাহলে তিনি হবেন 7 এর ফাংশান তবে 2 এর মান হবে ঋণাত্ম, কাল্পনিক সংখ্যা। 

y = f(x) f(x)। 

(99169 z = cos + i sino তিনি আসিয়াছেন ভবিষ্যৎ হইতে। অর্থাৎ y হচ্ছে সময়েরও ফাংশান। এমন ফাংশান যা শুধু একদিকে প্রবাহিত হবে। ভেক্টর রাশি। 

y = f(8) f(2) f(t) | যে বিদ্যা তিনি ভবিষ্যৎ হইতে আনেন সেই বিদ্যা ভবিষ্যতে ফিরিয়া যায়। চক্র পূর্ণ হয়। 

 চক্র পূর্ণ হতে হলে y কে যেখান থেকে শুরু সেখানেই ফিরে যেতে হবে। গ্রেগরিয়ান ইন্টিগ্রাল নিয়ে আসা যায়। গ্রেগরিয়ান ইন্টিগ্রালকে অর্থপূর্ণ করতে হলে y কে ফাইনাইট ফাংশান হিসেবে দেখতে হবে। 

ফিহা ডাকলেন, পাঠক। পাঠক ছুটে এল। সেন্ট্রাল কম্পিউটার চালু করার ব্যবস্থা কর। ‘চালু করা যাবে না স্যার। “কেন?” ‘প্রচণ্ড ঝড় হচ্ছে। বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ। ‘ও আচ্ছা। ‘ছােটখাট হিসেবের ব্যাপার হলে আমি আপনাকে সাহায্য করতে পারি স্যার। ‘গ্রেগরিয়ান ইন্টিগ্রাল জানা আছে? ‘আছে স্যার। তবে  

ফিহা সমীকরণ-হুমায়ূন আহমেদ

‘তবে কি ? ‘ভেরিয়েবল-এর সংখ্যা সাতের নিচে হতে হবে। এর উপর হলে আমি পারব । আমার ক্ষমতা অল্প। 

‘সাতের নিচে রাখার চেষ্টা করা হবে। ‘আরেকটি ক্ষুদ্র প্রশ্ন স্যার। ‘বল।। ‘সমীকরণটি সময় মুক্ত ? ‘না, সময় মুক্ত নয়। 

‘তাহলে স্যার হেসবিয়ান নরমালাইজড ফাংশান আমাকে বের করতে হবে। সময় লাগবে।  ‘ধীরে ধীরেই কর। তার আগে এই বইটি পড়। খুব ভাল করে পড়। বইটি মেন্টালিস্টদের উপর লেখা একটি গ্রন্থ। সম্ভবত ওদের ধর্মগ্রন্থ। 

পাঠক বই হাতে নিল। ফিহা পেন্সিলে অংক সাজাতে শুরু করলেন। তাঁর চোখ-মুখ উজ্জ্বল। অংকের মডেল দাঁড় করানাের আলাদা আনন্দ আছে। তিনি পাঠকের দিকে তাকালেন। সে অতি দ্রুত বইয়ের পাতা উল্টাচ্ছে। রােবটের গ্রন্থপাঠ দেখা এক বিরক্তিকর ব্যাপার। এরা এত দ্রুত পাতা উল্টায় যে মনে হয় পাতা গুনছে, কিছু পড়ছে না। 

‘পড়লাম স্যার। ‘কেমন লাগল ?” “কোন্ অর্থে কেমন লাগল জানতে চাচ্ছেন? ‘বিষয়বস্তু। 

বিষয়বস্তুতে নতুনত্ব আছে। তারা চক্রকে ঈশ্বর বলছে। ‘চক্রকে ঈশ্বর কোথায় বলল ? 

‘রূপকের মাধ্যমে বলেছে স্যার। বিজ্ঞানের রূপক বর্জিত ভাষা এবং ধর্মগ্রন্থের রূপক ভাষা দু’রকম। 

‘তােমার ধারণা তুমি বিষয়বস্তু বুঝতে পেরেছ?” 

ফিহা সমীকরণ-হুমায়ূন আহমেদ

‘এক ধরনের ধারণা তৈরি হয়েছে। ধারণা কতটুক সত্যি তা বলা মুশকিল। রূপকের ভাষা পাঠ করে একেকজন একেক রকম ধারণা করবে। এমনও হতে পারে যে সবারটাই সত্যি আবার কারােরটাই সত্যি না। আপনি আপনার সমীকরণ বলুন। স্যার। আমি সাজাতে শুরু করি। ‘সমীকরণ বলছি। তার আগে তােমার ধারণা কি শুনি। 

এই গ্রন্থে মেন্টালিস্টদের জন্মের ইতিহাস বলা হচ্ছে। বলা হচ্ছে তিনি মেন্টালিস্ট তৈরি করলেন। সেই তিনি মানুষ নন। যেহেতু সেই ‘তিনি’ খাদ্য গ্রহণ করেন না সেহেতু সেই তিনি খুব সম্ভব একজন যন্ত্র। এটা আমার অনুমান। বলা হচ্ছে তিনি এসেছেন ভবিষ্যৎ থেকে। মনে হচ্ছে টাইম ট্রাবেল-এর কথা বলা হচ্ছে। একটি যন্ত্র অর্থাৎ একটি রােবট ভবিষ্যৎ থেকে অতীতে গেল। তৈরি করল মেন্টালিস্ট।

যন্ত্রটির আগমন আছে, নির্গমন নেই। অর্থাৎ যন্ত্রটি অতীতে গিয়েছে কিন্তু ভবিষ্যতে ফিরে আসতে পারেনি। বলা হয়েছে – ‘তিনি তার চক্ষু হইতে নতুন মানবগােষ্ঠি তৈরি করিলেন। এই অংশটি মজার। রােবটের চোখের আলাের সংবেদনশীল অংশ তৈরি করা হয় যৌগিক অণু “হরিকার্বো ফসফিন” দিয়ে। ইরিকার্বো ফসকিন হচ্ছে একটি ইরিডিয়াম, দু’টি কার্বন, একটি ফসফরাস এবং দুটি হাইড্রোজেন পরমাণুর যৌগ ; 

HI, PHC2 এই অদ্ভুত যৌগ মাত্র পাঁচশ বছর আগে তৈরি হয়েছে। খুবই আশ্চর্যজনক ব্যাপার হচ্ছে এই যৌগের র্যাডিকেল মেন্টালিস্টদের জীনে উপস্থিত। 

‘তুমি কি করে জানলে ? 

‘মেন্টালিস্টদের প্রতি আমিও এক ধরনের আগ্রহ অনুভব করি। এই আগ্রহ থেকেই ওদের বিষয়ে পড়াশােনা করেছি। 

‘ওদের বিষয়ে কি করে পড়াশােনা করবে? ওদের সম্পর্কে কোন গ্রন্থ তাে তােমার পক্ষে পাওয়া সম্ভব নয়।। | ‘বৈজ্ঞানিক জার্নালগুলিতে কিছু কিছু তথ্য পাওয়া যায়। মেন্টালিস্টদের জীনের গঠন সম্পর্কে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ লেখা প্রকাশিত হয়েছে। মেন্টালিস্টরা তাদে সম্পর্কে সব তথ্যই নিষিদ্ধ করেছে কিন্তু তাদের জীন নিয়ে গবেষণা নিষিদ্ধ করে নি। 

‘তুমি সেই সব লেখা পড়েছ ? ‘আমি খুব আগ্রহ নিয়ে পড়েছি। ‘আর কি পড়েছ?’

ফিহা সমীকরণ-হুমায়ূন আহমেদ

‘এ্যাংগেল হান্ট-এর সেই বিশেষ বক্তৃতাটা এবং বক্তৃতা প্রদানের ঘটনা পড়েছি। এটি পড়েছি ইতিহাস বই-এ। 

‘এ্যাংগেল হার্স্ট কে? 

‘তাকেই মেন্টালিস্টদের জনক বলা হয়। পুরাে ঘটনাটা কি স্যার আপনাকে বলব ? 

‘বল। তবে অল্প কথায়। 

‘নিউ ম্যাক্সিকো শহরে তিন হাজার পাঁচ খৃস্টাব্দে এমব্রায়ােলজিস্টদের একটি বিশেষ অধিবেশন হয়। সেট অধিবেশনে বিশিষ্ট এমব্রায়ােলজিস্ট প্রফেসর এ্যাংগেল হাস্ট একটি বিচিত্র নিবন্ধ পাঠ করে সবার হাসি-তামাশার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হন। নিবন্ধের শিরােনাম – নতুন মানব সম্প্রদায়। 

তিনি নিবন্ধে বলেন, মানুষের জীনে ভারী ধাতুর একটি যৌগ ইরিকার্বো ফসফিন ঢুকিয়ে দিতে পারলে মাধ্যমিক মস্তিষ্কের গঠনে সূক্ষ্ম কিন্তু সুদূরপ্রসারী পরিবর্তন ঘটবে। থ্যালামাস ও হাইপােথ্যোলামাসের সুপ্ত কর্মক্ষমতা জাগ্রত হবে। থ্যালামাসের বিশেষ নিউক্লিয়াসের কেন্দ্রস্থল হচ্ছে মানুষের যাবতীয় অনুভূতির কেন্দ্র।

যে ক’টি অনুভূতি নিয়ে মানুষ পৃথিবীতে এসেছে তার সঙ্গে নতুন একটি অনুভূতি যুক্ত হবে। এই মানব সম্প্রদায় হবে প্রচণ্ড মানসিক ক্ষমতার অধিকারী। এরা টেলিপ্যাথিক ক্ষমতাসম্পন্ন হবে। নিজেরা নিজেদের মধ্যে কোন রকম মাধ্যম ছাড়াই ভাবের আদান-প্রদান করতে পারবে। অন্য মানুষদের তারা সকর্মে, সৎ চিন্তায় প্রভাবিত করতে পারবে . 

অধিবেশনে প্রবন্ধ পাঠের মাঝখানে সাধারণত বাধা দেয়া হয় না। প্রফেসর এ্যাংগেল হাস্টকে বাধা দেয়া হল। অধিবেশনের সভাপতি ঘণ্টা বাজিয়ে তাঁকে থামালেন এবং বললেন, প্রফেসর এ্যাংগেল হা, আপনি কি কোন বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধ পাঠ করছেন? 

 

Read More

ফিহা সমীকরণ-হুমায়ূন আহমেদ -(পর্ব-১১)

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *