মানুষ কী নিয়ে বাঁচে – পর্ব -২ – লিও টলস্টয়

মানুষ কী নিয়ে বাঁচে – পর্ব -২

মানুষ কী নিয়ে বাঁচে – পর্ব -২

মাত্রোনা থামল। বলল :“লোকটা যদি ভালোই হবে তাহলে সে এমন ন্যাংটো কেন, কেন গায়ে দেবার একটা শার্টও জোটেনি। আর তুমি যদি ভালোভাবেই ছিলে সারাদিন তাহলে এই স্যাঙাকে কোথেকে জুটিয়েছ সেকথা এতক্ষণ খুলে বলোনি কেন?”

সাইমন বলল, “বেশ তো, এখুনি সব বলছি। আমি হেঁটে আসছিলাম; দেখি প্রার্থনাঘরের পাশে লোকটি বসে আছে; গায়ে কিছু নেই, শীতে জমে গেছে। ভেবে দেখ, লোকটি একেবারে উলঙ্গ, আর এটা গরমকাল নয়। ঈশ্বরই আমাকে ওর কাছে পাঠিয়েছিলেন, নইলে সে নির্ঘাত মারা যেত। বলো, তখন আমি কী করি? আমি তাকে হাত ধরে তুললাম, জামা-জুতো পরালাম, নিয়ে এলাম এখানে। মনটাকে একটু নরম কর মাত্রোনা; এরকম করা পাপ। মনে রেখোঁ, আমরাও একদিন মরব।”

মাত্রোনা আবার বকুনি দিতে যাচ্ছিল, এমন সময় আগন্তুকের দিকে তার চোখ পড়ল।আগন্তুক তখনও বেঞ্চির এককোণে চুপ করে বসে আছে। দুখানি হাত রেখেছে হাঁটুর উপর, মাথাটা ঝুঁকে পড়েছে বুকের উপর। চোখ-ভুরু কুঁচকে আছে, যেন ভিতর থেকে কোনোকিছু আঘাত করছে তাকে।মাত্রোনা চুপ করে গেল।সাইমন বলল, “মাত্রোনা, তোমার মধ্যে কি ঈশ্বরের ভয় নেই?”

এই কথা শুনে মাত্রোনা আবার আগন্তুকের দিকে চাইল। সহসা তার মনটা গলে গেল। স্টোভের কাছে গিয়ে সে খাবার তৈরি করল। টেবিলের উপর একটি ছোট বাটি রেখে তাতে কাস ঢালল, রুটির শেষ টুকরোটা এনে দুজনের দিকে এগিয়ে দিল দুটো কাঁটা-চামচ। “এবার খাও”, মাত্রোনা বলল। সাইমন আগন্তুককে ডেকে নিল টেবিলে। “বসো হে ভালো মানুষ।” সাইমন রুটি কেটে খেতে শুরু করল। মাত্রোনা টেবিলের একপাশে দাড়িয়ে দেখতে লাগল আগন্তুককে। বেচারির জন্য এবার দুঃখ হল তার।

সহসা আগন্তুক যেন খুশি হয়ে উঠল। থেমে গেল তার ভুরুর কোঁচকানি। মাত্রোনার দিকে দুচোখ তুলে তাকিয়ে সে হেসে ফেলল।খাওয়া শেষে টেবিল পরিষ্কার করে মাত্রোনা আগন্তুককে জিজ্ঞেস করল :“তুমি কোখেকে আসছ?” “এ-অঞ্চল থেকে নয়।” “রাস্তার ধারে এলে কেমন করে?” “বলতে পারি না।” “তোমার সবকিছু কি কেউ চুরি করেছিল ?” “ঈশ্বর আমাকে শাস্তি দিয়েছেন।” “তাই কি তুমি ন্যাংটো হয়ে সেখানে পড়েছিলে?”

“তাই আমি সেখানে পড়ে ঠাণ্ডায় জমে যাচ্ছিলাম। সাইমন আমাকে দেখতে পেল; দয়া হল তার, কোট খুলে আমাকে পরিয়ে দিল। আসতে বলল এখানে। এখানে এলে তুমি আমাকে খাদ্য দিলে, পানীয় দিলে, আমাকে দয়া করলে। ঈশ্বর তোমাদের রক্ষা করুন।”

মাত্রোনা উঠে দাড়াল। সাইমনের যে শার্টটা সে সেলাই করছিল সেটা জানালার তাক থেকে তুলে নিয়ে আগন্তুককে দিল। খুঁজে পেতে এনে দিল একটা ট্রাউজারও। “তোমার তো শার্ট নেই। এইগুলো পরে ঐ তাকের উপরে বা স্টোভের উপরে যেখানে খুশি শুয়ে পড়ো।” আগন্তুক গায়ের কোটটা খুলে শার্ট ও ট্রাউজার পরে তাকের উপরে শুয়ে পড়ল। মাত্রোনা বাতি নিভিয়ে দিয়ে কোর্টটা নিয়ে স্বামীর পাশে শুল।

তার মনে পড়ল, রুটির শেষ টুকরোটাও তারা খেয়ে ফেলেছে। কালকের জন্য কিছুই নেই। মনে পড়ল, শার্ট আর ট্রাউজার দুটোই সে দান করেছে। অমনি তার মন খারাপ হয়ে গেল। সঙ্গে সঙ্গেই মনে পড়ল আগন্তুকের হাসিটি; অমনি মন খুশি হয়ে উঠল আবার।মাত্রোনা অনেকক্ষণ জেগে রইল। একসময় তার খেয়াল হল সাইমনও ঘুমোয়নি।“সাইমন!” “উ ?” “রুটির শেষ টুকরোটাও আমরা খেয়ে ফেলেছি। কালকের জন্য কিছু বানিয়েও রাখিনি। কাল কী হবে আমি জানি না। প্রতিবেশীর কাছে কিছু ধার চাইতে হবে।” “আমরা বেঁচে থাকব; খেতেও পাব।”

বউটি চুপ করে রইল। “যাই হোক, লোকটি নিশ্চয়ই ভালো; তবে, নিজের সম্বন্ধে কিছুই বলে না এই যা।” “কথা বলার তার দরকার নেই।” “সাইমন!” “উ।” “আমরা তো দিলাম, কিন্তু আমাদের কেউ কিছু দেয় না কেন?” কী জবাব দেবে সাইমন জানে না। সে বলল, “পরে কথা হবে।” সে পাশ ফিরে ঘুমিয়ে পড়ল।

পরদিন সকালে সাইমনের ঘুম ভাঙল। ছেলেমেয়েরা তখনও ঘুমুচ্ছে। বউ গেছে প্রতিবেশীর বাড়ি রুটি ধার করতে। পুরানো ট্রাউজার আর শার্ট পরে আগন্তুক উপরের দিকে তাকিয়ে বেঞ্চিতে বসে আছে। তার মুখখানি আজ কালকের চাইতেও উজ্জ্বল।সাইমন বলল, “দেখ ভাই, পেট চায় খাবার, আর শরীর চায় জামা-কাপড়। প্রত্যেককেই উপার্জন করতে হবে। তুমি কী কাজ জানো?” “আমি কিছুই জানি না।” সাইমন বিস্মিত হয়ে বলল, “ইচ্ছা থাকলে মানুষ সবকিছু শিখতে পারে।”

“মানুষ কাজ করে; আমিও কাজ করব।” “তোমার নাম কী?” “মিখাইল।” “দেখ মিখাইল, নিজের সম্পর্কে তুমি কিছুই বলতে চাও না, সে তোমার খুশি। কিন্তু উপার্জন তো তোমাকে করতেই হবে। আমি যা কাজ দিই তা করবে। তাহলে আমি তোমাকে খেতে দেব।” “ঈশ্বর তোমাকে রক্ষা করুন। নিশ্চয়ই শিখব। বলে দাও কী করতে হবে।”

সাইমন দেখিয়ে দিল কেমন করে সেলাই করতে হয়। মিখাইল বেশ তাড়াতাড়ি সেটা রপ্ত করে নিল। মোটা সুতো দিয়ে কী করে সেলাই করতে হয় মিখাইল শিখে ফেলল তাও।

সাইমন যা-কিছু দেখায় তাই সে শিখে ফেলে। তিনদিনের দিন থেকে সে এমনভাবে সেলাইয়ের কাজ করতে লাগল যেন সারাজীবন সে সেলাই করে আসছে। তার কাজে কখনও ভূল হয় না। সে খায়ও কম। শুধু মাঝে মাঝে একটু বিশ্রাম নেয়, আর সেই সময়টা আকাশের দিকে নীরবে তাকিয়ে থাকে। কখনও সে ঘর ছেড়ে বাইরে যায় না; একটি বাজে কথা বলে না; হাসিঠাট্টাও করে না।প্রথমদিন সন্ধ্যায় মাত্রোনা যখন তার জন্যে খাবার তৈরি করছিল কেবলমাত্র সেই দিন তারা তাকে একবার হাসতে দেখেছিল।

 দিন যায়, সপ্তাহ যায়, ধীরে ধীরে বছরও শেষ হয়ে আসে। এখন মিখাইলের মতো সুন্দর আর মজবুত জুতো আর কেউ সেলাই করতে পারে না। সারা জেলার লোক জুতোর জন্য সাইমনের বাড়ি আসতে লাগল। ফিরে গেল তার বরাত।

একদিন শীতকালে সাইমন বসে মিখাইলের সঙ্গে কাজ করছে, এমন সময় তিন-ঘোড়ার একখানি ঘন্টা বাধা দ্ৰেজগাড়ি তার কুঁড়ের দরজায় এসে দাড়াল। একটি ছোটছেলে কোচয়ানের আসন থেকে লাফ দিয়ে নেমে খুলে দিল গাড়ির দরজা। ফারকোট গায়ে একজন ভদ্রলোক স্লেজ থেকে নেমে সাইমনের ঘরের দিকে পা বাড়ালেন। মাত্রোনা ছুটে গিয়ে খুলে দিল দরজা। মাথা নিচু করে তিনি ঘরে ঢুকলেন। আবার যখন মাথা উঁচু করলেন তখন মাথা প্রায় ছাদ ছোয়-ঘেঁয়। ঘরের একটা কোণই তিনি দখল করে ফেললেন প্রায়।

সাইমন উঠে দাড়িয়ে নমস্কার দিয়ে হাঁ করে ভদ্রলোককে দেখতে লাগল। এরকম মানুষ সে এর আগে কখনও দেখেনি। সাইমন নিজে রোগা, মিখাইলও তাই ; মাত্রোনা তো একগাছি শুকনো লাঠির মতো দেখতে। কিন্তু ইনি—যেন অন্য জগতের লোক; ফোলা ফোলা লাল মুখ, ষাড়ের মতো ঘাড়, ঢালাই লোহা দিয়ে গড়া দেহ।

ভদ্রলোক হাঁপাতে লাগলেন। গায়ের কোট খুলে বেঞ্চিতে বসে বললেন :“বড় মুচি কে?” সাইমন সামনে এগিয়ে বলল :“আজ্ঞে আমি।” ভদ্রলোক চাকরটাকে চেঁচিয়ে বললেন : “এই—ফেড়কা, চামড়াটা নিয়ে আয়।” ছেলেটা দৌড়ে একটা বাডিল নিয়ে এল। ভদ্রলোক বান্ডিলটা নিয়ে টেবিলের উপর রাখলেন।চামড়াটা দেখিয়ে ভদ্রলোক সাইমনকে বললেন, “দেখ মুচি, বেশ মন দিয়ে শোনো। এটা দেখতে পাচ্ছ?”

“আজ্ঞে যা।” “জিনিশটা কেমন ঠিক বুঝতে পারছ?” সাইমন হাত দিয়ে ছুঁয়ে বলল : “ভালো চামড়া।” “ভালোই বটে! বোকারাম, এমন চামড়া তুমি জীবনে দেখ নি! এটা জার্মানির জিনিশ দাম কুড়ি রুবল।” সাইমন ভয় পেয়ে বলল :“এমন জিনিশ আমরা কোথায় দেখব।” “সে যাহোক। এই চামড়া দিয়ে তুমি আমাকে নতুন জুতো তৈরি করে দিতে পারবে কি?”“আজ্ঞে পারব।”

ভদ্রলোক চেঁচিয়ে উঠলেন :“শুধু পারব বললেই হল না। কী জিনিস সেলাই করতে হবে বুঝতে পারছ কি? আমাকে এমন জুতো তৈরি করে দিতে হবে যা একবছরের মধ্যে ছিড়বে না, কুঁচকাবে না, বা সেলাই খুলে যাবে না। যদি পারো, চামড়াটা নিয়ে কাটাকুটি কোরো যদি না পারো নিয়ো না, কেটো না। আমি আগেই বলে রাখছি, একবছরের আগে যদি জুতোর সেলাই ছেড়ে বা জুতো দুমড়ে যায়, আমি তোমাকে জেলে দেব! আর একবছরের মধ্যে যদি না-ঘেঁড়ে বা না কুঁচকে যায়, তাহলে তোমাকে মজুরি দেব দশ রুবল।”

সাইমন ভয় পেয়ে গেল। মিখাইলের দিকে তাকিয়ে তাকে কনুইয়ের খোঁচা দিয়ে ফিসফিস্ করে বলল ; “ভাই, কী করি?” মিখাইল মাথা নেড়ে বলল :“কাজটা নিয়ে নিন।” ভদ্রলোক চাকরটাকে চেঁচিয়ে ডেকে বাঁ-পায়ের বুট খুলতে বললেন। তারপর পা-টা বাড়িয়ে দিলেন। “মাপ নাও।”

সাইমন আঠারো ইঞ্চি লম্বা একখানা কাগজ সেলাই করে সেটা বেশ ভালো করে মুছে নিয়ে হাঁটু গেড়ে বসল। তারপর মাপ নিতে আরম্ভ করল। পায়ের তলা মাপল, পাতার উপরটা মাপল, তারপর পায়ের গুলি মাপতে গেল। কিন্তু কাগজটা ততদূর পৌছল না। সেই বিরাট পায়ের গুলিটা একটা গাছের গুঁড়ির মতো।বাইরে তখন অনেক লোক উকিঝুকি মারছে।ভদ্রলোকের নজর পড়ল মিখাইলের উপর।“ও কে ? ও কি তোমার লোক ?” “ও আমার কারিগর। ও-ই তো জুতো সেলাই করবে।”

ভদ্রলোক মিখাইলকে বললেন :“দেখ হে, মনে রেখোঁ এমনভাবে সেলাই করতে হবে যেন একবছরের মধ্যে কিছু না হয়।” সাইমন মিখাইলের দিকে তাকাল। মিখাইল তখন ভদ্রলোকের দিকে না-তাকিয়ে তাঁর পিছনে ঘরের কোণে তাকিয়ে আছে। হঠাৎ সে মৃদু হেসে উঠল, আর তার সারাশরীর ঝলমল করে উঠল। “হা করে দেখছ কী বোকারাম? বরং নজর রেখোঁ জুতো যেন ঠিক সময় তৈরি হয়।” মিখাইল বলল : “ঠিক যে-সময়ে দরকার হবে তখনি তৈরি পাবেন।” “তাহলেই হল।”

বুট পায়ে দিয়ে ফারকোট গায়ে দিয়ে ভদ্রলোক দরজার দিকে এগিয়ে গেলেন। কিন্তু মাথা নিচু করতে ভুল হওয়ায় তার মাথাটা লিন্টেলের সঙ্গে ঠোক্কর খেল।কিছুক্ষণ শাপমন্যি করে মাথা ঘষতে ঘষতে ভদ্রলোক স্লেজে চেপে চলে গেলেন।যাবার পর সাইমন বলল “ব্যাটা যেন পাহাড়! মাথায় লেগে দরজাটা জখম হল, কিন্তু ওর কিছুই হল না।”মাত্রোনা বলল : “ওদের যেমন জীবন তাতে শক্তপোক্ত তো হবেই। এরকম লোহার মানুষকে মৃত্যুও ছুঁতে পারে না।”

সাইমন মিখাইলকে বলল : “কাজটা যখন নিয়েছি, দেখোঁ যেন কোনোরকম গোলমালে না পড়ি। চামড়াটা দামি, ভদ্রলোকও বদমেজাজি। দেখতে হবে যাতে কোনো ভুল না হয়। তোমার হাতও এখন আমার হাতের চেয়ে পাকা। মাপজোকগুলো নিয়ে চামড়াটা তুমিই কাটো, আমি বরং উপরের চামড়াটা সেলাই করব।”

সেই কথামতো মিখাইল ভদ্রলোকের চামড়াটা নিয়ে টেবিলের উপরে পাতল। দুই ভাজ করে কাচি নিয়ে শুরু করল কাটতে।ঘরে ঢুকল মাত্রোনা। মিখাইলের চামড়া কাটা দেখে সে অবাক হয়ে গেল। মুচির কাজ মাত্রোনাও ভালো বোঝে। সে দেখল, মিখাইল চামড়াটা বুটের মতো করে না-কেটে গোল-গোল টুকরা করে কাটছে। কিছু বলতে গিয়েও মাত্রোনা ভাবল :“হয়তো ভদ্রলোকদের বুট কেমন করে বানায় আমি জানি না। মিখাইল নিশ্চয় আমার থেকে ভালো জানে।”

কাটা শেষ করে মিখাইল সুতো নিয়ে সেলাই করতে শুরু করল।মাত্রোনা আবারও অবাক, কিন্তু এবারও সে কিছু বলল না। মিখাইল সেলাই করেই চলল।বেলা দুপুর হলে সাইমন উঠে দাড়িয়ে চোখ ফেরাল। এ কী! ভদ্রলোকের চামড়াটা দিয়ে মিখাইল যে একজোড়া চটি তৈরি করে ফেলেছে।সাইমন আর্তনাদ করে উঠল। ভাবল :“আজ একবছর মিখাইল এখানে আছে, কোনোদিন একটা ভুল করেনি, আজ সে এমন মারাত্মক ভুল কেমন করে করল ? ভদ্রলোক অর্ডার দিয়ে গেলেন উচু বুটের, আর ও তৈরি করে বসেছে চটিজুতো! ভদ্রলোককে আমি মুখ দেখাব কেমন করে?

সে মিখাইলকে বলল : “এ তুমি কী করেছ ভাই? ভদ্রলোক যে অর্ডার দিয়ে গেলেন বুটের?” সাইমন সবে কথা বলতে আরম্ভ করেছে, এমন সময় দরজার কড়া নড়ে উঠল। সাইমন ও মিখাইল জানালা দিয়ে তাকাল। ঘোড়ায় চড়ে একটি লোক এসেছে।তারা দরজা খুলে দিল। সেই ভদ্রলোকের একটি চাকর ঢুকল ভিতরে। “কর্ত্রী আমাকে পাঠালেন সেই বুটের ব্যাপারে।” “বুটের আবার কী হল?” “কী হলই বটে! আমার মনিবের আর বুটের দরকার নেই। তিনি মারা গেছেন।” “বলো কী!”

“এখান থেকে তিনি বাড়ি ফেরেননি, স্লেজের মধ্যেই মারা গেছেন। আমরা যখন বাড়ি পৌছলাম, সকলে তাকে ধরাধরি করে নামাতে এল; কিন্তু তিনি একটা বস্তার মতো গড়িয়ে পড়লেন। তাকে স্রেজ থেকে নামিয়ে আনতে না-আনতেই কর্ত্রী আমাকে ডেকে বললেন : “মুচিকে বলবে, একজন ভদ্রলোক চামড়া জমা দিয়ে একজোড়া বুটের অর্ডার দিয়েছিলেন, সে বুট আর দরকার নেই, বরং যত শীঘ্র সম্ভব সেই চামড়া দিয়ে শবাধারের জন্য একজোড়া চটি যেন তৈরি করে দেয়। যতক্ষণ তৈরি না হয় অপেক্ষা করে চটি নিয়ে তবে আসবে। তাই আমি এসেছি।”

মিখাইল টেবিল থেকে টুকরো চামড়াগুলো নিয়ে গোল পাকাল, তৈরি-চটিজোড়া একসঙ্গে বেঁধে অ্যাপ্রন দিয়ে ভালো করে মুছে সেগুলি দিয়ে দিল ছেলেটাকে। ছেলেটা হাত পেতে চটিজোড়া নিল। “বিদায়, মশায়রা। শুভদিন।”

 

Read more

মানুষ কী নিয়ে বাঁচে – শেষ -পর্ব– লিও টলস্টয়

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *