রূপালী দ্বীপ-হুমায়ূন আহমেদ-(পর্ব-১৪)

আনুশকা মন খারাপ করে আছেতুমি নাকি তার সঙ্গে ঝগড়া করেছ

জরী কিছু বলল নাজানালার অন্ধকারের দিকে মুখ ঘুরিয়ে বসলবৃষ্টি থেমে গেছে। আকাশে বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে

রূপালী দ্বীপজরী হাই তুলতে তুলতে বলল, প্রচণ্ড ঘুম পাচ্ছে। ইস, একটা পুরাে কামরা যদি আমার একার থাকত, তা হলে দরজা বন্ধ করে হাতপা ছড়িয়ে কী আরাম করে ঘুমুতাম

শুভ্র ইতস্তত করে বলল, আমি একটা খালি কামরার ব্যবস্থা করতে পারিকরব

একটা পুরো কামরা শুধু আমার জন্যে ?  কীভাবে করবে

‘কীভাবে করব তা তােমার জানার দরকার নেইকরব কি না সেটাই জানতে চাচ্ছি। 

প্লীজ শুভ্র, করােকীভাবে করবে ? ম্যাজিকবড়লােকদের হাতে অনকে ধরনের ম্যাজিক থাকে। 

শুভ্র বুফে কারের বাইরে এসে দেখে, সুলেমান মাথা নিচু করে দাঁড়িয়েসুলেমান মনে হল শুভ্রকে দেখে লজ্জা পাচ্ছেসে চলে যেতে ধরেছিল, শুভ বলল, একটা কামরার ব্যবস্থা করুন। 

সুলেমান হতভম্ব গলায় বলল, আপনাদের দুজনের জন্যে? না, একজন শুধু যাবেতার শরীর খারাপঅচ্ছিআমি স্যার, ভয় পেয়ে গিয়েছিলামভয় পাবার কিছু নেইএকজন ডাক্তারের ব্যবস্থা কি স্যার করব?আপনি কি ডাক্তারও সঙ্গে নিয়ে এসেছেন?” 

রূপালী দ্বীপ-পর্ব-১৪

জি না স্যারখুঁজে বের করবএত বড় ট্রেন, একজননাএকজন ডাক্তার তাে থাকবেনইডাক্তার কি লাগবে স্যার?” 

আমার ব্যবহারে অসন্তুষ্ট হবেন না স্যার। 

শুভ্র বিস্মিত হয়ে তাকাললােকটাকে এখন আর তার এত খারাপ লাগছে নাকী রকম বিনীত ভঙ্গিতে তাকাচ্ছে। 

ট্রেন এসে চাটগাঁয়ে থামল ভাের পাঁচটায়চারদিক অন্ধকারভােরের কোনাে আভাস দেখা যাচ্ছে নাপ্ল্যাটফর্মের আলাে কামরায় ঢুকছেএই আলােটুকুই ভরসা, কারণ, ট্রেন প্ল্যাটফর্মে ঢােকার প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই ট্রেনের সব বাতি নিভিয়ে দেয়া হয়েছে। 

রানার হাতে একটা পেনসিল টর্চপ্রয়ােজনের সময় কোনো জিনিসই কাজ করে নারানার পেনসিল টর্চও কাজ করছে নাবােতাম টিপে টিপে তার হাত ব্যথা হয়ে গেছেঅথচ এই পেনসিলটর্চ রওনা হবার আগের দিন কেনা হয়েছেরানাউচু গলায় বলল, কেউ ট্রেন থেকে নামবে না, আনটিল ফাদার অর্ডারযে যেখানে আছ সেখানেই থাকমালের দিকে লক্ষ রাখােনাে মুভমেন্ট। 

আনুশকা বলল, খামাখা চিৎকার কোরাে না তোশুধু শুধু হৈচৈ করছ কেন? শুধু শুধু হৈচৈ করছি? বাতি নেই কিছু নেই, এর মধ্যে একটাকিছু যদি হয়

কী হবে?অনেক কিছুই হতে পারেজরী কোথায়? জরীকে তাে দেখছি নারানা, তােমার আলগী মাতব্বরি অসহ্য লাগছেঅসহ্য লাগলেও কিছু করার নেইসহ্য করে নিতে হবেজরী কোথায়?” 

শুভ্র বলল, জরী অন্য কামরায় ঘুমুচ্ছেতার শরীর ভাল না। 

রানা রাগী গলায় বলল, অন্য কামরায় ঘুমুচ্ছে মানে? কে ডিসিশান দিল? আমি কিছুই জানি না, আর দলের একজন মেম্বার অন্য কামরায় চলে গেল। 

রূপালী দ্বীপ-পর্ব-১৪

আনুশকা বলল, চিৎকার বন্ধ করাে তাে রানা! যথেষ্ট চিঙ্কার হয়েছেতুমি প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে সিগারেট টানােইতিমধ্যে ভাের হবেআমরা নামব। 

দলের ভালমন্দ আমি দেখব না?তোমাকে কিছু দেখতে হবে নাঅনেক দেখেছ। 

রানা রাগ করে ট্রেন থেকে নেমে গেলনামার সময় নইমার পা মাড়িয়ে দিয়ে গেলব্যাপারটা অনিচ্ছাকৃতকিন্তু নইমার ধারণা, রানা এই কাজটা ইচ্ছা করেইকরেছেনইমা অল্পতেই কাতর হয়পায়ের ব্যথায় সে কাতরাচ্ছেনীরা বলল

তুই এমনভাবে চিৎকার করছিস, তাতে মনে হচ্ছে হাঁটুর নিচ থেকে তাের পা খুলে পড়ে গেছে। 

ব্যথা পেলে চিৎকার করব না? এমন কিছু ব্যথা পাসনি যে ট্রেনের সব মানুষকে সেটা জানাতে হবেখামাখা ঝগড়া করছিস কেন? পায়ের চামড় খুলে গেছে আর .

তাের এত নরম চামড়ার পা তুই ফেলে ছড়িয়ে বসে আছিস কেন? কোলে নিয়ে বসে থাকলেই হত। 

নইমা কোনাে কথা না বলে উঠে দাড়ালপায়ে স্যান্ডেল পরলআনুশকা বলল, যাচ্ছিস কোথায় ? নইমা বলল, দ্যাটস নান অব ইয়াের বিজনেস। 

নইমা ট্রেন থেকে নেমে গেলসে হাঁটতে শুরু করেছে ওভারব্রিজের দিকে

রূপালী দ্বীপ-পর্ব-১৪

জরীর খুব ভাল ঘুম হয়েছেএসি দেয়া স্লীপিং বার্থের ব্যবস্থা ভালশুধু কামরাটা বেশি ঠাণ্ডাকামরার অ্যাটেনডেন্ট বালিশ এবং কম্বল দিয়েছেএকা একটা কামরার দরজা বন্ধ করে ঘুমানাের আলাদা আনন্দ আছেজরী অনেকদিন পর খুব আরাম করে ঘুমুলমাঝে মাঝে স্বপ্ন দেখল সেইসব স্বপ্নও আনন্দময় স্বপ্নভয়ংকর কোনাে দুঃস্বপ্ন নয়| এখন ট্রেন থেমে আছেচিটাগাং এসে গেছে এটা সে বুঝতে পারছেতার পরেও বিছানা ছেড়ে উঠতে ইচ্ছা করছে নাজীবনের আনন্দময় সময়ের একটি হচ্ছে ঘুমঘুম ভাব নিয়ে শুয়ে থাকা। 

 

Read more

রূপালী দ্বীপ-হুমায়ূন আহমেদ-(পর্ব-১৫)

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *