“মিসেস মনিরুজ্জামান যে আপনাদের সঙ্গে আছেন তা তাে আপনারা একবাক্যেই স্বীকার করলেন। তার পরেও বলছেন – ভুল বলছি ?
‘স্যার, আপনারা এখানে দাঁড়ান, আমি জরীকে নিয়ে আসছি। 
শুধু তাকে আনলে হবে না। আপনাদের সবাইকে আমাদের সঙ্গে যেতে হবে। আপনারা যে কত বড় যন্ত্রণায় পড়েছেন সে সম্পর্কে আপনাদের কোনাে ধারণী নেই। আপনার সিগারেট নেভা। আপনি নেভা সিগারেট টানছেন।
রানা বলল, স্যার, সিগারেট খাবেন?
‘না, সিগারেট খাব না।
আকাশ ফর্সা হতে শুরু করেছে। ট্রেনের লােক সবাই প্রায় নেমে এসেছে। রানা কাপা পায়ে কামরায় উঠল। আনুশকার সঙ্গে কথা বলা দরকার। তারও আগে। বাথরুমে যাওয়া দরকার। কথা নেই বার্তা নেই হঠাৎ বাথরুম পেয়ে গেছে। একেই বলে শিকারের সময় কুত্তার ল্যাট্রিন।
‘আনুশকা, একটু নিচে নেমে আসাে। খুব জরুরি কথা আছে। এক্সট্রিম ইমার্জেন্সি।।
‘নইমাকে এখনাে পাওয়া যায়নি? ‘নইম–টইমা বাদ। অন্য ব্যাপার। সর্বনাশ হয়ে গেছে!
‘অল্পতে অস্থির হয়াে না তো রানা। তােমার কি ব্লাডপ্রেশারের কোনো সমস্যা আছে? হাত কাঁপছে কেন?‘
কঠিন কিছু কথা রানার মুখে এসেছিল। নিজেকে সামলে নিয়ে সে সহজ ভঙ্গিতেই ব্যাপারটা আনুশকাকে বলল। নিচু গলায় বলল, অন্যদের শােনার এখন কিছু নেই। আনুশকার কোনো ভাবান্তর হল না। সে সহজ ভঙ্গিতেই এগিয়ে গেল। সাদা পােশাকের পুলিশ বলল, আপনিই কি মিসেস মনিরুজ্জামান ?
রূপালী দ্বীপ-পর্ব-১৬
‘আমার নাম আনুশকা। মিসেস মনিরুজ্জামানকে আমি চিনি না।
আপনাদের আমার সঙ্গে থানায় যেতে হবে। ‘কোনো ওয়ারেন্ট আছে?”
‘পুলিশ যদি থানায় যেতে বলে তা হলে যেতে হয়। পুলিশের কাজে বাধা দিলে অ্যারেস্ট করা কোনাে ব্যাপার না।
আনুশকা সহজ গলায় বলল, আপনাদের পেছনে কি কোনাে বড় কর্তাব্যক্তি আছে?
‘হ্যা, আছে।” ‘আপনার হাতে কি ওয়াকিটকি ?” ‘হঁ্যা।‘ ‘আমার পরিচয় কি আপনি জানেন ?” ‘অকারণ কথা বলে আপনি আমাদের সময় নষ্ট করছেন।
‘আমার পরিচয় জানতে পারলে আপনার হাত থেকে ওয়াকিটকি মাটিতে পড়ে যাবে। কাজেই আমি অকারণ কথা বলছি না। বাঘের উপর যে থাকে তার নাম টাগ । তিমির উপর তিমিঙ্গল। আপনি কিছু জানেন না বলেই এমন কড়া গলায় আমার সঙ্গে কথা বলার দুঃসাহস দেখাচ্ছেন।
পুলিশ অফিসার হকচকিয়ে গেল। সমস্যা এদিকে দিয়ে আসবে ভাবা যায়নি। এ দেখি আরেক যন্ত্রণায় পড়া গেল! আনুশকা বলল, আপনি কি অতি দ্রুত ঢাকার সঙ্গে যোগাযােগ করতে পারবেন?
রূপালী দ্বীপ-পর্ব-১৬
অবশ্যই পারব। ‘তাহলে দয়া করে আমার হয়ে একটা ইনফরমেশন ঢাকায় পাঠাবার ব্যবস্থা করুন। পুলিশের আইজি–কে খবর পাঠাতে হবে। আনুশকা নামের একটা মেয়েকে পুলিশ বিরক্ত করছে। নুরুদ্দিন সাহেব আমার ছােট মামা।
‘ও, আচ্ছা। ‘আপনার কি বিশ্বাস হচ্ছে না? ‘বিশ্বাস না হবার কী আছে? মানে আপা, সমস্যাটা হল ...।
‘কোনাে সমস্যা হয়নি। বরং আমাদের একটা সমস্যা হয়েছে। আমাদের এক বান্ধবী – নইমা তার নাম। নইমাকে পাচ্ছি না। প্ল্যাটফরমেই আছে। ওকে দয়া করে একটু খুঁজে বের করে দিন।
পুলিশের দলটা খানিকক্ষণ কোনো কথা বলল না। আনুশকা বলল, রানা, এসাে তাে, জিনিসপত্র নামাতে হবে। চা খাবার ব্যবস্থা করতে হবে। সকালবেলা চা না খেলে আমার মাথা ধরে যায়। রানা ফিসফিস করে বলল, আইজি নুরুদ্দিন সাহেব তােমার মামা ? আনুশকা বলল, আরে দূর! পুলিশে আমার কোনাে আত্মীয়স্বজন নেই। কিছুক্ষণের জন্যে ওদের পিলে চমকে দিয়েছি। এরা খোজখবর করবে। এই ফঁাকে আমরা কেটে পড়ব।
রূপালী দ্বীপ-পর্ব-১৬
‘আমার কিন্তু মােটেই ভাল লাগছে না।” ‘আমার লাগছে। অ্যাডভেঞ্চার–অ্যাডভেঞ্চার ভাব হচ্ছে।
আনুশকা খিলখিল করে হেসে ফেলল। ‘হাসছ কেন? হােয়াই লাফিং?‘
‘তুমি বড় বিরক্ত করছ রানা। পুলিশের চেয়েও বেশি বিরক্ত করছ? শান্ত হও। – শান্ত।
‘শান্ত হব?‘ , আনুশকা আবারো শব্দ করে হাসল। রানা চাপা নিঃশ্বাস ফেলল। পৃথিবীতে মেয়েজাতটার সৃষ্টি কেন হল, সে ভেবে পাচ্ছে না।
Read more