***অণুগল্প : রেললাইনের পাশে।
***লেখিকা: মনিকা শকুন্তলা।
রেললাইনের পাশে কি যেন একটা পড়ে আছে। জমাট বাঁধা রক্ত তার পাশে মানুষের পায়ের আকৃতির কিছু একটা। রাস্তার পাশ থেকে সেই দৃশ্য যারা দেখছিলো সবাই ছুটে গেল। আরে আরে সত্যি ই তো মানুষের খন্ডিত পায়ের টুকরো। রেললাইনের পাশে পড়ে আছে।চাকায় পিষ্ট হতে হতে দুমড়ে মুচড়ে গেছে যেনো। কালচে ছোপ ছোপ রক্তের দাগ আশপাশের পরিবেশটাকে বিশ্রী রকমের ভুতূড়ে আর নোংরা করে রেখেছে।মশা মাছির আনাগোনা ওড়াওড়ি চলছে। পিঁপড়ার সারি দলবেঁধে আসছে যাচ্ছে। সমস্ত কথার ভীড়ে এটাই অবাক করা ব্যাপার যে ওই পা একজন মধ্যবয়সী যুবকের। যার দুটো সন্তান রয়েছে। ঘরে লক্ষীমন্ত স্ত্রী রয়েছে। উৎসুক জনতা আরো একটু এগিয়ে গিয়ে দেখতে পেলো সদ্যপ্রয়াত রক্তাক্ত এক লাশ। মাথা চুলে রক্তের মাখামাখি। ছোপ ছোপ রক্ত রেললাইনের পথে প্রান্তরে। খুব সম্ভবত নেশাগ্রস্ত ছিল সে। নেশার ঘোরে সঠিক রাস্তা ছেড়ে রেললাইনের খুব কাছাকাছি চলে এসেছিল। তারপর যা হবার তাই হয়েছে। হঠাৎ ট্রেন এসে পড়ে আর শরীরটাকে টেনে হেঁচড়ে নিয়ে যায় চাকার ঘূর্ণনে। খবর পেয়ে ছুটে যায় আত্মীয় প্রতিবেশী। কিন্তু সবাই কেবল নিরব দর্শক।আর মুখরোচক আলোচনায় ব্যস্ত সময় কাটায়। অবশেষে বৃদ্ধ পিতা লাশের সদগতির জন্য টুকরো সমেত লাশ নিয়ে বাসায় ফিরে। বাবার হাতে শেষকৃত্য সম্পন্ন হয় ছেলের। এ যেন নাটকীয়তার ঊর্ধ্বে এক মহাজাগতিক অনুভূতি। এমন দৃশ্যের অবতারণা আর দেখতে চায়না পৃথিবী।
*লেখনী স্বত্ত্ব সুরক্ষিত।