শিকলে কি আর মায়াবী পাখি ধরা পড়ে ?
টম যেখানে থাকে সেটি কোনাে অ্যাপার্টমেন্ট নয়। চমৎকার একটি বাড়ি। সামনে লন আছে, ফুলের বাগান আছে, পেছনে চমৎকার সুইমিংপুল। বাড়ির মালিক একমাসের জন্যে যাচ্ছে সুইজারল্যান্ড।
সে জন্যে সে বাড়ি চার মাসের জন্যে ভাড়া দিতে চায়। ভাড়া নামমাত্র মাসে চার‘শ ডলার। সবটা টাকা এক সঙ্গে দিতে হবে।
টমের বাড়ি পছন্দ হয়ে গেল । রাজপ্রাসাদের মত বাড়ি, পছন্দ না হয়ে উপায় আছে ? আমি নেব তােমার বাড়ি।
টমের পােশাক আশাক দেখে বাড়ির মালিক ঠিক ভরসা পায় না। গম্ভীর হয়ে বলে, ষােলশ’ ডলার একসঙ্গে দিতে হবে কিন্তু।
বেশতাে নিয়ে আসব বিকেলে তুমি ঘরে থাকবেতাে ?
যেহেতু বিকেলে গেলে ভদ্রলােককে ঘরে পাওয়া যাবে সেহেতু টম আর বিকেলে গেল । পরদিন দুপুরে গিয়ে হাজির । ভদ্রলােক ঘরে নেই, তার স্ত্রী দরজা খুললাে। টম হাসি মুখে বললাে, আমি তােমার বাড়ি ভাড়া করতে এসেছি। তােমার স্বামীর সঙ্গে আমার কথা হয়েছে।
ও হ্যা তােমার জন্যে সে অপেক্ষা করছিলাে। তুমি কি ষােলশ’ ডলার নিয়ে এসেছে। নিয়ে এসেছি।
টম কাঁধের ব্যাগ থেকে কাগজে মােড়া একটি পেইন্টিং বের করলাে। গম্ভীর মুখে বললাে, এর দাম কম করে হলেও তিন হাজার ডলার, তােমাকে জলের দামে দিচ্ছি।
দ্রমহিলা স্তম্ভিত। ভয় নেই পছন্দ না হলে নগদ দাম দেব। দেখ ভাল করে ।
সবাই গেছে বনে -পর্ব-১৫
সন্ধ্যাবেলার ছবি। পুরনাে ধরনের একটি লাল রঙা ইটের বাড়ির ভাঙা জানালা দিয়ে একটি কিশােরী মেয়ে উঁকি দিচ্ছে। মেয়েটির চোখে মুখে সূর্যের রক্তিম আলাে। ছবি থেকে চোখ ফেরানাে মুশকিল। ভদ্রমহিলা আমতা আমতা করতে লাগলেন।
আমার হাসবেন্ডের সঙ্গে কথা না বলে তাে রাখতে পারি না। বেশ তাহলে নগদ দাম দিচ্ছি।
টম গম্ভীর মুখে পকেটে হাত রাখলাে (পকেটে একটি মাত্র পঞ্চাশ ডলারের নােট)। ভদ্রমহিলা থেমে থেমে বললাে, তারচে‘ এক কাজ কর, ছবিটা রেখে যাও। আমি ওর সঙ্গে আলােচনা করে তােমাকে জানাব।
বেশতাে বেশতাে।
টম জানে এই মেয়েটির স্বামীকে ছবিটি রাখতেই হবে। অবশ্যি একটি ভাল ছবি হাতছাড়া হলাে। তাতে কিছুই আসে যায় না। কাউকেই ধরে রাখা যায় না। সমস্তই হাতছাড়া হয়ে যায়।
রুনকি যখন প্রথম উঠে এলাে টমের ঘরে তখন টম সিরামিক্সে কিছু ফ্যান্সি পেইন্ট করছিল। দশটি টবের অর্ডার আছে, বিকাল পাঁচটার মধ্যে দিতে হবে। সময় লাগছে খুব বেশি। রুনকিকে ঢুকতে দেখে টম ঘাড় ঘুরিয়ে তাকালাে, কিছু বললাে না। রুনকি বললাে, তােমার সঙ্গে থাকতে আসলাম টম।
বেশতাে ভাল করেছ।
টম ছবি আঁকায় মন দিল। নীল রঙটা ঠিক মানাচ্ছে না। কেমন যেন লেপ্টে লেপ্টে যাচ্ছে। রুনকি গম্ভীর হয়ে বললাে, আমি বাবা মা সবাইকে ছেড়ে এসেছি। তুমি বােধহয় ঠিক বুঝতে পারছে না। | টম ডিজাইন থেকে চোখ তুলেই বললাে, বাবা–মাকে সঙ্গে নিয়ে আমার সঙ্গে থাকতে আসাটা ঠিক হতাে না। আমি বুড়াে–বুড়ি সহ্য করতে পারি না। | তুমি মন দিয়ে শুনছাে না টম। দয়া করে শােন আমি কী বলছি। তাকাও আমার দিকে। প্লিজ।
টম তাকালাে।
আমি তােমার জন্যে সব ছেড়ে ছুড়ে এসেছি।
সবাই গেছে বনে -পর্ব-১৫
রুন এটি তুমি ভুল বললে। তুমি আমার জন্যে আস নি। এসেছ নিজের জন্যে। আমি তােমাকে কখনাে আসতে বলি নি। মনের মধ্যে এসব ভুল ধারণা থাকা ঠিক না। এতে পরে কষ্ট পাবে।।
রুনকি জবাব দিল না। টম বললো, চট করে কফি বানিয়ে আনতাে দেখি আমার জন্যে। চিনি দু’চামচ চাই নাে ক্রিম।
বাইরে থেকে টমকে ভবঘুরে ও ছন্নছাড়া মনে হলেও আসলে সে মােটেও সে রকম নয়। রুনকি অবাক হয়ে দেখলাে টমের অত্যন্ত গােছালাে স্বভাব। সিগারেট খেয়ে ঘরময় ছড়িয়ে রাখে না। হৈ–চৈ হুল্লোড় কিছুই করে না। রুনকির ঘুম ভাঙার আগেই সে ঘুম থেকে উঠে ব্রেকফাস্ট তৈরি করে ছবি নিয়ে বসে। ঘণ্টা তিনেক এক নাগাড়ে কাজ করে। এই সময় তার মূর্তি ধ্যানী পুরুষের মূর্তি। কথা বললে জবাব দেবে না। চা খাবে না সিগারেট খাবে। সকালের কাজ শেষ হলেই ঘণ্টা খানেক শুয়ে থাকবে চুপচাপ। তার ভাষায় এটি হচ্ছে মেডিটেশন। বারােটা নাগাদ লাঞ্চ তৈরি হবে। লাঞ্চ শেষ করেই বেরুবে কাজের খোঁজে। সারাদিন কাজ পাওয়া যায় না।
ঘােরাঘুরিই সার। তখন সে তার আঁকা চমক্কার একটি ছবি। রাস্তার মােড়ে টাঙিয়ে বসে থাকবে। ছবির নিচে বড় বড় হরফে লেখা— একজন দুরারােগ্য ক্যান্সারে মরণাপন্ন শিল্পীকে সাহায্যের জন্যে ছবিটি কিনুন। এই শিল্পী গনিনের মত ক্ষমতা। নিয়ে জন্মেছেন কিন্তু হায় ভাগ্যের কী ছলনা!‘ ছবি বিক্রি হয়ে যায় চট করে। যে কোনাে ছবি বিক্রি হলেই টমের খানিক মন খারাপ হয়। বিড়বিড় করে নিজের মনে কিছুই ধরে রাখা যাচ্ছে না। কোনাে কোনােদিন মন খারাপের তীব্রতা এতই বাড়ে যে সে হুইস্কি খেতে খেতে চোখ লাল করে বাড়ি ফেরে। কুনকিকে গম্ভীর হয়ে বলে, প্রচুর ক্ষমতা নিয়ে জন্মেছিলাম কিন্তু কিছুই হচ্ছে না।
Read more