টাকার গন্ধ। পেয়েছে বুঝলে না ? দু’জনে ফট করে বিয়েও করে বসতে পারে। তাহলে বড়ই ঝামেলা হবে। হয়ত দেখা যাবে কিছুই পেলাম না। আমার যা ভাগ্য।
কোথায় যাচ্ছেন তােমার মা ?
কে জানে কোথায় ? আমি লিখেছি— যাও মা ঘুরে আস। তােমার ভাল লাগাই আমার ভাল। এবং ডগলাস সাহেব যখন যাচ্ছেন তখনতাে তােমার খুব ফান হবে। মনের কথা নয় বুঝতেই পারছ সবই বানানাে।
মালিশা খাবার কিছুই স্পর্শ করলাে না। ঢকঢক করে এক গ্লাস বারগুড়ি খেয়ে ফেললাে। তার মনে হয় নেশা হয়েছে। চোখের কোণ লালাভ।
শােন আনিস, আমার মনে হয় আমি তােমাকে ভালােবাসি। হাসছ কেন ? তােমার কি ধারণা আমার নেশা হয়েছে? মােটেই নয়।
আনিস বললাে, কফি খাবে?
শােন আনিস। আমার মিলিওনিয়ার হবার সম্ভাবনা খুব বেশি। তুমি কি আমাকে বিয়ে করবে ? ভালই হবে তােমার।
আনিস হাসতে হাসতে বললাে, টাকার জন্যে তােমাকে বিয়ে করতে হবে কেন ? তােমার নিজের দাম তাে কিছু কম নয়।
আমাকে খুশি করার জন্যে বলছ ?
নিশানাথ বাবুর কথা মনে নেই, তিনি বলেছিলেন তােমাকে দেখতে ইন্ডিয়ান গডেসের মত লাগে।
আমার মনে আছে আনিস। আমার যখন টাকা হবে তখন আমি ঐ ইন্ডিয়ান ভদ্রলােককে একটি বুইক স্কাইলার্ক গাড়ি কিনে দেব। ওর কি বুইক স্কাইলার্ক গাড়ি আছে ?
ওর সে সবের বালাই নেই। ম্যাকের স্কাইলার্ক গাড়ি ছিল। ম্যাক ছিল দারুণ বড় লােক। ওর সঙ্গে আমি অনেকবার ভেটে গিয়েছি। ও আমাকে একটা ড্রেস কিনে দিয়েছিল যার দাম দু’শ পঁচাত্তর ডলার। আমি তােমাকে দেখাব।
আনিস চুপ করে রইলাে। মালিশা মনে হল একটু টলছে। আনিস বললাে, আর খেয়ে
মালিশা।
কেন খাব না কেন? বেশি হয়ে যাচ্ছে। তােমার হাত কাপছে। হাত কাঁপছে কারণ আমার জ্বর আসছে। আমার শরীর বেশি ভাল না।
ডাক্তার দেখিয়েছ?
সবাই গেছে বনে -(পর্ব-১৮)
ডাক্তার দেখাবার মত কিছু নয়, তাছাড়া আমার হেলথ ইনস্যুরেন্স নেই। ডাক্তারের কাছে গেলেই গাদা খানিক ডলার লাগবে। সেটা কে আমাকে দেবে? তুমি নিশ্চয়ই দেবে
হা হা হা।
কেক চলে আসলাে দশটার দিকে। সিলােফেন কাগজে মােড়া দশটি লাল টুকটুকে গােলাপ। মালিশা অনেকক্ষণ অবাক হয়ে দেখলাে ফুলগুলি। আনিস হাসি মুখে বললাে, শুভ
জন্মদিন মালিশা। | মালিশা জবাব দিল না। তার চোখে জল আসছে। সে তা গােপন করবার জন্যে অন্যদিকে তাকিয়ে রইলাে।
এ বত্সর প্রচণ্ড শীত পড়েছে।
ফার্গোতে যারা বসবাস করে তারা পর্যন্ত বলছে— নেস্টি ওয়েদার। ফেব্রুয়ারি মাসেই চার ফুটের মত বরফ জমেগেল শহরে। সন্ধ্যার পর লােজন আর ঘর ছেড়ে বের হয় না। কেউ সে শপিং–এ গিয়ে ঘুরে ফিরে মন তাজা করবে সে উপায় নেই। ঘণ্টা খানিক গাড়ি ঠাণ্ডায় পড়ে থাকলেই আর স্টার্ট নেবে না। বড় বড় উইন্টার সল হচ্ছে সেখানে পর্যন্ত লােকজন নেই।
টমের দিনকাল বেশ খারাপ হয়ে গেল। কাজ নেই। গােটা ফেব্রুয়ারি মাসে বাচ্চাদের বইয়ের একটি ইলাশট্রেশন ছাড়া আর কোনাে কাজ জুটলাে না। রাস্তায় দাঁড়িয়ে ছবি বিক্রিও বন্ধ। এই প্রচণ্ড ঠাণ্ডায় পায়ে হেঁটে কেউ চলাফেরা করে না। সবাই বের হয় গাড়ি নিয়ে । কার দায় পড়েছে গাড়ি থামিয়ে ছবি কিনবে ? সবচে বড় অসুবিধা হচ্ছে বাড়িটি ছেড়ে শহরতলির একটা অ্যাপার্টমেন্ট নিতে হয়েছে। সেখানে রান্নাঘর এবং বাথরুম শেয়ার করতে হয়। টম বেশ কয়েকবার বলেছে এই শহর ছেড়ে অন্য কোথাও যাবে কিন্তু বলা পর্যন্তই। সে নাকি বরফে ঢাকা শহরের কয়েকটি ছবি এঁকেই বিদায় হবে। ছবি এঁকে ফেললেই হয়। কিন্তু এখনাে তার মনমত বরফ জমা হয় নি।
সবাই গেছে বনে -(পর্ব-১৮)
প্রকৃতির কাছে সম্পূর্ণ পরাজিত একটি শহরের ছবি আঁকব তারপর বিদায় । বুঝলে #নকি এখনাে সময় হয় নি।
পরাজিত হবার আর বাকি কোথায় ? অনেক বাকি। এখনাে বাকি আছে।
এই অ্যাপার্টমেন্টটিতে রুনকির গা ঘিনঘিন করে। যে মেয়েটির সঙ্গে রান্নাঘর ও বাথরুম শেয়ার করতে হয় সে সবকিছু বড় ময়লা করে রাখে। গভীর রাত পর্যন্ত হাই ভুলুমে গান শুনে। সময়ে অসময়ে টমের কাছে সিগারেট চায়। ভাল লাগে না রুনকির। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ। প্রায়ই অ্যাপার্টমেন্টের সিঁড়িতে মদ খেয়ে লােকজন গলা ফাটিয়ে চেঁচায়।
Read more