কিছু না মা। নেইল ডাইমপ্তের গান শুনছিলাম। ওর গান শুনলে খুব লােনলি ফিলিং হয়।
রুনকি মিষ্টি করে হাসলাে। রাহেলা থেমে থেমে বললেন, আমি কয়েকটি ছেলেকে খেতে বলেছি। তুমি সন্ধ্যাবেলা যেয়াে না কোথাও।
ঠিক আছে মা। তােমার নীল শাড়িটা পরবে। বেশ। বিশেষ কাউকে আসতে বলেছে ?
রাহেলা ইতস্তত করে বললেন, আনিস নামের একটি ছেলে আসার কথা, এন–ডি–এস ইউয়ের টিচার। খুব ভাল ছেলে।
কী করে বুঝলে খুব ভাল ছেলে ? সফিক বলেছে।
রুনকি হাসি হাসি মুখে বললাে, নিশ্চয়ই আনমেরিড। এবং নিশ্চয়ই তুমি চাও আমি খুব ভদ্র নম্র ভাবে তার সঙ্গে কথা বলি। চাওয়াটা কি খুব অন্যায় ?
অন্যায় হবে কেন ? তবে মাস্টারদের আমি দু‘চোখে দেখতে পারি না। | রাহেলা কঠিন চোখে তাকিয়ে রইল। রুনকি বললাে, তােমার চিন্তার কিছুই নেই। আমি খুব ভদ্র ও নম্র ভাবে থাকবাে। একটুও ফাজলামি করবাে না। দেখবে মিষ্টি মিষ্টি হাসছি শুধু।
আনিসের ঘুম ভাঙ্গলাে এগারােটায় ।
সে কয়েক মুহূর্ত নিজের চোখকেই বিশ্বাস করতে পারল না সত্যি সত্যি এগারােটা বাজে ? আজ শুক্রবার সাড়ে ন‘টায় একটা ক্লাশ ছিলাে। তিনশ ছয় নম্বর কোর্স পলিমার বিয়ােলজি। এখন অবশ্যি করার কিছুই নেই। মিস ক্যাথরীনকে টেলিফোন করে দিতে হবে। ক্লাশ মিস করা তেমন কোনাে ব্যাপার নয়। সময় করে নিয়ে নিলেই হবে। কিন্তু ঘুমের জন্যে ক্লাসে না যেতে পারাটা লজ্জার ব্যাপার।
আনিস টেলিফোন হুক লাগানাে মাত্রই টেলিফোন বেজে উঠলাে। হ্যালাে আনিস ভাই? আমি সফিক। বুঝতে পারছি। কাল রাত থেকে এই নিয়ে ছয় বার টেলিফোন করেছি। আপনি কি টেলিফোন
ডিসকানেক্ট করে রেখেছিলেন ?
হ্যা।
সবাই গেছে বনে- হুমায়ূন আহমেদ
আমি ভাবলাম কী ব্যাপার ? এদিকে আপনার মহিলা কবির নাম পেয়েছি। নাম হচ্ছে মেরি স্টুয়ার্ট। | আনিস ক্লান্ত ভঙ্গিতে বলল, মেরি স্টুয়ার্ট নয়। ভদ্রমহিলার নাম এমিলি জোহান। রাত্রে মনে করতে পারছিলাম না এখন মনে পড়েছে।
আনিস ভাই আপনার কি শরীর খারাপ? না শরীর ঠিক আছে। আমিন সাহেবের বাসায় যাবার কথা মনে আছে তাে? আজকে তাে নয়, কাল। হা কাল । শুনুন আনিস ভাই, আমি আসছি। এখন ? এই দশ মিনিটের মধ্যে। সিরিয়াস কথা আছে।
আনিস টেলিফোন রেখে চায়ের পানি বসিয়ে দিল। পানি গরম হতে হতে হাত মুখ ধুয়ে আসা যাবে। হাত মুখ ধুতে গিয়ে মনে পড়লাে আরেকটি প্রাণী আছে। আশ্চর্য এত বড় একটা ব্যাপার এতক্ষণ মনে পড়লাে না কেন? | কিন্তু মালিশা ছিল না। ঘরের বিছানা সুন্দর করে পাতা। বিছানার উপর এক টুকরাে সাদা কাগজ পড়ে আছে। আনিস দেখলাে সেখানে পেন্সিলে লেখা— তুমি ঘুমাচ্ছ দেখে জাগালাম না। অনেক ধন্যবাদ।
আনিসের কেন যেন একটু মন খারাপ লাগলাে। অথচ মন খারাপ হবার কোনাে কারণ নেই । আজকের দিনটি খুবই খারাপ যাচ্ছে। মাঝে মাঝে এরকম খারাপ দিন আসে। কোনাে কিছুই ঠিক মতাে হয় না।
সবাই গেছে বনে- হুমায়ূন আহমেদ
সফিকের দশ মিনিটের মধ্যে আসার কথা। সে দু‘ঘণ্টার মধ্যেও আসলাে না। মিস ক্যাথরীনকেও টেলিফোন করে পাওয়া গেল না। ইউনিভার্সিটিতে এখন গিয়ে হাজির হওয়ার কোনাে মানে হয় না। আনিসের মনে হল তার জ্বর আসছে। কী ভয়ঙ্কর খারাপ দিন। টিভি র নিউজ চ্যানেলে পর্যন্ত একটিও ভাল খবর নেই।
ক্যান্টাকিতে দুটি শিশুকে পুড়িয়ে মেরে ফেলা হয়েছে। সন্ট টু ট্রিটির আলােচনা ভেস্তে গেছে।
বেলজিয়ামের লিয়েগে শহরে একটি ট্রেন নদীতে পড়ে দেড়শ লােকের সলিল সমাধি হয়েছে।
বাগানে চেয়ার সাজানাে হয়েছে।
রুনকির মনে হল তার মা কিছুটা বাড়াবাড়ি করছে। দু’বার টেবিল ক্লথ পাল্টানাে হয়েছে। ফুলদানিতে ফুল সাজানাে হয়েছে। স্টেরিও সিস্টেমকে টেনে আনা হয়েছে বাইরে।
রুনকি বললাে, মা তুমি বড় হুলুস্থুল করছে।
Read more