হুমায়ূন আহমেদের লেখা সে আসে ধীরে খন্ড-২৭

দিবেচেষ্টা করিবে পত্রের বিষয়বস্তু সম্পূর্ণ ভুলিয়া যাইতে । আমি বাবার উপদেশমতাে ফরিদার চিঠি কুচি কুচি করে হাওয়ায় উড়িয়ে দিলাম। দক্ষিণের মৌসুমী বায়ুর কারণে চিঠির কুচিগুলাে কিছুক্ষণ হাওয়ায় উড়লযেকোনাে উড়ন্ত জিনিসই দেখতে ভালাে লাগে। আমার মনে কিছুক্ষণের জন্যে ভালাে লাগার বােধ তৈরি হলাে

ভালাে লাগার বােধ তৈরি হলেই ভালাে মানুষদের সঙ্গ পেতে ইচ্ছা করেমাজেদা খালার বাড়িতে যাওয়া নিষেধ। যােগাযােগের মাধ্যম টেলিফোন। ঠিক করলাম খালু সাহেব টেলিফোন ধরলেই গলা মোেটা করে বলবআচ্ছা এটা কি মােহাম্মদপুর দমকল বাহিনী ? এই মুহূর্তে আমার একটা দমকল দরকার। 

সে-আসে-ধীরে

টেলিফোন ধরলেন খালা। আমি কিছু বলার আগেই খালা বললেন, হিমু না কি ? 

আমি বললাম, বুঝলে কী করে, আমি তাে এখনাে হ্যালাে বলি নি। 

খালা বললেন, খুব প্রিয় কেউ টেলিফোন করলে বােঝা যায়। টেলিফোনের রিং অন্যরকম করে বাজে। 

খালু সাহেব কেমন আছেন? ভালাে। কথা বলে যাচ্ছেন তাে ? 

সারাক্ষণই কথা বলছে। বিরক্ত করে মারছে। অনেকদিন কথা বলতে পারে নি, এখন পুষিয়ে নিচ্ছে। 

সে আসে ধীরে খন্ড-২৭

মাথায় চুল উঠেছে ? উঠেছিল। নাপিত ডাকিয়ে আবার পুরাে মাথা কামিয়েছে।। কেন ? জানি না কেন। তবে সে সুখে আছে। 

বালা আনন্দের হাসি হাসলেনআমি বললাম, অসুখ সেরে যাওয়ায় খালু সাহেব নিশ্চয়ই খুশি। 

খুশি তাে বটেই। তাের উপর কেন জানি খুবই নারাজ। আমি তাের খালুকে বললাম, বেচারা হিমু এত কষ্ট করে চিকিৎসা করিয়ে তােমাকে ভালাে করেছে। তুমি কেন তার উপর নারাজ ? 

তার উত্তরে খালু সাহেব কী বলেছেন ? 

সে চিৎকার করে বলেছে— শাটআপ। তোের নামই সে শুনতে পারে না। নাম শুনলেই চিৎকার চেঁচামেচি করে। আচ্ছা হিমু, ঐ মহিলা পীর কী চিকিৎসা করেছিলেন বল তাে? 

শুনে কী করবে? বাদ দাও। চিকিৎসায় ফল হয়েছে— এটাই আসল কথা । অবশ্যই। 

মনে করা যাক চিকিৎসা হিসেবে সে গু খাইয়ে দিয়েছে। তখন ধরতে হবে। ও হলাে কোরামিন ইনজেকশন। ঠিক না খালা? 

অবশ্যই ঠিক। খালা, কথা শেষ, টেলিফোন রাখি। 

খালা টেলিফোনে চেঁচিয়ে উঠলেন, না না খবরদার। আমি আসল কথা বলতে ভুলে গেছি। আমার কী হয়েছে কে জানে, দুনিয়ার কথা টেলিফোনে বলি, আসল কথা বলতে ভুলে যাই ।। 

আসল কথাটা তাড়াতাড়ি বলাে। নয়তাে আবার ভুলে যাবে। আসমা তােকে খুঁজছে। পাগলের মতাে খুঁজছে। উনি যখন খোঁজেন পাগলের মতাে খোঁজেন। এটা নতুন কিছু না। | এইবার সত্যি সত্যি পাগলের মতাে খুঁজছে। আমার মনে হয় ভয়ঙ্কর কিছু ঘটেছে । 

সে আসে ধীরে খন্ড-২৭

মিসেস আসমা হক পিএইচডি আমার সামনে বসে আছেন। আসমা হকের পাশে তার স্বামী। আমি ভদ্রলােকের নাম জানি ফজলুল আলম। তবে আসমা হক তাঁকে ডাকছেন চার্লি’ নামে। ভদ্রলােকের মধ্যে আমি কোনাে চার্লি ভাব দেখছি 

 উনাকে সিরিয়াস ধরনের মানুষ বলে মনে হচ্ছে। চার্লি নিশ্চয়ই ভদ্রলােকের নাম না। মনে হচ্ছে এটা আসমা হকের দেয়া আদরের নাম। এখন হুট করে আমি যদি বলি— কেমন আছেন চার্লি ভাই– উনি রেগে যেতে পারেন । ভদ্রলােকের চেহারা দেখে মনে হচ্ছে তার ভেতর চাপা রাগ আছে। সুপ্ত আগ্নেয়গিরি টাইপ পুরুষ। অনেকদিন পর পর হঠাৎ করে লাভা বের হয়ে আসে। 

হােটেলের পরিবেশ সংবাদপত্রের ভাষায় অস্বস্তিকর। চার্লি সাহেব ন্যাশনাল জিওগ্রাফি পত্রিকার পাতা উল্টাচ্ছেন। পাতা উল্টানাের ফাকে ফাকে আমাকে দেখছেন। যতবারই দেখছেন ততবারই তার ভুরু কুঁচকে যাচ্ছে। মুখ যদিও হাসি হাসি। আমি যখন বললাম, কেমন আছেন স্যার? তিনি তার উত্তর দিয়ে বললেন, আপনি ভালাে আছেন তাে?

যেসব মানুষ প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে পাল্টা প্রশ্ন করে তাদের বিষয়ে সাবধান থাকা বাঞ্ছনীয়। আসমা হক বললেন, চার্লি তুমি বােধহয় উনাকে চিনতে পার নি।। 

ভদ্রলােক বললেন, চিনতে পারার কথা নয় । ইনার সঙ্গে আমার আগে দেখা হয় নি। তবে টেলিফোনে কথা হয়েছে। 

 

Read More

হুমায়ূন আহমেদের লেখা সে আসে ধীরে খন্ড-২৮

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *