আসমা হক বললেন, এর নাম হিমু। ইমরুলকে ইনিই এনে দিয়েছেন।
ভদ্রলােক বললেন, ও আচ্ছা, আপনিই সেই এজেন্ট! শিশুটিকে আমাদের পছন্দ হয়েছে। আপনি অতি দ্রুত এডপসন পেপারস রেডি করুন। আমরা আর বেশিদিন থাকব না। এক মাস আঠারাে দিন থাকা হয়ে গেছে। এডপসান পেপারস রেডি করতে কতদিন লাগবে ?
এক সপ্তাহ।
আরাে তাড়াতাড়ি করার ব্যবস্থা করুন। শুনেছি এ দেশে টাকা দিয়ে সব কিছু করানাে যায়। টাকা ঢালুন।
জি আচ্ছা ঢালব।
আমি দ্রলােকের দিকে তাকিয়ে আছি। মনে হচ্ছে দ্রলােক রেগে যাচ্ছেন। তিনি যে রেগে যাচ্ছেন তা নিজেও বুঝতে পারছেন। অবশ্যই এটা একটা মহৎ গুণ। বেশির ভাগ মানুষই রেগে যাবার সময় বুঝতে পারে না সে রেগে যাচ্ছে। ভদ্রলােক পত্রিকার পাতা অতি দ্রুত উল্টে রাগ কমানাের চেষ্টা করছেন। এই পদ্ধতিতে রাগ কমবে না।
সে আসে ধীরে খন্ড-২৮
রাগের সঙ্গে বিরক্তি যােগ হবে। কারণ ছাড়া বইয়ের পাতা উল্টানোে বিরক্তিকর ব্যাপার। ভদ্রলােক রেগে যাচ্ছেন কেন বুঝতে পারছি না। তিনি কি ইমরুলকে দত্তক নিতে চাচ্ছেন না ? স্ত্রীর চাপে পড়ে রাজি হয়েছেন ?
আসমা হক বললেন, চার্লি, তুমি কি একটা কাজ করবে ? হােটেলের লবিতে গিয়ে কিছুক্ষণ বসবে ? আমি হিমু সাহেবের সঙ্গে একান্তে কিছু কথা বলব।
ভদ্রলােক স্ত্রীর কথা শুনতে পেলেন বলে মনে হলাে না। হঠাৎ পত্রিকার পাতা উল্টানাে বন্ধ রেখে কঠিন চোখে আমার দিকে তাকিয়ে বললেন, পৃথিবীর কোনাে দেশ নেই যেখানে ট্রাফিক লাইট থাকার পরেও ট্রাফিক পুলিশ আছে। কেন বলুন তাে? ট্রাফিক সিগন্যালে লালবাতি জ্বলছে না সবুজবাতি জ্বলছে তা নিয়ে কেউ মাথা ঘামাচ্ছে না। তাকিয়ে আছে ট্রাফিক পুলিশের দিকে। হােয়াই।
আমি বললাম, বাংলাদেশের মানুষ যন্ত্রে বিশ্বাস করে না। মানুষে বিশ্বাস করে। যন্ত্র সবুজবাতি জ্বালিয়ে যেতে বললেই আমি কেন যাব ? একজন মানুষ বলুক।
আপনি কত হাস্যকর একটা যুক্তি দিয়েছেন তা কি জানেন ? জি জানি। যে জাতি যন্ত্র বিশ্বাস করে না সেই জাতির ভবিষ্যৎ কী তা জানেন ? ভবিষ্যৎ অত্যন্ত উজ্জ্বল হবার কথা।
ভদ্রলােকের চোখ ধক করে উঠল। মনে হচ্ছে সুপ্ত আগ্নেয়গিরি জেগে উঠছে। আসমা হক গলা কঠিন করে বললেন, চার্লি, তুমি কি তােমার ম্যাগাজিনটা নিয়ে লবিতে কিছুক্ষণ বসবে? হিমুর সঙ্গে আমার জরুরি কিছু কথা আছে।
সে আসে ধীরে খন্ড-২৮
আমিও কিন্তু জরুরি কথা বলছি।
না, তুমি জরুরি কথা বলছ না। তুমি রাগ করার মতাে অজুহাত তৈরি করার চেষ্টা করছ।
দ্রলােক ম্যাগাজিন ছাড়াই উঠে দাঁড়ালেন। ঘর থেকে বের হয়ে গেলেন। আবার সঙ্গে সঙ্গে ঘরে ঢুকে ম্যাগাজিন হাতে নিলেন। কিছুক্ষণ আমার দিকে তাকিয়ে রইলেন। আসমা হক বিরক্ত গলায় বললেন, কী হলাে?
তিনি বললেন, লবিতে যাচ্ছি। তােমাদের কথাবার্তা শেষ হলে আমাকে ডেকে নিও।
আসমা হক আমার দিকে তাকিয়ে বললেন, চার্লি অনিয়ম সহ্য করতে পারে । অনিয়ম দেখলেই রেগে যায়। হিমু, আপনি চা-কফি কিছু খাবেন?
আপনার খালা বলছিলেন, আপনার সুপার ন্যাচারাল পাওয়ার মারাত্মক, অনেকবার আপনি আপনার এই ক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছেন। এটা কি সত্যি? | না, একেবারেই সত্যি না। সুপারম্যানরা থাকে কমিকের বই-এ, পৃথিবীতে থাকে না।
আমার তাে ধারণা আপনার খালার কথা সত্যি। আপনি আমাকে বলেছিলেন আমি শেষপর্যন্ত কোনাে শিশু দত্তক নেব না, কারণ আমার নিজেরই সন্তান হবে।
হ্যা, একটা মেয়ে হবে। মেয়ে হবার কথা বলেন নি। আসলে ভুলে গেছি কী বলেছিলাম।
আসমা হক বড় করে নিঃশ্বাস ফেলে বললেন, গত আঠারাে বছর ধরে আমি আর আমার স্বামী সন্তানের জন্যে এমন কোনাে চেষ্টা নেই যা করি নি। এমন কোনাে চিকিৎসা নেই যা করাই নি। একবার পত্রিকায় পড়লাম নিউজিল্যান্ডের মুর আদিবাসীরা নিঃসন্তান দম্পতিকে কী এক আরক খেতে দেয়, তাতে সন্তান লাভ হয়। আমি নিউজিল্যান্ডের আরও খেয়েছি ।
আরকটা খেতে কেমন ছিল?
আসমা হক বিরক্ত গলায় বললেন, সস্তা রসিকতা আমার সঙ্গে করবেন না। আরক খেতে কেমন ছিল সেই আলাপ করবার জন্যে আপনাকে ডাকি নি।
কী জন্যে ডেকেছেন ?
Read More