হুমায়ন আহমেদ এর রোদনভরা এ বসন্ত (পর্ব-১৪)

এখন থেকে আমি বায়ু-ভুক। 

আজকেও কিছু খাবেন না

 কিছু না খাওয়াও এক ধরনের চিকিৎসা। এই চিকিৎসার নাম উপবাস চিকিৎসারোদনভরা এ বসন্ত অন্য কিছু খাইতে ইচ্ছা করে

এই মুহূর্তে একটা জিনিস খেতে ইচ্ছা করছেজিনিসটার নাম মার্বেল সিঙাড়ামার্বেলের সাইজএকসঙ্গে দুটাতিনটা মুখে দেয়া যায়মগবাজার কাজি অফিসের কাছে এই সিঙাড়া বানানাে হয়মীরুর খুবই পছন্দের খাদ্যএকবার সে আটত্রিশটা সিঙাড়া খেয়ে ফেলেছিলতখন আমি তাকে টাইটেল দিলাম সিঙাড়া কন্যাএই অপূর্ব সিঙাড়া যে কারিগর বানায় তার নাম নেক মর্দঅদ্ভুত নাম না

রফিক জবাব দিল নাপেপের প্লেট নিয়ে চলে গেলবারসাত চিৎ অবস্থা থেকে পাশে ফিরলতার মাথায় কবিতার লাইন আসছে। সবই উল্টা হয়ে আসছেব্যাপারটা কী? মাথা কি পুরাে খারাপ হয়ে গেল— 

রফিক বিরক্ত মুখে দরজার কাছে এসে দাঁড়ালবারসাত বলল, তাড়াতাড়ি বালতিটা আনােআমি বমি করব বমির টাইম চলে এসেছেবমি করার পর কী হবে জানাে? We all fall down

রফিক বালতি নিয়ে এসেছে। বালতির রঙ ঘন লীল। রঙটা চোখে লাগছেঅসুস্থ অবস্থায় কটকটা হলুদ রঙ চোখে লাগেলাল রঙ লাগেনীল রঙ কি লাগে

রোদনভরা এ বসন্ত (পর্ব-১৪)

রফিক! জি স্যারআমি আর বাঁচব না। আমার আত্মীয়স্বজনকে খবর দাওস্যার বলেন কারে খবর দিব। 

আমার মাকে খবর দিতে পার তাকে খবর দেবার সমস্যা কী জানাে? তিনি এসেই আমার সঙ্গে ঝগড়া শুরু করবেনক্যাটক্যাট কথা বলবেন। এমন সব কথা যা শুনলে নিতান্ত ভালােমানুষের গায়েই আগুন ধরে যাবে। 

স্যার কথা না বলে চুপ করে শুয়ে থাকেনরেস্ট নেন। 

কথা বলাতেই আমার রেস্ট হচ্ছেরবীন্দ্রনাথের একটা বিখ্যাত গান আছে— আমার এই কথা বলাতেই আনন্দউঁহু ভুল করেছি, গানটা হচ্ছে আমার এই পথ চলাতেই আনন্দরফিক। 

জি।। | তুমি বিরক্ত মুখ করে হলেও আমার যথেষ্ট সেবা করেছআমি যদি কোটিপতি হতাম তাহলে উইল করে তােমাকে লাখ বিশেক টাকা দিয়ে যেতামআমি হতদরিদ্র। বাজারে আমার দেনা হল তেইশ হাজার টাকাবিয়ে যে আমার হয়নি সেটা একদিক দিয়ে ভালােই হয়েছেরফিক! 

জি। 

দুটা মাছি আমার নাকের কাছে ভ্যান ভ্যান করছিলএরা কোথায় গেছে একটু দেখ তােএদেরকে ধরার জন্যে একশটাকা পুরস্কার ঘােষণা করেছিলামজীবিত বা মৃত একশ’ টাকা দেয়া হবে। 

স্যার আপনি শুয়ে থাকেন আমি মাথায় পানি ঢালি। 

যা ঢালতে ইচ্ছা হয় ঢাল। একটাই শুধু কথা, আমার মা যদি আমার খোজে চলে আসে তাহলে বলবে আমি মারা গেছি। বলতে পারবে না

আখিরা নম্পক নক্ষুব্ধক্ষু প্রােলজ আকিআঁ যাকিআঁ গুচিণরচ লজস 

বারসাত বুঝতে পারছে না তার পৃথিবী উল্টো হয়ে যাচ্ছে কি নামাথার ভেতর বড় রকমের কোনাে ঝামেলা অবশ্যই হচ্ছে হােক ঝামেলামাথার ভেতর উলটপালট ঝামেলা হলে খারাপ লাগে না। 

রোদনভরা এ বসন্ত (পর্ব-১৪)

Ring a Ring Oroses A pocket full of poises 

Atishoo! Atishoo

We all fall down. এই কবিতাটা মাথায় উল্টা আসেনিঠিকমতােই এসেছে১৬৬৫ সনে লন্ডনে যখন ভয়াবহ plague দেখা দিল তখন লন্ডনের ছেলেমেয়েরা এই ছড়াটা রাস্তায় রাস্তায় বলে বেড়াতWe al1 fall down. আমরা সবাই মরে পড়ে যাবকারণ আমাদের হয়েছে ভয়াবহ ব্যাধি- গে । 

রফিক রফিক। 

অবশ্যই বলতে পারবে । বলতে না পারার কিছু নেই। সামান্য মিথ্যা বলা হবে। তবে ঠিক মিথ্যাও না। আমি তাে মারাই যাচ্ছি। আমি যদি অতি বিখ্যাত কেউ হতাম তাহলে তুমি একটা বই লিখতে পারতে– 

‘বারসাত আলীর সঙ্গে 

শেষ কিছু সময়। আমি বিখ্যাত কেউ না । বিখ্যাত কেউ হবার কোনাে সম্ভাবনাও আমার মধ্যে নেই। আমার মত মানুষরা জীবন শুরু করে প্রাইভেট টিউটর হিসেবে। জীবন শেষ করে কোচিং সেন্টারের ম্যানেজার হিসেবে। 

রফিক বারসাতের মাথায় পানি ঢালতে শুরু করেছে। বারসাত কথা বলা বন্ধ করেছে। তবে এখন তার অন্য সমস্যা দেখা দিয়েছে। তার কাছে মনে হচ্ছে বিছানার পাশে তার মা দাড়িয়ে আছেন। তাঁর মুখ থেকে জর্দার গন্ধ পর্যন্ত পাওয়া যাচ্ছে। জর্দার কড়া গন্ধের কারণে বারসাত বুঝতে পারছে না তার মা কি সত্যি সত্যি চলে এসেছেন না কি সে যা দেখছে ঘােরের মধ্যে দেখছে। 

মা’কে দেখতে ইচ্ছা করছে না। বারসাত চোখ বন্ধ করল। তাতেও লাভ হল না। চোখ বন্ধ অবস্থাতেও সে তার মা’কে পরিষ্কার দেখতে পেল। 

লাভের মধ্যে লাভ আগের মা জর্দার গন্ধ নিয়ে চুপচাপ দাঁড়িয়ে ছিলেন। এই মা কথা বলা শুরু করলেন। 

এই তাের কী হয়েছে? জানি না। শরীর থেকে চামড়া উঠছে না কি? শরীর থেকে চামড়া উঠবে কেন? আমি কি সাপ? 

শরীর থেকে চামড়া ওঠা রােগ তাের বাপেরও হয়েছিল। এই রােগেই সে মারা গেল। এটা তােদের বংশের ধারা । চামড়া ওঠা রােগে মৃত্যু। 

 

Read more

হুমায়ন আহমেদ এর রোদনভরা এ বসন্ত (পর্ব-১৫)

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *