হুমায়ন আহমেদ এর রোদনভরা এ বসন্ত (পর্ব-১৫)

দুষ্টু লােকে বলে বাবা মারা গেছেন তােমার ক্যাটক্যাটানি শুনে । বাবা যখন মৃত্যুশয্যায় তখনাে তুমি তার কানের কাছে দিনরাত ক্যাটক্যাট করেছ।

রোদনভরা এ বসন্ততাের বাপের সঙ্গে কী করেছি সেটা তাের বাপের আর আমার ব্যাপার। রােজ হাশরে আমার মধ্যে আর তাের বাপের মধ্যে ফয়সালা হবে । 

ফয়সালা হলে তাে ভালােই। লােকমুখে শুনলাম তুই গােপনে বিয়ে করেছিস। 

বিয়ে করার চেষ্টা করেছিলাম মা। শেষ মুহূর্তে পাত্রী আসেনি বলে বিয়ে হয়নি। 

তাহলে তাে ভালােই হল। এখন তুই আমার বােনের মেয়েকে বিয়ে কর। 

‘ফাতিল’কে বিয়ে করতে বলছ? ফাতিলটা আবার কে? 

লতিফাকে উল্টো করে বললাম ফাতিল। এখন বেশির ভাগ শব্দ আমার মাথায় উল্টো করে আসছে। 

লতিফার মত মেয়ে পাবি না। তােকে সে মাথায় করে রাখবে। একশ’ বার লাথি দেবার পরেও মাথা নিচু করে রাখবে। কোনাে শব্দ করবে না। 

বারসাত গুনগুন করে বলল, 

লাথি-কন্যা নাম 

আজ আমি তােমাকে দিলাম। কী বললি? একটা কবিতা বলেছি মা। কী কবিতা? 

লতিফাকে নিয়ে কবিতা। তুমি কি একটা কাজ করবে? লতিফাকে পাঠিয়ে দেবে। আমি অসুস্থ মানুষ। সে আমার সেবা করুক। 

তুই কি পাগলটাগল হয়ে গেলি? একটা কুমারী মেয়েকে এমন নির্জন জংলা টাইপ জায়গায় একা পাঠিয়ে দেব? তাের চিন্তা-ভাবনা তাে ভালাে না। তাের চিন্তা-ভাবনাও দেখি তাের বাবার মত। 

বাবার চিন্তা-ভাবনা এ রকম ছিল? 

হুঁ। আমি তাের বড় বােনের জন্মের সময় এক মাস ছিলাম হাসপাতালে। হাসপাতাল থেকে ফিরে এসে দেখি তাের বাবা অল্প বয়েসী এক কাজের বুয়া রেখেছে । সেই বুয়া ঠোটে লিপস্টিক মাখে। তাের বাবার দিকে তাকিয়ে কেমন করে জানি হাসে। 

তুমি কি করলে, ঝেটিয়ে বিদায় করলে? 

বিদায় করব কি? তাের বাবা বিদায় করতে দিলে তবে না বিদায় করব। একদিন দেখি কি সে তাের বাবার পিঠে তেল মালিশ করে দিচ্ছে । 

ঐ বুয়ার নাম কি ছিল মা? রানী। শেষ পর্যন্ত তাকে বিদায় করলে কি ভাবে মা? 

কি কষ্টে যে বিদায় করেছি তা শুধু আমি জানি আর আল্লাহপাকে জানেন। তাের বাবা তাকে ছাড়াবে না, সেও এই বাড়ি ছেড়ে যাবে না । 

উনি দেখতে কেমন ছিলেন মা? উনি উনি করছিস কেন? কাজের বুয়ার আবার উনি কি । 

দুষ্ট লােকে যে বলে বাবা গােপনে ঐ বুয়াকে বিয়ে করেছিলেন সেই জন্যেই সম্মান করে উনি বলছি। 

এক থাপ্পড় দিয়ে আমি তাের দাঁত ফেলে দেব ।। ছড়া শুনবে মা? 

কী শুনব? ছড়া। ইংরেজি ছড়া— 

BARI 

allah 

nine Badaima 

Atishoo! Atishoo! We all fall down. 

এর মানে কী? 

এর মানে হল আমাদের সবারই প্লেগ রােগ হয়েছে। আমরা সবাই মরে পড়ে থাকব তুমি, আমি, রানী বুয়া, লতিফা, ঐন্দ্রিলা, নীলুফার। 

আমি কি ঐন্দ্রিলার সঙ্গে কথা বলতে পারি? তার আরেক নাম মীরু। 

আমার নাম ঐন্দ্রিলা। আপনি কে? ঐন্দ্রিলা তুমি আমাকে চিনবে না। আমার নাম নীলুফার … আমি … 

আপনি কি অন্য কোন সময় টেলিফোন করবেন? আজ আমাদের বাসায় বিরাট ঝামেলা। 

 ঐন্দ্রিলা আমি তিন মিনিটের বেশি সময় নেব না। আমার নাম নীলুফার।

 

Read more

হুমায়ন আহমেদ এর রোদনভরা এ বসন্ত (পর্ব-১৬)

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *