হুমায়ন আহমেদ এর রোদনভরা এ বসন্ত (পর্ব-১৬)

আমার ছেলের নাম টুকটুকি। বারসাত আমার ছেলের প্রাইভেট টিউটর। তুমি নিশ্চয়ই বারসাতকে চেন? চেন না?রোদনভরা এ বসন্তজি চিনি। 

আমি যতদূর জানি বারসাতের সঙ্গে তােমার বিয়ের কথা হয়েছিল। আমি ছিলাম একজন সাক্ষী। তুমি আসনি… আমরা অনেকক্ষণ অপেক্ষা করলাম …. 

আপনার সঙ্গে আরেকদিন কথা বলি। আজ আমাদের বাসায় বিরাট ঝামেলা। 

আমার কথা শেষ হয়ে গেছে। ঐদিন তুমি আসনি। কেন আসনি সেটা তােমার ব্যাপার। না আসার মত কারণ নিশ্চয়ই তােমার আছে। আমি তােমাকে টেলিফোন করেছি বারসাতের খবর জানার জন্যে। ও হঠাৎ উধাও হয়ে গেছে। বারাসাত কোথায় আছে জানাে? 

 

কালিয়াকৈরে বারসাতের দূর সম্পর্কের কোন আত্মীয়ের একটা বাগানবাড়ি আছে । বিয়ের পর তােমাকে নিয়ে বারসাতের সেই বাগানবাড়িতে যাবার কথা ছিল। তুমি কি সেই বাগানবাড়ির ঠিকানা জানাে? 

না। 

বারসাতের তিন বােন ঢাকায় থাকে। তার মা-ও ঢাকায় থাকেন। তুমি কি তাদের ঠিকানা জানাে? 

আমার কেন জানি মনে হচ্ছে তুমি আমার কথায় বিরক্ত হচ্ছ। তােমাকে বিরক্ত করা আমার উদ্দেশ্য না। আমি বারসাতের খোঁজ জানতে চাচ্ছি। ওর কোন বন্ধু-বান্ধবের টেলিফোন নাম্বার কি তুমি জানাে? 

না।। 

তুমি কি আমার টেলিফোন নাম্বারটা রাখবে? যদি তােমার সঙ্গে বারসাতের যােগাযােগ হয় তাহলে কষ্ট করে যদি আমাকে জানাও। I will be so happy. 

রোদনভরা এ বসন্ত (পর্ব-১৬)

 দিন আপনার টেলিফোন নাম্বার। 

আমি তুমি তুমি করে বলছি। দয়া করে এতে কিছু মনে করাে না। আমি বয়সে তােমার অনেক বড়। 

আপনি টেলিফোন নাম্বারটা দিন। তােমার সঙ্গে কাগজ-কলম কি আছে? 

কাগজ-কলম লাগবে না। টেলিফোন নাম্বারটা বলুন। একবার শুনলেই আমার মনে থাকবে। আমার স্মৃতিশক্তি ভাল। 

আচ্ছা থাক তােমার টেলিফোন নাম্বার রাখতে হবে না। মনে হচ্ছে তুমি খুবই বিরক্ত। সরি। 

নীলুফার খট করে টেলিফোন রেখে দিল । মীরুর মুখে কোন ভাবান্তর হল না। সে টেলিফোন রেখে ছুটে গেল রান্নাঘরে । রান্নাঘরে আজ ক্রমাগত চা বানানাে হচ্ছে। ভাপা পিঠা বানানাে হচ্ছে। যার ইচ্ছা চা ভাপা পিঠা নিয়ে যাচ্ছে। বাড়ি ভর্তি মানুষ। পিঠা এবং চা বানিয়ে দু’জন কাজের মেয়ে এবং মীরুর মা জাহেদা বানু কূল পাচ্ছেন না। 

বাড়িতে চা এবং ভাপা পিঠা এই বিপুল আয়ােজনের কারণ হচ্ছে আফজল সাহেব আজ সকালে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন। তিনি 

নাস্তা হিসেবে ভাপা পিঠা খেতে চেয়েছেন। তার বাড়ি ফেরা উপলক্ষে দুনিয়ার আত্মীয়-স্বজন এ বাড়িতে ভিড় করেছে। আফজল সাহেব ভাব করছেন যে তিনি খুব বিরক্ত হচ্ছেন, আসলে তা না। তিনি অত্যন্ত খুশি। তিনি চাচ্ছেনও না যে কেউ বাড়ি থেকে চলে যাক। তিনি মীরুকে ডেকে ষড়যন্ত্র করার ভঙ্গিতে বললেন, এরা তাে কেউ নড়বে বলে মনে হচ্ছে না। দুপুরে খাবার ব্যবস্থা করা দরকার। কি করা যায় বল তাে? 

মীরু বলল, তােমাকে এইসব নিয়ে চিন্তা করতে হবে না। তুমি ভাপা পিঠা খাচ্ছ, ভাপা পিঠা খাও। মা আছে মা যা পারে করবে। 

তাের মার মাথায় এত বুদ্ধি থাকলে তাে কাজই হত। বিয়ের সময় সে তার সব বুদ্ধি বাবার বাড়ির কোন একটা ট্রাংকে তালাবদ্ধ করে চলে এসেছে। এক কাজ করা যাক ওয়ান আইটেম রান্না হােক। তেহারি। 

মীরু বলল, বাবা কি আইটেম রান্না হবে, হবে না এইসব নিয়ে কথা। বলতে আমার একেবারেই ইচ্ছা করছে না। 

আফজল সাহেব দুঃখিত গলায় বললেন, তুই কি কোন কারণে আমার ওপর রেগে আছিস? 

হুঁ রেগে আছি। আফজল সাহেব বিস্মিত গলায় বললেন, কেন রেগে আছিস? 

রোদনভরা এ বসন্ত (পর্ব-১৬)

মীরু বলল, আমি রেগে আছি কারণ তুমি অসুস্থ হবার পর থেকে ধারাবাহিকভাবে মা’র বদনাম করে যাচ্ছ। যেই আসছে তাকেই বলার চেষ্টা করছ মা কত খারাপ একজন মহিলা। হার্ট এটাকের রােগী ফেলে বােনের মেয়ের বিয়ে খেতে চলে গেছে। 

কথাটা তাে সত্যি। 

কথা সত্যি না। মা যখন বিয়ে খেতে গিয়েছে তখনাে তােমার হার্ট এটাক হয়নি। হার্ট এটাক হলে মা তােমাকে ফেলে যেত না। এই সত্য তােমার চেয়ে ভাল কেউ জানে না। 

আফজল সাহেব বললেন, যে দু’একজনের সঙ্গে এই কথা বলেছি। তারা সবাই নিজের লােক। বাইরের কেউ না। আপনা লােকের কাছে। দু’একটা ভুল ভাল কথা বললে কিছু যায় আসে না। 

তুমি বাইরের মানুষের সামনেও মাকে অপমান করেছ। সেটা আবার কখন করলাম? 

ডাক্তার যখন মা’কে ওষুধপত্র বুঝিয়ে দিচ্ছিল তখন তুমি বললে, এই।

 

Read more

হুমায়ন আহমেদ এর রোদনভরা এ বসন্ত (পর্ব-১৭)

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *