অমানুষ পর্ব – ৫ হুমায়ূন আহমেদ

অমানুষ পর্ব – ৫

রুন দারুণ বিরক্ত হল।একজন লোক আগ্রহ করে নিতে চাইছে, কিন্তু মেয়ে যাবে না। এর মানে কী?কতরকমের মজার ব্যবস্থা আছে। সারারাত জেগে সার্কাস-টার্কাস দেখবে, তা না, অ্যানি মুখ গোজ করে আছে।কেন যাবে না, অ্যানি?

আমার ভালো লাগে না।

ভালো না লাগার কী আছে এখানে।

বললাম তো আমার কোথাও যেতে ইচ্ছা করছে না।

সার্কাস দেখতে তোমার ভালো লাগে না?

অ্যানি চুপ।

পুতুলনাচ দেখতে ভালো লাগে না?

কোনো জবাব নেই।

তার ওপর প্যান্টোমাইম আছে।

অ্যানি টেনে টেনে বলল, তুমি যদি যাও তা হলে আমি যাব না।রুন বিরক্ত স্বরে বলল, আমি তোমার কোনো অজুহাত শুনতে চাই না। তুমি যাবে এবং হাসিমুখে যাবে। একটা লোক এত টাকা খরচ করে টিকিট এলেছে, না, সে যাবে না! দিনরাত ঘরে বসে থেকে এটা তোমার হয়েছে।মা, আমি কোথাও যেতে চাই না।এ ব্যাপারে আমি আর কথা বলতে চাই না। তুমি তোমার কাপড় গুছিয়ে রাখো। সন্ধ্যাবেলা এতরা চাচা তোমাকে তুলে নিয়ে যাবে।অ্যানি তার বাবাকে গিয়ে ধরল, বাবা, আমি ঐ জাহাজে যেতে চাই না।

কেন মা?

আমার ভালো লাগছে না।

শরীর খারাপ?

না, শরীর ঠিকই আছে?

তা হলে কি মন-খারাপ? মন-খারাপ হলে তো যাওয়াই উচিত। তা হলে মন ভালো হবে। তা ছাড়া বহু টাকা খরচ করে তোমার এতরা চাচা টিকিট কেটেছেন। সেটা দেখতে হবে না? আমার একটুও ইচ্ছা করছে না বাবা।ইচ্ছে না করলেও আমাদের অনেক কিছু করতে হয়। তুমি না গেলে তোমার মা খুব রাগ করবেন। তোমার মা রাগ করলে কী অবস্থা হয় তা তো তুমি জানোই। জানো না?

অমানুষ পর্ব – ৫

জানি।যাও মা, ঘুরে আসো। বেশ লাগবে তোমার। মনে হবে কেন যে আগে আসতে চাইনি! রাত দশটার পর জামশেদ দরজা বন্ধ করে দেয়। আজকেও করে দিয়েছে। সুটকেস খোলা হয়েছে। হুইসকির পেটমোটা বোতল বের হয়েছে। বোতলের মুখ খোলবার আগেই দরজায় আলতো করে টোকা পড়ল।কে?

কোনো উত্তর নেই। জামশেদ বোতলটা ব্যাগে ঢুকিয়ে ফেলল।কে? কোনো উত্তর নেই। জামশেদ দরজা খুলে দেখে ঘাসের স্লিপার পায়ে দিয়ে অ্যানি দাঁড়িয়ে আছে শুকনোমুখে।

কী ব্যাপার?

আমি তোমার সঙ্গে একটা কথা বলতে চাই।

না।

কথাটা সকালে বললে হয় না?

এসো, ভেতরে এসে বলো।অ্যানি নিঃশব্দে ভেতরে এল। জামশেদ দেখল মেয়েটির চোখ ফোলা। নিশ্চয়ই দীর্ঘ সময় ধরে কাঁদছে।কী বলবে বলো।কাল সন্ধ্যায় এতরা চাচা আমাকে একটা জাহাজে নিয়ে যাবে। সেখানে সারারাত ধরে সার্কাস-টার্কাস হবে।অ্যানি দম নেয়ার জন্যে থামল। জামশেদ কিছুই বলল না।আমি সেখানে যেতে চাই না।

ও।

ঐ লোকটা ভালো না। আমি অনেক কিছু বুঝতে পারি। আমি আগের মতো ছোট না।

তুমি তোমার বাবা-মাকে বলেছ?

বলেছি। কিন্তু কোনো লাভ হয়নি?

তুমি কি বলেছ এতরা চাচা লোকটি খারাপ?

না।অ্যানি ফুঁপিয়ে উঠল। জামশেদ ভারী গলায় বলল, যাও, ঘুমুতে যাও। অনেক রাত হয়েছে। নাও, এই তোয়ালেটা দিয়ে চোখ মোছো।অ্যানি চোখ মুছে শান্তস্বরে বলল, শুভ রাত্রি, মিঃ জামশেদ।শুভ রাত্রি।

অমানুষ পর্ব – ৫

এতরা এসে পড়ল পাঁচটার মধ্যেই। তার গায়ে চমৎকার একটা সার্জের কোট। পিঠে বাটিকের কাজ-করা চামড়ার একটা ব্যাগ।অ্যানি, তৈরি তো? রুন বলল, হ্যাঁ, তৈরি হচ্ছে। আর ঝামেলার কথা বল কেন, হঠাৎ করে বলছিল সে যাবে না। তার নাকি ভালো লাগছে না।কী আশ্চর্য, ভালো লাগছে না কেন? কোথায়, অ্যানি কোথায়?

সাজগোজ করছে।

যাচ্ছে তো এখন?

হ্যাঁ, যাচ্ছে।

যাক, তাও ভালো।

অ্যানি লাল রঙের একটি ম্যাক্সিজাতীয় ড্রেস পরেছে। ড্রেসটির জন্যেই হোক বা অন্য কোনো কারণেই হোক অ্যানিকে বেশ বড় বড় লাগছে। পনেরো-ষোলো বছরের তরুণীর মতো। রুন অবাক হয়ে বলল, বাহ, চমৎকার লাগছে তো? গালে কি তুমি রুজ দিয়েছ, অ্যানি? নাহ।রুজ ছাড়াই গাল এমন লাল দেখাচ্ছে? আশ্চর্য তো! এতরা, দ্যাখো, আমার মেয়েকে দ্যাখো। পরীর মতো লাগছে না?

হ্যাঁ, তা লাগছে। মেয়ে মায়ের মতোই হয়েছে।গেটের পাশে জামশেদ দাঁড়িয়ে ছিল। এতরা অ্যানিকে নিয়ে গেটের কাছে আসতেই সে বলল, মিঃ এতরা, অ্যানিকে যে তুমি জাহাজে নিচ্ছ, সেখানকার নিরাপত্তার ব্যবস্থা সম্পর্কে আমি তো কিছু জানি না।তোমার জানার কোনো দরকার আছে কি?

আছে। আমাকে বেতন দিয়ে রাখা হয়েছে অ্যানির নিরাপত্তার জন্যে। কাজেই অ্যানি যেখানে যাবে আমিও সেখানে যাব।এতরা স্তম্ভিত হয়ে গেল। বলে কী এই উজবুক। আমি একে নিয়ে যাচ্ছি এটা কি যথেষ্ট নয়?

না মিঃ এতরা, মোটেই যথেষ্ট নয়। আমি সঙ্গে যাচ্ছি।এতরা দেখল, লোকটির কালো চোখ পাথরের মতো কঠিন। এ যাবেই সঙ্গে, এতে ভুল নেই।অ্যানির ফ্যাকাশে ঠোঁটে যেন রক্ত ফিরে এসেছে। সে মনে হচ্ছে অন্যদিকে তাকিয়ে হাসি গোপন করতে চেষ্টা করছে।

অমানুষ পর্ব – ৫

তোমাকে সঙ্গে নেয়ার জন্য কোনো বাড়তি টিকিট নেই।তা হলে আজ যাওয়াটা বাতিল করতে হবে।আমার মনে হয় একটা ছোট ব্যাপারকে এখানে অনেক বড় করে দেখা হচ্ছে।আমার তা মনে হয় না মিঃ এতরা।এতরা তীক্ষ্ণদৃষ্টিতে তাকাল।জামশেদ শান্তস্বরে বলল, চেষ্টা করলে এখনও হয়তো আরো একটি টিকিট জোগাড় করা যেতে পারে।

এত সময় আমার নেই। আমি একজন ব্যস্ত মানুষ।তা হলে বরং অন্য কোনোদিন হবে।এতরা জবাব দিল না।ভিকি অনেক রাতে ঘুমুতে এসে দেখে রুল জেগে আছে। ব্যাপারটি অস্বাভাবিক। রুন এত রাত পর্যন্ত জাগে না। রাত জাগলে তার চোখের নিচে কালি পড়ে। এটি সে হতে দেয় না। শরীর ঠিক রাখার জন্যে অনেক কঠিন নিয়ম মেনে চলে সে।ভিকি বলল, কী ব্যাপার, এখনও জেগে আছ যে? দেড়টা বাজে।

তোমার জন্যে জেগে আছি।

কিছু হয়েছে নাকি?

ঐ লোকটার চাকরি নট করে দাও।

কার চাকরি নট করব?

জামশেদ না কী যেন নাম-অ্যানির বডিগার্ড।

ব্যাপারটা কী?

অত্যন্ত অভদ্র ব্যবহার করেছে সে।

কার সঙ্গে? তোমার সঙ্গে?

না, এতরার সঙ্গে। এতরা ভীষণ রেগে গেছে।

ঘটনাটা খুলে বলল রুন। ভিকি গম্ভীর হয়ে বলল, এটা বলার জন্যেই তুমি এত রাত পর্যন্ত জেগে বসে আছে? ঘটনাটা তোমার কাছে খুব সাধারণ মনে হচ্ছে? এতবড় অপমান করল সে এতরাকে। শেষ পর্যন্ত এতরা অ্যানিকে রেখে গেল।এতরার অপমানিত বোধ করার তো কোনো কারণ নেই। লোকটি তার ডিউটি করেছে।ডিউটি? কিসের ডিউটি?

অ্যানির নিরাপত্তার দিকে লক্ষ রাখার ডিউটি। লক্ষ রাখা—যাতে কেউ অ্যানিকে কিডন্যাপ না করে।

রুন রেগে গিয়ে বলল, কে কিডন্যাপ করবে অ্যানিকে?

আমারও তো সেই প্রশ্নই ছিল। কিন্তু তখন তুমিই আমাকে অন্যরকম বুঝিয়েছ।

বেশ, আমি ভুল করেছি।

বডিগার্ডের ভূত তোমার ঘাড় থেকে নেমেছে?

রুন জবাব দিল না।

বডিগার্ডের আর তা হলে প্রয়োজন নেই?

না।

খুব ভালো।

এখন বলো কবে তাড়াচ্ছ লোকটাকে?

অমানুষ পর্ব – ৫

বললেই তো আর হুট করে তাড়ানো যায় না। চাকরি থেকে বরখাস্ত করতে হলে খুব ভালো কারণ থাকতে হবে। নয়তো ইউনিয়নের ঝামেলায় পড়ব।কিন্তু চাকরি দেবার সময় তো তুমি বলেছিলে টেম্পোরারি অ্যাপয়েন্টমেন্ট, বলনি? হ্যাঁ, তা বলেছি। কিন্তু টেম্পোরারি অ্যাপয়েন্টমেন্টেও তিনমাস শেষ হবার আগে নোটিস দেয়া যায় না। তুমি এত ব্যস্ত হয়ে উঠলে কেন?

এতরা খুব রাগ করেছে। একে তো এতরাই জোগাড় করে এনেছিল। এতরা আমাকে বলেছে ঐ লোকটি না বিদেয় হওয়া পর্যন্ত সে এ-বাড়িতে আসবে না।না আসুক। তার আসতেই হবে এমন কোনো কথা আছে? তার মানে? কী বোঝাতে চাচ্ছ তুমি? কিছুই বোঝাতে চাচ্ছি না। ভোর হোক তখন দেখা যাবে। এখন ঘুমাও! অসংখ্য ঝামেলা আমার মাথায়। এইসব সামান্য ব্যাপার নিয়ে হৈচৈ করতে ভালো লাগছে না।তোমার আবার কী ঝামেলা?

ব্যাংক থেকে লোন পাওয়া যাচ্ছে না। একটা থেকে না পাওয়া গেলে অন্যটা থেকে পাওয়া যাবে। ভিকি কথা না বাড়িয়ে ঘুমুতে গেল। রুন মাথার চুল আঁচড়াতে আচড়াতে বলল, ঐ লোকটি মনে হল অ্যালকোহলিক। মারিয়া জানালা দিয়ে দেখেছে রাতের বেলা বোতল নিয়ে বসে ও।এটুআধটু ড্রিংক তো সবাই করে।

তা করে, কিন্তু কেউ দরজা-টরজা লাগিয়ে করে না। আমি এ-বাড়িতে কোনো মাতালকে রাখব না।সকাল হোক, আলাপ করে ঠিক করব কী করা যায়। এখন দয়া করে ঘুমুতে যাও।টুক টুক করে টোকা পড়ছে দরজায়। জামশেদ ভারীস্বরে বলল, কে? আমি। আমি অ্যানি।কী চাই? আমি তোমাকে ধন্যবাদ দিতে এসেছি।ঠিক আছে। এবার যাও।আমি তোমার জন্য কয়েকটা গোলাপ ফুল এনেছিলাম।

অমানুষ পর্ব – ৫

ফুল লাগবে না। তুমি যাও।অ্যানি তবুও দীর্ঘ সময় দরজার সামনে দাঁড়িয়ে রইল। মারিয়া কফির পেয়ালা হাতে বাইরে বেরিয়ে দেখল অ্যানি চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে। ব্যাপারটা তার ভালো লাগল না। একটা ভয়ংকর লোকের দরজার সামনে ভোরবেলায় ফুল-হাতে দাঁড়িয়ে থাকাটা চট করে চোখে লাগে। ব্যাপারটা রুনকে বলতে হবে। মারিয়া ডাকল, অ্যানি!

হ্যালো, মারিয়া।

কী করছ একা একা?

কিছু করছি না।

ফুল কার জন্যে?

অ্যানি হাসিমুখে বলল, বুড়ো ভালুকের জন্যে।

হঠাৎ ফুল কেন? কোনো বিশেষ কারণ আছে?

আছে। তোমাকে বলা যাবে না।মারিয়ার ভ্রূ কুঞ্চিত হল। ব্যাপারটা তার মোটেও ভালো লাগছে না।জামশেদকে একদিনের ছুটি দেয়া হয়েছে।তার ছুটির প্রয়োজন ছিল না তবু নিতে হল। ভিকি বারবার বলল, ঘুরেটুরে আসো। সারাক্ষণ ঘরে বন্দি হয়ে থাকার দরকার নেই। অ্যানির স্কুল নেই, সে বাড়িতেই থাকবে।

জামশেদের যাবার তেমন জায়গা নেই। মিলান শহরটিকে সে খুব ভালো চেনে না। দশ বছর আগে এখানের অলিগলি চেনা ছিল। এখন আর নেই। দশ বছর খুব দীর্ঘ সময়, এই সময়ে খুব চেনা জিনিসও খুব অচেনা হয়ে যায়।রাস্তাঘাট বদলে গেছে। শহর অনেক পরিচ্ছন্ন হয়েছে। ডেলকা নদীর দুপাশে বস্তিজাতীয় যেসব ঘরবাড়ি ছিল তাঁর কোনো চিহ্নও নেই। আকাশছোঁয়া দালান উঠেছে দুপাশে। প্রশস্ত ছয় লেনের রাস্তা। ঝলমলে নিওন আলো।

সন্ধ্যার আগে জামশেদ একতলা একটা রেস্টুরেন্টের সামনে এসে দাঁড়াল। রেস্টুরেন্টটি শহরের উপকণ্ঠে একটি দরিদ্র অঞ্চলে। অল্প আলোর একটি বাতি জ্বলছে। সে-আলোতে রেস্টুরেন্টের নাম অস্পষ্টভাবে চোখে পড়ে–পিজা অ্যান্ড লাসানিয়া হাউস। লেখাটি ইংরেজিতে।

অমানুষ পর্ব – ৫

রেস্টুরেন্ট ফাঁকা। এক কোনায় একটি বুড়োমত ভদ্রলোক ঝিমুচ্ছে। অন্য প্রান্তে একটি অল্পবয়েসী মেয়ে একা একা বসে আছে। মেয়েটি ঘনঘন ঘড়ি দেখছে। নিশ্চয়ই কারো জন্য অপেক্ষা করছে সে।কাউন্টারে অল্পবয়স্ক একটি ছোকরা বসে আছে। জামশেদ কাউন্টারের দিকে এগিয়ে গেল, আমি একজন আমেরিকানের খোঁজ করছি, তার নাম বেন ওয়াটসন।ছেলেটি সন্দেহভরা দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল। থেমে থেমে বলল, কীজন্যে খোঁজ করছেন?

ও আমার পরিচিত।

বেন এখানে নেই।

সে এখানে আছে। কখন আসবে সে?

জানি না।

আমি তার জন্যে অপেক্ষা করব।

ইচ্ছা হলে করুন।

জামশেদ একটি অন্ধকার কোনা বেছে নিল বসবার জন্যে। কাউন্টারের ছেলেটি এসে জিজ্ঞেস করল, কিছু খাবে? ভালো পিজা আছে।

না।

কনিয়াক আছে। দেব?

দিতে পার।

লিরা আছে তো তোমার কাছে?

আছে।

এখানে আগে দাম দিতে হয়।

জামশেদ হাজার লিরার একটি নোট বের করল।

ছেলেটি নোট নিতে নিতে বলল, বেন ওয়াটসনের সঙ্গে তোমার কী দরকার?

আছে একটা দরকার।

তুমি কি পুলিশের লোক?

না।

জামশেদ লক্ষ করল মাস্তান ধরনের একটি ছেলে ঢুকেছে। ঠিকমতো দাঁড়াতেও পারছে না টলছে। ছেলেটি গিয়ে দাঁড়িয়েছে মেয়েটির টেবিলের সামনের। নিশ্চয়ই কোনো ঝামেলা বাধাতে চায়। জমিশেদ কানখাড়া করল।মিস, আমি কি তোমার টেবিলে বসতে পারি? আমি একজনের জন্য অপেক্ষা করছি। তুমি দয়া করে অন্য টেবিলে বসো।যার জন্যে অপেক্ষা করছ সে তো আসছে না।

আসবে।

যখন আসবে তখন ছেড়ে দেব।

জামশেদ লক্ষ করল মেয়েটির মুখ ফ্যাকাশে হয়ে উঠছে। মেয়েটি উঠে দাঁড়াল।

উঠছ কেন?

আমি অন্য কোথাও বসব।

কেন, আমাকে পছন্দ হচ্ছে না?

পছন্দ অপছন্দে কথা না। আমি বাড়ি চলে যাব।

এখনই বাড়ি যাবে কেন? রাত তো মাত্র শুরু।

কাউন্টারের ছেলেটি বলল, এই, ঝামেলা করবে না।

ঝামেলা?

এটা মাতলামির জায়গা না।

কী, তুই আমাকে মাতাল বললি?

মাতাল-টাতাল বলিনি। যাও, অন্য কোথাও যাও।

অমানুষ পর্ব – ৫

এইখানে এই মেয়ের হাত ধরে বসে থাকব, দেখি কোন শালা কী বলে।লোকটি পকেট থেকে আধহাত লম্বা একটি ছোরা বের করল।মেয়েটির মুখ রক্তশূন্য হয়ে গেল। বুড়ো ভয় পেয়ে উঠে দাঁড়িয়েছে। সে এই ঝামেলায় থাকতে চায় না। কাউন্টারের ছেলেটিও ভয় পেয়েছে।জামশেদ উঠে এগিয়ে গেল। খুব ঠাণ্ডাস্বরে, বলল, মেয়েটিকে ছেড়ে দাও।কেন? তুই ফুর্তি করতে চাস?

ওর হাত ছাড়ো।মাতালটা হাত ছেড়ে দিল কিন্তু নিমিষেই বাঁ হাতে ছোরাটা তুলল। তোলার ভঙ্গিই বলে দিচ্ছে ছোরা সে অতীতে অনেকবার ব্যবহার করেছে। আজকেও করবে। কারণ মদের প্রভাবে তার বুদ্ধি ঘোলা হয়ে গেছে।

 

Read more

অমানুষ পর্ব – ৬ হুমায়ূন আহমেদ

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *