আমার আছে জল পর্ব – ৬ হুমায়ূন আহমেদ

আমার আছে জল পর্ব – ৬

নিশাত হিল খুলে ফেললো—খালি পায়ে হাঁটতে তার ভালই লাগলো। খুশী খুশী গলায় বললো—ফ্লাক্সটা নিয়ে এলে ভাল হতো। কোথাও বসে চা খাওয়া যেতো। শাড়ি পরা আট-ন বছরের একটা বাচ্চা মেয়ে কোত্থেকে হঠাৎ এসে উদয় হয়েছে। চোখ বড় বড় করে দেখছে। নিশাত বললো—এ্যাই তোমার নাম কি? মেয়েটি জবাব দিলো না।বাড়ি কোথায় তোমার?

মেয়েটি হাত বাড়িয়ে যেদিকে দেখালো সেদিকে কোন ঘরবাড়ি নেই।জামিল ভাই, মেয়েটি কি হারিয়ে গেছে নাকি? না, ওরা হারাবে না। গ্রামের মেয়ে, সমস্ত অঞ্চল এদের খুব ভাল করে চেনা। নিশাত, কোনদিকে যেতে চাও? চলুন ঐ গাছটার নিচে বসি। কি গাছ ওটা, বিরাট বড় তো।শিমুল গাছ।শিমুল গাছে এত বড় বড় কাঁটা থাকে নাকি?

থাকে।জামিল সিগারেট ধরালো। নিশাত হ্যাণ্ডব্যাগ থেকে সানগ্রাস বের করে চোখে দিলো। হালকা স্বরে বললো—একটা হাসির গল্প বলুন তো। দিলুকে রোজ কিসব গল্প বলেন। দেখি এবার আমি একটা শুনি।দিলুকে হাসির গল্প বলি না। দিলুকে বলি ভূতের গল্প। ভূতের গল্প শুনতে চাইলে বলতে পারি।নিশাত খিলখিল করে হেসে ফেললো। তার হাসি দেখে ছোট্ট মেয়েটাও হাসতে শুরু করলো। জামিল নিজেও হাসলো।না জামিল ভাই, বলুন একটা হাসির গল্প। দেখি আপনি আমাকে হাসাতে পারেন কিনা।হাসাতে পারলে কি দেবে?

আপনি আগে বলুন, তারপর দেখা যাবে।টেলিফোনের খুঁটি বসানো হচ্ছে। সারাদিন ধরে কাজ চলছে। সন্ধ্যাবেলা ইঞ্জিনিয়ার সাহেব কাজ দেখতে এলেন। জিজ্ঞেস করলেন—তোমরা ক’টা খুঁটি পুঁতলে? ওরা বললো—স্যার বারটা। ইঞ্জিনিয়ার সাহেব বললেন—মন্দ না, বারটা খারাপ না। তারপর গেলেন অন্য একটা দলের কাছে—তোমরা কটা পুঁতলে? ওরা বললো—স্যার একটা। ইঞ্জিনিয়ার রেগে আগুন—এত কম?

ঐ দল তো বারটা পুঁতলো। দলের সর্দার বললো—আমাদের কাজ আর ওদের কাজ? ওদের খুঁটির সবটাই মাটির উপর আর আমাদেরটা দেখুন। মাটির উপর আছে চার আঙুল। সবটাই ঢুকিয়ে দিয়েছি, নিশাত গল্প শুনে হাসলো না। গম্ভীর হয়ে বললো—এই গল্পটা জামিল ভাই আপনি আমাকে ইচ্ছে করে বললেন।ইচ্ছে করে বলব কেন?

গল্পটা বাবুর আব্বার।হ্যাঁ, আমি কবিরের কাছ থেকে শুনেছি। এটা একটা চমৎকার গল্প, তাই তোমাকে বললাম। অন্য কোন উদ্দেশ্য ছিলো না। সব কিছুতেই তুমি এত উদ্দেশ্য খোঁজ কেন? নিশাত উঠে দাঁড়ালো—চলুন বোটে ফিরে যাই। ফেরার পথে কেউ কোন কথা বললো না। ছোট মেয়েটি আবার পেছনে পেছনে আসছে। খুব কৌতূহল মেয়েটির। ছোট্ট শাড়িটা পরেছেও খুব গুছিয়ে। শাড়ির রঙ গাঢ় সবুজ। তার মধ্যে লাল পাড়।

জামিল বললো—নিশাত, তুমি কি লক্ষ্য করেছো বেশীর ভাগ গ্রামের মেয়ের শাড়ির রঙ সবুজ।না, আমি লক্ষ্য করিনি। গ্রামই দেখিনি। গ্রামের মেয়ে দেখবো কোথায়? গ্রামের মেয়েরা যে সবুজ শাড়ি পরে এটাও কিন্তু প্রথম নোটিশ করে কবির। তার ধারণা এরা সবুজ দেখতে দেখতে সবুজ রঙের প্রতি একটা উইকনেস জন্মিয়ে ফেলে। আমার ধারণা কিন্তু তা নয়।আপনার কি ধারণা?

আমার ধারণা সবুজ রঙের কাপড় ময়লা হয় কম, সে জন্যই এরা সবুক কাপড় পরে।আপনার ধারণাটাই প্রাকটিক্যাল। কিন্তু হঠাৎ করে আপনি রঙের প্রসঙ্গ আনলেন কেন? জামিল কিছু বললো না। স্পীড বোটে উঠে বসলো। স্পীড বোটের ড্রাইভার রোদের মধ্যে পা মেলে দিয়ে দিব্যি ঘুমুচ্ছে। নিশাত ফ্লাক্স খুললো—চা দেব জামিল ভাই?

দাও।চায়ের সঙ্গে আর কিছু? কেক আছে। নষ্ট হয়ে গেছে কিনা কে জানে।নিশাত এক পিস কেক বের করে মেয়েটির দিকে এগিয়ে দিলো। সে নিলো না। পিছিয়ে গেলো অনেকখানি। জামিল বললো—এ ভিখিরী নয় কারো কাছ থকে কিছু নেয়ে এর অভ্যেস নেই।আপনি চট করে সবকিছু বুঝে যান কিভাবে?

জামিল হাসলো। ঠিক তখনি পর পর দু’টি গুলির শব্দ হলো। ওরা পাখি পেয়েছে কিনা কে জানে। স্পীড বোটের ড্রাইভার চোখ কচলে উঠে বসলো। শিকারীরা হয়তো কিছুক্ষণের মধ্যেই ফিরে আসবে। নিশাত অবাক হয়ে দেখলো তার মাথার উপর দিয়ে ঝাঁকে ঝাঁকে পাখি উড়ে যাচ্ছে। আশ্চর্য, এত পাখি! তারা ডাকছে কর্কশ গলায়। শুনতে ভালো লাগে না।ওরা কোথায় যাবে?

নিরাপদ কোন জায়গায় যাবে। তারপর সেখানেও শিকারীরা যাবে। সেখান থেকেও এদের উড়ে যেতে হবে।নিশাত তাকিয়ে রইলো। জামিল বললো—সমস্ত জীব-জন্তু ও পশুপাখির জীবনের বেশীর ভাগ সময় কেটে যায় নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধান করতে গিয়ে। মানুষের জন্যেও এটা সত্যি। আমরাও নিরাপদ আশ্রয় খুঁজি।মাস্টারী করতে করতে বক্তৃতা দেয়া আপনার অভ্যেস হয়ে গেছে তাই না?হ্যাঁ।এবং আপনি মনে করেন জগৎ-সংসারের সমস্ত রহস্য আমি বুঝে ফেলেছেন?

না, তা বুঝিনি তবে বুঝতে চেষ্টা করি। তোমার মত চোখ বন্ধ করে থাকি না।জামিল একটা সিগারেট ধরালো। নিজেই হাত বাড়িয়ে ফ্লাক্স থেকে চা ঢাললো। তার ভাব দেখে মনে হচ্ছিলো সে বড়সড় একটা বক্তৃতা দেবে কিন্তু জামিল তেমন কিছুই করলো না। সিগারেট টানতে টানতে আকাশের দিকে তাকিয়ে রইলো। স্পীড বোটের ড্রাইভার নেমে গিয়ে ছোট মেয়েটির সঙ্গে আলাপ জুড়ে দিয়েছে। এতক্ষণ যে মেয়ে একটি কথাও বলেনি, তার মুখে এখন খই ফুটছে।তোর নাম কি?

ফুলি।তোর বাপের নাম কি? কসির শেখ।কোন গ্রাম? আতরা, মিয়াবাড়ি।ভাই-ভইন কয়জন? ছয়জন।নিশাত খুব মন দিয়ে ওদের কথাবার্তা শুনছে। এই মেয়েটি এতক্ষণ চুপ করে ছিলো কেন? জামিল ভাই।বল।এই মেয়েটি এতক্ষণ কোন কথাবার্তা বলেনি কিন্তু দেখুন ঐ লোকটির সঙ্গে কেমন জমিয়ে গল্প করছে।জামিল কোন উত্তর দিলো না।জামিল ভাই, আপনি কি আমার উপর রাগ করেছেন?

না, রাগ করিনি। রাগ করতে হলে একটা অধিকার থাকতে হয়। তোমার ওপর আমার সে রকম কোন অধিকার নেই।দিলুর উপর আছে? হ্যাঁ আছে। ওর সঙ্গে আমি কিন্তু প্রায়ই রাগ করি।আপনারা কি নিয়ে এত কথা বলেন? যা মনে আসে তাই বলি। ওর সঙ্গে তো আর হিসেব করে কথা বলতে হয় না।নিশাত গম্ভীর ভঙ্গিতে বললো—আমার কিন্তু মনে হয় ওর সঙ্গেই আপনার সবচে সতর্ক হয়ে কথাবার্তা বলা উচিত।কেন?

এই বয়সে মন অন্য রকম থাকে। আপনি কি বুঝতে পারছেন আমি কি বলতে চাচ্ছি? পারছি।আপনি কি এই প্রসঙ্গে কিছু বলতে চান? চাই। নিজেকে দিয়ে সবাইকে বিচার করা ঠিক নয়।তার মানে? দিলুর মত যখন তোমার বয়স ছিলো তখন তুমি আমার প্রতি অন্যরকম ধারণা পোষণ করতে।এসব আপনি কি বলছেন? স্কুল ছুটির পর ক’দিন এসেছ আমাদের বাড়িতে মনে আছে? কেন আপনি এখন এইসব পুরনো কথা তুলছেন?

জামিল চুপ করে গেলো।দেখা গেলো শিকারীরা ফিরে আসছে। ওসি সাহেবের হাতে কয়েকটা হাঁস। ওদের জবাই করা গলা দিয়ে তখনো ফোঁটা ফোঁটা রক্ত পড়ছে। দিলু ওসমান সাহেবের শরীরে ভর দিয়ে পা টেনে টেনে ফাঁটছে। জামিল বললো—কি হয়েছে দিলু? পায়ে কাঁটা ফুটেছে।শিকার কেমন লাগলো? ভালো না।ওসমান সাহেব উল্লাস বোধ করছিলেন। তার চোখে-মুখে ক্লান্তির কোন চিহ্নই নেই। ওসি সাহেব বললেন—স্যার, কাল আবার যাবো নাকি?

চলেন যাই। নতুন কোন স্পটে চলেন।স্যার, যেতে হবে কিন্তু আরো সকালে। সবচেয়ে ভাল হয় যদি শেষ রাতে উঠতে পারেন।উঠব। শেষ রাতেই উঠবো। নো প্রবলেম।ওসমান সাহেব নীলগঞ্জ থানার ওসি সাহেবের ওপর অত্যন্ত প্রসন্ন বোধ করেন।ওসি সাহেব রাতে খান আমাদের সঙ্গে।জ্বি-না স্যার। জ্বি না।দিলু বসে নিশাতের পাশে। গাছের গুঁড়িতে বসে থাকা মেয়েটিকে জিজ্ঞেস করে—এই, নাম কি তোমার?

ফুলি।বাহ্ কি সুন্দর নাম! ফুল থেকে ফুলি।ছোট্ট মেয়েটি ফিক করে হেসে ফেললো। দিলু বললো—সাব্বির ভাই থাকলে এই মেয়েটির ছবি তুলতে বলতাম। কি সুন্দর মেয়ে দেখছ আপা? নিশাত জবাব দিলো না। দিলু বললো—গ্রামের মেয়েরা কি সুন্দর হয়। বড় মায়া লাগে।ওসমান সাহেব হুইস্কির বোতল নিয়ে বসেছেন। তাঁর ভাগ্য ভালো বরফের জোগাড় হয়েছে।

ওসি সাহেব জীপ পাঠিয়ে বরফ আনিয়েছেন। শুধু বরফ নয় তিনি এক কেস বিয়ার এনেছেন। ওসমান সাহেব বিয়ার খান না। তবু খুশী হলেন। প্রথম দিনে এই ওসির উপর এতটা বিরক্ত হওয়া ঠিক হয়নি।ওসমান সাহেব সত্যিকার অর্থেই ছুটির আনন্দ ভোগ করলেন। আলিম এসে পেঁয়াজ, মরিচ ও ভিনিগার মাখানো এক প্লেট চিনাবাদাম রেখে গেছে। হুইস্কির সঙ্গে এই প্রিপারেশনটি অপূর্ব।

গ্লাসে চুমুক দিয়ে তাঁর মনে হলো বেঁচে থাকাটা অত্যন্ত আনন্দের ব্যাপার। গভীর আনন্দে তাঁর শরীর কাঁপছে। হুইস্কি নিয়ে তো প্রায়ই বসেন এ রকম কখনো হয় না। আজ হচ্ছে কেন? ইচ্ছে হচ্ছে হেসে হেসে সবার সঙ্গে কিছু সময় কাটাতে। চাঁদ উঠেছে কিনা কে জানে। যদি চাঁদ উঠে তাহলে ওভারকোটটি গায়ে দিয়ে একটু হেঁটে আসলে হয়তো ভালোই লাগবে।বারান্দার কাছে কে যেন এসে দাঁড়িয়েছে। অপরিচিত কেউ। অন্ধকারে কিছু দেখা যাচ্ছে না। তবু তিনি পরিষ্কার বুঝলেন লোকটির গায়ে ইউনিফর্ম।খট শব্দে স্যালুট হলো—স্যার আমি। ওসি সাহেব পাঠিয়েছেন।কি ব্যাপার?

কিছু না স্যার। পাহারার জন্য। ফিক্সড সেণ্ট্রি।পাহারা লাগবে না তুমি চলে যাও।সে ইতস্ততঃ করতে লাগলো। ওসমান সাহেব দরাজ গলায় বললেন—যাও যাও পাহারার কোন দরকার নেই? আমি কি মিনিষ্টার? এই বলেই তিনি প্রচুর হাসতে লাগলেন। খালি পেটে দু’পেগ পড়ার জন্যেই বোধ হয় তাঁর কিঞ্চিত নেশা হয়েছে।আলিমের দাঁতের ব্যথা কমেনি। আজ সারাদিন আরো বেড়েছে। ডান দিকের গাল ফুলে গেছে অনেকখানি।

আলিম গোটা চারেক প্যারাসিটামিল খাও।

স্যার খাইছি।

লবন পানি দিয়ে কুলকুচি কর।

করেছি স্যার।

গরম সেঁক দাও। সেঁকটা খুব উপকারী।

স্যার আর কিছু লাগবো?

না লাগবে না। খানা তৈরী হতে দেরী হবে নাকি?

জ্বি স্যার।

আচ্ছা ঠিক আছে।

আজ রাতে রান্নার দায়িত্ব নিয়েছে সাব্বির। ওয়াইল্ড ডাক রোস্টের সে নাকি একটা চমৎকার প্রেপারেশন জানে। দুপুর বেলাতেই সে বালি হাঁসগুলিত চামড়া তুলে টক দৈ-এ ডুবিয়ে রেখেছে। টক দৈ-এ আট ঘণ্টা ডুবানো থাকতে হবে, এক মিনিটো এদিও ওদিক হতে পারবে না।

আট ঘণ্টা পার হয়েছে রাত আটটায়। এখন হাঁসগুলোকে স্টীম করা হচ্ছে। কেটলীর পানি ফুটানো হচ্ছে। কেটলির নল দিয়ে যে বাষ্প বেরিয়ে আসছে তাই ব্যবহার করা হচ্ছে স্টীম করবার জন্যে। কায়দাটা ভালোই। দিলু সমস্ত ব্যাপারটা দেখছে মুগ্ধ হয়ে। সে রান্নাঘরে একটা চেয়ার নিয়ে চেয়ারের উপর পা তুলে আরাম করে বসে আছে। এবং সারাক্ষণই কথা বলছে।

সাব্বির ভাই স্টিম দিচ্ছেন কেন? স্টিম দেয়ার জন্যে মাংশ নরম হবে। টক দৈ-এ ডুবিয়া রাখলেন কেন? রেসিপিতে বলা আছে তাই। টক দৈ না পেলে ভিনিগারেও ডুবিয়ে রাখা যেতো। টক দৈ ভিনিগারের চেয়ে ভালো।এরপর কি করবেন? পেটের ভেতর রসুন ভরে আগুনে ঝলসাবো। ব্যাস।এই রান্না কার কাছ থেকে শিখলেন?

আমার এক মেক্সিকান বান্ধবী ছিলো ও রাঁধতো। ও অনেক রকম রান্না জানতো।দিলু একটু লজ্জা পেলো। কেউ এভাবে বান্ধবীর কথা বলে নাকি? কিন্তু সাব্বির ভাই এমন সহজভাবে বলছেন যেন বান্ধবী থাকার মধ্যে লজ্জার কিছু নেই।উনার নাম কি সাব্বির ভাই? ওর নাম মারিয়া।মারিয়া? কি বিশ্রী নাম।বিশ্রী কোথায়? মেরী থেকে মারিয়া।উনি দেখতে কেমন?

আমার কাছে তো ভালোই লাগতো। খুব লম্বা। বড় বড় কালো চোখ। খুব শব্দ করে হাসতো।উনার ছবি আছে? আছে। দেখতে চাও? হুঁ।আচ্ছা দেখাব।সাব্বির ভাই, আমার কয়েকটা সুন্দর ছবি তুলে দেবেন তো।দেব।কবে দেবেন? যখন চাও। কাল ভোরেই দিতে পারি। এক কাজ করো। তোমার লাল শাড়ি আছে?

না, লাল স্কার্ট আছে।ঠিক আছে ঐ লাল স্কার্ট পরে পুকুরে সাঁতার দেবে। আমি ছবি তুলব। সবুজ পানির ব্যাকগ্রাউণ্ডে লাল স্কার্ট চমৎকার আসবে। তবে আমার ফিল্ম হাই স্পীড এ. এস. এ. ফাইভ হানড্রেড। আরেকটু কম হলে ভালো হতো।আমি তো সাঁতার জানি নে।ইস, সাঁতার দেয়া ছবি ভালো আসতো। জলকন্যার এফেক্ট পাওয়া যেতো।রাত-দিন আপনি শুধু ছবির কথা ভাবেন। তাই না?

হুঁ ভাবি।দিলু কিছুক্ষণ চুপ করে রইলো। দেখলো সাব্বির কিভাবে হাঁসের গায়ে স্টীম লাগাচ্ছে। দেখে মনে হয় লোকটা এ কাজ দীর্ঘদিন ধরে করছে। দিলু বললো—মারিয়া বুঝি খুব ভালো মহিলা ছিলেন? হ্যাঁ। বাঙ্গালী মেয়েদের মতো।বাঙ্গালী মেয়েরা বুঝি ভালো?

হ্যাঁ। বাঙ্গালী মেয়েরা খুব সেণ্টিমেণ্টাল। সেণ্টিমেণ্টাল না হলে মেয়েদের মানায় না।আচ্ছা, সাব্বির ভাই, আমি কি সেণ্টিমেণ্টাল? হ্যাঁ।কিভাবে বুঝলেন? জামিল সাহেবের সঙ্গে বসে তুমি গল্প করছিলে, আমি শুনছিলাম।কথা শুনেই বুঝে গেলেন? দিলু, কথা শুনে অনেক কিছুই বোঝা যায়। আমি বুঝতে পারি।দিলু ভয়ে ভয়ে বললো—আর কি বুঝেছেন?

 

Read more

আমার আছে জল শেষ – পর্ব হুমায়ূন আহমেদ

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *