ঘরের মধ্যে এক বুড়ি বাস করত। আর ছিল তার. পোষা বিড়াল টম, আর একটা মুরগি। পৃথিবীতে কেউ ছিল না বুড়ির, তাই বিড়ালটাকে সে ছেলে জ্ঞান করত। আর টম পুষি বুড়ির ঘুরে বেড়াত। তার লোম ধরে বেয়াড়া ধরনের ঠাট্টা করলে সে নখ দিয়ে আচড়ে দিতেও চেষ্টা করত। মুরগিটার পা দুটো আবার বড়োই ছোট্ট, বুড়ি সেজন্যে তাকে ”ঠুটো তিতি, বলে ডাকে।
খুব সুন্দর ডিম পাড়ে “ঠুটো তিতি” তাই বুড়ি একেও তার মেয়ের মতো মনে করত। পরদিন সকালে তারা প্যাকারুকে দেখতে পেল। টম পুধি হিউ মিউ করে নতুন অতিথিকে অভ্যর্থনা জানাল আর ‘ঠুটো তিতি’ কক্ কক করে ডেকে উঠল। “ব্যাপার কী?” বুড়ি এদিক-ওদিক তাকিয়ে বিড়বিড় করে ওঠে।
তার চোখ খারাপ হওয়ায় পোনা গ্যাকারুকে সে ভালো করে দেখতে পেল না। তার মনে হল, একটা মোটা ধাড়ি হাস পথ ভূলে এখানে চলে এসেছে। বুড়ি তো খুব খুশি ; “বাহ, ভালো জিনিস বাগানো গেছে,” সে বলে ওঠে আনন্দে, “আমি এখন হাসের ডিম পাব রোজ। কী মজা! অবশ্য এটা যদি হাসা না হয়। দেখা যাক কী দীড়ায় শেষ তক্।
” অতঃপর বুড়ি তিন সপ্তাহ ধরে রেখে দিল পোনা গ্যাকারুকে। কিন্তু হায়, একটা ডিমও তো সে পাড়ল না। এখন বিড়াল হল বাড়ির কর্তা আর ঠুটো’ তিতি বাড়ির গিন্নি। কথা বলতে গেলেই তারা বলত “আমরা আর এই দুনিয়া ”; তারা মনে করত, দুনিয়ায় তারাই একমাত্র লোক, আর কেউ গণনার মধ্যেই নয়।
গ্যাকারু অবশ্য ভাবত যে, অন্য কোনো মতও তো থাকতে পারে এ ছাড়া, কিন্তু তার মতামত শ্রীমতী তিতি গ্রাহ্যের মধ্যেই আনত না।সে জিজ্ঞেস করত গ্যাকারুকে, “তুমি কি ডিম পাড়তে পার?” “উন্ত।” “তাহলে চুপ মেরে থাক, বক্ বক কর না।”আর টম পুষি বলত, “এইভাবে পিঠ ফোলাতে পার? এরকম গর্র্ গর্র্ করতে পার আমার মতন?” “না।”
“ব্যস, তাহলে আবার অতো কথা কী? বুঝদার লোকেরা যেখানে কথা বলে সেখানে তোমার কথা কওয়াই উচিত নয়।”তখন কী আর করে গ্যাকারু? ঘরের এক কোণে মনমরা হয়ে বসে থাকে। খোলা দরজা দিয়ে যুক্ত বাতাস আর সূর্যের আলো এসে পড়ছে ঘরের ভিতর। এসব দেখে তার আরো খারাপ লাগে, বাইরে ঘরে আসতে ইচ্ছে যায়, সাতার কাটতে বাসনা হয়।
শেষ পর্যস্ত আর থাকতে না পেরে ঠুটো তিতিকে মনের কথাটা খুলেই বলল সে।“তোমার অসুবিধেটা কী হে বাপু?” শুনে তো তেড়ে এল মুরগি, “কাজকাম নেই তো, তাই এরকম নানান রঙিন স্বপ্ন দেখছ। ঠিক আছে, শোনো, একটা কাজ করো-_তুমি ডিম পাড়তে চেষ্টা করো দেখি। না হয় গর্র্ গর্র্ করতে পার কিনা দ্যাখো,__-তাহলেই এসব কৃচিস্তা বেমালুম ভূলে যাবে।
বুঝেছ?” শুনে মন আরো খারাপ হয়ে গেল তার। আমতা-আমতা করে বলল, “কিন্তু, বুঝলে কিনা দিদি, সাতার কাটতে যে কী আনন্দ। কী আনন্দ__ঝপ্পাৎ করে ঝাপ দিয়ে পড়ব পানির বুকে, উপর দিয়ে পানি ঢেউ খেলাবে আর একেবারে পানির তলায় পাতালে চলে যাব সাতার কাটতে কাটতে. . .”
“যত্তো সব বিদঘুটে সখ”, তিতি ব্যাজার মুখে জবাব দিল, “মনে হচ্ছে, মাথায় তোমার কিঞ্চিৎ ছিট আছে হে বাপু। আমার কথা না-হয় বাদই দিচ্ছি, এই পুষির কথাই ধর না কেন-_আমার জানাশোনার মধ্যে এত বড়ো জ্ঞানী তো আর কেউ নেই; তা জিজ্ঞেস করো দেখি পুষিকে যে তার সাতরাতে ইচ্ছে যায়, না ডুবসাতার দিয়ে একেবারে পানির তলায় পাতালে যেতে মন যায়, জিজ্ঞেস করো।
আর তা না হলে-_ বুড়ি মা-কেই শুধোও না, তার চেয়ে তো আর কেউ বেশি চালাক নয়। তুমি কি ভাব তিনি সাতার কাটতে কি ডুবসাতারে ডুব মেরে থাকতে পছন্দ করবেন?” “তোমরা বুঝতেই পারছ না ছাই আমি কী বলতে চাইছি”, অগত্যা প্যাকারু না বলে আর পারল না।“কী? কী বললে হে? আমরা তোমাকে বুঝতে পারছি না? বটে! তার মানে_ তুমি তাহলে টম পুষির চেয়ে, বুড়ি মার চেয়ে, আমার কথা না-হয় বাদই দিলাম, এদের চেয়ে বেশি পণ্ডিত ভাব নিজেকে ! বাছা, এত আন্লাদ ভালো নয়।
তোমাকে যথেষ্ট দয়া দেখানো হয়েছে, তাতেই সন্তষ্ট থাকো, বুঝলে হে! একটা সুন্দর গরম ঘর দেয়া হয়েছে তোমাকে থাকবার জন্যে, তা ছাড়া এরকম মহৎ পরিবেশে কত কী শিখতে পাচ্ছ তুমি, তা খেয়াল আছে? নাঃ তুমি বড্ডো বক্বক্ করো, তোমার কচ্কচানি শুনতে শুনতে কানে তালা লেগে যায়। বিশ্বাস করো, আমি তোমার ভালোই চাই।
হ্যা, আমি তোমাকে প্রায়ই অপ্রিয় সত্যিকথা বলি বটে, কিন্তু সেটাকেই কি লোকে খাটি বন্ধুর লক্ষণ বলে না? যাক গে, এখন এসো তো বাপু: একটু চেষ্টা করে দ্যাখো যদি একটা ডিম পাড়তে পার আমার মতো; আর তা না পারলে, পুঁষির মতো একটু গর্র্ গর্র করো তো দেখি।”
“আমার মনে হচ্ছে, বাইরেটা কিছুক্ষণের জন্যে ঘুরে আসা দরকার, নয় কি? দিদি, দুনিয়ার হালচাল যদি একটু দেখতে পেতাম তবে বড়ো ভালো লাগত আমার”, আর একবার বেহায়ার মতো চেষ্টা করল প্যাকারু।“ধুত্বোর, ইচ্ছে হলে যাও গে। আমি কিছু জানি না”__বলে তিতি চলে গেল।তখন পোনা গ্যাকারু আবার বেরুল। দিঘি পেতে তার কষ্ট হয়নি।
পানির উপরে বহুক্ষণ ধরে সাতার কাটল সে, ডুব দিয়ে পৌছে গেল একেবারে দিঘির তলদেশে। পাশ দিয়ে কত জীবজস্ত চলে গেল, বিস্ত কেউই একবার চোখ ফিরিয়ে তাকে দেখল না, এতই কদাকার সে।হেমন্তকাল এসে গেল। গাছের পাতা হলদে হয়ে যাচ্ছে, শুকিয়ে লালচে হয়ে যাচ্ছে। বাতাস বইতে শুরু করেছে, গাছের পাতা উড়িয়ে নিয়ে নাচতে নাচতে যাচ্ছে সে।
বাতাস হিম; আকাশে জমাট মেঘ বরফ আর শিলাবৃষ্টি সিসের মতো ভারি হয়ে আছে। একটা ঝোপের মাথায় একটা প্াড়কাক বসে আছে, থেকে থেকে ডাকছে অশুভ কা-কা রবে। সব কিছু মিলিয়ে প্যাকারুর কেমন যেন ঠিক সুবিধের মনে হচ্ছে না।সেদিন সন্ধ্যাবেলা। সূর্য মাত্র পাটে বসেছে। ছোটো নিচু একটা ব্রাশউড ঝোপ থেকে এক ঝাক পাখি উড়ল।
গ্যাকারু তো অবাক ! এত অপরূপ পাখি সে জীবনে কোনো দিন দ্যাখে নি : তাদের ডানার পালক সব সাদা, তাদের ঘাড় চিকন-সরু আর দীর্ঘ। তারা মরাল। মুখ থেকে কেবল সামান্য একটু শব্দ বেরুল তাদের ; তারপর লম্বা, বিরাট, অপূর্ব ভানা মেলে ধরল তারা আকাশে, বাতাস কেটে কেটে উড়ে চলল সমুদ্র পার হয়ে, ঠাণ্ডা হিম ভূখণ্ড পেরিয়ে উষ্ণ কোনো দেশে ।
আকাশে উড়ছে তারা, উচ্ভতে, আরো উচুতে। প্যাকারুর মনে নানারকম অদ্ভুত অনুভূতি জাগতে লাগল এদের দেখে। ওদের দেখবার জন্য সে পানির উপরে ঘুরপাক খেয়ে ঘাড় উচু করে তুলে ধরছিল; তার মুখ দিয়ে অজান্তেই অকস্মাৎ এক তীক্ষ অদ্ভুত শব্দ বেরিয়ে এল; __সে ভয় পেয়ে চমকে উঠল নিজের কণ্ঠস্বরে।
আহ, সে তো সারা জীবন এদের ভুলতে পারবে না__কী অপরূপ পাখি, কী সুখী বিহঙ্গ ! তার জানা নেই এদের নাম কী, সে জানে না তাদের গন্তব্যস্থল। তবু সে ভালোবেসে ফেললো ওদের, এত ভালো আর কাউকে সে কখনো বাসেনি। তার মোটেই হিংসে হয়নি ওদের . দেখে। একবারও তার মনে হয়নি যে, ও-রকম রূপ যদি তারও থাকত।
হাসপট্রির পাতিহাসগুলো তাকে সঙ্গী করে নিলেই সে তৃপ্ত থাকতে পারে, মনে হল তার।শীত এসে গেছে। কী দারুণ ঠাণ্ডা! পাছে হিমে জমে যায় তাই পাকার পানিতে কেবলই সাতার কাটে। কিন্তু দিন-কে-দিন সাতারের স্থান যে তার সঙ্কুচিত হয়ে আসছে; রাত পোহালেই রোজ সে দেখতে পায় যে, গতকাল যে-পানিটুকুতে সে সাতার কেটেছিল তার কিছুটা জমে বরফ হয়ে গেছে।
শেষকালে তার সাতরাবার কোনো জায়গাই যখন আর রইল না, তখন যেটুকু স্থান তখনো বরফে জমে যায়নি সেখানেই সে অবিরাম পা ছুঁড়ে ছুঁড়ে সাতার কাটতে লাগল যাতে এ জায়গাটুকু অন্তত জমে না যেতে পারে। কিন্তু এর ফলে শিগ্গিরই সে খুব অবসন্ন ও ক্লান্ত হয়ে নেতিয়ে পড়ল; অবশেষে এক সময়ে ওখানেই সে হিমে সিঁটিয়ে ঠাণ্ডা হয়ে পড়ে রইল।
তখন সকাল হয়েছে সবেমাত্র। এক চাষি দিঘির পাড় দিয়ে হেটে যাচ্ছিল। সে দেখল, একটা পোনা হাস বরফের মধ্যে আটকা পড়ে জমে আছে। তার পায়ে ছিল কাঠের খড়ম, তা দিয়ে সে পিটিয়ে পিটিয়ে বরফের চ্যাঙড় ভেঙে টেনে তুলল প্যাকারুকে, তারপর বাড়ি নিয়ে গিয়ে তার বৌয়ের হাতে তুলে দিল।
শেষ পর্যস্ত বেচে উঠল প্যাকারু। বাড়ির ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা তার সাথে খেলা করতে পছন্দ করত, কিন্তু সে ভাবত যে ওরা তাকে নাজেহাল করতে চায়। ভয় পেয়ে সে দুধের গামলার উপর হুড়মুড় করে গিয়ে পড়ত, আর দুধ ছিটকে ঘরময় হয়ে যেত। বাড়ির গিল্লি বেশ ভালোমানুষ ছিল বলতে হবে__সে চেঁচিয়ে উঠত, হাততালি দিত। তখন সে তারপর সেখানে থেকে বেরিয়ে দে ছুটু।
মহিলাটি চেঁচামেচি করে ছড়িটড়ি কিছু একটা ছুঁড়ত তার দিকে! বাচ্চারা হৈ চৈ করে তাকে ধরার জন্যে দৌড়-ঝাপ লাগাত, আনন্দে হেসে কুটিকুটি হত আর চেঁচাত। ভাগ্য তার ভালো বলতে হবে__সদর দরজা খোলা থাকত সাধারণত। সে একছুটে গিয়ে ঢুকত ঝোপঝাড়ে__নতুন বরফ পড়ে সেটা তখন একেবারে ঢেকে গেছে সেখানেই সে গিয়ে শুয়ে থাকত যেন কোন স্বঙ্নের ঘোরে।
সেই শীতে তাকে যে-সব জ্বালাযস্ত্রণা আর কষ্ট সহ্য করতে হয়েছিল তার লম্বা ফিরিস্তি দিয়ে কোনো লাভ নেই। আবার যখন সূর্যের তেজ দেখা দিল, গরম পড়তে আরম্ত করল, সে তখন বনে-বাদাড়ে ঝোপ-ঝাড়ে গিয়ে শুয়ে থাকত। লার্ক পাখি গান গাইতে শুরু করেছে ততদিনে, বসন্ত এসে গেল ফের পৃথিবীতে ।
ডানা দুটো সে বেশ ভালো করে ঝেড়ে নিল। আগের চেয়ে বেশ জোরদার হয়েছে, মনে হল তার এর ফলে আরো দ্রুততর ভাবে সে এখন যেতে পারে। সে বেশ বুঝতে পারল যে, এখন সে একটা বিশাল বাগানের মধ্যে আছে। সেখানে আপেল গাছ ফুলে ফুলে একাকার, সিরিংগা ফুলের গন্ধে চারদিক ম-ম করছে, আকাবাকা খালের উপরে তারা তাদের সবুজ ডালপালা ছড়িয়ে দিয়েছে।
আহ্, সব কিছু এত সুন্দর, বস্তের টাটকা সৌরভে ভরে আছে সব।একটা ঝোপের আড়াল থেকে তিনটি চমত্কার রাজহাস বেরিয়ে এল। ডানার পালকগুলো গর্বভরে কী সুন্দর ছড়িয়ে দিল তারা ; হালকা-_যেন হাওয়ায় ভেসে তারা সাতার কাটতে লাগল বিলের জলে। এই অপরূপ পাখিটিকে যে চেনে প্যাকারু; কী এক অচেনা বিষ্ণ্রতায় তার মন ভরে গেল।
“ওদের কাছে বরং একটু উড়ে গিয়ে বসি। আহা, রাজপক্ষী আর বলে কাকে !” সে ভাবে। “অবশ্য ওরা আমাকে মেরেই ফেলবে, এমন বিদঘুটে চেহারা নিয়ে যে ওদের কাছে যাবার দুঃসাহস করেছি, তাই। কিন্তু তাতে কী? পাতিহাসদের এরকম মারধর, মুরগিদের হাতে মরাও ঢের ভালো; আর উ%, এই শীতকালটায় কী কষ্টরটাই-না পেলাম।” সে উড়ে গিয়ে বসল জলের বুকে, সাতার কেটে এ পাখিগুলোর কাছে চলে গেল।
তারাও ততক্ষণে তাকে দেখতে পেয়ে তার দিকে এগিয়ে আসছে। “আমাকে আপনারা মেরে ফেলুন”, বেচারা প্যাকারু বলে উঠল, মৃত্যুর অপেক্ষায় মাথাটা নিচু ফরল। আর তখনি__আরে, এ সে কী দেখছে জলের বুকে? পানিতে সে তার নিজের চেহারা দেখতে পেল : এতো! কোনো হোঁৎকা বিচ্ছিরি পাশটে গ্যাকারু নয়, এ যে এক রাজহংসের ছবি।
আসল কথা—রাজহাসের কংশ যদি কারো হয়, তো সে পাতিহাসপট্রিতে জন্মালেও কিছু এসে যায় না।বড়ো বড়ো রাজ হাসগুলো তার চারপাশে এসে ঘিরে ধরল তাকে, ঠোট দিয়ে ছুঁয়ে তাকে স্বাগত জানাল। নিজেকে খুব সুখী মনে হচ্ছিল তার।ছোট ছোট কিছু ছেলেমেয়ে বাগানে দৌড়াদৌড়ি করে খেলা করছিল। তারা পানির বুকে ক্ষুদ আর রুটির টুকরো ছুঁড়ে দিতে লাগল।
ওদের মধ্যে যে সবচেয়ে ছোট, সে অবাক হয়ে চেচিয়ে উঠল : “আরে, এ যে একটা নতুন দেখছি” অন্যেরাও চেঁচিয়ে উঠল, “তাই তো, একটা নতুন রাজহাস এসেছে!” আনন্দে হাততালি দিতে দিতে দৌড়ে গেল তারা বাবা-মার কাছে খবর দিতে। রুটি আর কেকের টুকরো সবাই ছুঁড়ে ফেলতে লাগল জলে, বলাবলি করল : “নতুনটাই সবচেয়ে সুন্দর, একেবারে কচি বয়েস, আর কী সুন্দর ” আর পুরনো রাজহাসগুলো তাকে মাথা নুইয়ে সম্ভ্রম জানাল।
এতে বড়ো লঙ্জা লাগল তার, ডানার মধ্যে মাথা গুঁজল সে।মন তার সুখে ভরে গেছে আজ; অথচ এতটুকুও অহংকার হল না তার–যার মন ভালো সে তো কখনো অহংকারী হয় না।তার সব মনে পড়তে লাগল-_সবাই তার দিকে চেয়ে কী রকম হাসি_তামাশা করেছে, নির্দয় ব্যবহার করেছে তার সাথে, সব।
আর এখন সে শুনছে যে সবাই বলছে, সে-ই না কি সমস্ত সুন্দর পাখিদের মধ্যেও সবচেয়ে সুন্দর। সিরিংগা তার ফুল্ল শাখাপ্রশাখা নুইয়ে ূতার নির াদর পরাগ জেরার যারা জর দুটো একটু ঠিকঠাক করে ঝেড়ে নিল, বাড়িয়ে দিল তার সুদীর্ঘ পেলব গ্রীবা, আর প্রাণের আনন্দে বলে উঠল : “যখন আমি ছিলাম সকলের চক্ষুশুল কুচ্ছিৎ প্যাকারু, তখন তো কখনো এত সখের কল্পনাও আমি করিনি!”
Read more
