গাভী বিত্তান্ত -পর্ব-(৯)-আহমদ ছফা

গাভী বিত্তান্ত

ফাকে ফাকে বড় বড় গাছ মাথা তুলেছে । খুব ভালাে করে না তাকালে কারাে চোখে পড়ার কথাই নয়, এই সবের ভেতর একটা বড় বাড়ি আত্মগােপন করে আছে। বাড়িটার গেট পেরিয়ে কম্পাউন্ডের ভেতর প্রবেশ করল । আওয়াজ শুনে শেখ তবারক নিজে থেকে এগিয়ে এসে নিজে দরজা খুলে দিয়ে সালাম দিলেন। 

-স্যার তাহলে এলেন, গরিবের বাড়িতে পায়ের ধুলাে পড়ল। বানু মেয়ে আমার, নুরুন্নাহার বানুকে হাত ধরে নামালেন। 

আবু জুনায়েদের ইচ্ছে হল বাড়িতে প্রবেশ করার আগে একটা বিষয়ে ফয়সালা করে ফেলবেন। তিনি শেখ তবারক আলীকে উদ্দেশ্য করে বললেন : 

-আপনি আমার বয়সে বড়, মুরুব্বী, আমাকে স্যার বলেন কেন? তুমি বলবেন। 

-জামাই বাবাজি ওই কথাটি বলবেন না। সবচাইতে বড় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে আমি যদি স্যার না বলি আল্লাহতায়ালা অসন্তুষ্ট হবেন। আল্লাহ আপনাকে ইজ্জত দিয়েছেন, আমি সম্মান না দেখানাের কে? আমার কপাল আমার কন্যার স্বামীকে আমি স্যার ডাকতে পারছি। গােফরান ভাই বেঁচে থাকলেও বাবা আপনাকে স্যার বলতেন। মা বানু জানে, আমরা দুজন একই মায়ের পেটের ভাইয়ের মতাে ছিলাম । 

দুপাশে বাগান, মাঝখান দিয়ে পীচ করা রাস্তা সে রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন।

আবছা আলােতে সবকিছু ভালাে করে দেখাও যায় না বাড়ির কাছাকাছি এসে আবু জুনায়েদ শেখ তােরকের প্রতি একটা প্রশ্ন ছুড়ে দিলেন। 

-আপনার বাড়িটা দেখতে খুবই সুন্দর। অথচ হাল আমলের বাড়ির মতাে নয়। এ ধরনের চৌকোণা চক মেলানাে বাড়ি বানাবার কথা আপনার মনে এল কেমন 

করে? 

ঠিক সেই সময়ে বিদ্যুৎ নিভে গেল। শেখ তবারক তার জামাতাকে বললেন : 

-বাবা আবেদ, বাতি কখন আসে তার কোনাে ঠিকানা নেই। ডায়নামােটা চালু করতে বলাে। 

আবু জুনায়েদকে বললেন : স্যার একটা মিনিট দাঁড়াবেন দয়া করে ! আগে আলােটা আসুক, 

তারপর এ ধরনের অন্যরকম বাড়ি বানানাের খেয়াল কেন তার মাথায় চাপাল সে কাহিনী বলতে আরম্ভ করলেন। 

গাভী বিত্তান্ত -পর্ব-(৯)

-আমি তাজমহলের সৌন্দর্য দেখে একরকম পাগল হয়ে গিয়েছিলাম। প্রতি বছরই সুযােগ পেলে একবার আগ্রা ছুটে যেতাম। পাঁচ সাত দিন থেকে যেতাম। বার বার ঘুরে ফিরে তাজমহলের নির্মাণ কৌশল বুঝতে চেষ্টা করতাম। মােটামুটি একটা ধারণা যখন করতে পারলাম, আমার মাথায় একটা পাগলা খেয়াল চাপল। তাজমহলের নকশার একটা বাড়ি আমি নিজেই বানাব ।

এটা তাে নিছক পাগলামী। কোথায় বাদশাহ শাহজাহান, কোথায় তবারক আলী আপনাদের মতাে দশজনের দয়ায় কোনােরকমে দুটো ভাত খেয়ে টিকে আছি। আমার মনের কথাটা যখন আর্কিটেক্টরদের কাছে খুলে বললাম, তাঁরা মনে করলেন আমার মাথাটা খারাপ হয়ে গেছে।

কেউ কি তাজমহলের মতাে বাড়ি বানাবার কথা স্বপ্নেও ভাবতে পারে! আমি বললাম, কেন পারবে না, তাজমহল যারা বানিয়েছিল তারাও তাে মানুষ। শাজাহানের তাজমহল বানানাে সম্ভব নয় বুঝলাম, আমি বললাম আপনারা আমাকে একখানি তবারক আলীর তাজমহল বানিয়ে দেন। তা আর্কিটেক্টদের দিয়ে কিছু করানাে গেল না। আমিও দমে যাওয়ার ছেলে নই। নিজে নিজে এই বাড়ির নকশা করেছি। 

শেখ তবারক আলীর কথা শুনে আবু জুনায়েদের মনের মধ্যে একটা মস্ত ধাক্কা লাগল । তিনি অবাক হয়ে ভাবতে লাগলেন এই মানুষটির চিন্তার পরিধি কতদূর প্রসারিত । কিন্তু একটা ব্যাপারে তিনি ঠিক পাচ্ছিলেন না তাই জানতে চাইলেন : 

-এত সুন্দর বাড়ি, ঢাকা শহরের একটা দর্শনীয় জিনিস । কিন্তু বস্তির ভিড় এবং ঝােপঝাড়ের কারণে বাড়ির চেহারাটি বাইর থেকে কারাে নজরেই আসে না। এগুলাে কি পরিষ্কার করা যায় না? আবু জুনায়েদ বললেন । 

-স্যার কথাটা হল সেখানেই। আমাদের এটা কি দেশ? এই দেশে কি মানুষ বাস করতে পারে? এখানে কি কোনাে আইন-শৃঙ্খলা আছে? প্রেসিডেন্ট এরশাদের বিরুদ্ধে লােকজন যখন আন্দোলন শুরু করল, পশ্চিম দিকের কম্পাউন্ড ওয়াল ভেঙে এক অংশে আগুন লাগিয়ে দিয়েছিল।

গাভী বিত্তান্ত -পর্ব-(৯)

অনেক কষ্টে থামাতে পেরেছি। এরশাদ পাপ করেছে তবারককে কেন শাস্তি ভােগ করতে হবে? বােঝেন অবস্থাটা। আমরা ঠিকাদারি করে খাই। যে সরকারই আসুক না কেন আমাদের তাে সম্পর্ক রাখতে হবে। কারাে কাছ থেকে ভাড়াপত্তার কিছুই আদায় করিনে। বিপদে-আপদে একটু সামনে এসে দাঁড়ায়। 

তিন চার মিনিট শেখ তবারকের কথা শুনে আবু জুনায়েদের ইচ্ছে হল তিনি তার পায়ের ধুলাে নেবেন । সারা জীবন ধরে মনে মনে এরকম একটি মানুষের সন্ধান করছিলেন। তিনি যে তাকে অনুগ্রহ করে নিমন্ত্রণে ডেকেছেন, সেজন্য মনে মনে কৃতার্থ বােধ করলেন। এ সময়ে বাতি জ্বলে উঠল। তিনি ডায়নামাের আওয়াজ শুনতে পাচ্ছিলেন। 

 শেখ তবারক তার জামাতা আবেদকে বললেন : 

বাবা আবেদ তুমি মা বানু এবং আমার নাতনিকে ভেতরে নিয়ে যাও। আমি স্যারকে মেহমানদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিই। 

বড় হল ঘরটিতে যখন ঢুকলেন আবু জুনায়েদের চোখ ছানাবড়া হওয়ার উপক্রম। হলভর্তি ছড়ানাে সােফা সেট। অনেক মানুষ। কেউ হুইস্কি টানছেন, কারাে সামনে বিয়ারের গ্লাস। আবু জুনায়েদের জন্য এটা একটা নতুন জগৎ। উপবিষ্ট অতিথিদের চেহারা দেখেই আৰু জুনায়েদ অনুভব করতে পারলেন, এঁরা নিশ্চয়ই সমাজের কেষ্টবিষ্ট হবেন। মাত্র একজন ভদ্রলােককেই চিনতে পারলেন ।

তিনি হলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল সাদেক আলী খান। হুইস্কির গ্লাসে চুমুক দিচ্ছিলেন আর ডানহিল টানছিলেন। আবু জুনায়েদ একটু অবাক হয়ে গেলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহেবের সঙ্গে তাঁর তিনবার দেখা হয়েছে। প্রতিবারই বিশ্ববিদ্যালয় পরিস্থিতি নিয়ে আলােচনা করতে ডেকে নেয়া হয়েছিল।

গাভী বিত্তান্ত -পর্ব-(৯)

প্রতিবারই তিনি তাকে ইসলাম সম্পর্কে অনেক হেদায়েত করেছেন। বারবারই বলেছেন, ইসলাম থেকে সরে এসেছে বলেই বিশ্ববিদ্যালয়ে এই অনাচার চলছে। আবু জুনায়েদের খুব ভয় হতে লাগল । যদি ক্ষমতা থাকত এক দৌড়ে তিনি এখান থেকে পালিয়ে যেতেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহেবকে হুইস্কি পান করতে দেখে তার মনে কোনাে ঘৃণা জন্মেছে সে কারণে পালিয়ে যাওয়ার কথা তার মনে আসেনি। ইসলাম প্রচারক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহেবকে তিনি নির্জলা হুইস্কি পান করতে দেখেছেন মন্ত্রী সাহেব এটা জানতে পারলে তার ক্ষতি করতে পারেন এ আশঙ্কাই তার মনে জেগেছে। আবু জুনায়েদ একটা কিংকর্তব্যবিমূঢ় অবস্থার মধ্যে পড়ে গেলেন । 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহেব হুইস্কির গ্লাস হাতে দাঁড়িয়ে তাকে আহ্বান করলেন 

-এই যে উপাচার্য সাহেব, এদিকে আসুন। আপনার স্কুলে আজ কি ফুটুস ফাটুস কিছু হয়নি? বাচ্চালােগ সব শান্ত হয়ে গেছে। 

সামনের ভদ্রলােকটিকে বললেন, আপনি একটু ওদিকের সােফাটায় বসুন দয়া করে। উপাচার্য সাহেবকে আমার কাছে বসতে দিন : 

আবু জুনায়েদের জানু কাঁপছিল। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আহ্বান তাঁকে চুম্বকের মতাে আকর্ষণ করে নিয়ে গেল। কোনাে রকমে এ সাহেবের বিপরীত দিকের সােফাটিতে নিজেকে স্থাপন করলেন আবু জুনায়ে তার মনে প্রবল আতঙ্ক। কখন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহেব বেয়াদবি ধরে বসেন। জেনারেল মানুষ। যদি রেগে যান। তরল পানীয়ের প্রতিক্রিয়ায় মন্ত্রী সাহেব দিলদরিয়া মেজাজে ছিলেন। পরিবেশনকারীকে হুকুম দিলেন 

-ওখানে আরেকটা গ্লাস দাও। পরিবেশনকারী হুইস্কি কাজু এবং বরফ দিয়ে গেলে মন্ত্রী সাহেব নিজেই সােডার সঙ্গে হুইস্কি মেশালেন, তারপর কুচি ঢেলে দিয়ে বললেন 

-এবার চেখে দেখেন উপাচার্য সাহেব। 

আবু জুনায়েদ মস্ত ফাঁপড়ে পড়ে গেলেন । জীবনে তিনি কোনােদিন মদ মুখে দেননি। কিন্তু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অসন্তুষ্ট করার সাহসও তার নেই। তাই তিনি অত্যন্ত কাতর স্বরে বললেন 

-স্যার জীবনে আমি কোনােদিন মদ খাইনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সিগারেটের ছাই ঝাড়তে ঝাড়তে বললেন 

-নাউ আই আন্ডারস্ট্যান্ড হােয়াই ইউ আর সাে নার্ভাস। ইউ ডােন্ট নাে হাউ টু থ্রো এ্যাওয়ে দ্য প্রেসার অব ওঅর্ক হ্যাজার্ড। প্লিজ হ্যাভ এ সিপ, এ্যান্ড ইউ উইল ফিস হােয়াই ইট ইজ। বুঝলেন সব ফর্সা। সবকিছু ফর্সা। নাে ভাবনা, নাে দুশ্চিন্তা এ্যান্ড এ ব্রিসফুল সিপ্ল। 

গাভী বিত্তান্ত -পর্ব-(৯)

অগত্যা আৰু জুনায়েদ গ্লাসটা তুলে একটা ঢােক গলার মধ্যে চালান করে দিলেন। তার মনে হল পেটের ভেতরটা জ্বলে যাচ্ছে। বমি করতে ইচ্ছে হচ্ছিল। অন্য জায়গায় হলে গলগল করে বমি করে দিতেন। কিন্তু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভয়ে মুখ দিয়ে বমি নির্গত হচ্ছিল না। তাকে উদ্ধার করলেন শেখ তবারক আলী। তিনি এগিয়ে এসে বললেন 

-জেনারেল সাহেব, উপাচার্য আমার ভাইঝি জামাই। অতি নির্মল স্বভাবের ছেলে । আপনার সঙ্গে পাল্লা দেয়া উনার কাজ নয়। তাঁকে মাফ করতে হবে । 

শেখ তবারক আলী আবু জুনায়েদকে হাত ধরে টেনে নিয়ে সমাগত অতিথিদেরর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে থাকলেন। অভ্যাগতদের মধ্যে তিনজন রাষ্ট্রায়ত্ত্ব ব্যাঙ্কের মানেজিং ডিরেক্টর আছেন, দুজন মাননীয় সচিব, তিনজন শিল্পপতি, পুলিশের আইজি-এমনকি দুজন কুখ্যাত ছাত্রনেতাও রয়েছেন। তাদের একজনকে সম্প্রতি সরকারি ছাত্রদল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে এবং সে বিরােধী দলে যােগ দিয়েছে। অন্যজন বিরােধী দল সমর্থক। বিশ্ববিদ্যালয়ে টেন্ডার বক্স দখল নিয়ে যত খুন জখম হয়েছে তার সঙ্গে এ দুজন একেবারে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত। এই দুজনের চেলারা টেন্ডার খােলার দিন একে অপরের মাথা ফাক করে ফেলতে উদ্যত য়। অথচ এখানে দুজন টেবিলে মুখােমুখি বসে পরস্পরের সঙ্গে খােশগল্প করছে, 

যেন কতকালের বন্ধু । আৰু জুনায়েদ তাদের টেবিলের পাশ দিয়ে যেতে স্প্রিংয়ের পুতুলের মতাে দুজনেই উঠে দাঁড়িয়ে খুব নরম রে সালাম দিল। একজন তাে বলেই বসল 

-স্যার আসবেন জানতাম, তবারক সাহেব আগে জানিয়েছিলেন। 

গাভী বিত্তান্ত -পর্ব-(৯)

অন্যজন হুইস্কির গ্লাসে ঝুঁকে পড়ে নিজের প্রতিবিম্ব দেখা যায় কি না পরখ করে দেখছিল। সালামের জবাবে আবু জুনায়েদের মুখ দিয়ে কোনাে কথা বেরুল না । তিনি আমতা আমতা করতে লাগলেন। একটা আড়ষ্টতাবােধে জিভটা শক্ত হয়ে রইল। শেখ তবারক আলী আৰু জুনায়েদকে বললেন 

-মা বানু আর তার মেয়ে নিশ্চয়ই একটুখানি ব্যস্ত রয়েছে। কতদিন পরে তার চাচীর সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়েছে। ছেলের বউ, মেয়ে সকলে এসেছে। একটু আমােদ আহলাদ, গাল-গল্প করবে। চলুন আমরা ততক্ষণ পাশের ঘরটাতে গিয়ে একটু কথাবার্তা বলি ।। 

দরজা ঠেলে দুজন ছােট্ট ঘরটিতে ঢুকলেন। ছিমছাম সাজানাে সুন্দর ঘর । একপাশে টেলিফোন, ফ্যাক্স মেশিন । ফটোকপিয়ার। শেখ তবারক বললেন 

-স্যার এটা আমার অফিস ঘর । মতিঝিলে আরেকটা বড় অফিস আছে । আজকাল শরীরে কুলােয় না। বাইরে বেরােতে ক্লান্তি লাগে। বাড়িতে বসে যতটুকু পারি, কাজকর্ম দেখাশােনা করি। 

আবু জুনায়েদ যতই দেখছিলেন অবাক হয়ে যাচ্ছিলেন। কিন্তু একটা কথা জিজ্ঞেস করার জন্য তার জিভ চুলচুল করছিল। শেষ পর্যন্ত জিজ্ঞেস করেই বসলেন । 

-আজকে এখানে দুজন মাস্তান ছাত্রকে দেখলাম । তারাই তাে টেন্ডার ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত। তারা কী করে আপনার এখানে এল? 

শেখ তবারক আলী বললেন -স্যার বলব, অনেক কথাই বলব। সেজন্যই তাে এ ঘরে এসেছি। তার আগে একটু বেয়াদবি করব, যদি এজাজত দেন। 

-আরে বলুন, আপনি এমন করে কথা বলেন আমি খুব বেকায়দায় পড়ে যাই । 

শেখ তবারক আলী জানালেন, তিনি একটু তামাক সেবন করার ইচ্ছে করছেন। আবু জুনায়েদ যদি অনুমতি দেন, চাকরকে হুঁকা আনার হুকুম দিতে পারেন । 

গাভী বিত্তান্ত -পর্ব-(৯)

আবু জুনায়েদ বললেন 

-আপনি অবশ্যই তামাক খাবেন, তার জন্য অনুমতির কী প্রয়ােজন। আপনি তাে আমার মুরুব্বী। 

জবাব শুনে শেখ তবারক খুব খুশি হলেন । চাকরকে ডেকে তামাক আনতে হুকুম দিলেন। তারপর আবু জুনায়েদকে জিজ্ঞেস করলেন 

-স্যার আপনাকে সিগারেট দিতে বলি ।। -আমি সিগারেট খাইনে | একটু খয়ের জর্দা দেয়া পান হলেই আমার চলবে ।। 

 চাকর তামাক দিয়ে গেল । শেখ তবারক ত একটা লম্বা টান দিয়ে ডােক গিললেন। গলগল করে নাকমুখ দিয়ে ধোয়া হতে ছাড়তে বললেন 

-স্যার আপনি মাস্তান ছাত্র দুটোর কথা বলছেন আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশ বছর ধরে কনস্ট্রাকশনের কাজ করছি। এরকম হাজনা মার কানের সােনা চুরি করে খায় যুবক আমি বেশি দেখিনি। কিন্তু কী করব আমাকে তাে এ কাজ করেই বেঁচে থাকতে হয়। এই গর্ভস্রাব হারামজাদাদের সঙ্গে সম্পর্ক না রাখলে চলবে কেমন করে। তারাই তাে আজকের গােটা বাংলাদেশটা হাতের তালুর তলায় চেপে রেখেছে। 

তারপর আৰু জুনায়েদ হতবাক হয়ে শুনলেন। এই মাস্তানদেরকে শেখ তুবারক আলীর মাসে পাঁচ হাজার টাকা করে মাসােহারা দিতে হয়। তাছাড়া মদ, মেয়ে মানুষ, খাবার দাবার এটা সেটা কত কিছুর খরচ যােগাতে হয় তার কোনাে হিসেব নেই। আরাে জানতে পারলেন, ইদানীং বিশ্ববিদ্যালয়ে আরাে একটি দল জন নিয়েছে।

 

Read more

গাভী বিত্তান্ত -পর্ব-(১০)-আহমদ ছফা

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *