হাব্বত আলি গম্ভীর গলায় বললেন, যে বিষয় নিয়ে তোমার মন খারাপ সেই বিষয়টা নিয়ে ভাববে। ভাবতে ভাবতে মুখ দিয়ে শব্দ করবে ঘোঁৎ। শব্দটা করার সঙ্গে সঙ্গে যে বিষয় নিয়ে মন খারাপ, সেই বিষয়টা পুরো এলোমেলো হয়ে যাবে। দেখবে তোমার মন ভালো হয়ে গেছে।রনি অবাক হয়ে বলল, ঘোঁৎ বললেই হবে? হাব্বত আলি গম্ভীর গলায় বললেন, শুধু ঘোঁৎ বললেই হবে না। যে বিষয় নিয়ে তোমার মন খারাপ সেই বিষয়টা নিয়ে ভাবতে ভাবতে বলতে হবে। দেখবে চেষ্টা করে?
হুঁ।চেষ্টা কর। কী নিয়ে মন খারাপ সেটা ভাবো। চোখ বন্ধ করে ভাবো। এই তো ঠিক আছে। এখনো বলো ঘোঁৎ। শব্দ করে বলো। মিনমিন করে না।রনি শব্দ করে বলল, ঘোঁৎ। বলেই সে হেসে ফেলল। আশ্চর্য ব্যাপার, তার মন খারাপ ভাব একেবারেই নেই। এখন খুবই আনন্দ লাগছে। হাব্বত আলি বললেন, মন খারাপ ভাব দূর হয়েছে?
রনি বলল, হ্যাঁ।এ চিকিৎসার নাম হলো ঘোঁৎ চিকিৎসা। চিকিৎসাটা ভালো না?চিকিৎসাটা ভালো।এর চেয়েও ভালো চিকিৎসা আছে। সেই চিকিৎসায় ঘোঁৎটা উল্টো করে বলতে হয়। তবে এ শব্দটা উল্টো করে বলা বেশ কঠিন বলে বেশিরভাগ মানুষ এই চিকিৎসা নিতে পারে না।রনি বলল, আপনি কি ঘোঁৎ উল্টো করে বলতে পারেন? অবশ্যই পারি। বলব?
বলুন।হাব্বত আলি শব্দ করে বললেন-ৎঘোঁ।রনির খুবই মজা লাগছে। শব্দটা শুনতেই মজা লাগছে।হাব্বত আলি বললেন, শুরুতে ৎ আছে তো, ৎ এর উচ্চারণ কঠিন বলে বেশিরভাগ মানুষ পারে না। ঘোঁৎ উল্টো করে বলতে বললে সবাই বলে তঘোঁ। তঘো আর ৎঘোঁ এক না। রনি আগ্রহের সঙ্গে বলল, আমাকে শিখিয়ে দেবেন?
চেষ্টা করে দেখতে পারি। পারব কি-না তা জানি না।এখন বলো তোমাকে কি সরাসরি বাসায় নিয়ে যাব না-কি রিকশায় করে কিছুক্ষণ ঘুরব? কিছুক্ষণ ঘুরব।চলন্ত রিকশায় চোখ বন্ধ করে বসে থাকলে কী হয় জানো? জানি না।চলন্ত রিকশায় চোখ বন্ধ করে কিছুক্ষণ বসে থাকলে মনে হয় তুমি শূন্যে ভাসছ।এরকম কেন মনে হয়?
আমি জানি না কেন মনে হয়। পরীক্ষা করে দেখ সত্যি মনে হয় কি না।রনি চোখ বন্ধ করল। কী আশ্চর্য, কিছুক্ষণের মধ্যেই তার সত্যি সত্যি মনে হচ্ছে সে শূন্যে বসে আছে। ভাসতে ভাসতে যাচ্ছে। সে ভয় পেয়ে চোখ মেলে ফেলল।হাব্বত আলি বললেন, আমার যখন শূন্যে ভাসতে ইচ্ছা করে, তখন আমি সারাদিনের জন্যে রিকশা ভাড়া করে রিকশায় উঠি। চোখ বন্ধ করে বসে থাকি। অতি অল্প টাকায় আকাশ ভ্রমণ হয়। মজা না?
হুঁ।হাব্বত আলি বললেন, তোমাকে একটা জরুরি খবর দিতে তো ভুলে গেলাম।জরুরি খবরটা কী? ভালো খবর। এই খবর আগে-ভাগে দিলে ঘোঁৎ চিকিৎসা ছাড়াই তোমার মন ভালো হয়ে যেত।খবরটা বলুন।অনুমান করো তো দেখি, তোমার অনুমান শক্তি দেখি। এ ছড়াটা জানো না–
দেখি তোদের অনুমান
হনুমান হনুমান।
রনি বিরক্ত হয়ে বলল, আপনি পেঁচাচ্ছেন কেন? খবরটা বলুন।ঐ যে তোমাদের নাজমা মিস। তিনি তো মারা যান নি। বেঁচে আছেন।কে বলল আপনাকে? আমি স্কুলে থাকতে থাকতেই হাসপাতাল থেকে খবর এসেছে। উনি আহত, জ্ঞান নেই, তবে মারা যান নি। ঠিকমতো চিকিৎসা হলে বেঁচেও যেতে পারেন। অবস্থাটা দেখ, মারা যায়নি, এদিকে স্কুল ছুটি দিয়ে বসে আছে। হা হা হা।
রনি বলল, এরকম বিশ্রী করে হাসবেন না তো, বলে সে নিজেও হাসতে শুরু করল। হাব্বত আলি হাসতে হাসতেই একবার বললেন ঘোঁৎ রনি বলল, ঘোঁৎ বললেন কেন? হাব্বত আলী বললেন, খুব আনন্দের মধ্যে ঘোঁৎ বললে আনন্দ নষ্ট হয়ে যায় কিনা পরীক্ষা করলাম।নষ্ট হয়?
নষ্ট হয় না। বরং বাড়ে। তুমি করে দেখ।রনি কয়েকবার ঘোঁৎ করল। যত করে আনন্দ তত বাড়ে।রিকশা শহরের বাইরে অনেকদূর চলে গিয়েছিল। রনি বলল, বাসায় যাব।হাব্বত আলি রনিকে তাদের বাসার সামনে গেটে নামিয়ে দিয়ে চলে গেলেন। যদিও মানুষটাকে এভাবে ছেড়ে দিতে তার ইচ্ছা করছিল না। তার সঙ্গে আরো কিছুক্ষণ গল্প করতে ইচ্ছা করছিল। ইচ্ছা করলেই তো আর করা যায় না।
তার খুব ইচ্ছা করে স্কুলের কাঠগোলাপ গাছ বেয়ে ছাদে উঠতে, তা সে করতে পারে না। তার একা একা রাস্তায় হাঁটতে ইচ্ছা করে, তাও সে করতে পারে না। তাকে করতে হয় সব অনিচ্ছার কাজ। যেমন সকালে একগ্লাস দুধ খেতে হয়। ঠিক রাত দশটায় ঘুমুতে যেতে হয়। কার্টুন চ্যানেলে রাত দশটায় এমন সুন্দর একটা কার্টুন হয়। এই কার্টুনটা সে কোনো দিনই দেখতে পারে না।
স্কুল থেকে ফিরে রনি কী করবে না করবে সব আগেই ঠিক করা। যেমন–সে গোসল করবে। গোসলের আগে ইদরিস মিয়া তার গায়ে তেল মাখিয়ে দেবে। বিদেশ থেকে আনা হার্বাল কী যেন তেল, গাঢ় সবুজ রঙ। খুবই কুৎসিত গন্ধ।গোসলের পর ভাত খাওয়া। ভাত খাওয়ার আগে খেতে হবে এক বাটি সবজি (অতি জঘন্য)।
ভাত খাওয়ার পর একঘণ্টা বিশ্রাম, তবে এইসময় সে টিভি দেখতে পারবে না। পাঠ্য বই-এর বাইরের বই পড়তে পারবে। কোন বই পড়বে তাও কিন্তু ঠিক করা। রনির বাবা ঠিক করে দেন। তিনি নিজেই বই নিয়ে আসেন। সবই জ্ঞানের বই–Insect world, Mountain Climbing, Polar Expedition. (অতি জঘন্য)।
বই পড়ার টাইম শেষ হলেই হুজুর আসবেন। তিনি শেখাবেন কোরান শরীফ পড়া। আলিফ জবার আ, বে জবর বা। উনি চলে যাবার পর আসবেন ইংরেজি স্যার।সন্ধ্যার আগে আগে খেলাধুলার জন্যে একঘণ্টার ছুটি পাওয়া যাবে। খেলতে হবে ছাদে গিয়ে। তাদের বাড়ির ছাদটা নেট দিয়ে ঘেরা। বাসকেট বল খেলার রিং বসানো আছে, পিং পং খেলার টেবিল আছে। একা একা রনি কী খেলবে?
আজ হাব্বত আলি সাহেবের সঙ্গে স্কুল থেকে ফেরার পর তার ধরাবাঁধা রুটিনের ওলটপালট হয়ে গেল। সে সরাসরি নিজের ঘরে ঢুকে স্কুলের কাপড় না ছেড়েই ঘুমুতে গেল এবং ঘুমিয়ে পড়ল। ইদরিস মিয়া খুব চিন্তিত হয়ে কয়েকবার তার খোঁজ নিয়ে গেল। কপালে হাত দিয়ে জ্বর আছে কি-না দেখল।রনির মা বাইরে থেকে টেলিফোন করলেন। ইদরিস তাঁকে জানাল, ভাইজান স্কুল থাইক্যা আইসাই ঘুমাইতাছে। মনে হয় শইল ভালো না।
জ্বর নাকি? কপালে হাত দিয়ে দেখ।
জ্বর নাই, শইল ঠাণ্ডা।
আচ্ছা ঠিক আছে ঘুমাচেছ ঘুমাক। আমি ঘন্টা দুইর মধ্যে আসব, তখন দেখব।
দুপুরের খানা খায় নাই।
আমি এসে খাওয়াব।
ভয়ের চোটে ইদরিস আসল কথাটা বলতে পারল না। আসল কথা হচ্ছে, ভাইজান আজ স্কুল থেকে একা চলে এসেছে। গাড়ি তাকে আনতে গিয়ে ফিরে এসেছে।রনি বিকাল পর্যন্ত ঘুমালো। ইদরিস মিয়াই তাকে ডেকে তুলল। তার টেলিফোন এসেছে। খুব নাকি জরুরি টেলিফোন।
রনি টেলিফোন ধরল। অবাক হয়েই টেলিফোন ধরল। তাকে কেউ টেলিফোন করে না। মাঝে মাঝে তার প্রাইভেট টিচাররা টেলিফোন করেন। আজ আসবেন না কিংবা পরশু আসতে পারবেন না এইসব জানানোর জন্য। এখন সেটাও বন্ধ। রনির মা টিচারদের বলে দিয়েছেন এ জাতীয় টেলিফোন রনিকে করার কিছু নেই। তাকে করতে হবে।তাহলে টেলিফোনটা কে করেছে। হাব্বত আলি? রনি টেলিফোন ধরতেই ওপাশ থেকে মিষ্টি গলায় কেউ একজন বলল,
রনি
কনি
মনি
লানি
মিস নাজমা ম্যাডাম যে রকম করে বলতেন অবিকল সেরকম করে বলা। তবে নাজমা ম্যাডাম টেলিফোন করেন নি। অন্য কেউ করেছে। রনি বলল, হ্যালো কে? আমি লুতপা।তুমি আমার টেলিফোন নাম্বার কোথায় পেয়েছ? স্কুল থেকে নিয়েছি। কেন নিয়েছ? তুমি রাগ করছ কেন? রনি বলল, কেউ টেলিফোন করলে আমার ভালো লাগে না।লুতপা বলল, আমার খুব মন খারাপ এইজন্যে তোমাকে টেলিফোন করেছি।মন খারাপ কেন?
মিস নাজমা ম্যাডাম আমাদের নামের সঙ্গে মিলিয়ে যা রাইম বলতেন তার অর্থ বের করেছি। তারপর থেকেই আমার মন খারাপ।রনি বলল, কী অর্থ বের করেছ? লুতপা বলল, মিস তোমাকে কী বলে ডাকতেন?
রনি!
কনি
মনি
লানি।
কনি মনি লানি এর প্রথম অক্ষরগুলি মিলে কী হয়? কমলা হয় না? ম্যাডাম তোমাকে কমলা ডাকতেন। তোমার গায়ের রঙ টুকটুকে কমলার মতো, এইজন্য কমলা ডাকতেন। ও আচ্ছা।পুতুলকে কী ডাকতেন মনে আছে? পুতুলকে ডাকতেন—
পুতুল!
তুতুল
লতুল
তুতুললতুল।
প্রথম অক্ষরগুলি নিলে কী হয়? তুলতুল হয় না? পুতুলকে দেখলেই মনে হয় না–গা তুলতুল করছে?
হ্যাঁ মনে হয়।
আর আমাকে ডাকতেন—
লুতপা!
মতপা
য়তপা
নাতপা
এর মানে কী?
রনি বলল, ময়না।
লুতপা বলল, আমার খুব বুদ্ধি, তাই না?
রনি বলল, হুঁ।
লুতপা বলল, আমার বাবা আমাকে কী ডাকে জানো?
রনি বলল, জানতে চাই না।
লুতপা বলল, এমন কর কেন, শোনো না–আমার বাবা আমাকে ডাকে বুদ্ধিরানী।রনি বলল, লুতপা শোনো তুমি আর কোনোদিন আমাকে টেলিফোন করবে না।লুতপা বলল, কেন করব না? রনি বলল, আমার ভালো লাগে না। আরেকটা কথা শোনো, মিস নাজমা ম্যাডাম মারা যান নি। বেঁচে আছেন।কে বলেছে? যেই বলুক, ঘটনা সত্যি।
এই বলেই সে টেলিফোন রেখে দিল। অবশ্যি টেলিফোনটা রাখার পর তার একটু মন খারাপ হলো। এমন খারাপ ব্যবহার না করলেই হতো। তার ইচ্ছা করতে লাগল লুতপাকে টেলিফোন করে সরি বলতে। কিন্তু সে তো তার টেলিফোন নাম্বার জানে না। রনি ঠিক করল, আগামীকাল যখন স্কুলে যাবে তখন সে সরি বলবে। কিংবা একটা ফরগিভ মি কার্ড দেবে। কম্পিউটারে সুন্দর সুন্দর কার্ড সে নিজেই তৈরি করতে পারে।লুতপার কার্ডে একটা ছেলের ছবি থাকবে। ছেলেটার চোখে পানি। নিচে লেখা থাকবে–FORGIVE ME PLEASE.
রনিদের বাড়িতে মোটামুটি হৈচৈ পড়ে গেছে। মিটিং-এর পর মিটিং শুরু হয়েছে। সবাই আলাদা আলাদা করে রনিকে নিয়ে বসছে। প্রথমে বসলেন রনির মা। তিনি কথাবার্তা বলছেন খুব আদুরে গলায়। এমন ভাব যেন কিছুই হয় নি। ছেলের সঙ্গে গল্প করতে বসেছেন।বাবা, ঠিক করে বলো তো তুমি কার সঙ্গে বাড়িতে এসেছ?
একটা লোকের সঙ্গে।একটা লোকের সঙ্গে তুমি যে এসেছ সেটা তো আগেই বলেছ। লোকটার নাম কী? নাম বলো।রনি চুপ করে গেল। নাম সে জানে। হাত আলি। কিন্তু হাব্বত আলির নাম শুনলেই মা রেগে যাবেন। মানুষটাকে আর কখনো বাড়িতে ঢুকতে দেবেন না। কাজেই নাম না বলাই ভালো।রনি, লোকটার নাম বলো।নাম মনে নেই। সে কি তার নাম তোমাকে বলেছিল? মনে নেই। তোমার সবকিছু মনে থাকে, এটা কেন মনে নেই? সে তোমাকে রিকশায় করে এনেছে? হুঁ।
রিকশায় উঠে তোমাকে কি কিছু খেতে দিয়েছিল? শরবত জাতীয় কিছু? যেটা খাওয়ার পর তোমার আর কিছু মনে নেই।না।সে রিকশায় করে তোমাকে সরাসরি এই বাড়িতে নিয়ে এসেছে? না।তাহলে কোথায় নিয়ে গেছে? রাস্তায় রাস্তায় ঘুরেছে।কোথায় কোথায় ঘুরেছে মনে করতে পার? না।না কেন? আমি চোখ বন্ধ করে ছিলাম তো।কী সর্বনাশ! চোখ বন্ধ করে ছিলে কেন?
উনি আমাকে চোখ বন্ধ করে রাখতে বললেন।আশ্চর্য কথা! চোখ বন্ধ করে থাকতে বলেছে কেন? রিকশায় চোখ বন্ধ করে থাকলে মনে হবে হাওয়ায় উড়ছি–এইজন্যে চোখ বন্ধ করে থাকতে বলেছেন।সে কি আবারো তোমার সঙ্গে দেখা করবে এরকম কিছু বলেছে? হুঁ।কী বলেছে? বলেছেন প্রতি বুধবার তার সঙ্গে দেখা হবে।
কী বলছ এইসব? আমার তো হাত-পা ঠাণ্ডা হয়ে আসছে।রনির মা মুখ কালো করে ফেললেন। তিনি যে খুবই ভয় পাচ্ছেন এটা রনি বুঝতে পারছে। তাকে ভয় দেখাতে পেরে রনির ভালো লাগছে। এখন তার সবাইকে ভয় দেখাতে ইচ্ছা করছে।লোকটার সঙ্গে কী কী কথা হয়েছে আমাকে গুছিয়ে বলো। কিছুই বাদ দেবে না।
উনি আমাকে মন ভালো করার কৌশল শিখিয়েছেন।কী কৌশল? ঘোঁৎ কৌশল।সালমা বানু অবাক হয়ে ছেলের দিকে তাকিয়ে রইলেন।রনির মার পর কথা বলতে এলেন রনির বাবা। তিনি কথাবার্তা বললেন কঠিন গলায়। তাকে তখন মনে হচ্ছিল গোয়েন্দা অফিসার। আর রনি হলো ভয়ঙ্কর এক অপরাধী।
রনি শোনো, আমি তোমার স্কুলের মিসের সঙ্গে কথা বলেছি। তোমাদের প্রিন্সিপ্যালের সঙ্গে কথা বলেছি। তোমাদের মিস বলেছেন তুমি খুব আনন্দের সঙ্গে ঐ লোকের সঙ্গে গেছ। তুমি তোমার মিসকে বলেছ ঐ লোক তোমার আত্মীয়। বলেছ এমন কথা?
না।তাহলে কি তুমি বলতে চাও তোমার মিস মিথ্যা কথা বলেছেন? হ্যাঁ।তুমি অচেনা একজন লোকের সঙ্গে বের হয়ে গেলে কেন? জানি না কেন।সে বলল আর তুমি সুড়সুড় করে তার সঙ্গে রিকশায় উঠে গেলে? হ্যাঁ। কেন উঠলে?
জানি না।লোকটা একা ছিল, না তার সঙ্গে দলবল ছিল? একা ছিল। দলবল নিয়ে একটা রিকশায় করে যে যাবে কীভাবে? তোমার মা বলছিল সে নাকি কি তোমাকে শিখিয়েছে। কী শিখিয়েছে? ঘোঁৎ বিদ্যা।তার মানে? রনি কয়েকবার ঘোঁৎ ঘোঁৎ শব্দ করল।রনির বাবার চোখ কপালে উঠে গেল।
রাত নটার সময় সত্যিকার একজন পুলিশ অফিসার রনির সঙ্গে কথা বলতে এলেন। তিনি আবার কারো সামনে কথা বলবেন না। কথাবার্তার সময় রনি ছাড়া আর কেউ থাকতে পারবে না। কাজেই রনি তাকে তার ঘরে নিয়ে গেল। তিনি হাসি হাসি মুখে কথা বললেন, খোকা তুমি কেমন আছ?
ভালো আছি।তুমি কি সবসময় সত্যি কথা বলো, নাকি মাঝে মাঝে মিথ্যা কথা বলো? মাঝে মাঝে মিথ্যা কথা বলি।আমার সঙ্গে সত্যি কথা বলবে, নাকি মিথ্যা কথা বলবে? জানি না।না জানলে হবে না। আমার সঙ্গে সত্যি কথা বলতে হবে। কেন?
কারণ আমি পুলিশ। পুলিশের সঙ্গে সত্যি কথা বলতে হয়। আচ্ছা এখন লোকটা সম্পর্কে বলো। লোকটার বয়স কত? বয়স কত আমি জানি না। জিজ্ঞেস করিনি।অনুমান করে বলো।আমি অনুমান করতে পারি না।লোকটা কি তোমার বাবার বয়সী না তার চেয়ে বড়?
কোন বাবা? আসল বাবা না নকল বাবা।পুলিশ অফিসার অবাক হয়ে বললেন, কী বলছ এসব! আসল বাবা নকল বাবা কী? আমি যে বাবার সঙ্গে থাকি তিনি নকল বাবা। আসল বাবা মারা গেছেন।বলো কী।রনি বলল, আমার যে মাকে দেখছেন উনিও নকল।পুলিশ অফিসার হতভম্ব গলায় বললেন, ভালো যন্ত্রণায় পড়লাম তো!
Read more
