হুমায়ূন আহমেদের লেখা ”তুমি আমায় ডেকেছিলে ছুটির নিমন্ত্রণে ”খন্ড-২০

জামিল সাহেব বললেন, ভাল ভাঙ্গারে তো তাৰ মে এ গেমে আছে। বিদেশে আয়। সেখানে না চাইলে কিভাবে কি সবার কাছে এমন অসুখ-বিসুখের যন্ত্রণায় পড়ি তাহলে ভাল লাগে ন্ন । তাে এই পৃথি আরে লক আছে!

তুমি আমায় ডেকেছিলে ছুটির নিমন্ত্রণেনবণী বলল, বাবা, তুমি বেশি রেগে যায়। 

আমি খুব ম নেগেছি, মা খুবই কম। আমি সই েম + তে । কারাের দুটি নই তে চাই না। আমার বর কে এগে। মেসে নে যেভাবে আনন্দ পেতে চায়—শাক। তাের মা রান্নাঘরে কি করে সে চা -পাক। শ্রাবণী একবার ব্যস্ত তিনটার সময় এ এ মন কাড়ে এল। আল করেছি, কিন্তু কি বলিনি। এখন শুনলাম যে একটা মেয়েতে উঠবে। ছাদ এমন কি জিনিস যে মই এনে উঠতে হবে।’ 

ননী হেসে ফেলল। মেয়ের হাসিমুখ দেখে কামিল সাহেও লিশের মধ্যে হেসে ফেললেন। শাহেদের দিকে তাকিয়ে বললেন, পারিবারিক নেসা সে সামনেই আলাপ করলাম। তােমাকে পরিবারের একজন ধরি করে তা করে। ৪ আমার সমস্যা বলে বেড়াই না। ইও করে না। সময় নেই। 

শাহেদ প্রসঙ্গ পাটাবার জন্য বলল, এত জায়গা থাকতে আপনি এখানে টলটাতে কেন এসেছেন, চাচা? 

যুবক বয়সে একবার এখানে এসেছিলাম। পাখি শিকারের জন্যে এসেছি। এই ডাকবাংলােয় ছিলাম। এখান থেকে দশ মাইল দূরে মাহির লা’ নামে একটা বি মত আছে। সেখানে পাখি শিকারের জন্যে গিয়েছিলাম। অত দৃশ্য! আবারাে সেই দৃশ্য দেখার জন্যেই এসেছি। দৃশ্য কি দেখৰযন্ত্রণায়-যন্ত্রণায় অস্থির 

এবারাে কি পাখি শিকারে যাবেন। 

‘পাগল হয়েছ। মন্ত্রী হয়ে পাখি শিকারে গেলে উপায় আছে সব পত্রিকায় ৪ পেজে ছবি চলে যাবে। তবে তােমরা যাও, দেখে আস। পাখি শিকারের দরকার নেই। ব্যাপার কি দেখে আস। থানার একটা ডি বােট আছে। না লি। ঠিক করেছে। ফল ভােরে তােমাদের নিয়ে যাবে।’ ‘আপনি যাবেন না।’ 

তুমি আমায় ডেকেছিলে ছুটির নিমন্ত্রণে-খন্ড-২০

 আমি যাব না। আমি সঙ্গে থাকলে তােমরা মন খুলে হৈচৈও করতে পারবে না। তাছাড়া এদিকে আমার কিছু কাজও আছে।’ 

শাহেদ বলল, বেড়াতে এসেছেন, এখন আবার কাজ কি? আপনিও লুন। সবাই মিলে হৈচৈ করে আসি। 

জামিল সাহেবের খাওয়া হয়ে গেছে। তিনি হাত ধুতে ধুতে বললেন, আমি যেতাম। পাখি দেখার জন্যেই এসেছি। কিন্তু এখন যদি যাই—আমাকে একা যেতে হবে। নবনীর মা’কে সঙ্গে নেয়া যাবে না। এই ভাবে যাওয়া যায় না। 

শাহেদ বলল, আমরা উনাকে বুঝিয়ে সুঝিয়ে রাজি করব। 

পারবে না। পৃথিবীর সব কাজ পারবে। এই কাজটা পারবে না। আমার এ্যাডভাইস হচ্ছে—চেষ্টা করতেও যেও না। তার মেজাজ এখন আকাশে উঠে আছে। চেষ্টা করতে যাবে, সে একটা বিশ্রী কাণ্ড করবে। আমি চাই না এখন একটা বিশ্রী কাও হােক নবনী! 

এ জি বাবা।’ ‘তাের মাকে কিছু খাওয়াতে পারিস কি না দেখ। সে দুপুরেও কিছু খায়নি।’ 

জাহানারার ঘরের দরজা বন্ধ। তিনি দরজা খুললেন না। ভেতর থেকে মিলু বলল, আফা, আপনেরে চইল্যা যাইতে বলছে। নবনী বলল, ঠাণ্ডা পানি এনেছি মা। দরজা। খােল। পানিটা রেখে যাই। জাহানারা কঠিন গলায় বললেন, পানি লাগবে না। তুই ঘুমুতে যা । 

নবনী ঘুমুতে এল অনেক রাতে। বারােটা পার করে । শ্রাবণী জেগে আছে। গভীর মনযােগে বই পড়ছে। গল্পের বই না, পাঠ্যবই। সব গল্পের বই সুটকেসে ঢুকিয়ে তালা দিয়ে দেয়া হয়েছে। এখন শুরু হয়েছে পাঠ্যবইয়ের পালা। নবনী বলল, এখনাে জেগে আছিস! তাের না গলাব্যথা? 

তুমি আমায় ডেকেছিলে ছুটির নিমন্ত্রণে-খন্ড-২০

 শ্রাবণী বলল, শুধু গলাব্যথা না আপী। জ্বর, এসেছে। কপালে হাত দিয়ে দেখ। 

নবনী কপালে হাত দিল। আসলেই জ্বর । বেশ জ্বর। নবনী বলল, তুই এই জ্বর নিয়ে দিব্যি পড়াশােনা করে যাচ্ছিস? | ই। আমি কোন কিছুকেই পাত্তা দেই না। তাছাড়া আমার হচ্ছে ভালুক জ্বর। এই আছে এই নেই। তােমার সঙ্গে খানিকক্ষণ গল্প করে যখন বিছনায় শুয়ে যাব তখন দেখবে জ্বর নেই।’ 

‘তুই কি কিছু খাবি? খিদে লেগেছে

 তেতুলের আচার খেতে ইচ্ছে হচ্ছে। সেটা তাে এখানে পাওয়া যাবে না । কাল চেয়ারম্যান চাচাকে বলব।’ 

নবনী খাটে বসতে বসতে বলল, তুই খুব সুখে আছিস। 

শ্রাবণী বলল, হ্যা সুখে আছি। আমাকে কেউ অসুখী করতে পারবে না । আমাকে অসুখী করা খুব কঠিন । তুমি আমার মত না। তােমাকে এক সেকেন্ডে অসুখী করা যায় । 

চুপ কর তাে । আয়, ঘুমুতে আয়।’ 

শ্রাবণী বাতি নিভিয়ে ঘুমুতে গেল। বােনকে জড়িয়ে ধরে বলল, আজ আমরা খানিকক্ষণ গল্প করব। কেমন আপা? 

“আচ্ছা। গল্প কর, আমি শুনি।’ 

শাহেদ ভাই আসায় ভালই হয়েছে। তােমার সঙ্গে আমি খানিকক্ষণ গল্প করার সুযােগ পাচ্ছি।’ 

 

Read More

হুমায়ূন আহমেদের লেখা ”তুমি আমায় ডেকেছিলে ছুটির নিমন্ত্রণে ”খন্ড-২১

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *