হুমায়ূন আহমেদের লেখা ”তুমি আমায় ডেকেছিলে ছুটির নিমন্ত্রণে ”খন্ড-২৪

না।’ 

যা সত্যি তা স্বীকার করে নেয়াই কি ভাল না? আমি জানি এখন তােমার কষ্ট হচ্ছে। এটা কিন্তু অনেক ভাল। কষ্টটা বিয়ের পর হবার চেয়ে আগে হওয়াই ভাল। 

‘তুই চুপ ক’।

তুমি আমায় ডেকেছিলে ছুটির নিমন্ত্রণে তারা নিঃশব্দে ডাকবাংলােয় ফিরে এল । ডাকবাংলাের গেটের কাছে শাহেদ দাঁড়িয়ে আছে। তার মাথায় ক্রিকেট খেলােয়াড়দের মত সাদা টুপি। তাকে সুন্দর দেখাচ্ছে । শাহেদ চেঁচিয়ে বলল, তােমরা এত দেরি করেছ? যাত্রার সব আয়ােজন সম্পন্ন । ডাকবাংলােয় ঢােকার দরকার নেই—তােমরা এখান থেকে সরাসরি স্পিড বােটে উঠবে। 

তােমাদের ব্যাগ-ট্যাগ সব তােলা হয়েছে। পানির বােতল নেয়া হয়েছে। মা তন্তি চা নেয়া হয়েছে। 

শ্রাবণী বলল, একটা কুঞ্জ সমস্যা হয়েছে, শাহেদ ভাই । কি ক্ষুদ্র সমস্যা? 

‘হাঁটতে গিয়ে আমার মচকে যাওয়া পা গর্তে পড়েছে। আমার মুখ দেখে যাের উপায় নেই যে ব্যথায় আমি ছটফট করছি। কাজেই আমি যেতে পারছি না। আমাকে গরম পানিতে পা ডুবিয়ে বসে থাকতে হবে। 

শাহেদ হতভম্ব গলায় বলল, সে কি 

তাতে আপনাদের প্রগ্রামের কোন রকম হেরফের হবে না। আপনি আপাকে নিয়ে যাবেন। হৈচৈ করে আসবেন।’ 

নবনী এক দৃষ্টিতে বােনের দিকে তাকিয়ে আছে। তার চোখে পলক পর্যন্ত পড়ছে । শাহেদ বলল, তিনজন মিলে যাব ঠিক করেছি, এখন দু’জন যাব, তা কি করে হয়? তাছাড়া পাখি শিকারে তােমার আগ্রহই সবচেয়ে বেশি ছিল। 

তুমি আমায় ডেকেছিলে ছুটির নিমন্ত্রণে-খন্ড-২৪

‘আগ্রহ এখনাে আছে। সুন্দর সুন্দর পাখি গুলি করে মেরে ফেলার দৃশ্য খুব ইন্টারেস্টিং হবার কথা। কিন্তু উপায় নেই। পায়ে দারুণ ব্যথা। 

শাহেদ বলল, তাহলে প্রগ্রাম বাদ দেয়া যাক। তােমার পায়ের ব্যথা কমুক, তারপর যাব। আজই যেতে হবে এমন তাে কথা নেই। নবনী, তুমি কি বল? 

নবনী সহজ গলায় বলল, শ্রাবণীর পায়ের ব্যথা-ট্যথা কিছুই নেই। ও ভালই আছে। ও যবে পাখি দেখতে । ও তােমার সঙ্গে তামাশা করছে। আমি যেতে পারব না। আমার পাখি শিকার তাল লাগে না। তাছাড়া মার শরীর খুব খারাপ। আমি মার সঙ্গে থাকব। একজন ডাক্তার এলে মা’কে দেখাব। 

শাহেদ বলল, তুমি কি সত্যি যাবে না? 

 তাতে অসুবিধা নেই। তুমি শ্রাবণীকে নিয়ে ঘুরে এসো। এঁরা কষ্ট করে এত আয়ােজন করেছেন। এখন না যাওয়া ঠিক হবে না।’ 

শাহেদ বলল, সেটাও সত্যি। নবনী বলল, দেরি না করে তােমরা রওনা হয়ে যাও। 

নবনী ডাকবাংলােয় ঢুকে পড়ল। কিছুক্ষণের মধ্যেই স্পিড বােট চালু করার ভট ভট শব্দ কানে এল। 

নবনী নিজের ঘরে শুয়ে আছে । ভুল বলা হল । নিজের ঘর না শ্রাবণীর ঘর। এই মুহূর্তে ডাকবাংলােয় তার নিজের কোন ঘর নেই। নবনীর ইচ্ছা করছে, শ্রাবণীর মত কোলবালিশ জড়িয়ে নিশ্চিত মনে খানিকক্ষণ ঘুমিয়ে থাকে। খুব ক্লান্ত লাগছে।

মন ক্লান্ত হলে শরীরও বােধহয় ক্লান্ত হয়ে যায়। ঘরটায় প্রচুর আলাে। জানালার পর্দা সরিয়ে দেয়া, ঘরে রােদ ঢুকছে। চোখে আলাে লাগছে। চারদিকে অন্ধকার করে শুয়ে থাকলে বােধহয় ভাল লাগত। বিছানা থেকে উঠে পর্দা টেনে দিতেও ইচ্ছা করছে না। আসি লাগছে। 

তুমি আমায় ডেকেছিলে ছুটির নিমন্ত্রণে-খন্ড-২৪

আস্তে করে কে যেন দরজায় হাত রাখল। নবনী বলল, কে? জামিল সাহেব বললেন, আমি । ‘এসাে বাবা।’ 

ক রে নেন। তার ও বি। তিনি বললেন, হঠাৎ তাের আবার তে তে , বুঝতে পারছি না। খুব ক্লান্ত লাগছে। 

 সে অনেক আয় কৰে বুলি না। | ‘তে সে সব এ অনু বাধিয়ে ফেলা তাে কোন কাজের কথা না। দিয়েছি…’ 

এ  নেহি আল ডাঙ্গর। আমরা ঢাকায় চলে যাই। এখানে আর ভাল লাগছে না। 

মাত্র দেন সেটাই ভাল। আমিও একটু আগে তাই ভাবছিলাম। এখানে করে কোন বিষ্ণু হলে মুশকিলে পড়ে যাব। নবনী, তুই শুয়ে না থেকে নে কে যত্রয় দেয়া হয়। মন উঠ । আমিন সাহেব বললেন, তুই তাের পরীক্ষার রেজাল্ট নিয়ে চিন্তিত এ তাে না। 

আমার মনে হয় পরীক্ষার রেজাটের চিন্তাই তােকে আপসেট করে রাখছে। এত দিতে নেই-এবার হবে। আমার ধারণা, ভালই হবে।’ 

নন হতে যাতে বন, পরীক্ষা ভালই হবে। আমি পরীক্ষায় সব প্রশ্নের জবাব নি। অন্য কােন প্রশ্নের জবাব জানি না। 

এ মানে কি? ‘সেন মানে নেই, বাবা। কথার কথা বললাম।’ 

 

Read More

হুমায়ূন আহমেদের লেখা ”তুমি আমায় ডেকেছিলে ছুটির নিমন্ত্রণে ”খন্ড-২৫

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *