তেঁতুলের পুষ্টিগুন গুলো কি কি ও তার ক্ষতিকর দিকগুলো কি কি? 

তেঁতুল! অতি লোভনীয় ও টক স্বাদের ফল। এটি বসন্তকালীন ফল। এই ফলটি টক হলেও এতটাই লোভনীয় যে এটিকে খেতে পছন্দ করে না এমন মানুষ খুবই কম। এটি পুষ্টিকর ও ভেষজও গুন সম্পূর্ণ। আর্য়বেদীক, অ্যালোপেথিক, হোমিও সকল ধরনের চিকিৎসায় ও ঔষধ তৈরিতে তেঁতুল ব্যবহার করা হয়। তেঁতুলের  আচার  খুবই লোভনী ও জনপ্রিয়। আরও অনেক মুখরোচক রান্না তেঁতুল দিয়ে করা যায়।তেঁতুল

তেঁতুলে যে সকল উপাদান রয়েছে সেগুলো হলো,আমিষ, শর্করা, ক্যালসিয়াম, আয়রন, ক্যারটিন, খাদ্য আঁশ,ভিটামিন – সি, বি১, বি২ ইত্যাদি উপাদান যা আমাদের শরীরের জন্য বেশ উপযোগ। 

 

★ তেঁতুলের উপকারিতাগুলো হলো –

 

১/  তেঁতুল  কার্বোহাইড্রেটের শোষণ মাত্রা কমিয়ে দিতে সক্ষম। ফলে এটি খেলে ডায়বেটিস হবার সম্ভবনা কম থাকে।কারন এটি রক্তে শর্করার নিয়ন্ত্রণে রাখে।

 

২/ এটি হজম শক্তি বাড়ায়। কারন এতে রয়েছে ফাইবার যা হজম শক্তি বাড়ানোর সাথে সাথে বদ হজম হওয়াও রোধ করে।

 

৩/   তেঁতুলে রয়েছে  হাইড্রোক্সিসিট্রিক অ্যাসিড যা শরীরের চর্বি হ্রাস করে ও রয়েছে ফাইবার যা আমাদের ক্ষিদে হ্রাস করে এবং ওজন কমায়।

 

৪/ এতে রয়েছে প্রচুর আয়রন যা আমাদের শরীরের রক্তস্বল্পতা দূর করে এবং লোহিত রক্তকণিকার পরিমাণ বাড়ায় শরীরে।

 

৫/ ব্লাড প্রেসার ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে থাকলে হার্টের সমস্যা না হবার সম্ভাবনা থাকে। আর তেঁতুলে রয়েছে খনিজ উপাদান ও বিভিন্ন রকমের ভিটামিন যা ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং শরীর থেকে খারাপ কোলেস্টেরল বেড় করতে সহায়তা করে।

 

৬/ তেঁতুলে রয়েছে প্রচুর ভিটামিন – সি।যা শরীরে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট তৈরি করে।ফলে শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

 

৭/ তেতুলের বিচির গুড়া  নিয়মিত খেলে পেপটিক আলসার হবার সম্ভাবনা  থাকে না।

 

★ তেঁতুলের উপকারী গুন থাকা স্বত্বেও এর কিছু অপকারিতা আছে।

 

১/ পুষ্টিবিদের মতে মানুষের দিনে ১০ গ্রামের বেশি তেতুল খাওয়া উচিত না। কারন এতে রক্তে গ্লুকোজের পরিমান কমে যায় ফলে হাইপোগ্লাইসেমিয়া দেখা দেয়।

 

২/ বেশি তেঁতুল খাওয়া শরীরের জন্য তো অবশ্যই দাঁতের জন্যও খারাপ।কারন  এতে রয়েছে উচ্চমাত্রার এসিড যা আমাের দাঁতের এনামেল নষ্ট করে। 

 

৩/  ভারতীয় গবেষক প্রমাণ করেছেন যে, ঘন ঘন প্রচুর পরিমাণে তেঁতুল খাওয়া পিত্তপাথর হতে সাহায্য করে। এর ফলে জ্বর, পেটে ব্যথা, বমি, লিভারে সমস্যা ইত্যাদি লক্ষন দেখা দেয়। 

 

৪/ যাদের এসিডিটির সমস্যা রয়েছে তাদের তেঁতুল না খাওয়াই ভালো।কারন এতে বিদ্যামান এসিড আমাদের এসিডিটির সমস্যা বাড়িয়ে দেয়।  

 

৫/ যাদের রক্তনালি সংকোচনের সমস্যা রয়েছে এবং নিয়মিত ঔষধ সেবন করতে হয় তাদের তেতুল না খাওয়াই ভালো। কারন এটি রক্তনালিকে আরও সংকোচিত করে ফেলে।   

কথিত আছে যে বেশি তেঁতুল খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য হীতকর না। কারন তেঁতুল রক্ত পানি করে ফেলে এবং মস্তিস্কের ক্ষতি করে। এই ধারনা ডাক্তারদের মতে একেবারেই ভিত্তিহীন। বরং  তেঁতুল অনেক পুষ্টি গুন সম্পূর্ণ ফল।

 

লিখেছেন –

ত্রোপা চক্রবর্তী

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *