দেখা না দেখা পর্ব – ০৪ হুমায়ূন আহমেদ

দেখা না দেখা পর্ব – ০৪

চিল আকাশে উড়ে, তার দৃষ্টি থাকে স্থলে। শফি আহমেদ বাংলাদেশে বাস করেন, কিন্তু তার হৃদয় পড়ে থাকে আগরতলায়। আগরতলার প্রতিটি গাছ, প্রতিটি পাথর তিনি চেনেন। আগরতলা সম্পর্কে কেউ সামান্যতম মন্দ কথা বললে তিনি সার্টের হাতা গুটিয়ে মারতে যান।এই সদানন্দ চিরকুমার মানুষটি আমাকে মুক্তিযুদ্ধের সময় আগরতলার মহান ভূমিকার কথা কী সুন্দর করেই না বললেন! মুক্তিযোদ্ধারা কোথায় থাকত, কোথায় ছিল ফিল্ড হাসপাতাল, সব ঘুরে ঘুরে দেখালেন।

বেড়াতে গেলে আমি কখনো ইউনিভার্সিটি বা কলেজ দেখতে যাই না। কালো বুদ্ধিজীবী আমাকে জোর করে নিয়ে গেলেন ব্লগরতলার এমবিবি কলেজে। কারণ কী? কারণ একটাই, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে এই কলেজের একটা ভূমিকা আছে। কলেজটা ছিল শরণার্থী শিবির। কাজেই আমাকে দেখতে হবে।শুনতে পাচ্ছি শফি আহমেদ সাহেব বলেছেন, মৃত্যুর পর তার কবর যেন হয় আগরতলায়। শফি সাহেবের বন্ধুবান্ধবরা চিন্তিত। ডেডবডি নিয়ে এতদূর যাওয়া সহজ ব্যাপার না।

চখাচখি আমাদের এবারের ভ্ৰমণ চখাচখি ভ্রমণ সবাই জোড়ায় জোড়ায় এসেছে। দেশের বাইরে পা দিলে চখাচখি ভাবের বৃদ্ধি ঘটে। আমাদের ক্ষেত্রেও ঘটেছে। স্ত্রীরা স্বামীদের নিয়ে নানান আহ্লাদী করছে। স্বামীরা প্রতিটি আল্লাদীকে গুরুত্ব দিচ্ছে। খুবই চেষ্টা করছে প্রেমপূর্ণ নয়নে স্ত্রীর দিকে তাকাতে। মিষ্টি মিষ্টি কথা বলতে। মাজহার এবং কমল দু’জনকেই দেখলাম স্ত্রীর মুখে তুলে পাড়া খাওয়াচ্ছে। স্ত্রীরাও এমন ভাব করছে যেন সারাজীবন তারা এভাবেই মিষ্টি খেয়ে এসেছে। এটা নতুন কিছু না।

চখাচখিদের মধ্যমণি অন্যদিন পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক নাসের এবং নাসের পত্নী তামান্না! এটা তাদের হানিমুন ট্রিপ। কিছুদিন আগেই বিয়ে হয়েছে। তামান্নার হাতের মেহেদির দাগ তখনো ম্লান হয় নি।আমরা কত না জায়গায় ঘুরলাম, কত কিছু দেখলাম, এই দু’জন কিছুই দেখল না। দুজন দুজনের দিকে তাকিয়ে রইল।

চখাচখি গ্রুপ থেকে বাদ পড়েছে মিলন ও আলমগীর রহমান। তার স্ত্রীদের দেশে ফেলে গেছে। সবাই জোড়া বেঁধে ঘুরছে, মিলন-আলমগীরও জোড়া বেঁধে ঘুরছে। দু’জনের মুখই গম্ভীর। দুজনই দু’জনের উপর মহাবিরক্ত। ভদ্রতার খাতিরে কেউ বিরক্তি প্রকাশ করতে পারছে না। মজার ব্যাপার।সবচে’ আনন্দ লাগল আর্কিটেক্ট করিম এবং তার স্ত্রী স্নিগ্ধাকে দেখে। স্নিগ্ধা সারাক্ষণ স্বামীর হাত ধরে আছে। করিমের অতি সাধারণ রসিকতায় হেসে ভেঙে পড়ছে এবং রাগ করে বলছে, তুমি এত হাসাও কেন? ছিঃ! দুষ্টু!

করিমের গানের গলা ভালো। যে-কোনো বাংলা হিন্দি গানের প্রথম চার লাইন সে শুদ্ধ সুরে গাইতে পারে। করিম তার এই ক্ষমতাও কাজে লাগাচ্ছে, স্নিগ্ধার প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছে গানে।শাওন একসময় আমাকে বলল, দেখ করিম চাচা স্ত্রীকে নিয়ে কত আনন্দ করছেন, আর তুমি গম্ভীর হয়ে বসে আছ।আমি করিমকে ডেকে বললাম, তুমি শাওনের অভিযোগের উত্তর গানে গানে দাও।করিম সঙ্গে সঙ্গে গাইল—

সখী, বহে গেল বেলা, শুধু হাসিখেলা,

এ কি আর ভালো লাগে?

বেদনার সঙ্গে জানাচ্ছি, আগরতলার আনন্দময় ভ্রমণ শেষ করেই স্নিগ্ধ তার স্বামী এবং একমাত্র শিশুপুত্র রিসাদকে ফেলে অন্য এক পুরুষের সঙ্গে গৃহত্যাগ করে।জগতের সর্বপ্রাণী সুখী হোক।

নীরমহল ত্রিপুরার মহারাজ (খুব সম্ভব মহারাজ বীর বিক্রম বাহাদুর) তার স্ত্রীর মনোরঞ্জনের জন্যে স্ত্রীর দেশের রাজপ্রাসাদের অনুকরণে বিশাল এক জলপ্রাসাদ বানিয়েছিলেন। জলপ্রাসাদ, কারণ প্রাসদটা জলের মাঝখানে। দিগন্তবিস্তৃত জলরাশির মাঝখানে এক রাজবাড়ি। নাম নীরমহল। জলে যার ছায়া পড়ে। যেমন কল্পনা তেমন রূপ। UNESCO মনে হয় এর খোঁজ এখনো পায় নি। খোঁজ পেলে World Heritage-এর আওতায় অবশ্যই নিয়ে আসত।

আমরা একটি আনন্দময় রাত কাটালাম দূর থেকে নীরমহলের দিকে তাকিয়ে। আমাদের থাকার ব্যবস্থা হয়েছিল এমন একটা রেস্টহাউসে, যেখান থেকে জলপ্রসাদ নীরমহল দেখা যায়।রাত অনেক হয়েছে, আমরা গোল হয়ে রেস্টহাউসের বারান্দায় বসে আছি। তাকিয়ে আছি নীরমহলের দিকে। চট করে রবীন্দ্রনাথের লাইন মনে হলো–

রাজশক্তি বসুকঠিন

সন্ধ্যারক্তরাগসম তন্দ্রাতলে হয় হোক লীন,

কেবল একটি দীর্ঘশ্বাস

নিত্য-উচ্ছসিত হয়ে সকরুণ করুক আকাশ,

এই তব মনে ছিল আশ।

কেন জানি মনটাই খারাপ হলো। আমি শাওনের দিকে ফিরে বললাম, গান শোনাও তো। একের পর এক রবীন্দ্রসঙ্গীত গেয়ে যাবে। Stop না বলা পর্যন্ত থামবে না।রেস্টহাউসের সব বাতি নেভানো। আমাদের দৃষ্টি দূরের নীরমহলের দিকে। গায়িকার কিন্নর কণ্ঠ বাতাসে মিশে মিশে যাচ্ছে। সে গাইছে–’সখী, বহে গেল বেলা।‘

আমি মনে মনে বললাম, জলরাশির মাঝখানে অপূর্ব নীরমহল দেখার জন্যে আমি ত্রিপুরায় আসি নি। আমি এসেছি রবীন্দ্রনাথের প্রিয় পদরেখার সন্ধানে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, আপনি আমার শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা গ্রহণ করুন। আমার গলায় সুর নেই। আপনার অপূর্ব সঙ্গীত আমি কোনোদিনই কণ্ঠে নিতে পারব না। আমার হয়ে আপনার গান আপনাকে পাঠাচ্ছে আমার স্ত্রী শাওন। কী সুন্দর করেই সে গাইছে-তাই-না কবি?

পরিশিষ্ট

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘ভগ্নহৃদয়’-এর কিছু অংশ

ভগ্নহৃদয়

প্রথম সর্গ

দৃশ–বন। চপলা ও মুরলা

চপলা। সখি, তুই হলি কি আপনা-হারা?

এ ভীষণ বনে পশি একেলা আছিস্ বসি

খুঁজে খুঁজে হোয়েছি যে সারা!

এমন আঁধার ঠাই-জনপ্রাণী কেহ নাই,

জুটিল-মস্তক বট চারি দিকে ঝুঁকি!

দুয়েকটি রবির সাহসে করিয়া ভর

অতি সন্তর্পণে যেন মারিতেছে উঁকি।

অন্ধকার, চারি দিক হতে, মুখপানে

এমন তাকায়ে রয়, বুকে বড় লাগে ভয়,

কি সাহসে রোয়েছিস্ বসিয়া এখানে?

মুরলা। সখি, বড় ভালবাসি এই ঠাই!

বায়ু বহে হুহু করি, পাতা কাপে ঝর ঝরি,

স্রোতস্বিনী কুলু কুলু করিছে সদাই!

বিছায়ে শুকনো পাতা বটমূলে রাখি মাথা

দিনরাত্রি পারি, সখি, শুনিতে ধ্বনি।

বুকের ভিতরে গিয়া কি যে উঠে উথলিয়া

বুঝয়ে বলিতে তাহা পারি না সজনি!

যা সখি, একটু মোরে রেখে দে একেলা,

এ বন আঁধার ঘোর ভাল লাগিবে না তোর,

তুই কুঞ্জবনে, সখি, কর গিয়ে খেলা!

চপলা। মনে আছে, অনিলের ফুলশয্যা আজ?

তুই হেথা বোসে রবি, কত আছে কাজ!

কত ভোরে উঠে বনে গেছি ছুটে,

মাধবীরে লোয়ে ডাকি,

ডালে ডালে যত ফুল ছিল ফুটে

একটি রাখি নি বাকি!

শিশিরে ভিজিয়ে গিয়েছে আঁচল,

কুসুমরেণুতে মাখা।

কাঁটা বিঁধে, সখি, হোয়েছিনু সারা

নোয়াতে গোলাপ-শাখা!

তুলেছি করবী গোলাপ-গরবী,

তুলেছি টগরগুলি,

যুঁইকুঁড়ি যত বিকেলে ফুটিবে

তখন আনিব তুলি।

আয়, সখি, আয়, ঘরে ফিরে আয়,

অনিলে দেখুসে আজ–

হরষের হাসি অধরে ধরে না,

কিছু যদি আছে লাজ!

মুরলা। আহা সখি, বড় তারা ভালবাসে দুই জনে।

বিশেষ এক ধরনের জটিল ব্যাধি আছে যা শুধুমাত্র লেখকদের আক্রমণ করে। লেখকরা তাদের লেখালেখি জীবনে কয়েকবার এই ব্যাধিতে ধরাশায়ী হন। পৃথিবীতে এমন কোনো লেখক পাওয়া যাবে না-যিনি জীবনে একবারও এই জটিল অসুখের শিকার হন নি। মেটেরিয়া মেডিকায় এই অসুখের বিবরণ থাকা উচিত ছিল কিন্তু নেই লেখকদের নিয়ে কে ভাবে?

যাই হোক, অসুখটার ইংরেজি নাম ‘writer’s Block’, বাংলায় লেখক বন্ধ্যা রোগ বলা যেতে পারে। এই রোগের লক্ষণ এরকম-হঠাৎ কোনো একদিন লেখকের মাথা শূন্য হয়ে যায়। তিনি লিখতে পারেন না। গল্প-কবিতা দূরে থাকুক স্বরে ‘অ-ও না। তিনি অভ্যাসমতো রোজ কাগজ-কলম নিয়ে বসেন এবং কাগজের ধবধবে শাদা পাতার কোনায় কোনায় ফুল-লতাপাতা আঁকার চেষ্টা করেন। কাপের পর কাপ চা ও সিগারেট খান। একসময় উঠে পড়েন। এটা হচ্ছে রোগের প্রাথমিক পর্যায়।

রোগের দ্বিতীয় পর্যায়ে লেখক ইনসমনিয়ায় আক্রান্ত হন। সারা রাত জেগে থাকেন। মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায়। অকারণে রাগারাগি করতে থাকেন-যেমন, চা এত গরম কেন?’ [চা গরম হবারই কথা। লেখক আইসটি খেতে চাইলে ভিন্ন কথা।] ‘সবাই উঁচু গলায় কথা বলছে কেন?” [সবাই স্বাভাবিক গলাতেই কথা বলছে। এরচে নিচু গলায় কথা বললে কানাকানি করতে হয়। এই গ্লাসে করে আমাকে পানি কেন দেয়া হলো?’ [লেখক জীবনে কখনো কোন গ্লাসে পানি দেয়া হয়েছে তা নিয়ে মাথা ঘামান নি। ব্যাধিগ্রস্ত হবার পর গ্লা নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছেন। কী রকম গ্লাসে পানি দেয়া হলে তিনি খুশি হবেন তাও কিন্তু খোলসা করে বলছেন না।]

রোগের শেষ পর্যায়ে লেখক ঘোষণা করেন তিনি আর লেখালেখি করবেন। অনেক হয়েছে। …… ছাল’ লিখে ফায়দা নেই। [ছালের আগের শব্দটা বুদ্ধিমান পাঠক গবেষণা করে বের করে নিন।] লেখকের মুখের ভাষা বস্তি লেভেলে নেমে আসে। তাঁর মধ্যে কাজী নজরুল সিনড্রম দেখা যায়। হাতের কাছে যাই পান তাই ছিঁড়ে ফেলেন। নিজের পুরনো লেখা, টেলিফোন বিল, ইলেকট্রিসিটি বিল সব শেষ। তারপর এক অনিদ্রার মধ্যরাতে স্ত্রীকে ডেকে তুলে শান্ত গলায় বলেন, আমি বেঁচে থাকার কোনো অর্থ খুঁজে পাচ্ছি না। আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি সুইসাইড করব। তোমার কাছে থেকে বিদায় নেবার জন্যে তোমার কাঁচাঘুম ভাঙিয়েছি। তার জন্যে ক্ষমাপ্রার্থী। এখন দয়া করে একুশটা ঘুমের ওষুধ আমাকে দাও আর এক গ্লাস ঠা পানি।

কোনো কোনো পাঠক হয়তো ভাবছেন আমি writer’s Block নামক রোগটা নিয়ে রসিকতা করছি। তাঁদের জ্ঞাতার্থে জানাচ্ছি, এই পৃথিবীর অনেক লেখক (খ্যাত এবং অখ্যাত) এই ভয়াবহ অসুখের শেষ পর্যায়ে এসে আত্মহত্যা করেছেন। এই মুহূর্তে যাদের নাম মনে পড়ছে তারা হলেন

কবি মায়াকোভস্কি (রাশিয়া)

ঔপন্যাসিক হেমিংওয়ে (নোবেল প্রাইজ বিজয়ী, আমেরিকান)

ঔপন্যাসিক কাওয়াবাতা (নোবেল প্রাইজ বিজয়ী, জাপানি)

কবি জীবনানন্দ দাশ (বাংলাদেশ)

বিখ্যাতদের মতো অতি অখ্যাতরাও যে এই রোগে আক্রান্ত হতে পারেন তার উদাহরণ আমি। গত শীতের মাঝামাঝি সময়ে হঠাৎ আমাকে এই রোগে ধরল। কঠিনভাবে ধরল। এক গভীর রাতে শাওনকে ডেকে তুলে বললাম, কোথা সে ছায়া সখি কোথা সে জল? কোথা সে বাধাঘাট অশ্বত্থল?’ সে হতভম্ব হয়ে বলল, এর মানে?

আমি বললাম, তুমি খুব আগ্রহ করে একজন লেখককে বিয়ে করেছিলে। সেই লেখক কিছু লিখতে পারছেন না। কোনোদিন পারবেনও না। আমি ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। লেখকের সঙ্গে জীবনযাপনের আগ্রহ তারপরেও যদি তোমার থাকে, তুমি অন্য লেখক খুঁজে বের কর। আমি শেষ। আসসালামু আলায়কুম।

জীবন সংহারক রাইটার্স ব্লকের কোনো ওষুধ নেই। এন্টিবায়োটিক বা সালফা ড্রাগ কাজ করে না, তবে সিমটোমেটিক চিকিৎসার বিধান আছে। সিমটোমেটিক চিকিৎসায় লেখককে অতি দ্রুত তিনি যে পরিবেশে বাস করেন সেখান থেকে সরিয়ে ফেলতে হবে। তার প্রিয়জনরা সবাই তার আশেপাশে থাকবেন, তবে লেখালেখি বিষয়ে কেউ তার সঙ্গে কোনো কথা বলতে পারবেন না। লেখকের সঙ্গে কোনো বিষয়েই কেউ তর্কে যাবেন না। তিনি যা বলবেন সবাই ‘গোপাল বড়ই সুবোধ বালকের মতো তাতে সায় দেবে।

আমার লেখক বুক দূর করার ব্যবস্থা হলো। প্রধান উদ্যোগী অন্যপ্রকাশের মাজহার। আমার এই অসুখে সে-ই সবচে’ ক্ষতিগ্রস্ত। আমি বই না লিখলে সে ছাপবে কী? সামনেই একুশের বইমেলা! মাজহার এক সকালবেলা অনেক ভণিতার শেষে বলল, আমি জানি আপনি দেশের বাইরে যেতে চান না। চলুন না ঘুরে আসি। আপনি লেখালেখি করতে পারছেন না।-এটা কোনো ব্যাপার না। সারাজীবন লেখালেখি করতে হবে তাও তো না। এক জীবনে যা লিখেছেন যথেষ্ট। এমনি একটু ঘুরে আসা। আপনি হ্যাঁ বললে খুশি হবো।

আমি বললাম, হ্যাঁ।আনন্দে মাজহারের কালো মুখ বেগুনি হয়ে গেল। হিসাব মতো তার মুখে বত্রিশটা দাঁত থাকার কথা, সে কীভাবে যেন চল্লিশটা দাঁত বের করে হেসে ফেলল।হুমায়ূন ভাই, কোথায় যেতে চান বলুন-ইন্দোনেশিয়ার বালি, মালয়েশিয়ার জেনটিং, থাইল্যান্ডের পাতায়া/ফুকেট, মরিশাস, মালদ্বীপ।আমি বললাম ড্রাগন দেখতে ইচ্ছা করছে। চীনে যাব।মাজহারের মুখের ঔজ্জ্বল্য সামান্য কমল। সে আমতা আমতা করে বলল, চীনে এখন ভয়ঙ্কর ঠাণ্ডা। টেম্পারেচার শূন্যেরও নিচে….

আমি আগের চেয়েও গম্ভীর গলায় বললাম, চীন।মাজহারের মনে পড়ল রাইটার্স ব্লকের রোগীর সব কথায় সায় দিতে হয়। সে বলল, অবশ্যই চীন। আমরা গরম দেশের মানুষ। ঠাণ্ডা কী জানি না। হাতে কলমে ঠাণ্ডা শেখার মধ্যেও মজা আছে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *